ঈদুল আজহা ঘনিয়ে আসায় মানুষ ঢাকা ছাড়তে শুরু করেছেন। এর প্রভাব বাজারে দেখা গেছে। এ ছাড়া গতকাল দিনভর বৃষ্টি হতে থাকায় বিক্রেতারা বিভিন্ন পণ্য দোকানে সাজিয়ে রাখলেও ক্রেতা এসেছেন খুবই কম। ফলে সবজির দাম কিছুটা কমেছে। তবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বোরো ধান উঠলেও দাম অত কমেনি। এখনো ডায়মন্ড মিনিকেট ৮৫ টাকা, মোজাম্মেল কোম্পানির চাল ৮২ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। ডিমের দামও বাড়তি। তবে আগের দরেই মুরগি বিক্রি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
কম দরে সবজি বিক্রি
গতকাল অধিকাংশ সবজি আগের চেয়ে ১০ থেকে ১৫ টাকা কম দরে বিক্রি হয়েছে। গতকাল বাজারে দেখা যায়, বেগুন কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৮০ টাকা, টমেটো ৬০ থেকে ৮০, ঝিঙে, ধুন্দল ৫০ থেকে ৬০, শসা ৫০ থেকে ৮০, করলা, পটোল ৫০ থেকে ৬০, ঢ্যাঁড়স ৩০ থেকে ৫০, কাঁচা মরিচ ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। কাঁকরোলের দাম কমে ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শজনে ডাঁটার কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়। লেবুর হালি ১০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হয়।
হাতিরপুল বাজারের তাজরুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঈদ ঘনিয়ে আসায় কাস্টমার কমে গেছে। এ জন্য দাম কমছে। আবার গতকাল বৃষ্টির দিনেও কাস্টমার বাজারে কম আসেন। সবজি জমা রাখা যায় না। লোকসান করে হলেও দিনেরটা দিনে বিক্রি করতে হয়।’
এখনো বেশি দরে চাল বিক্রি
হাওরসহ সারা দেশে বোরো ধান উঠেছে। ফলে কয়েক দিনের ব্যবধানে মিনিকেট চালের দাম কমেছে। মনজুর, রশিদ, সাগর কোম্পানির মিনিকেটের কমে ৭৫ টাকায় এসেছে। তবে গতকালও ডায়মন্ড কোম্পানির মিনিকেট চাল ৮৫ টাকায় ও মোজাম্মেল কোম্পানির চাল ৮২ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বোরো মৌসুমেও আগের মতো আটাশ চাল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা ও মোটা চাল ৫২ থেকে ৫৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।
বাড়েনি মসলার দাম
ঈদের মাত্র আট দিন বাকি থাকলেও মসলার দাম বাড়েনি। আগের মতোই পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হয়। টাউন হল বাজারের খুচরা বিক্রেতা রফিক উদ্দিন বলেন, ‘পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়েনি।’ বিভিন্ন বাজারে আগের মতোই দেশি আদা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, আমদানি করা আদা ১৮০ থেকে ২২০, দেশি রসুন ১৪০ থেকে ১৬০, আমদানি করা রসুন ১৮০ থেকে ২২০ ও আলুর কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।
বাড়তি ডিমের দর
গতকাল হঠাৎ করে দিনভর বৃষ্টি হলে আগের সপ্তাহের তুলনায় বিভিন্ন বাজারে ডিমের দাম কিছুটা বাড়ে। আগের সপ্তাহে ডজন ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল ১৪০ টাকায় ঠেকে। তবে ব্রয়লার মুরগি আগের মতোই কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হয়। টাউন হল বাজারের সোনালি ব্রয়লার হাউসের মো. ইদ্রিস আলী, হাতিরপুল বাজারের রুহুল আমিনসহ অন্যরা খবরের কাগজকে বলেন, ‘ঈদ এসে গেছে। মানুষ বাড়ি যেতে শুরু করেছেন। এ জন্য চাহিদা কমছে। দাম বাড়েনি। আগের মতোই ব্রয়লার ১৫০-১৬০ টাকা ও সোনালি মুরগির দাম ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।’
দেশি মুরগি আগের মতোই কেজি ৬৫০ থেকে ৬৮০ টাকা, গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০, খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করতে দেখা গেছে। আকারভেদে চাষের রুই-কাতলা মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০, চিংড়ি ৫০০ থেকে ৮০০, তেলাপিয়া ও পাঙাশ ১৮০ থেকে ২২০ এবং কাঁচকি মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।