বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ কেনাকাটার জন্য তৈরি করা খসড়ায় কারিগরি ও বাণিজ্যিক নানা দিক বিশ্লেষণের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
রবিবার (১০ আগস্ট) রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানান, বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ক্রয়ের জন্য প্রস্তুতকৃত খসড়া স্পেসিফিকেশন যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদা) ড. শেখ মঈনউদ্দিনকে। বাংলাদেশ রেলওয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালককে (রোলিং স্টক) করা হয়েছে সদস্য সচিব।
কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (DMTCL) ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের একজন অধ্যাপক। এছাড়া কমিটি প্রয়োজনে সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘চট্টগ্রাম-দোহাজারী মিটারগেজ রেলপথকে ডুয়েলগেজ রেলপথে রূপান্তর’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ৩০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ ক্রয় কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এ কার্যক্রমের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে খসড়ায় কারিগরি-বাণিজ্যিক দিকগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।
রেলের কেনাকাটায় বিস্তর দুর্নীতির অভিযোগ ইতোমধ্যে প্রমাণিত হয়েছে। আর নতুন করে কেনাকাটা নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠেছে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে। বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত খসড়া স্পেসিফিকেশন পর্যাপ্ত যাচাই-বাছাইপূর্বক একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য উপর্যুক্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত কমিটি স্পেসিফিকেশনে উল্লিখিত লোকোমোটিভ ও যন্ত্রাংশের কর্মক্ষমতা, আধুনিক প্রযুক্তি, জ্বালানি দক্ষতা, খুচরা যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, বাংলাদেশের পরিবেশে ব্যবহার উপযোগিতা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে প্রস্তুতকৃত খসড়া স্পেসিফিকেশন যাচাই-বাছাইপূর্বক আগামী ১৫ (পনেরো) কর্মদিবসের মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে একটি উন্মুক্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টেন্ডার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত খসড়ায় যাচাই-বাছাই করে
একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ কমিটি গঠন করা হয়েছে।
গঠিত কমিটি খসড়ায় উল্লিখিত লোকোমোটিভ ও যন্ত্রাংশের কর্মক্ষমতা, আধুনিক প্রযুক্তি, জ্বালানি দক্ষতা, খুচরা যন্ত্রাংশের সহজলভ্যতা, আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা, বাংলাদেশের পরিবেশে ব্যবহার উপযোগিতা নিয়ে প্রতিবেদন তৈরি করবে। আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে রেলপথ মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
জয়ন্ত/মেহেদী/