দেশে বাড়ছে করোনার নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ২ জন সুস্থ হয়েছেন। কারও মৃত্যু হয়নি। এ পর্যন্ত দেশে সব মিলিয়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ২০ লাখ ৫১ হাজার ৭৬০ জন। আর মোট সুস্থ হয়েছেন ২০ লাখ ১৯ হাজার ৩৭৮ জন। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
নতুন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করার জন্য সতর্কতামূলক কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। নতুন করে করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংক্রমণ ঝুঁকি কমাতে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কয়েকটি দেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে কোভিড-১৯ প্রতিরোধের লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণকে বাধ্যতামূলক করে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ দফা নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর- মাউশি। এই নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে নিয়মিত সাবান ও পানি দিয়ে (কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে) হাত ধোয়া; জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক পরা; আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে অন্তত ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা; অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ না করা; হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু অথবা কনুই দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ জানিয়েছেন, ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে করোনার নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্ট; বিশেষ করে অমিক্রন এলএফ ৭, এক্সএফজি, জেএন-১ এবং এনবি ১.৮.১-এর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। আইসিডিডিআরবির গবেষকরা জানিয়েছেন, সম্প্রতি করোনার আরও ২টি নতুন ধরন- এক্সএফজি ও এক্সএফসি শনাক্ত হয়েছে; এগুলো অমিক্রন জেএন ১-এর উপধরন এবং এদের সংক্রমণ ক্ষমতা বেশি।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে এসব ভ্যারিয়েন্ট বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আশপাশের কয়েকটি দেশে প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণ না করার নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনার সংক্রমণ রোধে বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে বিমানবন্দরে চলমান স্ক্রিনিং ব্যবস্থার দুর্বলতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিদেশফেরত অনেক যাত্রী। দেশের হেলথ স্ক্রিনিং পয়েন্টগুলোতে নন-টাচ টেকনিকে তাপমাত্রা নির্ণয়, স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য পর্যাপ্ত মাস্ক, গ্লাভস ও রোগপ্রতিরোধী পোশাক মজুত রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে রোগ প্রতিরোধমূলক নির্দেশনাগুলো প্রচারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে অসুস্থ ব্যক্তিকে ঘরে থাকতে ও মাস্ক পরতে এবং প্রয়োজনে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া রোগীর জটিল পরিস্থিতিতে আইইডিসিআরের হটলাইনে (০১৪০১-১৯৬২৯৩) যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।