কার্যকর নাগরিকবান্ধব সেবা নিশ্চিত করতে দেশের বিচারব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার ও রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ।
তিনি বলেন, 'সাম্প্রতিক আইনগত সংস্কারগুলো কেবল আধুনিকায়নের জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচারকে সহজপ্রাপ্য করে তোলাই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।'
সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীতে ব্র্যাক সেন্টারে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেলপ) কর্মসূচির উদ্যোগে ‘যথাসময়ে বিচার নিশ্চিত করতে পারিবারিক আদালতের পদ্ধতিগত জটিলতা নিরসন’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
লিগ্যাল এইড আইনের সংশোধনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে তুলে ধরে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'এর ফলে এখন মামলার আগে বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা চালু করা হয়েছে। এটি বিরোধপূর্ণ বিচারপদ্ধতি থেকে সমঝোতার পথে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।'
তিনি বলেন, 'বিচার প্রক্রিয়ায় পদ্ধতিগত অদক্ষতা দূর করতে দেওয়ানি কার্যবিধির সাম্প্রতিক সংশোধনের মাধ্যমে মামলা পরিচালনা কার্যক্রমের স্তর কমানো হয়েছে, যা অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও জটিলতা কমাবে।'
প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, 'প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসন ছাড়া কোনো বিচারব্যবস্থা সময়সূচি, জনবল বা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারে না। এ কাঠামোগত স্বাধীনতা বিচার বিভাগের অভ্যন্তরীণ সংস্কার এবং বৃহত্তর শাসনব্যবস্থার সংস্কার রক্ষায় অপরিহার্য।'
আদালতে প্রযুক্তির ব্যবহারের গুরুত্বারোপ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, 'ডিজিটাল কার্যতালিকা, মুলতবি পর্যবেক্ষণ এবং এসএমএস-এর মাধ্যমে সমন জারির পাইলট প্রকল্পে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে এবং এটি এখন পারিবারিক আদালতেও চালু হবে। ভবিষ্যতে জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ডিজিটাল তলব এবং একটি বিচারিক সহায়তা ডেস্ক চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।'
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব বলেন, 'পারিবারিক আদালতে ন্যায়বিচার মানে জয় বা পরাজয় নয়; এটি মূলত একটি নিরাময় প্রক্রিয়া। আর এই ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আমাদের এটিকে আরও সহজপ্রাপ্য, সহানুভূতিশীল ও দ্রুততর করতে হবে।'
তিনি এই কর্মশালাকে একটি ন্যায়সঙ্গত, দক্ষ এবং জনগণকেন্দ্রিক পারিবারিক বিচারব্যবস্থা গঠনে সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ এবং সেলপ ও জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি (জিজেডি) কর্মসূচির সহযোগী পরিচালক শাশ্বতী বিপ্লব।
অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সোনালী রানী উপাধ্যায় এবং সাতক্ষীরার সিনিয়র অ্যাসিস্টেন্ট জাজ মো. তরিকুল ইসলাম।
মাহমুদুল/মেহেদী/