চট্টগ্রাম নগরী রাতভর থেকে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। পানির চাপে ২নং গেট-অক্সিজেন রুটে একটি কালভার্ট (স্টারশিপ ব্রিজ) ধসে গেছে। ফলে দুই লেনের ওই সড়কে বর্তমানে এক লেন দিয়ে যান চলাচল করছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) রাত ৩টা থেকে শুরু হয় ভারী বৃষ্টি।
বায়েজিদ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পানির চাপে কালভার্টটি দেবে গেছে। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শনে করেছি। প্রথমে এই সড়কে যানজট সৃষ্টি হলেও এখন স্বাভাবিক।
কালভার্টের পাশেই দোকানদার আবুল কালাম বলেন, সকাল ৬টার দিকে কালভার্টটি দেবে যায়। পরে আমি আরও কয়েকজনকে ডেকে নিয়ে নিরাপত্তা বেস্টনি দিই। যাতে গাড়ি এসে দুর্ঘটনার শিকার না হয়। যেহেতু এটি একটি ব্যস্ততম সড়ক।
রাতভর বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচু এলাকার বাসাবাড়ি আর দোকানপাটে ঢুকেছে পানি। সকাল থেকে বাইরে বেরিয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন কর্মজীবীরা। অনেকে বাধ্য হয়ে গুণছেন বাড়তি ভাড়া। সার্বিক পরিস্থিতির জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
নগরীর মুরাদপুর, চান্দগাঁও, শুলকবহর, চকবাজার, কাতালগঞ্জ, মোহরা, আগ্রাবাদ, ওয়াসা, জিইসিসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় হাঁটু সমান পানি জমায় বিপাকে পড়েছেন বাসিন্দারা।
নগরের কাতালগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা মো. দিদারুল আলম বলেন, বাসা থেকে বের হয়েছি অফিসে যাওয়ার জন্য। কিছু পথ হেঁটে আসতেই দেখি হাঁটু সমান পানি। ১২০ টাকার ভাড়া ২০০ টাকা দিলাম। কিছুটা পথ আসার পর স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। ঘুরেফিরেই ময়লা পানিতে নামতে হলো। জানি না, আমাদের এই দুর্ভোগ কবে শেষ হবে।
তবে বেলা ১১টা থেকে বৃষ্টি হচ্ছে না। তবে মেঘলা আবহাওয়া বিরাজ করছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ৩১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে। তাই পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) বলছে, নালা-ড্রেনে আবর্জনা জমে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শুধু সরকারের ওপর দায়িত্ব ছেড়ে দিলে হবে না, নাগরিকদের নিজেদের দিক থেকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। ড্রেন ও খালে আবর্জনা না ফেলা এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। চসিক নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে, কিন্তু জনগণ সচেতন না হলে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে ওয়াসা রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করে মানুষের ভোগান্তি বাড়িয়েছে। মানুষের চলাফেরা করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা ওয়াসাকে বলেছি দ্রুত কাজ শেষ করতে। এরপর খোঁড়াখুঁড়ি করা সব সড়ক মেরামত করে দেব। তবে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে সরকারি বরাদ্দ বৃদ্ধি ও মেগাপ্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানাই।
অমিয়/