ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
রাজধানীর প্রান্তিক গ্রামে ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী
Nagad desktop

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে চসিক মেয়র

প্রকাশ: ০৭ জুন ২০২৫, ০৫:১২ পিএম
বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শনে চসিক মেয়র
ছবি: খবরের কাগজ

চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় কোরবানির কার্যক্রম ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

শনিবার (৭ জুন) দুপুরে নগরের চকবাজার এলাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পরিদর্শন করেন তিনি।

এ সময় তিনি নিজ হাতে রাস্তার পাশে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেন, যাতে অন্যরাও এ কাজে অনুপ্রেরণা পান।
 
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, কোরবানির আত্মত্যাগের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে চট্টগ্রামকে ক্লিন-গ্রিন-হেলদি-সেফ সিটি’ হিসেবে গড়তে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব নিতে হবে। কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত স্থানে ফেলে সিটি কর্পোরেশনকে সহযোগিতা করতে হবে। আমরা আজ বিকেল ৫টার মধ্যে পুরো চট্টগ্রাম নগরীকে বর্জ্যমুক্ত করতে চাই।

তিনি আরও বলেন, সকাল থেকে দামপাড়া কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম মনিটরিং করা হচ্ছে। 

অমিয়/

প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান
চকরিয়ায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

টিকিটের প্রলোভন দেখিয়ে জনগণের ভোট নেওয়ার রাজনীতি আর সফল হবে না। যারা মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে প্রলোভন ও বিভ্রান্তির রাজনীতি করে, তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না বলে বলছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “তারা জনগণকে ঠকিয়ে ভোট নিতে চেয়েছিল। টিকিটের প্রলোভন দেখিয়ে তারা ভোট নিতে চেয়েছিল। তারা জনগণের বন্ধু না। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা বুঝতে শিখেছে কে দেশের জন্য কাজ করে আর কে নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করে।”

তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী বাজেটে ৪৫ লাখ পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সরকারি সহায়তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

যোগাযোগ খাতের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

বাজেট নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “যারা বাজেটের বিরোধিতা করছে, তারা বাংলাদেশের মানুষের বন্ধু হতে পারে না। এই বাজেট জনকল্যাণ ও উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ের ৩০ ও ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। বেকারত্ব দূরীকরণ, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”

তারেকুর রহমান/এসএন

প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: খবরের কাগজ

প্রযুক্তি খাতে দক্ষ তরুণরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। 

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রোগ্রামিং ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই।’

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে ‘জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী কৌশলের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। আমাদের তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’

সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে তাদের যুক্ত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উদ্ভাবন শুরু হয় একটি ছোট প্রশ্ন থেকে। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে নতুন কিছু করার সাহস অর্জন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের তরুণরা প্রোগ্রামিং, রোবটিক্স ও সাইবার সিকিউরিটিতে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে। তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) বাস্তবায়নে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় এ বছর কুইজ ও প্রোগ্রামিং মিলিয়ে ১৭ হাজার ৮৩৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে ৮৩২ জন জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। বিজয়ী প্রতিযোগীদের হাতে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এ টি এম জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। 

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী
সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের উদ্বোধনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সোনারগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও শিক্ষানীতির আলোকে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও উৎসব ভাতার প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশের লক্ষ্যে নবনির্মিত ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সেশনজটমুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এসএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে। সিলেবাস শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে ১৮ বছরের মধ্যেই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি জানান, ২০২৭ সালে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন এবং ২০২৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হবে। বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। আগামী জুলাই থেকে সারাদেশে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষাকে আনন্দময় ও সৃজনশীল করতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সোনারগাঁওয়ের শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্দরে স্থাপনের পরিকল্পনা থাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এখন সোনারগাঁওয়ে নির্মিত হবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান সোনারগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ১০০ বিঘা জমি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষানীতির আলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবই বিতরণে আর কোনো বিলম্ব হবে না। পরীক্ষা শেষে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হবে।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এমপি, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম, যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ফিতা কাটা ও দোয়ার মাধ্যমে ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিভা প্রদর্শনী উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহের মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিকল্পিত উন্নয়নই একমাত্র পথ। 

বিশ্ব পরিবেশ দিবস- ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে ‘জলবায়ু-সহনশীল এবং পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিআইপি’র সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসানের সঞ্চালনায় এতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) ড. নুরুন নাহার এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের যুগ্মপ্রধান (ডেল্টা অনুবিভাগ) ড. এস এম যোবায়দুল কবির বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে বিআইপি’র সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. ফারহানা আহমেদ বলেন, জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। জাতীয় পর্যায়ের নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে পরিকল্পনাবিদদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শিল্পাঞ্চলের বায়ুদূষণ মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন পরিকল্পনাবিদ নাঈমা ইসলাম মিম। তিনি তার গবেষণাপত্রে ‘লাইকেন’ ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করে বলেন, এটি বাতাস থেকে সীসা ও তামার মতো ভারী ধাতু শোষণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। শিল্পকারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণে এটি একটি পরিবেশবান্ধব ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধান হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জলবায়ু কর্মসূচি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. শিবলী সাদিক বলেন, প্রচলিত সম্ভাব্যতা যাচাই বা অর্থনৈতিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রকল্পের বাস্তবায়নযোগ্যতা বা ‘ইমপ্লিমেন্টাবিলিটি’ যাচাই করা জরুরি। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত না করলে বড় ধরনের প্রকল্পগুলো টেকসই হয় না বলে তিনি মত দেন।

পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও গবেষণা ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ ড. হাসীব মুহাম্মদ ইরফানুল্লাহ বলেন, পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপে জীববৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিকল্পনাবিদদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্মপ্রধান ড. এস এম যোবায়দুল কবির বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক এই তিন স্তম্ভের সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দক্ষ পরিকল্পনাবিদের অভাব থাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অভিবাসন বাড়ছে, যা পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুন নাহার বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার অভাব প্রায়শই বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি করে। এ সমস্যা সমাধানে একটি মানসম্মত নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে পরিকল্পনাবিদদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিআইপি’র সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়নের মূল ভিত্তিই হলো পরিবেশ সংরক্ষণ।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

এমআরডিআই-এর মতবিনিময় সভা সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:২২ পিএম
সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল
‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ‘খবরের কাগজ’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল। ছবি: খবরের কাগজ

সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতায় দলীয় প্রভাবমুক্ত, বস্তুনিষ্ঠ এবং সত্যনিষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ‘খবরের কাগজ’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতাকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলের লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত হতে হবে। তবেই গণমাধ্যম প্রকৃত শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার ভবনে মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) আয়োজিত ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন  বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, কমিশনের দুই সদস্য অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, জিমি আমির। উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্সের মহাসচিব আব্দুস সালাম, দ্য ফাইনান্সিয়্যাল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাহী সম্পাদক সাখাওয়াত লিটন, চ্যানেল আইয়ের নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, প্রথম আলোর উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি, দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, যশোরের সংবাদপত্র লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু, গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, প্রকাশিতব্য দৈনিক ওয়াদার প্রধান সম্পাদক শফিকুল আলম।

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।  এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন প্রক্রিয়া, এর পরিধি এবং কমিশনের কাছে অংশীজনদের প্রত্যাশার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরা ছিল এমআরডিআইয়ের সভার মূল উদ্দেশ্য।

হাল আমলে ফেক নিউজ বা ভুয়া সংবাদের ছড়াছড়ি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোস্তফা কামাল দাবি করেন, গত তিন বছরে বিভিন্ন গবেষণায় ‘খবরের কাগজ’ ফেক নিউজ মুক্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও গণমাধ্যমকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘একটি পত্রিকা ডিক্লারেশন নেওয়ার পর সরকারি অনুমোদন পায়। অথচ এরপরও মিডিয়াভুক্ত হওয়ার নামে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। মাসে আড়াই কোটি টাকা খরচ করে একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর পর আবার কেন বারবার যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে হবে?’ তিনি সরকারি সংস্থাগুলোর এই কার্যক্রমকে এক ধরনের ‘হয়রানি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সরকার গঠিত মিডিয়া কমিশন প্রসঙ্গে সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, গণমাধ্যমকে কেবল বিশেষ কোনো রাজনৈতিক লাইনের অনুসারী বা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অনেক সময় একই ধরণের সংবাদের জন্য নির্দিষ্ট গণমাধ্যমকে যেভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, অন্য গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে তা করা হয় না। এই বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে তিনি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, অতীতের মতো সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম থাকলে গণমাধ্যম অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে। সাংবাদিকরা যদি কোনো দলের অনুসারী না হয়ে নিছক পেশাদার হিসেবে কাজ করেন, তবেই দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক সাংবাদিকতা সম্ভব হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, সত্য ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই হোক সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য।

দেশে সাংবাদিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি কার্যকর ও স্বাধীন ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ (একীভূত প্রতিষ্ঠান) গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে প্রেস কাউন্সিল বিলুপ্ত করার কথা বলা হলেও ২৬-এর আইজেক খসড়ায় প্রেস কাউন্সিলকে রেখে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সারা হোসেন একে ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘একদিকে গণমাধ্যম কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, আবার ৫০ বছরের পুরনো প্রেস কাউন্সিলকেও রাখা হচ্ছে। এতে কাজের ওভারল্যাপিং হবে। একটি ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ বা একীভূত প্রতিষ্ঠান হওয়াই সবচেয়ে যৌক্তিক।’

আইজেক খসড়ায় নির্বাচক কমিটিতে কেবল একজন সরকারি প্রতিনিধি (ক্যাবিনেট সেক্রেটারি) রাখার ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের অভিজ্ঞতার আলোকে এই সিলেকশন প্রক্রিয়া যেন অত্যন্ত স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক মানের হয়, তা বিধিমালায় স্পষ্ট করতে হবে।’ এছাড়া ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেন দুই বছর পার হলেই নিয়োগ না পান, সেই অযোগ্যতার ধারাটি কঠোর করার তাগিদ দেন তিনি।

মোবাইল জার্নালিজমের এই যুগে সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, ‘যোগ্যতা নির্ধারণ যেন কোনোভাবেই লাইসেন্সিং-এর মতো না হয়ে দাঁড়ায়। এটি বাধ্যতামূলক না করে বরং প্রশিক্ষণ, প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ও অ্যাক্রেডিটেশনের সুযোগ রাখা উচিত।

আইজেকের খসড়ায় কমিশনকে জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। দেশের অতীত প্রেক্ষাপট ও সাংবাদিকদের ওপর জুলুম-হয়রানির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারা হোসেন বলেন, ‘ফাইন বা জরিমানা করাকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এটি অন্য কোনো বড় সাজা বা হয়রানির চেয়ে ভালো।’

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘কনফিডেনশিয়ালিটি অব সোর্সেস’ বা সোর্সের গোপনীয়তা সুরক্ষার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান

গণমাধ্যম খাতে যে নৈরাজ্য বিরাজ করছে, তার উল্লেখ করে কামাল আহমেদ বলেন, ‘এই নৈরাজ্যের মধ্যে কেবল একটি কমিশন কাজ করতে পারবে না। গণমাধ্যম খাতে যে সীমাহীন বিশৃঙ্খলা, আগে সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। কোনো নীতিমালা বা স্বচ্ছতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠান খোলার যে প্রবণতা, তা বন্ধ করতে হবে।

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন থেকে আগেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান কামাল আহমেদ। তার মতে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। 
একটি হাউসের নিয়ন্ত্রণে থাকা গণমাধ্যমের সংখ্যা সীমিত রাখা; দৈনিক পত্রিকার সার্কুলেশন এবং টেলিভিশনের টিআরপি নির্ধারণে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিদর্শন ব্যবস্থায় নাগরিক সমাজ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং পত্রিকাগুলোর টার্নওভার ট্যাক্স ও অডিট রিপোর্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সার্কুলেশন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে আবারও তিনি গণমাধ্যমের মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, ‘কমিশনকে কেবল ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে কাজ করতে হবে এবং এর আইনি ভিত্তি এমন হতে হবে যেন সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

জয়ন্ত সাহা/এসএন