রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের দরবার শরীফে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ভক্ত মো. রাসেল মোল্লা হত্যার ঘটনায় আরও দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো গোয়ালন্দ উপজেলার অম্বরপুর গ্রামের আব্দুল জলিল শেখের ছেলে ও গোয়ালন্দ বড় মসজিদের ইমাম মাওলানা মো. আবু সাঈদ (৪৫) এবং গোয়ালন্দ পৌর শহরের দেওয়ানপাড়া গ্রামের কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. রাসেল শেখ (২৪)।
বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) পৃথক অভিযানে ফরিদপুর থেকে মাওলানা আবু সাঈদ ও ঢাকার নাখালপাড়া থেকে রাসেল শেখকে গ্রেপ্তার করে গোয়ালন্দ ঘাট থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। পরে বিকেলে রাজবাড়ী আদালতে সোপর্দ করলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এ পর্যন্ত পুলিশের দায়েরকৃত মামলায় ১৬ জন এবং রাসেল হত্যা মামলায় ৮ জনসহ মোট ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত রাসেলের বাবা আমজাদ মোল্লা বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে গোয়ালন্দ থানায় মামলা দায়ের করেন।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম মোল্লা বাদী হয়ে অজ্ঞাত সাড়ে তিন হাজার জনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেছিলেন।
রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো. শরীফ আল রাজীব বৃহস্পতিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর মামলায় ১৬ জন এবং রাসেল হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এদের মধ্যে অপু, বিল্লু, সোহান সরদার, অভি মণ্ডল রঞ্জু, মাওলানা আব্দুল লতিফ, মাওলানা আবু সাঈদ ও রাসেল শেখ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর স্থানীয় ইমান আকিদা রক্ষা কমিটির ব্যানারে তৌহিদি জনতা বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এরপর নুরাল পাগলের দরবার শরীফে হামলা চালানো হয়। পাল্টা আক্রমণ করেন নুরাল পাগলের ভক্তরা। সংঘর্ষে ভক্ত রাসেল নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে দরবার শরীফে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং পুলিশের ওপরও হামলা চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, ২৩ আগস্ট মারা যান নুরাল পাগল। তার ভক্তরা দরবারের ভেতরে কবর দিয়ে উপরে কাবা শরীফ সদৃশ ১০-১২ ফুট উঁচু একটি স্থাপনা নির্মাণ করেন। এ নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আপত্তি থাকায় কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। শেষ পর্যন্ত উত্তেজিত জনতা দরবারে হামলা চালিয়ে নুরাল পাগলের মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড়ে নিয়ে পুড়িয়ে দেয়।
এসএন/