ঢাকা ৪ আষাঢ় ১৪৩৩, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী কুড়িগ্রামে ১২ ঘণ্টা পর রেলযোগাযোগ স্বাভাবিক চাকরি স্থায়ীকরণের দাবিতে জাবির কর্মচারীদের অবস্থান মানিকগঞ্জে ট্রাক-পিকআপ সংঘর্ষ, নিহত ২ সিলেটে ৩৬ ঘণ্টায় ১২২.৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড সংসদে মামুনুল হক প্রসঙ্গে দেওয়া বক্তব্য এক্সপাঞ্জ করলেন স্পিকার টঙ্গীতে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার নেপালের সঙ্গে দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি চায় বাংলাদেশ চুয়াডাঙ্গায় ট্রেন-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে নিহত ২ সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের উখিয়ায় আইওএমের গাড়ির চাপায় অজ্ঞাত শিশুর মৃত্যু ভার্চুয়াল জুয়ার ফাঁদে সমাজ এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের গানেই লিজার ব্যস্ততা প্রয়াত বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের নামে আমন্ত্রণপত্র আধ্যাত্মিক ধনী হওয়ার সহজ সমীকরণ আবার জ্বলে ওঠো জার্মানি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০০ জাতের আম নিয়ে মেলা শুরু পাহাড়, বন আর নীল জলের অপূর্ব মিলন ৪টি চলচ্চিত্র নিয়ে ‘সামার বাংলা হিট ফেস্ট’ তিন নাটকে প্রশংসিত হিমি

আমরা গৎবাঁধা পথে চলি বলেই নতুন পৃথিবীর কথা চিন্তা করি না: ড. ইউনূস

প্রকাশ: ১৪ মে ২০২৫, ০৭:৩৩ পিএম
আমরা গৎবাঁধা পথে চলি বলেই নতুন পৃথিবীর কথা চিন্তা করি না: ড. ইউনূস
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে ছাত্রসমাজ ঠিক করবে তারা কি ধরনের ভবিষ্যৎ চায়। আমরা যে ধরনের বিশ্ব গড়তে চাই তা করার ক্ষমতা আমাদের আছে। সকল মানুষের আছে। কিন্তু আমরা গৎবাঁধা পথে চলে যাই বলে নতুন পৃথিবীর কথা আমরা চিন্তা করি না। তিনি জোবরা গ্রামকে নিজের বিশ্ববিদ্যালয় উল্লেখ করে বলেছেন, এই বিশ্ববিদ্যালয় তাকে এসব শিখিয়েছেন।

বুধবার (১৪ মে) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পঞ্চম সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন জীবনের একটা মস্তবড় ঘটনা। সারাজীবন স্মরণ করে। ছবিটি সংরক্ষণ করে নিজের পরের প্রজন্মকে দেখায়। সেই বিশেষ দিনটি আজকে। এই দীর্ঘ সময় পরে এই সমাবর্তন অনুষ্ঠান হতে পারল এজন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে অভিনন্দন জানাই। দুর দুরান্ত থেকে যেসব শিক্ষার্থী এসেছে তাদেরকেও অভিনন্দন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় সময়টা কত তাড়াতাড়ি চলে যায় বোঝা যায় না। যখন শেষ হয়ে যায় তখন মনে মনে কষ্ট লাগে। আনন্দের দিন শেষ হল। জীবনের বড় একটা অধ্যায় শেষ হল। নতুন অধ্যায় শুরু। আমার ব্যক্তিগত আনন্দ আজ অন্য বিষয়ে। তোমাদের সঙ্গে দেখা হওয়া সেটা অবশ্যই ভীষণ আনন্দের। এই ক্যাম্পাসে বহুবছর পর ফিরে আসা সেটাও আনন্দের ব্যাপার। তথাপি নতুন সনদ প্রাপ্তদের অভিনন্দন জানানো সেটাও আনন্দের।

স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ৭২ সালে যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসি। তখন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। তখন বুঝতে পারিনি কী পরিবর্তন হতে যাচ্ছে আমার ভিতরে। অত্যন্ত উৎসাহ সহকারে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এরমধ্যে ৭৪ সালে বিরাট দুর্ভিক্ষ হয়ে গেল। সবকিছু উলটপালট হয়ে গেল। মনের মধ্যে বহু জিজ্ঞাসার সৃষ্টি হল। মনে মনে ভাবলাম সারা বাংলাদেশের দুর্ভিক্ষ ঠেকানোর ক্ষমতা আমার নেই। আমি চেষ্টা করতে পাারি। বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র অংশের কয়েকটি পরিবারের দুর্ভিক্ষ ঠেকাতে পারলে সেটা আমার জন্য কৃতিত্বের বিষয় হবে। যেকারণে নজর পড়ল পার্শ্ববর্তী গ্রাম জোবরায়। কী করবো জোবরাতে? সারাদেশে হাহাকার। জোবরাতে তখনো কেউ মারা যায়নি। অবস্থা খারাপ। মনের মধ্যে প্রশ্ন জাগল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং জোবরা গ্রামের মাঝে অনেক জমি পড়ে আছে। সেখানে অনেক ফসল হওয়ার কথা। যাতে সারাবছরের সংস্থান হয়ে যায়। জিজ্ঞেস করলাম, তারা জানাল ফসল হয় না। কেন হয় না? বৃষ্টি না হলে হয় না। উত্তরে জানালেন তারা। রাউজানে তখন সবেমাত্র ইরি ধান চাষ শুরু হয়েছে। তখন বিশ্ববিদ্যালয়কে জিজ্ঞাসা করলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা কী।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যদি জ্ঞানের ভাণ্ডার হয় সেই জ্ঞান পাশের গ্রামে উপচে পড়ে না কেন? তারা জানেনা কেন? কেউ কোন সদুত্তর দিল না। বা দেয়ার চেষ্টাও করল না। তখন আমি চিন্তা করলাম তাদের দিয়ে চাষাবাদ করা যায় কিনা। তখন তারা জানাল পানি নেই। রাউজানে ডিপটিউবওয়েল আছে। এখানে নেই। ডিপটিউবওয়েল তখন সবে দেশে এসেছে। শীতকালে চাষ অবিশ্বাস্য ছিল। মানুষ বিশ্বাস করতো যদি শীতকালে চাষাবাদের বিষয় থাকতো তাহলে আল্লাহতায়ালা শীতকালে বৃষ্টি দিতেন। আপনি জোর করে আল্লাহ এর হুমুক উল্টিয়ে দিয়েন না। আমি তাদের জন্য ডিপটিউবওয়েলের ব্যবস্থা করলাম। ফসল হল। পরের বছর জিজ্ঞাসা করলাম। তখন তারা জানাল গতবছর চিটা ধান পেয়েছি। কারণ পানির টানাটানি ছিল। পর্যাপ্ত পানি পায়নি। একজন বলল এবার ডিপটিউবওয়েলে চাষ হবে না। আমরা বারমাসিয়া খাল থেকে পানি নেব। তখন এলাকাবাসী জানাল পাশের বারমাসিয়া খাল থেকে পানি নেয়া যায়। গিয়ে দেখলাম সেখানে পানি আছে। তাদের জিজ্ঞেস করলাম আল্লাহ এর পানি তো এখানে আছে চাষ করলেন না কেন? তারা জানাল এতদিন কেউ করেনি, তাই আমরাও করিনি। সবাই মিলে বাঁধ দিলাম। বাঁধে যে পানি এল তা ডিপটিউবওয়েলের চেয়ে অনেক বেশি পানি পাওয়া গেল। নতুন শিক্ষা লাভ হল। গরজ না থাকলে ইচ্ছে না থাকলে সবকিছু থাকা সত্ত্বেও অভাব থেকে যায়। জমি আছে, পানি আছে। চাষ করা যায়। কিন্তু কেউ করেনি কোনদিন আমরা কেন করবো? এর থেকে শিক্ষা লাভ হলো। এরপর জন্মলাভ করল তেভাগা খামার। এই চাষ সমস্যা হলো ইরি ধান চাষ করতে হলে লাইন ধরে রোপা লাগাতে হয়। কষ্ট করতে হয়। কৃষকরা বললেন বেশি কষ্ট। আমি বললাম, খাবার যখন খাবেন কষ্ট করবেন না।? অদ্ভুত একটা মানসিকতা। তখন আমি ছাত্রদের নিয়ে বসলাম। আমরা মাঠে নামি। সুতা ধরবো এবং চারা লাগাবে। ওই সময়ের আমার ছাত্র-ছাত্রীরা যারা ছিল তাদের সারাজীবন মনে থাকবে। দলে দলে তারা মাঠে নেমে লাইন করে ধানের চারা লাগাল। জোবরাতে আমরা ইরি ধানের চাষ শুরু করে দিয়ে আসছি। তার থেকে আসতে আসতে নজর পড়ল জোবরার আশপাশের গ্রামে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ এই কথা বলছি, এই কারণে আমি এখানে এসেছি শিক্ষক হিসেবে। যতই দিন গেল দেখলাম আমি ছাত্র হয়ে গেছি। আমি আর শিক্ষকতার ভূমিকায় নাই। আমি ক্রমাগত শিখছি। জোবরা এবং আশপাশের মহিলারা আমার শিক্ষক। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু শিখলাম। আমার ছাত্র-ছাত্রীরা যারা আমার সঙ্গে ছিল। আজ অনেকেই উপস্থিত আছে। যারা মহিলাদের কাছে আমাকে নিয়ে গেল তাদের কাছ থেকে পাঠদান নেয়ার জন্য। অবাক হয়ে গেলাম। যা ক্লাশরুমে পড়াই তার সঙ্গে কিছুই মিল না। যে কাজে হাত দিলাম তা মহিলাদের কাছে অনেক পছন্দের বিষয় হয়ে গেল। তাদের ঋণ দিলাম। তাদের হাতে ৫ টাকা, ১০ টাকা দিলাম। ৫ টাকা ১০ টাকা যে মানুষের জীবনের এত আনন্দ আনতে পারে, কোনদিন ভাবিনি। আমি কোন মাগনা টাকা তাদেরকে দিচ্ছিলাম না। আমি তাদেরকে বললাম টাকা দিচ্ছি রোজগার করে আমার টাকা আমাকে ফেরৎ দেবেন। তাতেই তারা খুশি। অনেক কাহিনী তাদের কাছ থেকে শুনলাম। তারা নিজের নাম পর্যন্ত বলতে পারেনা। আমাদের সমাজ মহিলাদের তার নিজের নাম শেখার বা জানারও সুযোগ দেয়নি। ছোটবেলায় অমুকের, মেয়ে, বিয়ে হলে অমুকের বউ, মা হলে অমুকের মা। সে যে কে সে নিজেও জানেনা। আমরা প্রথম চেষ্টা করলাম তার নাম বের করার। যাতে করে সে সেটা লিখতে পারে। আমার ছাত্রীরা তাদের লেখা শেখাতে গিয়ে তার জীবনের অনেক কাহিনী আসল।

এর থেকে আমি একটা সিদ্ধান্তে আসলাম এবং সভা সমিতিতে বললাম ঋণ মানুষের মানবিক অধিকার। সবাই হাসাহাসি করেন। আপনি ঋণের কথাও বলেন, অধিকারের কথাও বলেন। ইকোনোমিকসে তো অধিকারের কথা নেই। তাও আবার মানবিক অধিকার। আপনি কোন সাবজেক্টে লেখাপড়া করেন। অনেক খটকা। একটা খটকার পর আরেকটা খটকা। তারপর বললাম আমরা দারিদ্রকে জাদুঘরে পাঠাব। বলে আপনি কে জাদুঘরে পাঠানোর। আমি বললাম আমি আপনার মতই একজন মানুষ। আমি পাঠাইতে চাই, আপনি বাধা দিতে চাইলে বাধা দেন। তখন আমাকে বলা হল, আপনি কে, এটা তো সরকারের কাজ। তাহলে আমি আমার কাজ করতে থাকি। সরকার বাধা দিলে তখন দেখবো।

জোবরার মহিলাদের কাছ থেকে নতুন অর্থনীতি শেখা আরম্ভ করলাম। সে হিসেবে জোবরা আমার নতুন বিশ্ববিদ্যালয় দাঁড়িয়ে গেল। আজ পর্যন্ত যা কিছু করে যাচ্ছি, এই জোবরা থেকে যা শিখেছি তারই বহি:প্রকাশ। এখন যে অর্থনীতি আমরা পড়াচ্ছি তা ব্যবসার অর্থনীতি। মানুষের অর্থনীতি না।

তিনি বলেন, যেকোন অর্থনীতি যদি শুরু করতে হয় মানুষকে দিয়ে করতে হয়। ব্যবসাকে দিয়ে নয়। আজকে যে শুরুটা হল সেই শুরুটা আমাদের ভুল পথে নিয়ে গেল। আমরা এক ব্যবসাকেন্দ্রিক সভ্যতা গড়ে তুললাম। এই সভ্যতা আত্মঘাতি সভ্যতা। এটা টিকবে না। ওইযে, যে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে আমি পড়াশোনা শুরু করলাম, সেই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে বলল এই বিদ্যার পৃথিবী ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। এর থেকে রেহাই পাওয়ার কোন উপায় নেই। তখন আরো বড় আকারের জিনিসের মধ্যে ঢুকলাম।  বললাম, আমাদের নতুন সভ্যতা গড়তে হবে। আমি ভাবলাম এটা বললে তো আমার সহকর্মী যারা আছেন, যারা অথর্নীতি পাঠদান করেন,  লেখালেখি করেন তারা আমাকে অনেক আগেই ত্যায্য করেছে। তারা একেবারেই শেষ করে দেবে। এর সাথে কথা বলার দরকার নেই।

কিন্তু ওই নতুন শিক্ষাপ্রাপ্ত ছাত্র আমার মাথায় সেটা রয়ে গেল। আমাদেরকে নতুন সূত্রে যাত্রা শুরু করতে হবে। যে অর্থনীতির ভিত্তি হবে মানুষ। যে অর্থনৈতিক ভিত্তি হবে তার ভবিষ্যত পরিকল্পনা। ভবিষ্যত চিন্তাধারা। কিভাবে সে নিজেকে আবিষ্কার করবে। যেদিকে তাকে ছুটিয়ে দেয়া হয়েছে তার থেকে বের করে আনা। এগুলো সমস্ত কিছুর বীজ বপন হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের বিশ্ববিদ্যালয় জোবরা থেকে। সেজন্য আমি জোবরার কাছে কৃতজ্ঞ। চবির কাছে কৃতজ্ঞ যেহেতু এই বিশ্ববিদ্যালয় আমাকে জায়গা দিয়েছে। এরপর যে একটা নোবেল পুরস্কার পাব সেটা কল্পনা করিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যখন পরিচয় দেয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নোবেল পুরস্কার পেয়েছি। গৌরব করে।

ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয় গৌরব করে, আমি তাদের ছাত্র ছিলাম। আমি তাদের বলি চবির গৌরব করার কারণ দুইটি। পুরো কর্মসূচি নোবেল পুরস্কার পাওয়ার গোড়াপত্তন হয়েছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহচর্যে।

গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে ড. ইউনুস বলেন, আসলে এই বিশ্ববিদ্যালয় দুটি নোবেল পুরস্কারের জন্য গৌরব বোধ করতে পারে। একটিতো হলো আমি ব্যক্তিগতভাবে নোবেল পেয়েছি। দ্বিতীয়ত হল যে গ্রামীণ ব্যাংক সৃষ্টি হল সেটির গোড়াতেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। গ্রামীণ ব্যাংকের আইনে পরিস্কারভাবে লেখা আছে গ্রামীণ ব্যাংক কোথা থেকে আসল। ব্যাংকের জন্ম হল চবি অর্থনীতি বিভাগে সেটি পরিস্কার লেখা আছে। কাজেই দুটো নোবেল পুরস্কারের ইতিহাস নিজেদের ছাত্রছাত্রীদের জানাতে পারে।

পাঠদান ও গবেষণা কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে ছাত্রসমাজ ঠিক করবে তারা কি ধরনের ভবিষ্যৎ চায়। আমরা যে ধরনের বিশ্ব গড়তে চাই তা করার ক্ষমতা আমাদের আছে। সকল মানুষের আছে। কিন্তু আমরা গৎবাঁধা পথে চলে যাই বলে নতুন পৃথিবীর কথা আমরা চিন্তা করি না। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সবসময় যেন এটা মনে রেখে পাঠদান ও গবেষণা কর্মসূচি চালু রাখে। আমি খন্ডিত বিষয়ে গবেষণা চালানোর জন্য নিয়োজিত নই। প্রত্যেকটি গবেষণার পেছনে আমাদের উদ্দেশ্য হল সমস্ত বিশ্বকে মনের মতো করে সাজানো। আমাদের যদি সেই লক্ষ্য না থাকে তাহলে গন্তব্যবিহীন গবেষণা ও শিক্ষাতে পরিণত হবে।

আমরা যেভাবে বিশ্ব গড়তে চাই সেভাবেই বিশ্ব গড়তে পারি। আমি যেভাবে বলেছি সেভাবে গড়তে হবে এমন কোন কথা নেই। আমি আমার কথাটা বলে যাচ্ছি। অন্যরা অন্যদের কথা বলবে। তোমরা তোমাদের কথা বলবে। কিন্তু নিজের মনের একটা স্বপ্ন থাকতে হবে। আমরা কি ধরনের বিশ্ব চাই, কি ধরনের সমাজ চাই, কি ধরনের সংসার চাই কি ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থা চাই । এগুলো মনের মাধুরি মিশিয়ে আমাদেরকে বের করে নিতে হবে।

আজকে দুই বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং মহিলাদের যে বিশ্ববিদ্যালয় আমার জন্য সৃষ্টি হয়েছিল জোবরা এবং আশপাশের গ্রামে। তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

সমাবর্তন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চবি উপাচার্য ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার। এসময় উপস্থিত ছিলেন মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এস এম এ ফায়েজ, চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) মো. কামাল উদ্দিন প্রমুখ। 

সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময়’-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপর তিনজনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এ আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী। এর আগে আহমেদ জোবায়েরসহ চারজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তাদের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ‘সময়’ মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিশোধমূলকভাবে মোবারক হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। মামলার তদন্তে আসামিরা সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করবেন।

আদালতের আদেশ তামিল না করায় বুধবার জোবায়ের ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান থানায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় গত ১৩ মে সমন জারি করা হয়েছিল। হাজিরার তারিখ ১৭ জুন বুধবার ধার্য করে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে মামলায় অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সমনের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বর্তমানে পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী ও তাদের কন্যা সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।

এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে সেশনজট কমাতে পাঠ্যসূচি শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য দেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ফল।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা খাতে সংস্কার, মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্থগিত থাকা বৃত্তি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতারও সমাধান হয়েছে।

ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার জন্য এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষককে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শিক্ষা খাতকে আরও আনন্দময় ও মানবিক করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এসএন/

সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম, যার মাধ্যমে একজন সেনা সদস্য কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আদর্শবান, মর্যাদাবান ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলবে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন। ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নানা ধরনের বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যাডেটদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’র কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলো। প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয়ে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ-যোগ্য ও চৌকস নেতৃত্ব তৈরিতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশিক্ষণ শেষ করা অফিসার ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সামরিক চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সাহসিকতার সঙ্গে সব পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে হবে। প্রতিনিয়ত নিজেদের সক্ষমতাকে বাড়াতে সচেষ্ট থাকতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র ধারণ করে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হবে তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত।’

সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘শৃঙ্খলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারত্ব ও উৎকর্ষতা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। সেনাবাহিনী সব বিষয়ে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রথা দিয়ে পরিচালিত হয়। কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকের দারস্থ হবে। তোমরা ভুলে যাবেন না, তোমাদেরকে গড়ে তুলতে দেশের খেটে খাওয়া অনেক মানুষের অনেক অবদান রয়েছে।’

বিএমএ’র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য একটি দক্ষ, আধুনিক ও দেশোপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। এই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের। প্রশিক্ষণ শেষে যারা নতুন জীবনে পদার্পন করছো, সেখানে তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য অনেক বেশি।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও ৪ জন ফিলিস্তিন, ১ জন তানজানিয়া, ১ জন জাম্বিয়া এবং ১ জন মালদ্বীপের অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ এবং কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এতে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ ও সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন।

পাশাপাশি সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশী ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর। সেনাপ্রধান মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের জন্য একাডেমির কমান্ড্যান্ট, সংশ্লিষ্ট সব অফিসার, জেসিও, এনসিও, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পরে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’র শুভ উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএমএ-তে প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে '১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন'র পাশাপাশি '২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর।

এছাড়া তিনি বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ, বিএমএ পার্কসহ বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সামরিক-অসামারিক ঊর্ধতন কর্মকর্তা, কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলমগীর হোসেন/আমান

এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, উন্নত বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য ‘এসএসএফ’ প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিষ্ঠাকালীন এসএসএফ আর বর্তমান সময়ের এসএসএফ এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনে এই বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসএফ’ নামে এই বিশেষ বাহিনী যাত্রা শুরু করে। 

এসএসএফ এর অসাধারণ ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকার প্রধান থাকাকালে এবং সর্বশেষ জীবনের শেষদিনগুলোতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে এসএসএফে’র কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। 

এসএসএফে’র কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফ’র কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।

এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ এর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন ও পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

রেড বুকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালের পর এসএসএফ’এর ‘রেড বুক’ পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এটি এসএসএফে’র কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, এসএসএফ’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি ‘চেইন অফ কমান্ড’ এর বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। সমন্বয় যত বেশি করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ততবেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের বাছাই করেই এসএসএফ গঠন করা হয়। এরপর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার উপর আপনাদের দেশে বিদেশে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফ-কে আরও কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে, দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আপনারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন, এই প্রত্যাশা করছি। 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, এসএসএফ প্রধান এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের স্বপ্নবিলাসী বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: সংসদে আইনমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
এবারের স্বপ্নবিলাসী বাজেট বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে: সংসদে আইনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট একটি স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বাজেট, যা বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং স্বনির্ভর রাষ্ট্র গঠনের পথ সুগম করবে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, একসময় বাজেট উপস্থাপনের পর ‘গরিব মারার বাজেট’ বা ‘বড়লোকের বাজেট’ বলে সমালোচনা করা হতো। তবে এবারের বাজেটকে ঘিরে তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। কারণ এ বাজেটে গরিব, মধ্যবিত্ত, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, ব্যবসায়ী ও কর্মপ্রত্যাশী তরুণদের স্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দীর্ঘদিনের পরিকল্পনার বাস্তব প্রতিফলন। বাজেটকে স্বপ্নবিলাসী ও উচ্চাভিলাষী বলে সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, “যে জাতি স্বপ্ন দেখতে পারে না, সে জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। উচ্চাভিলাষ ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

মন্ত্রী জানান, কৃষি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। কৃষি কার্ড, উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার উন্নয়নে অতিরিক্ত প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য, যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। খাল-নদী পুনঃখনন, ব্যাপক বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ, ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলোও বাজেটে গুরুত্ব পেয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ বাজেট দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে উন্নয়ন, কর্মসংস্থান ও সুশাসনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেবে।

সংসদ/এলিস/আমান