জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পুনরায় বৈঠকে বসেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।
বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে দুপুর ১২টার দিকে এই বৈঠক শুরু হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মেয়াদ ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানোর পর এটিই প্রথম বৈঠক।
কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের সভাপতিত্বে সভায় বিএপি জামায়াতসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা।
এর আগে এ বিষয়ে গত দেড় মাসে বার বার আলোচনার পরও দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে না পারায় এই আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন।
সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে দলগুলোর সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে কমিশন। তবে একমত না হওয়ায় ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ৩০টি দলের সঙ্গে তারা আবারও আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু করে।
সনদের চূড়ান্ত খসড়া ইতোমধ্যে দলগুলোকে দেওয়া হয়েছে। তবে চলমান পরিস্থিতিতে জাতীয় স্বার্থে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে দলগুলোর প্রতি আইনসম্মত ও প্রয়োগযোগ্য সিদ্ধান্ত আশা করছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এ পর্যায়ে বিশেষজ্ঞদের দেওয়া ৪ ধরনের বিকল্প প্রস্তাব নিয়ে আলোচনায় রেখেছে।
প্রস্তাবগুলো হলো- গণভোট, অধ্যাদেশ জারি, নির্বাহী আদেশ জারি এবং পরবর্তী সংসদের জন্য বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ।
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে এসব পদ্ধতি নিয়েও দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতার কারণে সনদ আটকে আছে। তবে বাস্তবায়নের পদ্ধতি সনদের অংশ হবে না। এ বিষয়ে সরকারকে একটি সুপারিশ দেবে ঐকমত্য কমিশন। এসব বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতি জানতে চাইলে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, দলগুলোর ওপর কমিশন কিছুই চাপিয়ে দেবে না, এ বিষয়ে আলোচ্য প্রস্তাবগুলোর মধ্যে বাস্তবসম্মত বিকল্পের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। সেই লক্ষ্যে আগামীতে আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে কমিশন।
উল্লেখ্য, ছয়টি সংস্কার কমিশনের (দুই পর্বে সংবিধান, নির্বাচনব্যবস্থা, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন) প্রস্তাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দুই দফার আলোচনায় ইতোমধ্যে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য ও সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হচ্ছে।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ইসির ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে হলে ডিসেম্বরে তফসিল ঘোষণা করতে হবে। এর আগে সময় আছে মাত্র আড়াই মাস। এই সময়ের মধ্যে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং এর আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করার দাবি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে খুব বেশি সময় হাতে নেই ঐকমত্য কমিশনের। কাজেই জাতীয় স্বার্থে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নির্ধারণে মতভিন্নতা দূর করে ঐক্য গড়ার এই কার্যক্রম সফল করতে দলগুলোকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
এলিস/মেহেদী/