‘শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) রাজধানীর কোথাও বৃষ্টি হয়নি।’ এদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে আগের ৬ ঘণ্টার বৃষ্টিপাত প্রসঙ্গে এই তথ্য দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সরকারি প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত পূর্বাভাসে এমন তথ্য দেওয়া হলেও রাজধানীর মালিবাগের চিত্র ছিল ভিন্ন। চারদিক যখন ঠা ঠা রোদে পুড়ছে, তখন মালিবাগ প্রথম লেনের বিভিন্ন জায়গা ময়লা পানিতে ডুবে থাকতে দেখা যায়। ম্যানহোল থেকে ময়লা পানি উপচে পুরো প্রথম লেন ডুবে যেতে দেখা যায়।
বছরের পর বছর মালিবাগের বাসিন্দাদের এমন ভোগান্তি। এর মধ্যে আসছে বর্ষায় রাজধানীতে কোনো রকম খোঁড়াখুঁড়ি করা হবে না বলে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত আছে জেনে এলাকাবাসী আরও শঙ্কিত। তাদের চাওয়া চলতি বৈশাখ মাসেই এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিলে আষাঢ় মাস বা বর্ষাকাল আসার আগেই এই সমস্যার সমাধান হতে পারে।
সমস্যার উল্লেখ করে গত সোমবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বরাবর একটি আবেদনও জমা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসকের দপ্তর তা নথিভুক্ত করে। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন মালিবাগ ওয়েলফেয়ার সোসাইটির এই আবেদনে বলা হয়, ‘মালিবাগ বাজার রোড ও মালিবাগ প্রথম লেনের পুরো রাস্তাটি অল্পবৃষ্টিতেই নিমজ্জিত হয়ে এলাকাবাসীর অবর্ণনীয় ভোগান্তির সৃষ্টি করে।’ দুই বছর আগে সংস্কার করার পর হিতে বিপরীত হওয়ার উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়, এতে ‘জলাবদ্ধতা সমস্যার কোনরূপ উন্নতি ঘটেনি। বরং রাস্তা উঁচু করার ফলে এলাকার পুরোনো দোকানপাট ও ঘরবাড়িগুলোর বাসিন্দাদের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।’

সংগঠন থেকে নেওয়া উদ্যোগের উল্লেখ করে আবেদনে বলা হয়, ‘এলাকাবাসী ও সিটি করপোরেশনের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সরেজমিনে গিয়ে পরিদর্শন ও আলোচনা করে জানা যায়, এই জলাবদ্ধতার মূল কারণ পরিপূর্ণভাবে সিটি করপোরেশনের ড্রেন পরিষ্কার ও সার্ভিসিং না করা, ড্রেনের আউটলেটগুলো সরু ও বন্ধ থাকা এবং সিটি করপোরেশনের ড্রেনের মধ্য দিয়ে ওয়াসার পানির লাইন, তিতাস গ্যাসের লাইনসহ এক বা একাধিক লাইনের ক্রস-কানেকশন।’
সংগঠনের প্রধান তুষার জোয়ার্দার শুক্রবার দৈনিক খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঝড় নাই বৃষ্টি নাই তবু ড্রেনের পানি শুকনো রাস্তা ডুবিয়ে দিল! এই ড্রেনের ময়লা পানি মাড়িয়ে মুসল্লিদের জুমার নামাজে আসা-যাওয়া করতে হয়েছে। বছরের পর বছর এই সমস্যার মধ্যেই আমাদের থাকতে হচ্ছে!’