ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: মির্জা ফখরুল গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ জরুরি‎
Nagad desktop

ছুটি ফুরিয়েছে, ফিরছেন মানুষ

প্রকাশ: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৫৫ এএম
ছুটি ফুরিয়েছে, ফিরছেন মানুষ
ছবি: খবরের কাগজ


ঈদের ছুটি ফুরিয়ে এসেছে; রাজধানীতে ফিরে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। তাই ঢাকার সায়েদাবাদ, ফুলবাড়িয়া ও মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় পরিবহন শ্রমিকদের তৎপরতা বেড়েছে। কমলাপুরে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনেও গতকাল শুক্রবার ঢাকায় ফিরে আসা যাত্রীদের বেশ চাপ দেখা গেছে। 

শুক্রবার (৪ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় কথা হয় ইফতেখার হোসেনের সঙ্গে। একতা পরিবহনের বাসে তিনি ফিরেছেন নওগাঁ থেকে। তিনি বলেন, ‘আজ আমার ছুটির শেষ দিন ছিল। ভাবছিলাম, রাতের দিকে ফিরব। কিন্তু মহাসড়কে ডাকাতির ভয়ে পরিবার নিয়ে সকালের বাসেই রওনা হয়েছি। এতে একদিকে যেমন নিরাপত্তা নিয়ে টেনশন করতে হয়নি, অন্যদিকে যানজটের ঝক্কি-ঝামেলা ছাড়া সহজে ঢাকায় আসতে পেরেছি।’ 

ময়মনসিংহ থেকে ইউনাইটেড পরিবহনের বাসে ঢাকায় ফিরেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আশীষ তালুকদার। তিনি বলেন, ‘যাত্রাপথে ভোগড়া বাইপাস থেকে আবদুল্লাহপুর পর্যন্ত বিআরটি লেনে ভোগান্তি হয়েছে। তবে এই জ্যাম খুব যে বড় আকার ধারণ করেছিল তা নয়। মোটামুটি নির্বিঘ্নে আমরা ঢাকা ফিরতে পেরেছি।’ 

ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আসা যাত্রী রেহানা আক্তার বলেন, ‘শনিবার থেকেই আমার অফিস। তাই আজকে ফিরতেই হতো। বাড়ি গিয়েছিলাম ট্রেনে। কিন্তু ফিরতি যাত্রার টিকিট পাইনি বলে বাসে আসতে হয়েছে। মহাসড়কে নির্মাণকাজ চলছে। এতে একটু ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। টঙ্গী-ঘোড়াশাল আঞ্চলিক সড়ক মোটামুটি ফাঁকা ছিল।’

মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক মনির বলেন, ‘কয়েক দিনে বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা ছিল অনেক কম। তেমন ট্রিপ পাইনি। আজকে সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মতিঝিল, নারিন্দা আর সেগুনবাগিচায় গেলাম। রাস্তা ফাঁকা বলে যেতে আসতে তেমন সময় লাগেনি।’

মহাখালী আন্তজেলা বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কালাম বলেন, ‘শনিবার বিকেলে টার্মিনাল এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে। যারা ঢাকার বাইরে গেছেন ঈদের ছুটি কাটাতে, তারা ফিরে আসবেন। রবিবার সকালেও কিছুটা ভিড় হবে। এমন স্বস্তির ঈদযাত্রা সচরাচর দেখা যায় না। বলা যায় এবার ঈদযাত্রাই সেরা।’ 

গুলিস্তানে ফুলবাড়িয়া আন্তজেলা বাস টার্মিনালেও গতকাল সকালে ঢাকায় ফিরে আসা যাত্রীর বেশ ভিড় দেখা গেছে। ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার পরে টার্মিনালে আসে। সাধারণত ফুলবাড়িয়াতে খুব কম যাত্রীই নামেন। তারা জুরাইন, যাত্রাবাড়ী, গোলাপশাহ মাজার কিংবা গুলিস্তান-ফ্লাইওভার এলাকায় নেমে যান। গোলাপশাহ মাজার এলাকায় নেমেছিলেন আজিমপুরের বাসিন্দা রাজিব হালদার। তিনি বলেন, ‘আমার সঙ্গে ভারী মালপত্র ছিল। তাই আমাকে গুলিস্তান পর্যন্ত আসতে হয়েছে। এখান থেকে রিকশায় খুব বেশি দূরে না আমার বাসা।’ 

ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালের বাস মালিক সমিতির নেতা কাজী জুবায়ের মাসুদ বলেন, ‘এবারের ঈদযাত্রা নিয়ে যাত্রীদের খুব কম অভিযোগ পেয়েছি। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর থাকায় সড়ক, মহাসড়কে বড় দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি যাত্রীদের।’ 

শুক্রবার সকালে রাজধানীর কমলাপুরে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনেও যাত্রীদের বেশ ভিড় লক্ষ করা গেছে। একতা এক্সপ্রেসে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে এসেছেন রমিজ হাসান। তিনি বলেন, ‘ট্রেন পার্বতীপুরে একদম ঠিক সময়ে এসেছে। আর ঢাকায়ও যথাসময়ে পৌঁছে গেছি। আমি ভাবতেই পারছি না যে, কোনো বিলম্ব ছাড়াই আমি ঢাকা আসতে পেরেছি। তবে এদিন ঢাকা থেকে লালমনিরহাটগামী আন্তনগর বুড়িমারী এক্সপ্রেস (৮০৯) এবং রংপুরগামী রংপুর এক্সপ্রেস (৭৭১) ট্রেনের যাত্রা বিলম্বিত হয়েছে।’ 

রেলের শিডিউল অনুযায়ী, বুড়িমারী এক্সপ্রেস (৮০৯) ঢাকা থেকে নিয়মিত সকাল সাড়ে ৮টায় লালমনিরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। অন্যদিকে রংপুর এক্সপ্রেস নিয়মিত সকাল ৯টায় ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন থেকে রংপুরের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. আনোয়ার হোসেন খবরের কাগজকে জানান, বুড়িমারী এক্সপ্রেস আড়াই ঘণ্টা আর রংপুর এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা দেরিতে স্টেশন ছেড়ে গেছে। 

এ দুটি ট্রেন দেরিতে ছাড়ায় উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা বিপাকে পড়েন। পরিবার-পরিজন নিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে যাওয়া যাত্রীরা বারবার স্টেশন ম্যানেজার ও স্টেশন মাস্টারের কক্ষে গেলেও তাদের দেখা পাচ্ছিলেন না। ভ্যাপসা গরমে অনেক শিশু ও বয়োবৃদ্ধ যাত্রী অস্বস্তিতে পড়েন।

এদিকে বিআরটিএ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, গত ৩ এপ্রিল সারা দেশে বিআরটিএ মোবাইল কোর্টের বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এই অভিযানে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অতিরিক্ত গতি, রুট ভায়োলেন্স, ওভারলোড ও হাইড্রোলিক হর্ন, হেলমেট ব্যতিত মোটরসাইকেল চালনা, মোটরসাইকেলে একের অধিক যাত্রী বহনসহ ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর অন্যান্য ধারা অমান্যের কারণে ৩২৬টি মামলা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত চালকদের ৬ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

বরিশাল থেকে ফিরতে ভোগান্তি:
পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ছুটছেন দক্ষিণাঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ। এ কারণে লঞ্চ ও বাসে যাত্রীর চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ। এদিকে লঞ্চে কেবিন নেই, ডেকেও বসার জায়গা নেই। অন্যদিকে বাস কাউন্টারগুলোতে টিকিট না পেয়ে সীমাহীন ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে কর্মস্থলমুখী মানুষকে। তাই বাধ্য হয়ে যে যেভাবে পারছেন, সে সেভাবে কর্মস্থলে ছুটছেন। এর মধ্যে কেউ লঞ্চের ছাদে ও বাসে দাঁড়িয়ে আবার কেউ ট্রাক ও মাইক্রোবাসযোগে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাচ্ছেন।

এদিকে মানুষের দুর্ভোগকে কাজে কয়েকটি লঞ্চের ও বাসের টিকিট কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে কাউন্টারে টিকিট না পেলেও দালালদের কাছ থেকে বেশি দামে টিকিট কিনেছেন অনেক যাত্রী। অন্যদিকে লঞ্চের ডেকে বিছানার চাদর ও বালিশ, তোশক বিছিয়ে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লঞ্চ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে। 

সরেজমিনে বাস টার্মিনাল ও লঞ্চঘাট এলাকায় দেখা যায়, বরিশাল লঞ্চ টার্মিনালে দুপুর গড়াতে না গড়াতেই ঢাকাগামী লঞ্চের ডেক যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। এ ছাড়া লঞ্চের ছাদ ও কেবিনের করিডরও যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে তারা বিছানা বিছিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন।

এদিকে এমভি পারাবত কোম্পানির চারটি ও এমভি মানামী, এমভি কীর্তনখোলা, এমভি কুয়াকাটা-২ লঞ্চের প্রথম তলার অর্ধেক এবং দ্বিতীয় তলার পুরো জায়গা বিছানা বিছিয়ে দখল করে রাখতে দেখা গেছে, যা পরবর্তী সময়ে যাত্রীদের কাছে চড়া মূল্যে বিক্রি করা হয় বলে জানা গেছে। 

এ বিষয়ে মানামী লঞ্চের যাত্রী মো. আহসান উল্লাহ বলেন, ‘দুপুরে লঞ্চঘাটে এসে দেখি লঞ্চের ডেকে সারিবদ্ধভাবে বিছানা চাদর পাতানো। পরে লঞ্চের এক শ্রমিকের কাছ থেকে দুজনের জন্য ছয় ফুট জায়গা ৪০০ টাকায় কিনতে হয়েছে।’
কীর্তনখেলা লঞ্চের যাত্রী মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দুপুরের দিকে এসে দেখি লঞ্চের ডেকে পা ফেলানোর জায়গা নেই। নিরুপায় হয়ে ছাদে বিছানা বিছিয়ে জায়গা করে নিয়েছি।’

পারাবত লঞ্চের যাত্রী মিন্টু সরদার বলেন, ‘লঞ্চের ফ্যানের নিচের জায়গা লঞ্চ স্টাফরা চাদর বিছিয়ে দখল করে রাখেন। তাদের কাছ থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে জায়গা কিনে নিয়েছি।’ 

সুন্দরবন-১০ লঞ্চের যাত্রী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘কেবিন না পেয়ে দুপুরে ঘাটে এসে দেখি লঞ্চের ডেকও প্রায় পূর্ণ হয়ে গেছে। অনেক কষ্টে সিঁড়ির নিচে একটু জায়গা পেয়েছি।’ 

পারাবত লঞ্চের বরিশালের ব্যবস্থাপক মো. সেলিম হোসেন বলেন, ‘যাত্রীরা সকালে লঞ্চে এসে বিছানা, চাদর ও তোশক বিছিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। এখানে আমাদের স্টাফদের কোনো হাত নেই। তারপরও এ কাজের সঙ্গে কেউ যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

সুন্দরবন লঞ্চের বরিশাল কাউন্টারের ব্যবস্থাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর পরে লঞ্চের তেমন একটা যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে না। ঈদের পর থেকে যাত্রীদের তেমন একটা চাপ নেই। তবে আজ (শুক্রবার) ও আগামীকালের (শনিবার) কেবিনের টিকেট আগাম বিক্রি হয়ে গেছে।’ 

বরিশালের যাত্রীবাহী লঞ্চ মালিক সমিতির সদস্য সাইফুর ইসলাম পিন্টু বলেন, ‘২০২২ সালের ২৫ জুন থেকে লঞ্চযাত্রী তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আগামী রবিবার (আগামীকাল) সরকারি ও বেশির ভাগ বেসরকারি অফিস খুলবে। এ কারণে শুক্রবার সব পরিবহন সেক্টরে যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। আগামীকাল (শনিবার) এই চাপ আরও বাড়বে।’ 

বরিশাল নদীবন্দর কর্মকর্তা সেলিম রেজা বলেন, ‘যাত্রীদের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য বিআইডব্লিউটিএ, নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, মেট্রোপলিটন পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করে যাচ্ছেন। এর পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতও কাজ করে যাচ্ছেন। আগামীকাল (শনিবার) যাত্রী আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই ক্ষেত্রে বিশেষ সার্ভিসের লঞ্চ বাড়ানো হবে। যাত্রীদের কাছে ডেকের জায়গা বিক্রি করা হচ্ছে, আমরা এমন অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়ে লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সতর্ক করা হয়েছে।’ 

অন্যদিকে বরিশালের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের অবস্থাও ছিল একই। সকাল হতে না হতেই কাউন্টারের সব টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। 

এ বিষয়ে বাসযাত্রী মো. শাজাহান মিয়া বলেন, ‘স্বরূপকাঠির কাউন্টারগুলোতে আগামী শনিবারের টিকিট পাইনি। তাই সকাল ৬টায় বরিশাল বাস টার্মিনালে এসেছি। কিন্তু এখানেও টিকিট পাইনি। তবে দালালের কাছ থেকে টিকিট সংগ্রহ করেছি।’ 

সাব্বির হোসেন নামে এক যাত্রী বলেন, রবিবার অফিস খোলা। তাই আজ (গতকাল শুক্রবার) পরিবার নিয়ে ঢাকায় যাওয়ার জন্য হানিফ পরিবহনের কাউন্টারে এসেছি। কিন্তু টিকিট পাইনি। তবে কালোবাজার থেকে চারটি টিকিট সংগ্রহ করেছি। প্রতিটি টিকিটের মূল্য ৫৩৪ টাকা লেখা রয়েছে। তবে এর বাইরে প্রতিটি টিকিটের জন্য ২০০ টাকা করে বেশি নিয়েছে।’

বরিশাল বাস মালিক গ্রুপের সদস্য (মালিক সমিতি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বেশির ভাগ পরিবহনের অনলাইনে টিকিট বুকিং ব্যবস্থা রয়েছে। তাই আগামী ১২ মার্চ পর্যন্ত প্রায় সব বাসের টিকিট অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। এ কারণে বেশির ভাগ যাত্রী বাস কাউন্টার থেকে শূন্য হাতে ফিরছেন। ফলে তারা বাসে দাঁড়িয়ে, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহনযোগে গন্তব্যে ছুটছেন।’ 

তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত ভাড়া চেয়ে অতিরিক্ত ভাড়া না আদায় করার জন্য কাউন্টারগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন। পাশাপাশি টিকিট কালোবাজারিদের ধরতে মালিক সমিতির সদস্যরাও কাজ করছেন। 

এদিকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করায় গোল্ডেন লাইন পরিবহনের টিকিট কাউন্টারকে পাঁচ হাজার এবং লাবিবা ক্লাসিক পরিবহনের কাউন্টারকে পাঁচ হাজার, হানিফ পরিবহনের টিকিট কাউন্টারে তিন হাজার টাকা জরিমানা করেন জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএর ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সিফাত/

প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: খবরের কাগজ

প্রযুক্তি খাতে দক্ষ তরুণরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। 

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রোগ্রামিং ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই।’

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে ‘জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী কৌশলের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। আমাদের তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’

সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে তাদের যুক্ত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উদ্ভাবন শুরু হয় একটি ছোট প্রশ্ন থেকে। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে নতুন কিছু করার সাহস অর্জন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের তরুণরা প্রোগ্রামিং, রোবটিক্স ও সাইবার সিকিউরিটিতে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে। তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) বাস্তবায়নে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় এ বছর কুইজ ও প্রোগ্রামিং মিলিয়ে ১৭ হাজার ৮৩৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে ৮৩২ জন জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। বিজয়ী প্রতিযোগীদের হাতে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এ টি এম জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। 

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী
সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের উদ্বোধনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সোনারগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও শিক্ষানীতির আলোকে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও উৎসব ভাতার প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশের লক্ষ্যে নবনির্মিত ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সেশনজটমুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এসএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে। সিলেবাস শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে ১৮ বছরের মধ্যেই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি জানান, ২০২৭ সালে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন এবং ২০২৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হবে। বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। আগামী জুলাই থেকে সারাদেশে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষাকে আনন্দময় ও সৃজনশীল করতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সোনারগাঁওয়ের শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্দরে স্থাপনের পরিকল্পনা থাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এখন সোনারগাঁওয়ে নির্মিত হবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান সোনারগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ১০০ বিঘা জমি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষানীতির আলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবই বিতরণে আর কোনো বিলম্ব হবে না। পরীক্ষা শেষে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হবে।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এমপি, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম, যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ফিতা কাটা ও দোয়ার মাধ্যমে ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিভা প্রদর্শনী উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহের মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিকল্পিত উন্নয়নই একমাত্র পথ। 

বিশ্ব পরিবেশ দিবস- ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে ‘জলবায়ু-সহনশীল এবং পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিআইপি’র সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসানের সঞ্চালনায় এতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) ড. নুরুন নাহার এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের যুগ্মপ্রধান (ডেল্টা অনুবিভাগ) ড. এস এম যোবায়দুল কবির বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে বিআইপি’র সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. ফারহানা আহমেদ বলেন, জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। জাতীয় পর্যায়ের নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে পরিকল্পনাবিদদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শিল্পাঞ্চলের বায়ুদূষণ মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন পরিকল্পনাবিদ নাঈমা ইসলাম মিম। তিনি তার গবেষণাপত্রে ‘লাইকেন’ ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করে বলেন, এটি বাতাস থেকে সীসা ও তামার মতো ভারী ধাতু শোষণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। শিল্পকারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণে এটি একটি পরিবেশবান্ধব ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধান হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জলবায়ু কর্মসূচি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. শিবলী সাদিক বলেন, প্রচলিত সম্ভাব্যতা যাচাই বা অর্থনৈতিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রকল্পের বাস্তবায়নযোগ্যতা বা ‘ইমপ্লিমেন্টাবিলিটি’ যাচাই করা জরুরি। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত না করলে বড় ধরনের প্রকল্পগুলো টেকসই হয় না বলে তিনি মত দেন।

পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও গবেষণা ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ ড. হাসীব মুহাম্মদ ইরফানুল্লাহ বলেন, পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপে জীববৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিকল্পনাবিদদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্মপ্রধান ড. এস এম যোবায়দুল কবির বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক এই তিন স্তম্ভের সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দক্ষ পরিকল্পনাবিদের অভাব থাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অভিবাসন বাড়ছে, যা পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুন নাহার বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার অভাব প্রায়শই বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি করে। এ সমস্যা সমাধানে একটি মানসম্মত নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে পরিকল্পনাবিদদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিআইপি’র সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়নের মূল ভিত্তিই হলো পরিবেশ সংরক্ষণ।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

এমআরডিআই-এর মতবিনিময় সভা সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল
‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ‘খবরের কাগজ’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল। ছবি: খবরের কাগজ

সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতায় দলীয় প্রভাবমুক্ত, বস্তুনিষ্ঠ এবং সত্যনিষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ‘খবরের কাগজ’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতাকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলের লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত হতে হবে। তবেই গণমাধ্যম প্রকৃত শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার ভবনে মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) আয়োজিত ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন  বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, কমিশনের দুই সদস্য অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, জিমি আমির। উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্সের মহাসচিব আব্দুস সালাম, দ্য ফাইনান্সিয়্যাল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাহী সম্পাদক সাখাওয়াত লিটন, চ্যানেল আইয়ের নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, প্রথম আলোর উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি, দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, যশোরের সংবাদপত্র লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু, গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, প্রকাশিতব্য দৈনিক ওয়াদার প্রধান সম্পাদক শফিকুল আলম।

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।  এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন প্রক্রিয়া, এর পরিধি এবং কমিশনের কাছে অংশীজনদের প্রত্যাশার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরা ছিল এমআরডিআইয়ের সভার মূল উদ্দেশ্য।

হাল আমলে ফেক নিউজ বা ভুয়া সংবাদের ছড়াছড়ি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোস্তফা কামাল দাবি করেন, গত তিন বছরে বিভিন্ন গবেষণায় ‘খবরের কাগজ’ ফেক নিউজ মুক্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও গণমাধ্যমকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘একটি পত্রিকা ডিক্লারেশন নেওয়ার পর সরকারি অনুমোদন পায়। অথচ এরপরও মিডিয়াভুক্ত হওয়ার নামে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। মাসে আড়াই কোটি টাকা খরচ করে একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর পর আবার কেন বারবার যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে হবে?’ তিনি সরকারি সংস্থাগুলোর এই কার্যক্রমকে এক ধরনের ‘হয়রানি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সরকার গঠিত মিডিয়া কমিশন প্রসঙ্গে সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, গণমাধ্যমকে কেবল বিশেষ কোনো রাজনৈতিক লাইনের অনুসারী বা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অনেক সময় একই ধরণের সংবাদের জন্য নির্দিষ্ট গণমাধ্যমকে যেভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, অন্য গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে তা করা হয় না। এই বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে তিনি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, অতীতের মতো সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম থাকলে গণমাধ্যম অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে। সাংবাদিকরা যদি কোনো দলের অনুসারী না হয়ে নিছক পেশাদার হিসেবে কাজ করেন, তবেই দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক সাংবাদিকতা সম্ভব হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, সত্য ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই হোক সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য।

দেশে সাংবাদিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি কার্যকর ও স্বাধীন ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ (একীভূত প্রতিষ্ঠান) গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে প্রেস কাউন্সিল বিলুপ্ত করার কথা বলা হলেও ২৬-এর আইজেক খসড়ায় প্রেস কাউন্সিলকে রেখে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সারা হোসেন একে ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘একদিকে গণমাধ্যম কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, আবার ৫০ বছরের পুরনো প্রেস কাউন্সিলকেও রাখা হচ্ছে। এতে কাজের ওভারল্যাপিং হবে। একটি ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ বা একীভূত প্রতিষ্ঠান হওয়াই সবচেয়ে যৌক্তিক।’

আইজেক খসড়ায় নির্বাচক কমিটিতে কেবল একজন সরকারি প্রতিনিধি (ক্যাবিনেট সেক্রেটারি) রাখার ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের অভিজ্ঞতার আলোকে এই সিলেকশন প্রক্রিয়া যেন অত্যন্ত স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক মানের হয়, তা বিধিমালায় স্পষ্ট করতে হবে।’ এছাড়া ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেন দুই বছর পার হলেই নিয়োগ না পান, সেই অযোগ্যতার ধারাটি কঠোর করার তাগিদ দেন তিনি।

মোবাইল জার্নালিজমের এই যুগে সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, ‘যোগ্যতা নির্ধারণ যেন কোনোভাবেই লাইসেন্সিং-এর মতো না হয়ে দাঁড়ায়। এটি বাধ্যতামূলক না করে বরং প্রশিক্ষণ, প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ও অ্যাক্রেডিটেশনের সুযোগ রাখা উচিত।

আইজেকের খসড়ায় কমিশনকে জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। দেশের অতীত প্রেক্ষাপট ও সাংবাদিকদের ওপর জুলুম-হয়রানির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারা হোসেন বলেন, ‘ফাইন বা জরিমানা করাকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এটি অন্য কোনো বড় সাজা বা হয়রানির চেয়ে ভালো।’

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘কনফিডেনশিয়ালিটি অব সোর্সেস’ বা সোর্সের গোপনীয়তা সুরক্ষার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান

গণমাধ্যম খাতে যে নৈরাজ্য বিরাজ করছে, তার উল্লেখ করে কামাল আহমেদ বলেন, ‘এই নৈরাজ্যের মধ্যে কেবল একটি কমিশন কাজ করতে পারবে না। গণমাধ্যম খাতে যে সীমাহীন বিশৃঙ্খলা, আগে সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। কোনো নীতিমালা বা স্বচ্ছতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠান খোলার যে প্রবণতা, তা বন্ধ করতে হবে।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন থেকে আগেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান কামাল আহমেদ। তার মতে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। 
একটি হাউসের নিয়ন্ত্রণে থাকা গণমাধ্যমের সংখ্যা সীমিত রাখা; দৈনিক পত্রিকার সার্কুলেশন এবং টেলিভিশনের টিআরপি নির্ধারণে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিদর্শন ব্যবস্থায় নাগরিক সমাজ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং পত্রিকাগুলোর টার্নওভার ট্যাক্স ও অডিট রিপোর্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সার্কুলেশন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে আবারও তিনি গণমাধ্যমের মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, ‘কমিশনকে কেবল ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে কাজ করতে হবে এবং এর আইনি ভিত্তি এমন হতে হবে যেন সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

জয়ন্ত সাহা/এসএন

মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে গত ২০ বছরে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে প্রায় এক হাজার ব্যক্তি কোটিপতি হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, এসব মাদক কারবারিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং এ বিষয়ে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে নগরীর একটি হোটেলে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় আয়োজিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন সুরক্ষা: চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, এক সময় সামাজিক সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন ও নিরাপত্তার কারণে রাজশাহী বিশ্বের অন্যতম সুখী শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু গত ২০ বছরে মাদক ও কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে সেই পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক ব্যবসা করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী এবং নারী ও শিশু নির্যাতনকারীরা জাতির শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়, পরিবারেরও। পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমিন নেলী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশিদ।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন এবং নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম মাহমুদুর রহমান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শারমিন আক্তার এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

সেমিনারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও এনজিও প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এনায়েত করিম/এসএন