ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের  দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী আরমান-মুক্তির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বাপ্পারাজ ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দুর্নীতির মূলোৎপাটন অপরিহার্য: সংস্কৃতিমন্ত্রী সিরাজগঞ্জে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল শিশুর বিকাশে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন: শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে ছেলের লাঠির আঘাতে বাবার মৃত্যু আসন্ন আলিম পরীক্ষা নিয়ে মাদরাসা বোর্ডের নির্দেশনা নওগাঁয় চীনা পর্যটককে হেনস্তার অভিযোগে টিকটকার গ্রেপ্তার কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই এইচএসসি পরীক্ষার্থী! Two Friends and a Bear বিষয়ক Story Writing নিয়ে আলোচনা,  ১ম পর্ব, এইচএসসির ইংরেজি ১ম পত্র বিরোধীদলীয় নেতার ১০ কেজি উপহার, পেলেন এমপি থেকে পিয়ন সবাই আ.লীগের অপতৎপরতা রুখতেই সেনা মোতায়েন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফেনীতে বিশ্ব ক্লাবফুট দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও সচেতনতামূলক সভা দেম্বেলে রহস্য! ঘানাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার রাশফোর্ডের

রাজধানীর সড়কে তিন শিফটে ‘ব্যবসা’

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ০৯:৫০ এএম
আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৫, ১০:৪৭ এএম
রাজধানীর সড়কে তিন শিফটে ‘ব্যবসা’
ছবি: খবরের কাগজ

দেশে সড়ক ও ফুটপাত দখলের চিত্র নতুন নয়। তবে রাজধানী ঢাকার প্রধান সড়ক ও ফুটপাত এখন যেন দখলদারদের রাজ্যে পরিণত হয়েছে। অবৈধভাবে দোকানপাট গড়ে তোলা, গাড়ি পার্ক করা আর নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখা- সব মিলিয়ে নগরবাসীর চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। পথচারীরা বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটছেন। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে অজানা কারণে অভিযান প্রায় বন্ধ রয়েছে। এর সুযোগে দখলদারত্ব আরও বেড়ে গেছে। 

তবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সিটি করপোরেশন বলছে, সংস্থাটির নিজস্ব পুলিশ না থাকায় চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি হচ্ছেন নগরবাসী। এ কারণে অভিযান চালালেও লাভ হচ্ছে না। প্রভাবশালীদের কাছে সিটি করপোরেশন একধরনের অসহায় হয়ে পড়েছে।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তা এবং প্রভাবশালীদের প্রশ্রয়ে ফুটপাত ও সড়ক এখন ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী ও হকারদের দখলে। ফলে প্রতিদিনই শহরের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ ছাড়া এ সমস্যা থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়।

তিন শিফটে দখল ব্যবসা
রাজধানীর ফুটপাত দখল করে ব্যবসা চলছে তিন শিফটে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এক দল, দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত আরেক দল এবং গভীর রাতের পর আরেক দল দখল নেয় সড়ক ও ফুটপাতের। এতে পথচারীদের হাঁটার জায়গা সংকুচিত হয়ে যায়, অনেক ক্ষেত্রে পুরোপুরিই বন্ধ হয়ে যায়। কারওয়ান বাজার, মিরপুর, উত্তরা, গুলিস্তানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এমন চিত্র দেখা যায়।

মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও ফার্মগেটে পুরো ফুটপাত দখলে চলে গেছে। কোথাও কোথাও দখল রাস্তায় গড়িয়েছে। গুলিস্তানে শুধু ফুটপাত নয়, পুরো সড়কই যেন অঘোষিত মার্কেট। নিউ মার্কেট এলাকার সড়ক দিন-রাত দখলে থাকে। দোকানপাট গড়ে তোলার পাশাপাশি অবৈধভাবে গাড়ি-মোটরসাইকেল পার্কিংও করা হচ্ছে।

পান্থপথ থেকে নিউ মার্কেট পর্যন্ত সড়কে সারা দিন যানজট লেগেই থাকে। কেননা সড়কের দুই পাশের ফুটপাতই দখল হয়ে আছে। দখল গড়িয়েছে সড়কেও। ওই সড়কের একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনের মূল সড়কে তিন-পাঁচ হাত দখল করে নতুন চায়ের দোকান দিয়েছেন চান মিয়া। তার দোকানে চা খাওয়ার ছলে জানতে চাই- ‘রাস্তার মধ্যে আপনার দোকান, কেউ কিছু বলে না? উত্তরে চান মিয়া বলেন, ‘কে কী বলবে? যারা বলবে তারাই তো টাকা নেয়!’ তিনি জানান, তাকে বেলা ২টার পর থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান চালানোর অনুমতি দেওয়া আছে। সকালে অন্যরা এখানে দোকান চালান। 

ওই সড়কে এ রকম সারিবদ্ধ অসংখ্য দোকান দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেটের সামনের সবজি বিক্রেতা আজিজ জানান, তার সময় দেওয়া আছে ভোর থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত। এরপর অন্যরা তার স্থানে বসে দোকান চালান।

পথচারীদের দুর্ভোগ
ফুটপাত ব্যবহার করার সুযোগ না থাকায় সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে মূল সড়কে হাঁটতে হচ্ছে। এতে করে দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে তারা পড়ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ক্ষেত্রে এ ঝুঁকি মারাত্মক। অনেক সময় অ্যাম্বুলেন্স কিংবা জরুরি সেবামূলক যানবাহন ফুটপাত ও সড়ক দখলের কারণে আটকে যায়, যা প্রাণহানির মতো বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শ্যামলী এলাকায় রোজিনা খাতুন নামের একজন পথচারী অভিযোগ করে বলেন, ‘ফুটপাত দিয়ে হাঁটার সুযোগই নেই। বাচ্চাদের নিয়ে চলাচল করতে খুবই সমস্যা হয়। মাঝে মাঝে পুলিশ এসে দোকান উচ্ছেদ করে, কিন্তু পরে আবার হকাররা আগের জায়গায় ফিরে আসে।’

কারওয়ান বাজারের পিকআপচালক মাসুদ রানা বলেন, ‘অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে আমাদের গাড়ি চালাতে সমস্যা হয়। রাস্তা সরু হয়ে যায়, ফলে অল্প দূরত্ব পাড়ি দিতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায়।’

হকাররা প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধভাবে ফুটপাতে ব্যবসা চালানোর কারণে বৈধ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা দোকান ভাড়া, কর ও অন্যান্য খরচ মেটানোর পরও ক্রেতা হারাচ্ছেন। অন্যদিকে হকাররা ফুটপাত দখল করে তুলনামূলক কম খরচে ব্যবসা করছেন, ফলে প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা ও দোকানি আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমরা দোকান ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করি। কিন্তু ফুটপাত দখল করে হকাররা কম দামে পণ্য বিক্রি করেন। এতে আমাদের বৈধ ব্যবসা মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে।’

সড়ক যেন যানবাহনের পার্কিং ও রিকশাস্ট্যান্ড
ঢাকা মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা- মিরপুর, কল্যাণপুর, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, গুলিস্তান, পল্টন ও পান্থপথে অবৈধভাবে ট্রাক, পিকআপ, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহন পার্ক করা হয়। কোথাও কোথাও রিকশাস্ট্যান্ডও গড়ে উঠেছে। এমনকি ফুটপাতের ওপরেই গাড়ি মেরামতের কাজ করা হয়। এতে পথচারীদের চলাচলে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়।

নগরের ছোট-বড় প্রায় প্রতিটি হাসপাতালের সামনে সড়ক দখল করে অবৈধভাবে অ্যাম্বুলেন্স ও গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবসা চলছে। গাড়ি পার্ক করার জন্য আলাদা টাকা দিতে হয় স্থানীয় দখলদারদের। আবার সেখানে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের সমিতিও রয়েছে। হাসপাতালের রোগীদের তাদের বাহনে করে নিয়ে যেতে হয়। এই পুরো কার্যক্রমটিই হচ্ছে জনগণের টাকায় তৈরি সরকারি সড়কে। 

ফুটপাত ও সড়কে ইট, বালু, রড, সিমেন্ট
বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত ও রাস্তা দখল করে ইট, বালু, রড ও অন্যান্য সামগ্রী রেখে ব্যবসা করতে দেখা গেছে। কাজটি বেআইনি হলেও নির্মাণসামগ্রী রাস্তার ওপর রাখা একটি সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। কাঁঠালবাগানের ঢালে এমন চিত্র দেখা যায়। পুরোনো ইট, বালু ও খোয়ার ব্যবসা চলছে সেখানে। অনেকে আবার অস্থায়ী বাসস্থান গড়তে ফুটপাতকেই বেছে নিয়েছেন।

যানজটে নাকাল নগরবাসী
সড়ক দখল করে দোকানপাট বসানো এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অফিস সময় এবং শিক্ষার্থীদের ক্লাস শুরুর সময়ে এ সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে। রাজধানীর মানুষ প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তার যানজটে বসে থাকছেন।
ঢাকা কলেজ এলাকায় কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, ‘ক্লাসে যেতে হলে প্রতিদিন ভোগান্তি পোহাতে হয়। ফুটপাত হকারদের দখলে থাকে, ফলে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যেতে হয়। অনেক সময় ঠিক সময়ে কলেজে পৌঁছানো যায় না।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকির অভাব, রয়েছে রাজনৈতিক ইন্ধন 
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় এবং কিছু প্রভাবশালী মহলের কারণে ফুটপাত ও সড়ক দখল হয়ে আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। দেখেও তারা না দেখার ভান করেন। নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা হয় না। দু-এক জায়গায় অভিযান চালালেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবার হকার ও দখলদাররা আগের অবস্থানে ফিরে আসেন।

চাঁদাবাজদের হাতে নগরবাসী জিম্মি বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের নিজস্ব পুলিশ নেই। পুলিশ না থাকায় ঢাকাবাসী চাঁদাবাজদের হাতে জিম্মি হয়ে আছে। আমরা মাঝে মাঝেই অভিযান চালাই, কিন্তু প্রভাবশালী চাঁদাবাজদের কারণে সড়ক ও ফুটপাত আবারও দখলে চলে যায়।’ 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শাহজাহান মিয়া বলেছেন, ‘যেখানে প্রয়োজন আমরা সেখানে অভিযান চালাচ্ছি। সবখানে একসঙ্গে চালানো যায় না। বিভিন্ন বিষয় থাকে।’

সমন্বিত উদ্যোগের দাবি
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শহরের সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করতে একক কোনো সংস্থার প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। সিটি করপোরেশন, পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কঠোর আইন প্রয়োগ করতে হবে। অন্যথায় রাজধানীবাসীর ভোগান্তি কোনোভাবেই কমবে না। 

সড়ক দখলের কারণে ভবিষ্যৎ নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন নগর পরিকল্পনাবিদ ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি)-এর সভাপতি অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। তিনি খবরের কাগজকে বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর প্রথম কিছুদিন বন্ধ থাকলেও পরবর্তী সময়ে সড়ক ও ফুটপাতে তুলানামূলক দখল বেড়েছে। রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী চক্র পতিত সরকারের মতো ফুটপাতকে তাদের আয়ের উৎস বানিয়ে নিয়েছে। পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক যোগসাজশ এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এমনিতেই আমাদের ঢাকা শহরে প্রয়োজনের তুলনায় রাস্তা রয়েছে তিন ভাগের এক ভাগ। সেই এক ভাগের বেশির ভাগটাই যদি দখলে থাকে তাহলে আমাদের সাধারণ মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিপদ নেমে আসে। মানুষ ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় হাঁটতে বাধ্য হচ্ছে, ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা। এ ব্যাপারে সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। দখলদার চক্র- যারা রাস্তা দখল করে অবৈধ আয় করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া প্রয়োজন।’

‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের  দাবি’

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:০৬ পিএম
‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের  দাবি’
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা বন্ধে আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। 

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে এসব দাবি উত্থাপিত হয়। 

এদিন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি, জ্বালানিখাত, গ্যাস সংকট এবং জিআই পণ্য নিয়েও সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

এর আগে বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। এ দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সংসদ সদস্য বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দেন।
অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘যে দল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তারা এ দেশে রাজনীতি করতে পারে না। ফ্যাসিস্টদের মতো স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা উচিত।’ 

তিনি বলেন, ‘অতীতে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং শাপলা চত্বরে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও দেশবাসী দেখেছে। একই সঙ্গে তিনি কওমি মাদরাসার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।’

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে, হৃদরোগের রিং এবং চোখের লেন্সের শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

অন্যদিকে কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ মসজিদ ও মাদরাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে মানুষ নামাজ পড়বে, কোরআন শরীফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদকে রাজনৈতিক সভার জায়গা বানিয়েছে।’ 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদ ও মাদরাসায় যেন কোনো রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ করতে না পারে, সে জন্য আইন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন মাঠে, স্কুলে বা হলরুমে রাজনৈতিক সভা করি, তাদেরও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আল্লাহর ঘরকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানানো উচিত নয়।’

এদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। 

তিনি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক হওয়া প্রয়োজন। ভারতের নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তার কারণও খুঁজে বের করতে হবে।’

সীমান্তে ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জিএম সিরাজ বলেন, ‘মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে। ভারতবিরোধিতা কিংবা বাংলাদেশবিরোধিতা কোনো পক্ষের জন্যই ভালো নয়।’

এদিকে সংসদ কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ’স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, অনেক মন্ত্রীর চেয়ার খালি পড়ে আছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে এসে মন্ত্রীদের উপস্থিতি পাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি কাম্য। 

তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকলে সংসদ আরও কার্যকর হয়।’ 

তবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্ত্রীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে অর্থমন্ত্রী সবসময় উপস্থিত আছেন এবং বাজেট-সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন।’

অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশে বর্তমানে পাঁচটি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত রয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদকে জানান, বর্তমানে দেশে ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে জামদানি শাড়ি, ইলিশ, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই মসলিন, বগুড়ার দই, টাঙ্গাইল শাড়ি ও কুমিল্লার রসমালাই উল্লেখযোগ্য।
 
এলিস/রিফাত/

সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:৩০ পিএম
সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী
নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। ছবি: সংগৃহীত

সমুদ্রে জ্বালানি পাওয়া শুধু সম্ভাবনা নয়, এটি নিশ্চিত সম্পদ। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে এর যথাযথ ব্যবহার ও সঠিক প্রয়োগ সম্ভব হয়নি। তবে বর্তমান সরকার নীতিগতভাবে ‘অফশোর’ এলাকায় কূপ অনুসন্ধান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং পরবর্তীতে উত্তোলনের উদ্যোগ নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

সোমবার (২২ জুন) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ‘বিশ্ব হাইড্রোগ্রাফি দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা বলেন। 

বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ (বানৌজা) ঢাকা’র মাল্টিপারপাস হলে দিবসটি উপলক্ষে এক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। ওই সেমিনারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি এবং নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বাংলাদেশ বিস্তীর্ণ সমুদ্রসীমা অর্জন করে, যা সংশ্লিষ্ট প্রতিযোগী রাষ্ট্রগুলোও মেনে নেয়। পরে ভারত ও মায়ানমার নিজ নিজ এলাকায় সমুদ্রে অনুসন্ধান ও উত্তোলন কার্যক্রম চালালেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সেই সম্ভাবনার পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার নীতিগতভাবে অফশোর এলাকায় কূপ অনুসন্ধান, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ চিহ্নিতকরণ এবং পরবর্তীতে উত্তোলনের উদ্যোগ নিচ্ছে। একই সঙ্গে হাইড্রোগ্রাফির ক্ষেত্রেও ধারাবাহিক কার্যক্রম চলছে। বাংলাদেশের প্রায় ১৬ হাজার কিলোমিটার নৌপথ রয়েছে, যা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নৌযোগাযোগ আরও নিরাপদ, মনোরম ও সাশ্রয়ী করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে হাইড্রোগ্রাফি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আমাদের বাণিজ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ চট্টগ্রাম বন্দর কেন্দ্রিক। নেভিগেশন, নিরাপদ জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে যদিও আন্তর্জাতিক বিশ্বের চেয়ে আমরা পিছিয়ে আছি, স্বীকার করতে অসুবিধা নেই। কিন্তু আমরা করছি, আমাদের সামর্থ্য মতো করছি এবং সেটাকে আরও বিস্তৃত করতে চাই।’

আলমগীর হোসেন/রিফাত/

ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:১৭ পিএম
ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ
বগুড়া-৫ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। ছবি: সংগৃহীত

ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে অবিচ্ছেদ্য উল্লেখ করে বগুড়া-৫ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ বলেছেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের ডিভোর্স সম্ভব নয়। 

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

জিএম সিরাজ বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ ভৌগোলিকভাবে প্রতিবেশী এবং এই সম্পর্ক কোনোভাবেই অস্বীকার করা সম্ভব নয়। দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হওয়া উচিত বলেও তিনি মত দেন।’ 

তিনি বলেন, ‘ভারত আমাদের প্রতিবেশী, আবার আমরাও ভারতের প্রতিবেশী। তাই পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর বক্তব্য প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন, ‘নতুন হাইকমিশনার বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে কাব্যিক ভাষায় ইতিবাচক মন্তব্য করলেও দেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভারতবিরোধী নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেন এই বিরূপ মনোভাব তৈরি হচ্ছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।’

সীমান্ত পরিস্থিতি ও মাদক সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘সীমান্তে ‘পুশইন’ বা জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি মাদক চোরাচালান রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তার মতে, মাদক দেশের যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের ধ্বংস করছে।’ 

তিনি ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বিরোধ নয়, বরং দুই দেশের মানুষের মধ্যে হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলাই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।’

এলিস/রিফাত/

জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
জেন্ডার বাজেট বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা-ক্ষমতায়ন নিয়ে প্রশ্ন অধিকারকর্মীদের
ছবি: খবরের কাগজ

জেন্ডার বাজেটে সংখ্যাতাত্ত্বিক বরাদ্দ বাড়লেও নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সহিংসতা মোকাবিলা এবং তৃণমূল নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে সরকার চরম উদাসীনতার পরিচয় দিয়েছে বলে অভিযোগ এনেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও নারীনেত্রীরা। তাদের মতে, জেন্ডার বাজেটের মূল বাস্তবায়নকারী মন্ত্রণালয় ‘মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে’ বরাদ্দ কমিয়ে নারীর অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২২ জুন) রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার ভবনে বাংলাদেশ নারী প্রগতি সংঘ (বিএনপিএস) আয়োজিত ‘২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জেন্ডার বাজেট: নারীসমাজের প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নীলোর্মি।

আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিপিডি-র রিসার্স অ্যাসোসিয়েট প্রীতিলতা হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের অধ্যাপক তানিয়া হক, মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. মালেকা বানু, জেন্ডার বাজেট ও প্ল্যানিং বিশেষজ্ঞ নিলুফার করিম ও প্রাগ্রসরের নির্বাহী পরিচালক ফৌজিয়া খন্দকার।  

অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নীলোর্মি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে জেন্ডার সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ৩ লাখ ২৬ হাজার ৫৯ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে, যা জাতীয় বাজেটের ৩৪ দশমিক ৮ শতাংশ। অথচ গত অর্থবছরে সংশোধিত বাজেটে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ৫ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা থাকলেও, এবারের প্রস্তাবনায় তা ১৭৫ কোটি টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ১৯৬ কোটিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। এটি একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

বক্তারা বলেন, ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা যখন চরমে, তখন এই খাতে বরাদ্দ কমানো নারীর প্রতি চরম অবহেলা। সরকারি পরিষেবা খাতে আইনগত সহায়তা ও সুরক্ষা খাতের আওতা সংকুচিত করা হয়েছে। ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণ এবং নির্যাতিত নারীদের শেল্টার হোম বাড়ানোর মতো অত্যাবশ্যকীয় বিষয়গুলো বাজেট প্রস্তাবে উপেক্ষিত থেকে গেছে।

সিপিডির রিসার্স অ্যাসোসিয়েট প্রীতিলতা হক বলেন, বাজেট বাস্তবায়নের হার গতবারের ৮০ শতাংশ থেকে নেমে ৬৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। শিশু স্বাস্থ্যে ২২ শতাংশ এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য এসএমপি কার্যক্রমে ৬৬ শতাংশ বরাদ্দ কমানো হয়েছে, যা নতুন নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। এ ছাড়া গৃহস্থালিতে নারীর মজুরিহীন সেবামূলক কাজের স্বীকৃতির কোনো প্রতিফলন এবারের বাজেটে নেই।

বক্তারা বলেন, সম্পদ বন্ধক রাখা ছাড়া নারীদের ঋণ পাওয়ার সুযোগ নেই। অথচ উত্তরাধিকার আইনে নারীর সমান অধিকারের সুযোগ নেই। এই বৈষম্য দূর না করলে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তি সম্ভব নয়।

নারী অধিকারকর্মীদের ভাষ্যে, বাজেট প্রণয়নকারীদের জেন্ডার বাজেট সম্পর্কে ধারণাগত সীমাবদ্ধতা ও অনীহা রয়েছে। তারা বিষয়টিকে বস্তুগতভাবে না দেখে ব্যক্তিগতভাবে (সাবজেক্টিভ) দেখছেন। জেন্ডার বাজেটের টাকা কোথায় খরচ হচ্ছে, তা নারী উন্নয়ন নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না তার কোনো খতিয়ান বা মূল্যায়ন রিপোর্ট জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় না।

বৈঠকে বক্তারা দাবি করেন, জেন্ডার বাজেটের নামে কেবল প্রকল্পনির্ভর ব্যয় না করে নারীর রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নকে গুরুত্ব দিতে হবে। এ ছাড়া প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার ফোকাল পয়েন্টের তথ্য ওয়েবসাইটে উন্মুক্ত রাখা, সরকারি কর্মকর্তাদের জেন্ডার সংবেদনশীল প্রশিক্ষণের আওতায় আনা এবং জেন্ডার লেন্স ব্যবহার করে বাজেট প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।

জয়ন্ত সাহা/নাঈম

সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৫০ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ০৬:৫৩ পিএম
সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল, সংসদে নোটিশ উত্থাপন
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দেওয়া এবং বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ার ঘটনায় সংসদে বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের নোটিশ উত্থাপন করেছেন শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ।

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনের শুরুতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বিষয়টি সংসদে উপস্থাপন করেন।

নোটিশে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ উল্লেখ করেন, জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদ ও অন্যান্য অংশ দিয়ে বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ছে এবং অবকাঠামোগত বিভিন্ন ত্রুটি দৃশ্যমান হচ্ছে। দেশের সর্বোচ্চ আইন প্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কার্যকারিতা অক্ষুণ্ন রাখতে দ্রুত সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্পিকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আখ্যা দিয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান। তবে সংসদ সচিবালয়-সংক্রান্ত বিষয় হওয়ায় কার্যপ্রণালি বিধির ৫৪(৩) অনুযায়ী নোটিশটি বিশেষ অধিকার ক্ষুণ্নের প্রশ্ন হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়নি বলে জানান তিনি।

এদিন স্পিকার আরও জানান, চলতি অধিবেশনে এ পর্যন্ত মোট ছয়টি বিশেষ অধিকার প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে চারটির সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সংসদকে জানানো হয়েছে।

একই দিনে জামায়াতের আরেক সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান সংসদ সদস্যদের পরিচিতি সহজ করতে টেলিভিশন সম্প্রচারে সদস্যদের নাম ও নির্বাচনি এলাকার নাম প্রদর্শনের দাবি জানান। তিনি বলেন, সংসদ অধিবেশনের সম্প্রচারে কেবল সদস্যদের চেহারা ও বক্তব্য দেখা যায়, কিন্তু পরিচয় জানা যায় না। স্পিকার এই প্রস্তাবকে যুক্তিযুক্ত আখ্যা দিয়ে সংসদ সচিবালয়কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে এই নোটিশটিও বিশেষ অধিকারের আওতাভুক্ত না হওয়ায় আনুষ্ঠানিকভাবে গৃহীত হয়নি।

এলিস/রিফাত/