রাজধানীর মগবাজারে আবাসিক হোটেল থেকে সৌদিপ্রবাসী স্বামী এবং তার স্ত্রী-সন্তানসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার রফিকুল ইসলামকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলম ওই আদেশ দেন।
এর আগে তদন্ত কর্মকর্তা রমনা মডেল থানার এসআই জালাল উদ্দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন।
আসামির আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে রিমান্ড মঞ্জুর করেন বিচারক। সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউশনের উপপরিদর্শক জিন্নাত আলী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গত রবিবার (২৭ জুন) মগবাজারের আবাসিক হোটেল ‘সুইট স্লীপ’ থেকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হলে সৌদিপ্রবাসী মনির হেসেন (৪৮), তার স্ত্রী নাসরিন আকতার স্বপ্না (৩৮) এবং তাদের সন্তান আরাফাতকে (১৮) মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। তাদের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভোলাকোট ইউনিয়নের দেহলা গ্রামে।
এ ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন ওই প্রবাসীর ভাই নুরুল আমিন। নুরুল মামলায় বলেন, আসামি রফিকুল ইসলাম তাদের চাচাতো চাচা। তিনি কেরানীগঞ্জে মনিরের দুটি বাড়ি দেখভাল করতেন।
এজাহারে বলা হয়, কোরবানির ঈদের আগে মনির হোসেন গ্রামে আসেন। তিনি দেশে আসার পর জমিজমা এবং টাকা-পয়সার হিসাব নিয়ে রফিকুলের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়। এর মধ্যে ২৮ জুন ছেলের চিকিৎসার জন্য স্ত্রীসহ ঢাকায় আসেন মনির। তাদের সঙ্গে ঢাকায় অবস্থান করা চাচা রফিকুল ইসলাম নিউ ইস্কাটন রোডের এসপিআরসি হাসপাতালে যান।
ওই দিন চিকিৎসকের সিরিয়াল না পেয়ে মনির স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে মগবাজারের ‘সুইট স্লীপ’ হোটেলে ওঠেন। বিকেলে পাশের ‘ভর্তা ভাত’ হোটেলে গিয়ে খাবার খান মনির ও রফিকুল ইসলাম। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মনিরের স্ত্রী ও সন্তানের জন্য খাবার নিয়ে হোটেল কক্ষে যান রফিকুল।
মামলায় বলা হয়েছে, চাচা রফিকুলের আনা খাবার মনির ও তার পরিবার খেয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়েন। পরে তারা বমি করতে থাকেন, তাদের আদ্-দ্বীন হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এজাহারে বাদী নুরুল বলেছেন, ‘আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে শুনে আমার ধারণা হয়, আমার ভাইয়ের সম্পত্তি আত্মসাৎ করার জন্য অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা পূর্বপরিকল্পনা করে হোটেলে অবস্থানকালে তাদের (মনির ও তার স্ত্রী-সন্তান) খাবারের সঙ্গে বিষ বা বিষজাতীয় পদার্থ মিশিয়ে অথবা অন্য কোনো উপায়ে তাদের হত্যা করেছে।’