ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েছে। শনিবার (৮ মার্চ) তার অবস্থা নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসকদের বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ শেষে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতাল সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে ডাক্তারের দেখা না মিললেও, আইসিইউতে থাকার কারণে কথা বলতে রাজি হননি নার্সরা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের দায়িত্বরত কর্মচারীর সঙ্গে খবরের কাগজের কথা হলে তিনি চিকিৎসকদের বোর্ড মিটিংয়ের কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘অবস্থা আগের মতই রয়েছে। শনিবার ডাক্তারদের বোর্ড মিটিংয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে রাজধানীর বিভিন্ন ডাক্তার ও আরেফিন স্যারের আত্মীয়রাও ছিলেন। আগের মতো অবস্থার কারণে বোর্ড মিটিং শেষে ডাক্তাররা তাকে কিছু ওষুধ দিয়েছে, এখন ২৪ ঘণ্টা পর বলা যাবে তার অবস্থার বিষয়ে কোন পর্যায়ে এলো। এরপর হয়ত বোর্ডের চিকিৎসকেরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।’
অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নিউরোসার্জন অধ্যাপক ডা. নজরুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ডা. নজরুল জানায়, ব্রেইনের অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে অপারেশনের প্রক্রিয়ায় যাবেন তারা।
এদিকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতাল কিংবা মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেওয়া হতে পারে। আরেফিন সিদ্দিকের পরিবারের সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরে জেনারেল হাসপাতাল আর মাউন্ট এলিজাবেথে ডকুমেন্টস পাঠানো হয়েছে। ঢাকার ডাক্তাররা অনুমতি দিলে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স করে তাকে নিয়ে যাওয়া হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে অধ্যাপক আরেফিন মাটিতে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পান। পরে তাকে ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাৎক্ষণিক তাকে বারডেমে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ওখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানা যায় তিনি মাথায় আঘাত পেয়েছেন এবং স্ট্রোক করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০০৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭তম উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পান গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক। ২০১৭ সালে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন শেষ করে আবারও নিজ বিভাগে অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ২০২০ সালের জুন মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতা থেকে অবসরে যান তিনি।
আরিফ জাওয়াদ/মাহফুজ