ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন
Nagad desktop

জামায়াত নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন জারি, ৬ সমন্বয়কের মুক্তি

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২৫, ১২:১০ পিএম
জামায়াত নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন জারি, ৬ সমন্বয়কের মুক্তি

আজ ১ আগস্ট। তবে কোটা আন্দোলনকারীদের হিসাবে আজ ৩২ জুলাই। এ দিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচিতে বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কোথাও কোথাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। 

এই দিন ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককে মুক্তি দেওয়া হয়। দুপুর দেড়টার দিকে তারা ডিবি কার্যালয় থেকে গাড়িতে করে বের হয়ে যান।

এ দিন বিকেলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ (১) ধারা অনুযায়ী নির্বাহী আদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

এদিন কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে ১৬ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রাণহানি, সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা তদন্তে হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

৩২ জুলাই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শিক্ষার্থীর পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন। 

এদিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের একদল শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার থেকে মিছিল বের করেন। এর আগে ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে’ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

অন্যদিকে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি পালিত হয়। 

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি, হামলা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা। একই সঙ্গে প্রবাসীদেরকে রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান জানান তারা।

এদিন সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কোটা সংস্কার আন্দোলনের শহিদদের, আহত, পঙ্গু ও গ্রেপ্তার ছাত্র-জনতার স্মরণে ৩৩ জুলাই দেশব্যাপী ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। 

বিবৃতিতে শ্রমিক, পেশাজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী, আলেম-ওলামাসহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১১ পিএম
রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস
ছবি: এআই

নিরাপদ রক্ত নিশ্চিতকরণ, স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উৎসাহ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রতিবছর ১৪ জুন সারা পৃথিবীতে পালিত হয় বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। এটি আসলে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি মানবিক সচেতনতা বৃদ্ধির এক বৈশ্বিক আন্দোলন। পৃথিবীর ছোট-বড় সব মহাদেশেই দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। সাধারণত থ্যালাসেমিয়া ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, প্রসূতির রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ রোগী, বড় অপারেশন, দুর্ঘটনা ইত্যাদি নানা কারণে রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্তের কোনো বিকল্প নেই। রক্তের প্রয়োজনে রক্তই দিতে হয়। দিবস উপলক্ষে নিরাপদ ও নিয়মিত রক্তদানের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন রক্তগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বজুড়ে লাখো রোগীর মাঝে ছড়িয়ে যাক দাতার রক্তের মানবিক স্পর্শ- এমন প্রত্যাশা নিয়ে এবছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে- One Drop of Humanity. Give Blood. Save Lives. যার সরল বাংলা করলে দাঁড়ায়: 'প্রতি ফোঁটায় মানবতা, রক্ত দিন, জীবন বাঁচান' ।

দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছা রক্তদানের মানবিক আহ্বানকে সামনে রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্বব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, হাসপাতাল, রক্তদান সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠানসমূহ রক্তদান ক্যাম্প, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে স্বেচ্ছা রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। বিশেষভাবে পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ রক্ত সংগ্রহ কার্যক্রম, রয়েছে নতুন রক্তদাতা তৈরি এবং তরুণদের রক্তদানে সম্পৃক্তির উদ্যোগ। 

রক্তদানের জন্যে একজন দাতার ঐকান্তিক ইচ্ছাই যথেষ্ট। ধর্মীয়ভাবেও এ দান অত্যন্ত পূণ্যের কাজ। আর সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে রক্তচাহিদা পূরণে সঙ্ঘবদ্ধ সচেতনতাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। একটি জনগোষ্ঠীর অল্প কিছু অংশ সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিয়মিত রক্তদান করেন তাহলেই রক্তের অভাবে কোনো মানুষের মৃত্যু হয় না। নিয়মিত ছোট্ট এই দান নতুন করে হাসি ফোটাতে পারে লাখো মানুষের জীবনে। আমাদের দেশে পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের উপর নির্ভরতা দিন দিন কমছে, স্বজনদের দানের পরিমাণও বেড়েছে। বাড়ছে তরুণ রক্তদাতা। 

বাংলাদেশে বছরে রক্তের চাহিদা আনুমানিক ১০ লক্ষাধিক ইউনিট। অথচ দেশের জনসংখ্যার তুলনায় রক্তের এ চাহিদা একেবারেই নগণ্য। তা হলেও এখনও আমরা স্বেচ্ছা রক্তদানে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারিনি। রক্তের প্রয়োজন মেটাতে যেহেতু কেবল রক্তই দিতে হয়; সেহেতু ব্যাপক জনসচেতনতার মাধ্যমে স্বেচ্ছা রক্তদাতা বৃদ্ধিই রক্তের এ চাহিদা মেটানো সম্ভব।

রক্তচাহিদা পূরণে আমাদের দেশে স্বেচ্ছাসেবী সঙ্ঘ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, সন্ধানী, বাঁধন, রেড ক্রিসেন্টসহ রয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। এককভাবে রক্তদানের চেয়ে ব্লাড ল্যাবে গিয়ে রক্তদান করতে পারলে এক ইউনিট রক্তকে একাধিক উপাদানে ভাগ করে একাধিক রোগীকে সেবা দেয়া সম্ভব হয়। এ বিষয়ে আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে তরুণ রক্তদাতা তৈরি ও তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রক্তের চাহিদা পূরণের কাজটি সহজ হয়ে যাবে বলেই সংশ্লিষ্টরা আশা করেন।   

রক্তদানের উপকারিতা :
শারীরিক মানসিকভাবে আপাত সুস্থ ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো সক্ষম ব্যক্তি প্রতি চার মাস পরপর রক্ত দিতে পারেন। নিয়মিত রক্তদানে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি কমে যায়। এমনকি আত্মিক-আধ্যাত্মিকভাবেও এর উপকার লাভ করেন দাতা। এছাড়া ক্ষতিকর কোলেস্টরেল কমাসহ তারুণ্য ধরে রাখে। সামাজিকভাবে পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের উপর নির্ভরশীলতা কমানো, রক্ত নিয়ে ব্যবসা কমানো, সমাজে ঘাতক রোগের বিস্তার কমানোসহ, সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন বৃদ্ধি করতেও রক্তদানের ভূমিকা রয়েছে। রক্তদানের মাধ্যমে বিনা খরচে চার মাস পরপর ৫টি স্ক্রিনিং টেস্ট করে নিজের সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং অপার্থিব আনন্দের অনুভূতি উপভোগ করা যায়। 

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে মহৎ সৎকর্ম :
সকল ধর্মেই মানব কল্যাণ একটি বড় এবাদত। রক্তদান উত্তম সৎকর্ম। স্রষ্টার সস্তুষ্টি অর্জনে এটি ভালো কাজের অন্যতম উদাহরণ। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘যখন কেউ নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল। আর যখন কেউ কোনো মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।’ বাইবেলে বলা হয়েছে, সৎকাজ সম্পর্কে জানার পরও তা থেকে বিরত থাকা পাপ। (যাকোব ৪:১৭)। ঋগবেদে বলা হয়েছে, নিঃশর্ত দানের জন্যে রয়েছে চমৎকার পুরস্কার। তারা লাভ করে আশীর্বাদধন্য দীর্ঘজীবন ও অমরত্ব।

যারা রক্ত দিতে পারবেন না :
সাধারণত ৫ টিটিআই বাহক, থ্যালাসেমিয়ার রোগী, লিউকেমিয়ার রোগী, হাইপোপ্লাস্টিক এনিমিয়া, হিমোফিলিয়া, হৃদরোগ, স্নায়ুবিক রোগ, থাইরোটকসিকোসিস, এমফাইসেমা, ইনসুলিন নির্ভর (টাইপ-১) ডায়াবেটিস রোগীরা রক্তদান করতে পারবেন না। 

এক ব্যাগ রক্তে একাধিক সেবা:
রোগভেদে একেক রোগীর জন্যে রক্তের একেক উপাদান লাগে। রক্তদানের পরপরই উন্নত প্রযুক্তির মেশিনে রক্ত উপাদানগুলো যথাযথভাবে পৃথক করা গেলে এটি সম্ভব। এক্ষেত্রে রক্তদাতাকে সরাসরি ল্যাবে গিয়ে রক্তদান করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মতো উন্নত ল্যাবে নিরাপদ ও দ্রুত সেবাদানের নিমিত্তে আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে একব্যাগ রক্তকে ৮টি উপাদানে আলাদা করার ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন- ১. প্লাটিলেট কনসেনট্রেট ২. ফ্রেশ প্লাজমা ৩. ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা ৪. প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা ৫. প্লাটিলেট পুওর প্লাজমা ৬. প্রোটিন সলিউশন ৭. রেড সেল কনসেনট্রেট এবং ৮. ক্রায়ো-প্রিসিপিটেট। তার মানে এক ব্যাগ রক্তকে উপাদানভেদে কয়েকজন রোগীকে দেয়া সম্ভব।   

রক্ত শুধু একটি জৈবিক উপাদান নয়। নিরাপদ রক্ত মানবিকতা, সমমর্মিতা ও মানুষের জীবন বাঁচানোর এক অনন্য প্রতীক। স্বেচ্ছা রক্তদানে মানবতার এই ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময়। 

এসএন/

প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান
চকরিয়ায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

টিকিটের প্রলোভন দেখিয়ে জনগণের ভোট নেওয়ার রাজনীতি আর সফল হবে না। যারা মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে প্রলোভন ও বিভ্রান্তির রাজনীতি করে, তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না বলে বলছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “তারা জনগণকে ঠকিয়ে ভোট নিতে চেয়েছিল। টিকিটের প্রলোভন দেখিয়ে তারা ভোট নিতে চেয়েছিল। তারা জনগণের বন্ধু না। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা বুঝতে শিখেছে কে দেশের জন্য কাজ করে আর কে নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করে।”

তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী বাজেটে ৪৫ লাখ পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সরকারি সহায়তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

যোগাযোগ খাতের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

বাজেট নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “যারা বাজেটের বিরোধিতা করছে, তারা বাংলাদেশের মানুষের বন্ধু হতে পারে না। এই বাজেট জনকল্যাণ ও উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ের ৩০ ও ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। বেকারত্ব দূরীকরণ, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”

তারেকুর রহমান/এসএন

প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: খবরের কাগজ

প্রযুক্তি খাতে দক্ষ তরুণরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। 

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রোগ্রামিং ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই।’

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে ‘জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী কৌশলের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। আমাদের তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’

সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে তাদের যুক্ত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উদ্ভাবন শুরু হয় একটি ছোট প্রশ্ন থেকে। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে নতুন কিছু করার সাহস অর্জন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের তরুণরা প্রোগ্রামিং, রোবটিক্স ও সাইবার সিকিউরিটিতে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে। তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) বাস্তবায়নে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় এ বছর কুইজ ও প্রোগ্রামিং মিলিয়ে ১৭ হাজার ৮৩৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে ৮৩২ জন জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। বিজয়ী প্রতিযোগীদের হাতে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এ টি এম জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। 

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী
সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের উদ্বোধনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সোনারগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও শিক্ষানীতির আলোকে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও উৎসব ভাতার প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশের লক্ষ্যে নবনির্মিত ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সেশনজটমুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এসএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে। সিলেবাস শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে ১৮ বছরের মধ্যেই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি জানান, ২০২৭ সালে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন এবং ২০২৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হবে। বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। আগামী জুলাই থেকে সারাদেশে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষাকে আনন্দময় ও সৃজনশীল করতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সোনারগাঁওয়ের শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্দরে স্থাপনের পরিকল্পনা থাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এখন সোনারগাঁওয়ে নির্মিত হবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান সোনারগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ১০০ বিঘা জমি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষানীতির আলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবই বিতরণে আর কোনো বিলম্ব হবে না। পরীক্ষা শেষে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হবে।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এমপি, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম, যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ফিতা কাটা ও দোয়ার মাধ্যমে ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিভা প্রদর্শনী উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন

জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির
ছবি: খবরের কাগজ

বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, বন্যা, খরা, ঘূর্ণিঝড় ও তাপপ্রবাহের মতো বহুমাত্রিক ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজ্ঞানভিত্তিক ও পরিকল্পিত উন্নয়নই একমাত্র পথ। 

বিশ্ব পরিবেশ দিবস- ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর প্ল্যানার্স টাওয়ারে ‘জলবায়ু-সহনশীল এবং পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনা’ শীর্ষক এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

বিআইপি’র সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ শেখ মুহাম্মদ মেহেদী আহসানের সঞ্চালনায় এতে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন অনুবিভাগ) ড. নুরুন নাহার এবং বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের যুগ্মপ্রধান (ডেল্টা অনুবিভাগ) ড. এস এম যোবায়দুল কবির বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে বিআইপি’র সহ-সভাপতি পরিকল্পনাবিদ ড. ফারহানা আহমেদ বলেন, জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশকে গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। জাতীয় পর্যায়ের নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নে পরিকল্পনাবিদদের জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

শিল্পাঞ্চলের বায়ুদূষণ মোকাবিলায় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন পরিকল্পনাবিদ নাঈমা ইসলাম মিম। তিনি তার গবেষণাপত্রে ‘লাইকেন’ ব্যবহারের ওপর আলোকপাত করে বলেন, এটি বাতাস থেকে সীসা ও তামার মতো ভারী ধাতু শোষণে কার্যকর ভূমিকা রাখে। শিল্পকারখানার দূষণ নিয়ন্ত্রণে এটি একটি পরিবেশবান্ধব ও প্রকৃতিনির্ভর সমাধান হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জলবায়ু কর্মসূচি বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. শিবলী সাদিক বলেন, প্রচলিত সম্ভাব্যতা যাচাই বা অর্থনৈতিক মূল্যায়নের পাশাপাশি প্রকল্পের বাস্তবায়নযোগ্যতা বা ‘ইমপ্লিমেন্টাবিলিটি’ যাচাই করা জরুরি। প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত না করলে বড় ধরনের প্রকল্পগুলো টেকসই হয় না বলে তিনি মত দেন।

পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও গবেষণা ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞ ড. হাসীব মুহাম্মদ ইরফানুল্লাহ বলেন, পরিকল্পনার প্রতিটি ধাপে জীববৈচিত্র্যকে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য। এছাড়া সরকারের বিভিন্ন কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে পরিকল্পনাবিদদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্মপ্রধান ড. এস এম যোবায়দুল কবির বলেন, টেকসই উন্নয়নের জন্য সামাজিক, পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক এই তিন স্তম্ভের সমন্বয় প্রয়োজন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দক্ষ পরিকল্পনাবিদের অভাব থাকায় অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও অভিবাসন বাড়ছে, যা পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নুরুন নাহার বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে যথাযথ সম্ভাব্যতা সমীক্ষার অভাব প্রায়শই বাস্তবায়নে জটিলতা তৈরি করে। এ সমস্যা সমাধানে একটি মানসম্মত নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রতিটি পর্যায়ে পরিকল্পনাবিদদের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিআইপি’র সভাপতি ড. মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, পরিকল্পিত উন্নয়নের মূল ভিত্তিই হলো পরিবেশ সংরক্ষণ।

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/