ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদে নববর্ষের শোভাযাত্রা উদযাপনের জন্য বানানো দুটি মোটিফে দুর্বৃত্তের আগুনের ঘটনার পর শোভাযাত্রার কর্মযজ্ঞ পরিদর্শন করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। এদিকে পুড়ে ভস্ম হয়ে যাওয়া দানবীয় ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি মোটিফ শোভাযাত্রায় থাকবে কি-না তা শিল্পীদের ওপর নির্ভর করেছে বলে জানিয়েছেন ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান।
শনিবার (১২ এপ্রিল) রাতে সাড়ে ৯টার দিকে সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পরিদর্শনে তিনি ওই মোটিফ থাকবে কি-না সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।
জবাবে ঢাবি উপাচার্য বলেন, ‘আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। তবে এই ব্যাপারগুলো শিল্পীরা ঠিক করবেন, আমাদের এখন প্রস্তুতি পর্ব; পেছনে তাকাতে চাইছি না, সামনে তাকাতে চাচ্ছি।’
এর আগে অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান বলেন, ‘আমরা সময়ের বিপরীতে কাজ করে যাচ্ছি, এখনও কাজ চলছে। একটা বাঁধা এসেছিল, সেই বাঁধা অতিক্রম করে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি এবং সবার সহযোগিতা চাই। এরকম কাজে ষড়যন্ত্র, বাঁধা-বিপত্তিতো থাকবেই, আমরা শত্রুর মুখে ছাই দিয়ে এগিয়ে যাবো। বিশেষ করে আমাদের শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং শিল্পীসমাজ রয়েছেন, আমাদের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে সেটি আমরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ঠিক করে নেবো। এই মূহুর্তে আমরা জাতির তরফ থেকে একটি দায়িত্ব পালন করছি, আমাদের উদাত্ত আহ্বান সবাই আমাদের সঙ্গে থাকবেন।’
সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী বলেন, ‘চারুকলা অনুষদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই আয়োজনের সঙ্গে যারা রয়েছেন তাদেরকে স্যালুট জানাতে চাই। কেননা তারা ১ মাস থেকে প্রচণ্ড পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। গতকাল যেই নাশকতা ঘটিয়ে তাদের স্পিরিটকে দমানোর চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু আমি এসে দেখছি তাদের সেই স্প্রিরিট দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। ফলে আমি মনে করি, দেশবাসী একটি দারুণ শোভাযাত্রা দেখবে, সবাইকে শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানাই।’
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বাংলা নববর্ষ-১৪৩২ উদযাপনের কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সদস্যসচিব ও চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আজহারুল ইসলাম শেখ প্রমুখ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে চারুকলা অনুষদে পহেলা বৈশাখের আনন্দ শোভাযাত্রার জন্য তৈরি করা ফ্যাসিস্টের মুখাকৃতি আগুনে পুড়ে ছাই এবং আরেকটি মোটিফ শান্তির পায়রা আংশিক পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় শাহবাগ থানায় সকালে জিডি এবং পরে মামলা দায়ের করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
আরিফ জাওয়াদ/এমএ/