দেশের মহাসড়কগুলো সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ওই পদক্ষেপের অংশ হিসেবে সারা দেশে প্রায় চার হাজার কিলোমিটার মহাসড়কে স্থাপন করা হচ্ছে ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরাসহ নানা অত্যাধুনিক প্রযুক্তি। এরই মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এসব অত্যাধুনিক প্রযুক্তি স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে, যা শিগগিরই উদ্বোধনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে এসব তথ্য। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিশেষ পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মোট ১ হাজার ৪২৭টি সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শিগগিরই এর কার্যক্রম শুরু হবে। এর আগে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়। বর্তমানে অত্যাধুনিক ওই মহাসড়কটি প্রযুক্তির মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব অঞ্চলের মহাসড়কগুলো আনা হবে সিসি ক্যামেরার আওতায়।
কর্মকর্তারা আরও বলেন, ‘সড়ক বা মহাসড়কে মাঝেমধ্যেই যেভাবে ভয়ানক ডাকাতি-ছিনতাইসহ নানা ঘটনা ঘটে, সেগুলো ওই সব প্রযুক্তির মাধ্যমে ‘মনিটর’ ও দমন বা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। পুরো মহাসড়কই থাকবে সিসি ক্যামেরার আওতায়। এ ছাড়া অপরাধীরাও অপরাধমূলক তৎপরতা চালানোর আগে চিন্তা করবে। তার পরও কোনো কারণে এই জাতীয় অপরাধ ঘটালে তারা পার পাবে না, ধরা পড়তে হবে। অন্যদিকে সড়ক ও মহাসড়কে যানবাহন চলাচলে যে ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং ট্রাফিক আইন ভঙ্গের প্রবণতা দেখা যায়, সেই পরিস্থিতিরও অনেক উন্নতি ঘটবে। হুটহাট করে লেন পরিবর্তন, অত্যধিক গতিতে চলাচল, উল্টোপথ ব্যবহার, যানবাহনের অবস্থান শনাক্তকরণসহ মহাসড়কের সার্বিক পরিস্থিতি থাকবে নজরদারিতে, যার মূল দায়িত্ব পালন করবে হাইওয়ে পুলিশ।’
এ প্রসঙ্গে হাইওয়ে পুলিশের প্রধান অতিরিক্ত আইজি মো. দেলোয়ার হোসেন মিঞা খবরের কাগজকে বলেন, ‘প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে সারা দেশে মহাসড়কগুলো নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করার ক্ষেত্রে অনেক বড় ভূমিকা রাখবে। এরই মধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সিসি ক্যামেরা বা সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে যেকোনো সময় এ কার্যক্রমটি চালু করা হবে।’
অতিরিক্ত আইজিপি দেলোয়ার হোসেন মিঞা আরও বলেন, ‘ওই প্রক্রিয়ার সঙ্গে আরও চালু থাকবে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ (অটোফাইন্ডার) ব্যবস্থা। এর মাধ্যমে মহাসড়কে চলাচল করা যেকোনো গাড়ির তাৎক্ষণিক গতি (৩০ সেকেন্ডের মধ্যকার), রেজিস্ট্রেশন নম্বর, লেন ও অবস্থান (লোকেশন) জানা যাবে। হাইওয়ে পুলিশ সার্বক্ষণিক এই বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুসারে ব্যবস্থা নেবে।’
তিনি বলেন, ‘এই প্রক্রিয়াগুলো যথাযথভাবে সম্পন্ন করা গেলে দেশের মহাসড়কে একদিকে যেমন অপরাধপ্রবণতা কমবে, তেমনি সুশৃঙ্খল হবে সড়কপথের যোগাযোগব্যবস্থা। এই পুরো ব্যবস্থাপনার মধ্যে হাইওয়ে পুলিশ মূলত মহাসড়ক পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপের বিষয়গুলো দেখভাল করবে। এ ছাড়া সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ ওই সব সিসি ক্যামেরা স্থাপনসংক্রান্ত ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করবে।’
এ বিষয়ে জানতে গত রবিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের প্রধান কার্যালয় ‘সড়ক ভবনে’ গেলে দেখা যায়, অত্যাধুনিক ভবনটির নিচতলায় ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মনিটরিং সেন্টার। ওই নিয়ন্ত্রণ কক্ষে কয়েকজন কয়েকটি মনিটরে নিবিড়ভাবে চোখ রেখে সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছিলেন।
পরে এ বিষয়ে কথা বলতে গেলে মধ্যম পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে খবরের কাগজকে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা যাবে না, আমাদের কিছু বিষয়ে বলা আছে। তবে মহাসড়কে সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়টি নিয়ে তিনি অল্প কথায় বলেন, এই কাজগুলো বিভিন্ন অঞ্চলের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে তত্ত্বাবধান করা হচ্ছে।’ পরে সড়ক ভবনে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীল পরিচালক পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তার দপ্তরে গেলেও তারা ওই সময়ে অফিসের কাজে বাইরে ছিলেন বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে হাইওয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) খবরের কাগজকে জানান, ‘সারা দেশে মহাসড়ক (জাতীয়) ও আঞ্চলিক সড়কের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২১ হাজার কিলোমিটার। এর মধ্যে শুধু মহাসড়ক চার হাজার কিলোমিটার। এই পুরো মহাসড়ক সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার প্রক্রিয়াটি আরও বেশ কিছু আগেই শুরু হয়। মাঝে কিছুদিন কার্যক্রমটি ঝিমিয়ে পড়ে ছিল। তবে হাইওয়ে পুলিশের বর্তমান প্রধানের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং তাগাদার কারণে আবারও জোরালোভাবে কাজ শুরু হয়েছে।’
তিনি জানান, সড়কে এসব সিসি ক্যামেরার সঙ্গে প্রয়োজনীয় আরও কিছু প্রযুক্তি সংযোজন করা হবে। ঢাকা-চট্টগ্রামের প্রকল্পটি উদ্বোধনের পর পরই ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে সিসি ক্যামেরাসহ অন্য সব প্রযুক্তি স্থাপনের কাজ শুরু হবে। তারপর পর্যায়ক্রমে দেশের অন্য অঞ্চলের মহাসড়কগুলো আনা হবে এসব প্রযুক্তির আওতায়।