জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত হওয়া সংস্কার ইস্যুগুলোর সাফল্য বা বাস্তবায়নের ওপর রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ।
বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার সূচনা বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ বাস্তবায়ন কিংবা রাষ্ট্র সংষ্কার বিষয়ে দলগুলোর ওপর কিছুই চাপিয়ে দেবে না। আর রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে সরকার।
তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া নিয়েই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করছে কমিশন। এ প্রক্রিয়া নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামতও গ্রহণ করা হয়েছে। সংষ্কার প্রক্রিয়ায় ভিন্নমত ও নোট অব ডিসেন্টসহ বেশিরভাগ আলোচনায় একমত রাজনৈতিক দলগুলো। আশা করছি এ পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাওয়া সুপারিশ অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়নেও আপনাদের সহযোগিতা ও সম্মতি আমরা পাব।
দিনব্যাপী এই বৈঠক বরাবরের মতো আজও বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। আলোচনার শুরুতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি সম্পর্কে সম্প্রতি বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাওয়া মতামতগুলো কমিশনের পক্ষ থেকে সুপারিশ আকারে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে তুলে ধরা হয়।
বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠকে বিশেষ সাংবিধানিক আদেশে জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫ বাস্তবায়নে বেশকিছু পরামর্শ পেয়েছে কমিশন। এতে সনদের সংবিধান সংক্রান্ত সংস্কার প্রস্তাবগুলো রাষ্ট্রপতির বিশেষ সাংবিধানিক আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নে কমিশনকে পরামর্শ দেওয়া কথা বলা হয়েছে। আর বাকি প্রস্তাবগুলো অধ্যাদেশ ও সরকারের নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পরামর্শ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পুরো সনদকে তফসিল হিসেবে বা অন্য কোনোভাবে সংবিধানে যুক্ত করা হবে। ওই বৈঠকে বিশেষজ্ঞদের বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ সংক্রান্ত একটি খসড়া তৈরি করে দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। এতে জুলাই সনদকে সংবিধানের ওপর প্রাধান্য নয়, সংবিধানের অংশ করা হবে। এর আগেই বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনায় গণভোটের চিন্তা বাদ দেওয়া হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে বাস্তবায়নের পদ্ধতি জুলাই সনদের অংশ হবে না। এটি সরকারকে সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ বা পরামর্শ হিসাবে দেবে কমিশন। যেসব সংস্কার প্রস্তাবে বিএনপিসহ অন্যান্য দলের ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) আছে সেগুলোও সনদে উল্লেখ থাকবে। তবে এসব বাস্তবায়নে আলাদা কোনো পদ্ধতি উল্লেখ করা হচ্ছে না।
মূলত কমিশনের আজকের বৈঠকের লক্ষ্য জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি গড়তে বৈঠকে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর সম্মতি আদায় করা। আর সেটা সম্ভব হলে রাজনৈতিক দলগুলোর আজকের বৈঠকটিই হবে ঐকমত্য কমিশনের সর্বশেষ ও চূড়ান্ত বৈঠকি আয়োজন। তবে বিশেষ প্রয়োজনে এই আলোচনার সময় আরও বাড়বে কিনা তা আজকের বৈঠকের পর জানাবে কমিশন।
এদিকে কমিশনের হাতে সময় খুব কম। কারণ এই কমিশনের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর। কাজেই নির্ধারিত এই সময়ের মধ্যেই চূড়ান্ত জুলাই সনদ ও সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ সরকারের কাছে তুলে দিয়ে দায়িত্ব শেষ করতে চায় ঐকমত্য কমিশন।
এলিস/অমিয়/