রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়ক এলাকার একটি বাসায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে শিশুসহ একই পরিবারের তিনজন মারাত্মক দগ্ধ হয়েছেন। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
বুধবার (৯ জুলাই) রাত পৌনে ২টার দিকে শহীদ ফারুক সড়ক এলাকার খাদেমুল কুরআন মহিলা মাদ্রাসা গলির ৩১/১ নম্বরের ছয়তলা আবাসিক ভবনের নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দগ্ধ অবস্থায় একই পরিবারের মোহাম্মদ রিপন (৪০), তার স্ত্রী ইতি আক্তার (৩২) ও তাদের সাড়ে তিন বছর বয়সী মেয়ে রাফিয়াকে উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে নেন। মনির নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন।
দগ্ধদের হাসপাতালে নেওয়া প্রতিবেশী তাসলিমা মনি খবরের কাগজকে বলেন, যাত্রাবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়ক এলাকার ওই ছয়তলা ভবনের নিচ তলায় পরিবার নিয়ে বসবাস করেন রিপন। রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে গভীর রাতে মশার কয়েল জ্বালানোর সময় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তাৎক্ষণিক তাদের শয়নকক্ষে আগুন ধরে যায়। এতে তারা তিনজন দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের শব্দ ও চিৎকার শুনে লোকজন ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন।
তিনি আরও বলেন, 'বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হলে পাশের ভবনে আমরা ঘুমিয়ে থাকা সত্ত্বেও চমকে উঠি। চিৎকার শুনে বেরিয়ে দেখি ওই কক্ষে আগুন জ্বলছে। ইতির শরীর থেকে চামড়া খসে পড়ছিল, আর হাসপাতালে নিয়ে বাঁচানোর জন্য আর্তনাদ করছিলেন। এ অবস্থায় উপস্থিত কয়েকজনে মিলে দ্রুত তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাই।'
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, দগ্ধ সবার শ্বাসনালি পুড়ে গেছে। এরমধ্যে রিপনের শরীরের ৭০ শতাংশ, ইতির ৪৫ শতাংশ ও শিশু রাফিয়ার শরীরের ৯০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে রাফিয়াকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) এবং তার মা-বাবাকে হাই ডিফেন্সিভ ইউনিটে (এইসডিইউ) ভর্তি দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, ওই ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটের তিনটি কক্ষে তিন পরিবার বসবাস করেন। এর মধ্যে একটিতে একমাত্র শিশুসন্তানসহ মনির-ইতি দম্পতি থাকেন। সকালে পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা জানিয়েছেন, মনিরের ওই কক্ষের ভেতর দিয়ে বা নীচ দিয়ে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির লাইন সংযোগ করা হয়েছে। সেখান থেকেই গ্যাস লিকেজ পারে বলে প্রাথমিক ধারণা করছেন তারা।
এ ঘটনায় ভবন মালিকের উদাসীনতাকেও দায়ী করছেন স্থানীয়রা। বিস্ফোরণে মনিরের কক্ষের দরজা জানালা ভেঙে ছুটে চলে যায়। এ ছাড়া ওই ফ্ল্যাটের অপর দুটি কক্ষেরও দরজা-জানালা ছুটে পড়লেও ভেতরে থাকা বাসিন্দারা কেউ দগ্ধ বা আহত হননি।
আলমগীর/মেহেদী/