ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেসির জোড়া গোলে অস্ট্রিয়াকে হারিয়ে নকআউটে আর্জেন্টিনা গ্যালারির সবচেয়ে ব্যতিক্রমী মুখটি এবার বিশ্বকাপে মেসির রেকর্ড গড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে আর্জেন্টিনা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা এখন মেসি অপ্রত্যাশিত এক রেকর্ড মেসির পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দিকেই নজর সবার

প্রকাশ: ০১ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:২৪ এএম
আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৩০ এএম
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দিকেই নজর সবার
খবরের কাগজ গ্রাফিকস

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে গত ১০ সেপ্টেম্বর জুলাই জাতীয় সনদ চূড়ান্ত করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সনদে রাষ্ট্র সংস্কারের ৮৪টি প্রস্তাবে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হলেও সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার ইস্যুগুলোর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মতভিন্নতা দূর হয়নি। এ কারণে জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে কি না, সে নিয়েই এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। ফলে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে শেষ পর্যন্ত কী হয় সবার নজর এখন সেদিকে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানাচ্ছে, আগামী ৫ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পুনরায় বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঐকমত্য কমিশন। এবারের বৈঠকের লক্ষ্য, দ্রুত সময়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নির্ধারণ করা। এ ছাড়া চূড়ান্ত সনদে স্বাক্ষরের তারিখ নির্ধারণ, রাজনৈতিক দলের সম্মিলিত ঘোষণা, বাস্তবায়ন কমিটি গঠন এবং জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হওয়ার কথা। এরপর প্রকাশ করা হবে চূড়ান্ত স্বাক্ষরকারীদের তালিকা এবং বাস্তবায়নের রূপরেখা। এসব কাজ শেষ করতে কমিশনের হাতে সময় আছে মাত্র ১৫ দিন। আগামী ১৫ অক্টোবর ঐকমত্য কমিশনের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। 

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ছিল চারটি। এগুলো হলো অধ্যাদেশ, নির্বাহী আদেশ, গণভোট ও বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ। 
সম্প্রতি ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে এসব প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও এখনো এ বিষয়ে ভিন্ন মেরুতে অবস্থান করছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপি। সংস্কারের সংবিধান-সম্পর্কিত ইস্যুগুলো আগামী সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়নের পক্ষে বিএনপি। বিশেষ সাংবিধানিক আদেশ জারি ও গণভোটের মাধ্যমে সনদের বাস্তবায়ন চায় জামায়াতে ইসলামী। আর গণপরিষদ বা সংবিধান সংস্কার সভার দাবিতে এখনো অনড় অবস্থানে রয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। 

এমন পরিস্থিতিতে সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ইস্যুগুলো বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পুনরায় পর্যালোচনা সভা করেছে কমিশন। এরপর গত ২৬ সেপ্টেম্বর ভার্চুয়াল সভা শেষে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে তাদের দুই ধরনের সুপারিশের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথমটি হলো সংবিধান আদেশ; গণভোট আয়োজনের জন্য সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্টের অভিমত বা উপদেশ গ্রহণ। অপর প্রস্তাবে একই সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণপরিষদ গঠন, নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথমেই সংবিধান সংস্কার সভার মাধ্যমে সংবিধান-সম্পর্কিত বিষয়গুলোর সমাধান করবেন।

ঐকমত্য কমিশন জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও আনুষ্ঠানিক-অনানুষ্ঠানিক আলোচনা অব্যাহত রাখবে তারা। একই সঙ্গে মতভিন্নতা দূর করতে দলগুলোর মতের কাছাকাছি পদ্ধতি এবং সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ইস্যুগুলো বাস্তবায়নে সরকারের কাছে দুটি সুপারিশ জমা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে কমিশন। কিন্তু তারপরও শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত জুলাই সনদে সব দল স্বাক্ষর করবে কি না, তা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। কারণ জুলাই সনদে স্বাক্ষরের জন্য জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ২৯টি দল তাদের দুজন করে প্রতিনিধির নাম জমা দিলেও স্বাক্ষরের ব্যাপারে অনেকেই দ্বিধান্বিত। 

এদিকে ঐকমত্য কমিশনের মতামত দেওয়া এবং বৈঠকি আলোচনায় নিয়মিত যোগদানের পরও সনদ বাস্তবায়নসহ বেশ কিছু দাবি আদায়ে রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীসহ সাতটি রাজনৈতিক দল। বাকি ছয়টি দল হলো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)। এসব দলের অভিন্ন দাবিগুলো হলো ১. জুলাই সনদের ভিত্তিতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে। ২. নির্বাচন পিআর পদ্ধতিতে হতে হবে। ৩. সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। ৪. গণহত্যার বিচার দৃশ্যমান হতে হবে এবং ৫. বিশেষ ট্রাইব্যুনালে ভারতীয় তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদের দোসর জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের বিচার করতে হবে এবং বিচার চলাকালীন তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর রাজনৈতিক পরিস্থিতি তথা সরকারের স্বস্তি নির্ভর করছে। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করে কি না, সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এ পর্যায়ে দলগুলোর মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য গড়তে কমিশন, সরকার ও রাজনৈতিক দল সবাই একধরনের চাপে রয়েছে। সরকার ও কমিশনের চিন্তা হলো রাজনৈতিক দলগুলো এতে স্বাক্ষর করে কি না। আবার রাজনৈতিক দলগুলোর চিন্তা হলো, কোন ইস্যুতে কে কতটকু ছাড় দেবে। কারণ সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে এখনো দলগুলোর মধ্যে মতভিন্নতা দৃশ্যমান। কেউ চাচ্ছে গণভোট, কেউ সাংবিধানিক আদেশ (সিও), আবার কারও পছন্দ গণপরিষদ সভা গঠন।

ঐকমত্য কমিশনে দুজন প্রতিনিধির নাম জমা দিলেও বিএনপি এখনো স্পষ্টভাবে জানায়নি তারা সনদে স্বাক্ষর করবে কি না। দলটির একাধিক সিনিয়র নেতার সঙ্গে কমিশনের অনানুষ্ঠানিক আলাপ হয়েছে। জানা গেছে, তারা এখনো পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন, কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। অন্যদিকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী সনদে স্বাক্ষরের জন্য জামায়াত কমিশনে কোনো প্রতিনিধির নাম জমা দেয়নি। সূত্র জানিয়েছে, তারা এখনো সংশ্লিষ্ট শর্তাবলি ও পরিবেশ পর্যালোচনা করছে। আর জাতীয় নাগরিক পার্টি জানিয়েছে, শর্তসাপেক্ষে স্বাক্ষরের বিষয়টি তারা বিবেচনা করছে।

ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দলগুলো সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আগ্রহ দেখালেও সংস্কারের সংবিধান-সম্পর্কিত ইস্যুগুলো বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে দলগুলোর মধ্যে যে মতভিন্নতা তা কাটানোর জন্য কমিশনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে গণভোট, সাংবিধানিক আদেশ ও গণপরিষদ- এই তিন ধরনের পরামর্শ এসেছে রাজনৈতিক ও বিশেষজ্ঞ মহল থেকে। 
বিশেষজ্ঞরা কমিশনকে বলেছেন, সংস্কার প্রস্তাবগুলোর বাস্তবায়ন টেকসই করতে হলে গণভোট বা গণপরিষদের মাধ্যমে এটি বাস্তবায়ন করা হবে সবচেয়ে ভালো বিকল্প। তবে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের পদ্ধতি জুলাই সনদের অংশ হবে না। এর আগে তাদের প্রস্তাবিত দুটি বিকল্প, ‘গণভোট’ এবং ‘সাংবিধানিক আদেশ’- এ পর্যায়ে সমন্বিত করে তারা একটি চূড়ান্ত অভিমত দিয়েছেন। সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত ইস্যুগুলো বাস্তবায়নে এ দুটি সুপারিশ সরকারকে করতে চায় কমিশন।

ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক ড. আলী রীয়াজ খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, সনদ বাস্তবায়ন করতে হলে কেবল স্বাক্ষর যথেষ্ট নয়, দরকার বাস্তবিক অগ্রগতি। দলগুলোকে আস্থার জায়গায় আনা, প্রশাসনিক পদক্ষেপের স্বচ্ছতা এবং সময়সীমা নিশ্চিত করাটাই মূল চ্যালেঞ্জ। এ পর্যায়ে সনদ বাস্তবায়নের পথে কমিশনকে তিনটি বড় বাধা/চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সেগুলো হলো রাজনৈতিক অনাস্থা ও বিভ্রান্তি, সনদ বাস্তবায়নে রোডম্যাপের অস্পষ্টতা, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ ও গ্রহণযোগ্যতা। কাজেই রাজনৈতিক অনাস্থা দূর করতে বিএনপি ও জামায়াতসহ কয়েকটি বিরোধী দল এখনো মনে করছে, সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার বৈধতা আদায়ের চেষ্টা করছে। 

সনদের পরবর্তী ধাপ বা বাস্তবায়নের সময়সীমা এখনো পরিষ্কার নয়। ফলে কৌশলগত অস্পষ্টতা দূর করতে এনসিপি ও কিছু ছোট দল মনে করছে, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এখনো পরিষ্কার নয়। কোন ধাপে, কে নেতৃত্ব দেবে- এ নিয়ে দ্বিধা রয়েছে। 

বিশ্লেষকদের মতে, এই মুহূর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আস্থার সংকট বড় চ্যালেঞ্জ। জুলাই সনদ বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে সরকার ও কমিশনের আন্তরিকতার ওপর। শুধু কাগজে-কলমে স্বাক্ষর করলেই হবে না- বাস্তব পদক্ষেপ, সময়সীমা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘আমরা আশা করছি, দেশের বৃহত্তর স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে। কারণ সমগ্র দেশ ও জাতি তাদের দিকে তাকিয়ে আছে।’ তিনি বলেন, এই সনদের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। যেমন নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো, সুষ্ঠু ভোট গ্রহণের রোডম্যাপ এবং নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা। কিন্তু এগুলোর বাস্তবায়ন ছাড়া সনদ হবে একগুচ্ছ রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির দলিল, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি থাকবে না। 

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নির্ধারণে গত ১১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে ঐকমত্য কমিশন। প্রধান উপদেষ্টার জাতিসংঘ সফরের আগ পর্যন্ত তিনটি আলোচনা হলেও দলগুলোর মধ্যে ঐক্য হয়নি। কমিশনের আশা, এবারের বৈঠকে আলোচনার মধ্য দিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দ্বার উন্মুক্ত হবে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এতদিন ধরে আলোচনায় থাকা এই সনদের লক্ষ্য ছিল একটি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা এবং রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটানো। কিন্তু বাস্তবায়নের আগে প্রধান প্রধান দল একযোগে স্বাক্ষর না করলে সনদের কার্যকারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।

দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন নীতির প্রভাব সীমিত থাকে এবং মূল্যবান রাজস্ব সুযোগ হাতছাড়া হয়। বর্তমানে চার স্তরবিশিষ্ট জটিল কর কাঠামোর কারণে তামাক পণ্য এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে। ফলে ধূমপায়ীরা ধূমপান ছাড়ার পরিবর্তে সস্তা ব্র্যান্ডের সিগারেটে চলে যাচ্ছেন, যা কর বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে।

সোমবার (২২জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: তামাক কর ও নীতি সংস্কারের শেষ সুযোগ’ শীর্ষক পোস্ট-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন নীতির প্রভাব সীমিত থাকে এবং মূল্যবান রাজস্ব সুযোগ হাতছাড়া হয়। ‘শুধু দাম বেড়েছে কি না, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং এই বৃদ্ধি তামাকের ব্যবহার কমাতে এবং সরকারি রাজস্ব সর্বোচ্চ করতে যথেষ্ট কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন রাজস্বের বড় সুযোগ নষ্ট হয়। একই সঙ্গে ই-সিগারেটের নিয়ন্ত্রণমূলক সংজ্ঞা দুর্বল করে এগুলোকে কার্যত সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া আগামী দিনগুলোতে তরুণদের জন্য একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বিষয়ে উপস্থাপনা পেশ করেন পিপিআরসির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মুহম্মদ ইহতিসাম হাসান। তিনি দেখান, ২০২৪ সাল থেকে বাজারে সামগ্রিক সিগারেট সরবরাহ কমতে শুরু করলেও বারবার কর ও মূল্য সমন্বয়ের পরও তামাক পণ্য এখনো সাশ্রয়ী রয়ে গেছে। তামাক সেবন হ্রাস এবং যুবসমাজকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করার প্রস্তাব দেন তিনি। এ ছাড়া প্রতি ১০ স্টিকের প্যাকেটের ন্যূনতম মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি জানানো হয়, যাতে মূল্যবৃদ্ধির টাকা সরাসরি সরকারের রাজস্বে জমা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ যদি চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তরিত হতে চায়, তবে তামাক করকে প্রধান হাতিয়ার করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন নাহীন শিমুল তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের দ্রুত বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ ও ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

কলম্বোর বান্দারানায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সামার্পণ বড়ুয়া।

সম্মেলনে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশু কল্যাণে টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা খাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

নাঈম/

চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষে সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টার দিকে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন। 

এর আগে মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দালিয়ানে তিনি দুই দিন কর্মব্যস্ত সময় কাটাবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে আজ মঙ্গলবার। দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। 

এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম ও ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত/

সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: প্রতীকী

ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয়। 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ ইউএসজিএস ভূমিকম্পের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৪।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এদিকে, রাজধানীতে ঝাঁকুনি অনুভূত হলে বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আতঙ্কে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

নাঈম/

‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম
‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা বন্ধে আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। 

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে এসব দাবি উত্থাপিত হয়। 

এদিন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি, জ্বালানিখাত, গ্যাস সংকট এবং জিআই পণ্য নিয়েও সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

এর আগে বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। এ দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সংসদ সদস্য বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দেন।
অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘যে দল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তারা এ দেশে রাজনীতি করতে পারে না। ফ্যাসিস্টদের মতো স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা উচিত।’ 

তিনি বলেন, ‘অতীতে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং শাপলা চত্বরে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও দেশবাসী দেখেছে। একই সঙ্গে তিনি কওমি মাদরাসার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।’

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে, হৃদরোগের রিং এবং চোখের লেন্সের শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

অন্যদিকে কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ মসজিদ ও মাদরাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে মানুষ নামাজ পড়বে, কোরআন শরীফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদকে রাজনৈতিক সভার জায়গা বানিয়েছে।’ 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদ ও মাদরাসায় যেন কোনো রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ করতে না পারে, সে জন্য আইন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন মাঠে, স্কুলে বা হলরুমে রাজনৈতিক সভা করি, তাদেরও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আল্লাহর ঘরকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানানো উচিত নয়।’

এদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। 

তিনি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক হওয়া প্রয়োজন। ভারতের নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তার কারণও খুঁজে বের করতে হবে।’

সীমান্তে ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জিএম সিরাজ বলেন, ‘মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে। ভারতবিরোধিতা কিংবা বাংলাদেশবিরোধিতা কোনো পক্ষের জন্যই ভালো নয়।’

এদিকে সংসদ কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ’স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, অনেক মন্ত্রীর চেয়ার খালি পড়ে আছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে এসে মন্ত্রীদের উপস্থিতি পাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি কাম্য। 

তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকলে সংসদ আরও কার্যকর হয়।’ 

তবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্ত্রীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে অর্থমন্ত্রী সবসময় উপস্থিত আছেন এবং বাজেট-সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন।’

অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশে বর্তমানে পাঁচটি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত রয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদকে জানান, বর্তমানে দেশে ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে জামদানি শাড়ি, ইলিশ, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই মসলিন, বগুড়ার দই, টাঙ্গাইল শাড়ি ও কুমিল্লার রসমালাই উল্লেখযোগ্য।
 
এলিস/রিফাত/