ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
অসুস্থ মেসির বাবা, গুজব ছড়ানোয় ক্ষুব্ধ পরিবার গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে সুইজারল্যান্ড-বসনিয়া অবশেষে কাটল ভিসা জটিলতা, কানাডায় খেলতে পারবেন ওয়াহি বিশ্বকাপে সহজ ম্যাচ বলে কিছু নেই: ডগলাস সান্তোস বিশ্বকাপে সৌদি আরবের জন্য ভিন্ন নিয়ম পেনাল্টি গোলে চেক প্রজাতন্ত্রকে রুখে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা অপ্সরার আন্তর্জাতিক অভিষেক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা বাদশা গণপিটুনির শিকার তিন ডিবি সদস্য, উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি মেনে নাও, মেসি সেরা: রোনালদো নাজারিও কেইনের প্রেরণা এমবাপ্পে-হালান্ড কুমিল্লায় ধর্ষণকাণ্ড: গ্রেপ্তার শিবির নেতার পক্ষে দাঁড়ানো দুই এপিপির নিয়োগ বাতিল টাঙ্গাইলে প্রতিমন্ত্রী টুকুর নামে প্রতারণা, গ্রেপ্তার ১ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমার্ধে এগিয়ে চেক প্রজাতন্ত্র টাকার অভাবে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি অনিশ্চিত, সহায়তার আবেদন রাজবাড়ীতে ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নেইমার ভক্তদের জন্য দুঃসংবাদ সাবেক মন্ত্রী হারুণ অর রশীদ অর নেই কুমিল্লায় মাদক মামলায় কারাবন্দি যুবদলকর্মীর মৃত্যু চুয়াডাঙ্গায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু হাইতির বিপক্ষে নামার আগে ব্রাজিলকে সুখবর দিল ফিফা ওয়ালটন পিসিবিএ'র রপ্তানি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রীর আইসিটি উপদেষ্টা ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত হলো গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ, গণপিটুনির শিকার তিন পুলিশ বিশ্বকাপে ৩ ম্যাচ নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের সুরক্ষায় ইইউর ১.৪ কোটি ইউরো অনুদান বিশ্বকাপে বড় ধাক্কা খেল আইভরি কোস্ট, কানাডার ভিসা পেলেন না ওয়াহি মাগুরায় নবজাতককে বিক্রি করলেন বাবা পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের

অবরোধ-আন্দোলন: রাজধানীজুড়ে জনদুর্ভোগ

প্রকাশ: ১৬ মে ২০২৫, ১০:৫৭ এএম
অবরোধ-আন্দোলন: রাজধানীজুড়ে জনদুর্ভোগ
কাকরাইল মসজিদের সামনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি। ছবি: খবরের কাগজ

অন্তরর্বর্তী সরকার আসার পর থেকে বিভিন্ন দাবিতে রাজধানী ঢাকায় একের পর এক চলছে অবরোধ-বিক্ষোভ বা আন্দোলন। প্রতিদিনই ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো বেছে নিয়ে বিভিন্ন ব্যানারে এসব আন্দোলন-কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। যার প্রভাবে এসব এলাকার সড়কগুলোতে অনেক সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সড়কে যানবাহনের ধীর গতি বা আটকে থাকার কারণে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। একপর্যায়ে সেই যানজট গ্রাস করছে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা। এর ফলে মহাদুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন বিভিন্ন প্রয়োজনে রাজপথে চলা নগরবাসী। বাসা থেকে বেরিয়ে আকস্মিক এমন দুর্ভোগের শিকার হয়ে বিপাকে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

বৃহস্পতিবারও (১৫ মে) রাজধানীর কাকরাইল এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবিতে অবরোধ-বিক্ষোভ হয়েছে। ঢাবিতে হল ছাত্রদলের নেতা শাহরিয়ার আলম সাম্য হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটির মেয়র হিসেবে ইশরাক হোসেনকে বসানোর দাবিতে নগর ভবনের প্রধান ফটকসহ বিভিন্ন গেট অবরুদ্ধ করেন বিক্ষোভকারীরা।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘রিকশা, ব্যাটারি চালিত রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদের’ ব্যানারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ হয়েছে। এ ছাড়াও প্রেসক্লাব এলাকায় রাখাইনের জন্য মানবিক করিডর নির্মাণ ও চট্টগ্রাম বন্দরের নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট।

বিভিন্ন শ্রেণি পেশার সাধারণ মানুষের সঙ্গে আলাপকালে তারা বলেছেন, বেশ কিছুদিন ধরেই ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় চলছে অবরোধ-আন্দোলন। বিশেষ করে শাহবাগ ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা, সচিবালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঘিরে প্রায় প্রতিদিনই দিনের কোনো না কোন সময় অবরোধ-বিক্ষোভ বা মানববন্ধন করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে চলাচলের অধিকার প্রতিনিয়ত ক্ষুণ্ন করেই দাবি আদায়ে মাঠে নামছে বিভিন্ন পক্ষ। যদিও গতকাল আবারও কাকরাইল-সুপ্রিম কোর্ট এলাকাসহ আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার দিনভর রাজধানীর বিজয় সরণি মোড় থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত ছিল তীব্র যানজট। যানজটের সঙ্গে বৃষ্টিও বাড়তি ভোগান্তি যোগ করে। প্রতিটি সিগন্যালে যানবাহন আটকে থাকতে দেখা যায়। দুপুরে বিজয় সরণি থেকে ফার্মগেটমুখী সড়কে প্রায় ৩০ মিনিটেরও বেশি সময় যানবাহন চলতে দেখা যায়নি। তবে খামারবাড়ি হয়ে ফার্মগেট ও বাংলামোটর অভিমুখী সড়কে যান চলাচল করতে দেখা যায়।

বিজয় সরণি থেকে রিকশা নিয়ে আসছিলেন আব্দুর রহিম। আলাপকালে তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘এই সড়কে দুপুর থেকে তেমন গাড়ি দেখছি না। হয়তো কোথাও অবরোধে যানবাহনগুলো আটকে আছে। রাস্তা ফাঁকা, তাই চালাচ্ছি (রিকশা)।’ 

এদিকে বিকেলে ফার্মগেট-বাংলামোটর রুটে যানবাহন চলাচলের গতি অতি মন্থর বা স্থবির ছিল। যানজটের কারণে তাই হেঁটে ফার্মগেট থেকে বাংলামোটর যাচ্ছিলেন সুমাইয়া আক্তার। চলতিপথে আলাপকালে সুমাইয়া বলেন, অফিস শেষ করে ইস্কাটনের বাসায় ফিরছিলেন তিনি। গাড়িতে উঠলেও জ্যামে বসে থাকতে হবে, তাই হেঁটেই বাসার উদ্দেশে রওনা দেন।

এদিকে গত বুধবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে, হেয়ার রোড, মিন্টো রোড ও বেইলি রোডের মন্ত্রীপাড়া এলাকায় পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে রাখে। এই কারণে বৃহস্পতিবার প্রায় দিনভর রাজধানীর কাকরাইল, সেগুনবাগিচা, রমনা, শাহবাগ, বাংলামোটর, মগবাজারসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র যানজট ছিল। মূল সড়ক ছাড়াও এই যানজটের প্রভাব পড়ে অভ্যন্তরীণ ছোট রাস্তা বা অলিগলিতেও। কয়টি রাস্তার মুখ চতুর্দিক থেকে আসা যানবাহনে জটলার সৃষ্টি হয়েছিল। 

এদিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনের সড়কেও পুলিশের ব্যারিকেড থাকায় শাহবাগ থেকে বাংলামোটর পর্যন্ত সড়কেও যানবাহনের প্রচণ্ড চাপ দেখা যায়। শিল্পকলা থেকে মৎস্যভবন হয়ে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত সড়কেও যানবাহন অনেকটা আটকে ছিল। এসব যানবাহেনে থাকা চালক, যাত্রী-আরোহী সবাই চরম বিপাকে পড়েন। 

সেগুনবাগিচা থেকে বাংলামোটরমুখী বাইক আরোহী ইরফান আলম বলেন, ‘সড়কের এমন অবস্থা যেন বাইক নিয়েও এদিক-সেদিক করে এগোনো যাচ্ছে না। প্রায় দিনই আমরা সাধারণ মানুষ বা যানবাহনের যাত্রীরা যেভাবে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছি, তা সহ্য করার মতো নয়। এই বিষয়গুলো যারা বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনে নামেন এবং সরকারের যারা কর্তৃপক্ষ তাদের সবারই বিবেচনা করা উচিত।’

এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘যখন তখন দাবি আদায়ের নামে রাস্তা অবরোধ বা সাধারণ মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে না ফেলতে বারবার আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি। আশা করি, যারা বিভিন্ন বিষয়ে বা রাজনৈতিক উদ্দেশে আন্দোলন করছেন বা করবেন তারা নগরবাসীর বৃহত্তর স্বার্থে ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাবেন না। সড়কের শৃঙ্খলা ও নাগরিকদের স্বস্তির জন্য ট্রাফিক পুলিশকে সহায়তা করবেন, এটাই কাম্য।’

গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু এলাকায় সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা: নতুন করে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সম্প্রতি উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঢাকা মহানগর পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে গতকাল (বৃহস্পতিবার) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির সরকারি বাসভবন, বিচারপতি ভবন, জাজেস কমপ্লেক্স, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের প্রধান গেট, মাজার গেট, জামে মসজিদ গেট, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ ও ২-এর প্রবেশগেট, বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের সামনে সব ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হলো।’

সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময়’-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপর তিনজনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এ আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী। এর আগে আহমেদ জোবায়েরসহ চারজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তাদের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ‘সময়’ মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিশোধমূলকভাবে মোবারক হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। মামলার তদন্তে আসামিরা সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করবেন।

আদালতের আদেশ তামিল না করায় বুধবার জোবায়ের ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান থানায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় গত ১৩ মে সমন জারি করা হয়েছিল। হাজিরার তারিখ ১৭ জুন বুধবার ধার্য করে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে মামলায় অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সমনের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বর্তমানে পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী ও তাদের কন্যা সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।

পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:০২ এএম
পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের
ছবি: সংগৃহীত

অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ছিলেন। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছিলেন।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন গোলাম সাকলায়েন।

এতে আরও বলা হয়, তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপন, তার সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সময় কাটানোর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠিয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ তিনি অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ওই বছরের ২৮ মার্চ তার ব্যক্তিগত শুনানি হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কারণ দর্শানোর জবাব ও অন্য বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ১২ ডিসেম্বর দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ১০ মার্চ তিনি ওই নোটিশের জবাব দেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও অন্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো হলে কমিশনও তার বিরুদ্ধে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড আরোপের পক্ষে মত দেয়। এরপর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি গত ১৭ জুন এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করেন। বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ দায়ে মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

আমান/এসএন

এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে সেশনজট কমাতে পাঠ্যসূচি শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য দেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ফল।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা খাতে সংস্কার, মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্থগিত থাকা বৃত্তি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতারও সমাধান হয়েছে।

ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার জন্য এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষককে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শিক্ষা খাতকে আরও আনন্দময় ও মানবিক করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এসএন/

সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:৪৯ পিএম
সামরিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান সেনাপ্রধানের
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ‘সামরিক জীবনে ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার গুরুত্ব অপরিসীম, যার মাধ্যমে একজন সেনা সদস্য কর্মক্ষেত্রে নিজেকে আদর্শবান, মর্যাদাবান ও উন্নত চরিত্রের অধিকারী হিসেবে গড়ে তুলবে।’

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) চট্টগ্রামের ভাটিয়ারির বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমিতে (বিএমএ) ‘রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ’ অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এ কথা বলেন। ৯০তম দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের অফিসার ক্যাডেটদের কমিশন প্রাপ্তি উপলক্ষ্যে এ কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেনাপ্রধান বলেন, বর্তমান পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নের লক্ষ্যে নানা ধরনের বাস্তবমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ক্যাডেটদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’র কার্যক্রম উদ্বোধন করা হলো। প্রিয় মাতৃভূমির স্বাধীনতা রক্ষার প্রত্যয়ে আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দক্ষ-যোগ্য ও চৌকস নেতৃত্ব তৈরিতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রশিক্ষণ শেষ করা অফিসার ক্যাডেটদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘তোমাদেরকে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ গ্রহণের জন্য সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। সামরিক চেতনা ও মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখতে এবং যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দেশপ্রেমকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। সাহসিকতার সঙ্গে সব পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করতে হবে। প্রতিনিয়ত নিজেদের সক্ষমতাকে বাড়াতে সচেষ্ট থাকতে হবে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মূলমন্ত্র ধারণ করে মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় হবে তোমাদের জীবনের প্রথম এবং প্রধানতম ব্রত।’

সেনাপ্রধান আরও বলেন, ‘শৃঙ্খলা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পেশাদারত্ব ও উৎকর্ষতা অর্জনের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি। সেনাবাহিনী সব বিষয়ে নির্ধারিত নিয়ম ও প্রথা দিয়ে পরিচালিত হয়। কোনো বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে নিজের বিবেকের দারস্থ হবে। তোমরা ভুলে যাবেন না, তোমাদেরকে গড়ে তুলতে দেশের খেটে খাওয়া অনেক মানুষের অনেক অবদান রয়েছে।’

বিএমএ’র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে সেনাবাহিনী প্রধান বলেন, ‘মাতৃভূমির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য একটি দক্ষ, আধুনিক ও দেশোপ্রেমের চেতনায় উদ্বুদ্ধ সেনাবাহিনীর গুরুত্ব অপরিসীম। এই সেনাবাহিনীর নেতৃত্বের দায়িত্ব মূলত অফিসারদের। প্রশিক্ষণ শেষে যারা নতুন জীবনে পদার্পন করছো, সেখানে তোমাদের দায়িত্ব-কর্তব্য অনেক বেশি।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, দীর্ঘ তিন বছরের কঠোর সামরিক প্রশিক্ষণ শেষে এই মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজের মাধ্যমে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের সর্বমোট ১৮৪ জন অফিসার ক্যাডেট বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশন লাভ করেন।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের মধ্যে ১৬৬ জন পুরুষ ও ১৮ জন মহিলা অফিসার রয়েছেন। এছাড়াও ৪ জন ফিলিস্তিন, ১ জন তানজানিয়া, ১ জন জাম্বিয়া এবং ১ জন মালদ্বীপের অফিসার ক্যাডেট বিএমএ থেকে সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন, যারা নিজ নিজ দেশের সেনাবাহিনীতে যোগদান করবেন।

অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও প্যারেডের অভিবাদন গ্রহণ এবং কৃতি ক্যাডেটদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এতে ৯০তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সের ব্যাটালিয়ন সিনিয়র আন্ডার অফিসার খায়রুল ইসলাম সেরা চৌকশ ক্যাডেট হিসেবে অসামান্য গৌরবমণ্ডিত ‘সোর্ড অব অনার’ ও সামরিক বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্বের জন্য ‘সেনাবাহিনী প্রধান স্বর্ণপদক’ অর্জন করেন।

পাশাপাশি সর্বশ্রেষ্ঠ বিদেশী ক্যাডেট হিসেবে ‘বিএমএ ট্রফি অব এক্সিলেন্স’ অর্জন করেন তানজানিয়ার সার্জেন্ট আবু বকর। সেনাপ্রধান মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের জন্য একাডেমির কমান্ড্যান্ট, সংশ্লিষ্ট সব অফিসার, জেসিও, এনসিও, সৈনিক এবং অসামরিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

পরে সেনাবাহিনী প্রধান বিএমএতে ‘২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন’র শুভ উদ্বোধন করেন। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিএমএ-তে প্রশিক্ষণরত অফিসার ক্যাডেটদের পেশাগত দক্ষতা, নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জন এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক মানোন্নয়নের লক্ষ্যে '১ম বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন'র পাশাপাশি '২য় বাংলাদেশ ব্যাটালিয়ন' প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বলে জানায় আইএসপিআর।

এছাড়া তিনি বিএমএতে নবনির্মিত সিএমএইচ, বিএমএ পার্কসহ বিভিন্ন প্রকল্প উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সামরিক-অসামারিক ঊর্ধতন কর্মকর্তা, কমিশনপ্রাপ্ত অফিসারদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলমগীর হোসেন/আমান

এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
এসএসএফকে জনগণের সঙ্গে সংযোগ অটুট রাখার নির্দেশ তারেক রহমানের
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

সরকার প্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস ও ভালোবাসার ওপর আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। তাই নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকার প্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, উন্নত বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য ‘এসএসএফ’ প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনারা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেবেন। তবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে জনগণ যাতে দুর্ব্যবহারের শিকার না হয় সে দিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রতিষ্ঠাকালীন এসএসএফ আর বর্তমান সময়ের এসএসএফ এর মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থা, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ বিকাশের ফলে বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এইসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা জরুরি। একটি বিশেষায়িত বাহিনী হিসেবে সাহস, দক্ষতা, কৌশল এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তিতে এসএসএফ-এর পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, আজ থেকে ৪০ বছর আগে সময়ের প্রয়োজনে এই বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৯১ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর নাম পরিবর্তন করে ‘এসএসএফ’ নামে এই বিশেষ বাহিনী যাত্রা শুরু করে। 

এসএসএফ এর অসাধারণ ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন মেয়াদে সরকার প্রধান থাকাকালে এবং সর্বশেষ জীবনের শেষদিনগুলোতে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় এসএসএফ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছে।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম নামাজে জানাজা আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রধান হিসেবে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে এসএসএফে’র কার্যক্রম সরাসরি প্রত্যক্ষ করছি। 

এসএসএফে’র কার্যক্রমের সঙ্গে আমার পরিচয় নতুন নয়। মরহুমা প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন সরকার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তখন থেকেই অর্থাৎ আমার তরুণ বেলা থেকেই আমি এসএসএফ’র কার্যক্রমের সঙ্গে পরিচিত।

এসএসএফ-এর নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জ এর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে নবনির্মিত এই ফায়ারিং রেঞ্জ নিঃসন্দেহে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

আশা করি, নিরাপত্তা কৌশল প্রণয়ন ও পেশাগত কর্মদক্ষতা বাড়াতে আপনারা এই ফায়ারিং রেঞ্জের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করবেন।

রেড বুকের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০২ সালের পর এসএসএফ’এর ‘রেড বুক’ পুনরায় সংস্কার করে বর্তমানে আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী করা হয়েছে। এটি এসএসএফে’র কর্মপদ্ধতির নীতিমালা প্রদানের পাশাপাশি আইনি সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছে।

তিনি বলেন, এসএসএফ’র মত বিশেষায়িত বাহিনীর জন্য আধুনিক নিরাপত্তা কৌশল ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রতিটি সদস্যের সাহস, সততা, বিশ্বস্ততা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব এবং সর্বোপরি ‘চেইন অফ কমান্ড’ এর বিষয়গুলো কঠোরভাবে মেনে চলা অপরিহার্য।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র প্রধান, সরকার প্রধান এবং দেশে-বিদেশে রাষ্ট্রঘোষিত বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সঙ্গে দেশের জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টিও জড়িত।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে দেশের অন্য নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমেই এসএসএফ-কে নিরাপত্তা কৌশল নিশ্চিত করতে হয়। সমন্বয় যত বেশি করা যায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ততবেশি সুচারুভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সেনা, নৌ, বিমান, পুলিশ এবং আনসার বাহিনীর মধ্য থেকে দক্ষ কর্মকর্তাদের বাছাই করেই এসএসএফ গঠন করা হয়। এরপর গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তার উপর আপনাদের দেশে বিদেশে উন্নত মানের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়।

আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসএসএফ-কে আরও কর্মদক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন তিনি।

এসএসএফ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রীতিনীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে, দেশপ্রেমের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে আপনারা সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখবেন, এই প্রত্যাশা করছি। 

অনুষ্ঠানে মন্ত্রীপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ, এসএসএফ প্রধান এবং বিভিন্ন কর্মকর্তা ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।