ফৌজদারি কার্যবিধি ১৩২ ধারা বাতিল, আগামী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই গণহত্যার বিচার, ফ্যাসিবাদী অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল ও নিষিদ্ধকরণের দাবি জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এক দল শিক্ষার্থী।
সোমবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে সচিবালয়ে গিয়ে উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ওই স্মারকলিপি প্রদান করেন তারা। এ সময় তারা ৯ দফা দাবি উল্লেখ করেন।
দাবিগুলো হলো ফৌজদারি কার্যবিধি ১৩২ ধারা অবিলম্বে বাতিল বা সংস্কার- যাতে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি দেওয়া না হয়, আগামী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত গণহত্যার বিচার, শাপলা চত্বরে সংঘটিত গণহত্যা, পিলখানা, ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং ২৬ মার্চসহ সব হত্যাকাণ্ডের দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃশ্যমান বিচার শুরু, আওয়ামী লীগ, তার অঙ্গসংগঠন এবং ১৪ দলের যেসব নেতা বিগত তিন নির্বাচনে ক্ষমতায় ছিলেন তাদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত, গত ১৫ বছরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে অবৈধ অর্থ উপার্জনকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত, গণহত্যা তদন্তে অসহযোগিতা করা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, এখনো গুম থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান এবং আয়নাঘর ও গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তির ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, জুলাই আন্দোলনে দায়ের করা ষড়যন্ত্রমূলক মামলাসহ ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দায়ের করা ষড়যন্ত্র, প্রহসন এবং রাজনৈতিক হয়রানিমূলক সব মামলা বাতিল, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনকে নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করা এবং আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করা।
এদিকে গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করা আন্দোলন প্ল্যাটফর্মের সংগঠক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে আমরা ৮ মাস অপেক্ষা করেছি আর ৮ সেকেন্ডও অপেক্ষা করতে রাজি নই। আমরা আমাদের স্মারকলিপিসহ আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সাহেবের সঙ্গে বৈঠক করেছি। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ও নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে উপদেষ্টার সঙ্গে হওয়া আলোচনায় আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা শিগগিরই গণ-আন্দোলন গড়ে তুলে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল এবং নিষিদ্ধ করতে সরকারকে বাধ্য করব।’