ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘সোমেশ্বরী’র পরিচালক নওশাবা মৌলভীবাজারে মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’ জ্বালানি তেলের ভবিষ্যত কি চীনের হাতে? দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ৪৩১ পদে বড় নিয়োগ হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ হ্যারি কেইনের ফর্মকে প্রশংসায় ভাসালেন ডেক্লান রাইস নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলপথমন্ত্রী ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে শরীয়তপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত ২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে ইউসিটিসিতে ৭ম সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১ ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা ২-১ গোলে জর্ডানকে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখলো আলজেরিয়া কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬ ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র শিরোপার স্বপ্নে ভাসছেন না হালান্ড আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা

শাহজালালে কার্গো ভিলেজ ভস্মীভূত

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫, ১১:১৩ এএম
শাহজালালে কার্গো ভিলেজ ভস্মীভূত
ছবি: খবরের কাগজ

স্মরণকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) বেলা সোয়া ২টার দিকে দেশের প্রধান এই বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের কার্গো ভিলেজে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে আগুন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ানক এই আগুনে ভস্মীভূত হয়ে গেছে ‘কার্গো ভিলেজ’।

 আগুন লাগার খবর পেয়ে এক এক করে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩টি ফায়ার স্টেশনের ৩৭টি ইউনিট। তারা আগুন নেভাতে শুরু করলে সেখানে একপর্যায়ে সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় যুক্ত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব, আনসারসহ স্বেচ্ছাসেবকরা। আগুন নেভানোর চেষ্টার সময় সেখানে ফায়ার ফাইটারসহ বেশ কয়েকজন আহত হন। পরে রাত ৯টার দিকে সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়, ‘ফায়ার সার্ভিস ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিশ্চিত করা যাচ্ছে যে আগুন সম্পূর্ণ নিভে গেছে। রাত ৯টা থেকে সব ফ্লাইট কার্যক্রম পুনরায় চালু করা হবে।’ 

দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলা আগুনের তীব্র ধোঁয়ায় বিমানবন্দরের রানওয়েসহ এলাকার আকাশ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়। শাহজালাল থেকে সব ধরনের উড়োজাহাজ উড্ডয়ন-অবতরণ (ফ্লাইট) সাময়িক বন্ধ রাখে কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত বেশ কিছু ফ্লাইট অবতরণের ঝুঁকি এড়িয়ে চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ ছাড়া দিল্লি ও চেন্নাই থেকে আসা দুটি ফ্লাইট কলকাতা বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে জানা যায়। পরে রাত ৯টা ৬ মিনিটে দুবাই থেকে ঢাকায় আসা একটি ফ্লাইট ফের শাহজালালের রানওয়েতে অবতরণ করে। এর মধ্য দিয়ে ৭ ঘণ্টার অচলাবস্থা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করে। আকস্মিক এই অগ্নিকাণ্ডে শিডিউল বিপর্যয় হলে চরম দুর্ভোগ ও বিড়ম্বনার শিকার হন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গন্তব্যের যাত্রীরা।

 তবে দেশের প্রধান বিমানবন্দরেও কীভাবে এমন ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটল, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। এমনকি এই ঘটনায় শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তথা বাংলাদেশের এভিয়েশনের নিরাপত্তাব্যবস্থা আবারও বৈশ্বিক প্রশ্নের সম্মুখীন হতে পারে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

গতকাল সন্ধ্যার পর কার্গো ভিলেজ পরিদর্শন করে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন বলেছেন, ‘আমরা যত দ্রুত পারি বিমানবন্দর চালু করব। বিমানবন্দরে এই মুহূর্তে (গতকাল অগ্নিকাণ্ডের সময়) বিমান ওঠানামা বন্ধ আছে। আমরা চেষ্টা করছি, আজকে রাতের মধ্যে ফ্লাইট ওপেন করার।’

যেভাবে আগুনের সূত্রপাত
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজের স্কাই ক্যাপিটাল লাউঞ্জ (গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং) ও কুরিয়ার সার্ভিস কার্যালয়ের মাঝের স্থান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। সেখানে থাকা লোকজন ধোঁয়া ও আগুন দেখে দ্রুত বের হয়ে যান। এরপর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো কার্গো ভিলেজে। তবে কার্গো কমপ্লেক্সের কর্মীদের দাবি, ভেতরে থাকা কেমিক্যাল বা রাসায়নিক পদার্থ থেকেই আগুনের সূত্রপাত।
 
প্রত্যক্ষদর্শী বিমানবন্দরের বেল অর্ডার অপারেটর ওয়ালিদ বলেন, বেলা ২টার পর পরই কার্গো ভিলেজের স্কাই লাউঞ্জে আগুনের ধোঁয়া দেখা যায়। তখন ভেতরে থাকা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এরপর নৌবাহিনীর একটি গাড়ি যোগ দেয়। এতেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো কার্গো কমপ্লেক্সে ছড়িয়ে পড়ে।

কার্গো ভিলেজের ইমপোর্ট সেকশনের কর্মী সোহেল মিয়া বলেন, ‘৮ নম্বর গেটের সঙ্গে অবস্থিত কুরিয়ার সার্ভিসের গুদাম। এরপর ফার্মাসিউটিক্যাল ও ভ্যারাইটিস পণ্যের গুদাম। মাঝখানে কুল রুম, ডেঞ্জারাস গুডসের গুদামে বিস্ফোরক দ্রব্য রাখা হয়। এরপর ছিল আমদানি করা মোবাইলের গুদাম। সর্বশেষে বিজিএমইর গুদাম, যেখানে আমদানি করা গার্মেন্টস পণ্য রাখা হয়। তিনি দাবি করেন, ‘ডেঞ্জারাস গুডসের’ গুদামে আগুন লেগেছিল। পরে সেখানে রাখা বিস্ফোরকজাতীয় দ্রব্যগুলো বিকট আওয়াজে ফুটছিল। সন্ধ্যার পর থেকে কার্গো ভিলেজের পাশে কুরিয়ার সার্ভিসের আগুনের তীব্রতা বেড়ে যায়। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটের (হ্যাঙ্গার গেট) পাশে দাউদাউ করে জ্বলছিল আগুন। 

আগুন নেভাতে যে ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়
শনিবার বেলা সোয়া ২টা থেকে রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো ভিলেজে আগুন জ্বলছিল। ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সদস্যরাও আগুন নেভাতে কাজ করেন। রোবট ও নানা প্রযুক্তি ব্যবহার করে আগুন নেভাচ্ছিলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। কুর্মিটোলার প্রধান সড়কে আলাদা একটি লেন তৈরি করে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসার সুবিধা রাখা হয়। বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় ছিল সেনাবাহিনীর পাশাপাশি এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এএপি), পুলিশসহ বিভিন্ন সংস্থা। 

আগুনের ভয়াবহতা যেমন ছিল
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল থেকেই ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী দেখা যায়। প্রথমে কার্গো ভিলেজের ভেতর আগুন দেখা গেলেও মুহূর্তেই চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের কুণ্ডলী তখন কেবল বাড়তে থাকে। ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে যায় বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকা। আগুনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে হ্যাঙ্গারে থাকা উড়োজাহাজগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়। তার মাঝেই ফায়ার সার্ভিস অনবরত পানি দিতে থাকে। আগুন কার্গো ভিলেজের বাইরের শেডেও ছড়িয়ে পড়েছিল। সেখানে গার্মেন্টস পণ্য বা কাপড়ের রোল রাখা হয়েছিল। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার পরও আগুনের লেলিহান শিখা একই রকম দেখা যায়। তবে রাত ৮টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয় বলে জানান বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্টরা।

উৎসুক জনতার ভিড়
বিমানবন্দরের সব গেট ও এপিবিএন হেডকোয়ার্টারের বিপরীত পাশের গেট জনসাধারণের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়। ফলে অন্য সব বড় আগুনের ঘটনায় যেভাবে হাজার হাজার জনতার ভিড় চোখে পড়ে, বিমানবন্দরের সংরক্ষিত এলাকার কারণে সেই পরিস্থিতি হয়নি। মহাসড়ক দিয়ে চলাচলকারী যাত্রীরা উদ্বেগ নিয়ে তাকিয়ে থাকেন বিমানবন্দরের দিকে। পাশাপাশি বিমানবন্দরে ৮ নম্বর গেটেও সেনাবাহিনী ব্যারিকেড দেয়। তবে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বিপুল উৎসুক জনতার উপস্থিতি দেখা গেছে। 

অগ্নিঝুঁকি মোকাবিলায় কী ব্যবস্থা ছিল
বিমানবন্দরের ভেতর একটি ফায়ার স্টেশন রয়েছে। সেটি ঘটনাস্থল থেকে দুই কিলোমিটার দূরত্বে। আমদানি কার্গো ভিলেজের কর্মীরা জানান, কার্গো ভিলেজ বিভিন্ন ধরনের পণ্য দিয়ে ভর্তি ছিল। পণ্যের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভেতরে আলাদা আলাদা গুদাম রয়েছে। ভেতরে এক্সটিংগুইশারসহ অগ্নিনিরাপত্তাব্যবস্থাও ছিল। তার পরও আগুনের তীব্রতার কারণে সেখানে কেউ সেগুলো ব্যবহার করতে পারেননি। 

বিমানবন্দরের একাধিক কর্মকর্তা জানান, গ্রাউন্ডে থাকা কাপড়গুলোতেও আগুন ছড়িয়ে যায়। ফলে আগুন ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়ে। 

কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বা কর্তৃপক্ষের কেউ প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতির কোনো পরিমাণ জানাতে পারেননি। তবে এ বিষয়ে বিভিন্ন সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনের পর ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা যাবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কার্গো ভিলেজ ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বর্ণনা থেকে বেশ কিছু ধারণা পাওয়া গেছে। 

কুরিয়ার কোম্পানি তামিম এক্সপ্রেস লিমিটেডের পরিচালক সুলতান আহমেদ বলেন, ‘শনিবার হাফ শিফটিং কার্যক্রম চলে কার্গো কমপ্লেক্সে। সকাল ৯টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত খোলা ছিল। আমাদের কোম্পানির আড়াই টন মাল নামে শনিবার। সব পুড়ে গেছে। আমার মতো অনেকের মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।’ 

কুরিয়ারের মাস্টার ইয়ার কোম্পানির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মো. রোকন মিয়া বলেন, প্রতিদিন টনকে টন মাল কার্গো হয়ে আসে। এই ঘটনায় বিশাল ক্ষতির মুখে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। তিনি আরও বলেন, স্কাই লাউঞ্জে কেমিক্যাল, ফেব্রিক, মেশিনারিজসহ সব ধরনের মালামাল রাখা হয়। 

এই কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডে সেগুনবাগিচার ব্যবসায়ী লিমন হোসেনের ৭ কোটি টাকার মাল পুড়ে গেছে। অগ্নিকাণ্ডের খবর শুনে তিনি বিমানবন্দরে ছুটে যান। এ সময় ঘটনাস্থলে লিমন হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘গত বুধবার চীন থেকে জুতা, ব্যাগ, গার্মেন্টস পণ্য আমদানি করা হয়। আগামীকাল ব্যাংকের কাজ শেষ করে মালামাল বের করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগে আজ আগুনে সব পুড়ে গেছে। আমার সব শেষ হয়ে গেল।’

সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সের ১ নম্বর গেটের পাশে কেমিক্যাল, ২ নম্বর গেটে বিভিন্ন ধরনের পণ্য এবং ৩ নম্বর গেটে গার্মেন্টস পণ্য রাখা হয়। তার পাশে স্কাই ক্যাপিটাল ও কুরিয়ার সার্ভিস। পাশে ৮ নম্বর গেট (হ্যাঙ্গার গেট)। এ ছাড়া কার্গো ভিলেজের সামনের গ্রাউন্ডে কাপড়ের রোল রাখা ছিল। আগুনে প্রায় সবকিছুই পুড়ে গেছে। 

নগরে যানজট
বিমানবন্দরে আগুন লাগার পর উৎসুক জনতা এসে ভিড় করতে থাকেন বিমানবন্দর সড়কে। বলাকা ভবনের সামনে এই উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে হিমশিম খান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় সড়কে তীব্র যানজট তৈরি হয়। গাজীপুর থেকে বিআরটি লেন হয়ে আসা গাড়িগুলো আটকে পড়ে উত্তরার আজমপুর এলাকায়। রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স থেকে বিমানবন্দরের গোলচত্বরে গাড়ির জট বেঁধে যায়। উল্টো দিকে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এলাকা থেকে শুরু হয় তীব্র যানজট। যানজটের প্রভাব পড়ে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে। 

দ্রুত বিমানবন্দর সচল করার চেষ্টা
গতকাল সন্ধ্যার দিকে ওই কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা সেখ বশির উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘আগুন লেগেছে আমদানি ভিলেজে, রপ্তানি ভিলেজে আগুন লাগেনি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’ 

ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন 
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে সরকার। এই কমিটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডের সার্বিক ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করবে।কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান পাটওয়ারী, যুগ্ম সচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়। সদস্য করা হয়েছে মু. রইচ উদ্দিন খান, প্রথম সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, মো. তারেক হাসান, প্রথম সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড; মুহাম্মদ কামরুল হাসান, যুগ্ম কমিশনার, কাস্টম হাউস, ঢাকা এবং পঙ্কজ বড়ুয়া, উপসচিব, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয়।

কমিটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অগ্নিকাণ্ডে সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করবে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড বিশেষ ব্যবস্থায় ঢাকা কাস্টম হাউসের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

নাশকতার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা
দেশের বিভিন্ন স্থানে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় জনমনে যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার এ বিষয়ে গভীরভাবে অবগত। গতকাল সরকার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা সব নাগরিককে আশ্বস্ত করতে চাই- নিরাপত্তা সংস্থাগুলো প্রতিটি ঘটনা গভীরভাবে তদন্ত করছে এবং মানুষের জীবন ও সম্পদ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে।’

বিবৃতিতে সরকার জানায়, নাশকতা বা অগ্নিসংযোগের কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ‘কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বা উসকানির মাধ্যমে জনজীবন ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে বিঘ্নিত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।’  বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা ঐক্য, সংযম ও দৃঢ় সংকল্প নিয়ে আমাদের গণতন্ত্রের উত্তরণের পথে যেকোনো হুমকির মোকাবিলা করব। আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।’

এই প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন আলমগীর হোসেন, শেখ জাহাঙ্গীর ও জয়ন্ত সাহা

‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটি আদালতে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে মাঠে রাজনৈতিকদলগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তারা সিম্বোলিক কারণে আছেন। আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল। নিষিদ্ধ ঘোষিত কথাটা আসলে ঠিক না। আমরা যদি টেকনিক্যালি বলি আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না- এটা পরিষ্কার করা দরকার যে, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেটা বিচারের পর নির্ধারিত হবে।’ 

যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত তারা বিচারাধীন থাকবে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে। এই দল যদি মাঠে কোনও কর্মসূচি নিয়ে নামতে চায়, সেটা আইন ভঙ্গকারী কার্যক্রম হবে। সরকার সেটার ব্যবস্থা নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই। তারা প্রতীকী কারণে হয়তো মাঠে আছেন, বলছেন অনেক কিছু করে ফেলবেন।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমি মনে করি না আওয়ামী লীগের কিছু করার নৈতিক সাহস আছে। একটা কিছু করতে গেলে নৈতিক সাহস লাগে। আমরা বলি না ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, সবার ডিমেনশিয়া হবে, মানে সবাই সবকিছু ভুলে যাবে আর কি! তারপর আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না। তাদের সেই নৈতিক সাহস নেই। নৈতিক সাহস যদি না থাকে কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।’

রিফাত/

বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা
ছবি: সংগৃহীত

ছয় জেলায় সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী এসব এলাকা ও এ সময়ের জন্য এই কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এই ক্ষমতার আওতাভুক্ত হবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ অনুযায়ী অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে তারা এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

অন্তরা/

আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৩ এএম
আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আগামী শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল বের হবে। এ মিছিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ মহররম ১৪৪৮ হিজরী (২৬ জুন ২০২৬ খ্রি.) পবিত্র আশুরা উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত তাজিয়া মিছিলে কিছু ব্যক্তিবর্গ দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণ করে ক্ষেত্রবিশেষে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যা ধর্মপ্রাণ ও সম্মানিত নগরবাসীর মনে আতংক ও ভীতিসৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি স্বরূপ।

আরও বলা হয়, তাছাড়া মহররম মাসে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো হয়, যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেহেতু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

আরও উল্লেখ করা হয়, এই আদেশ তাজিয়া মিছিল শুরু হতে শেষ সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে।

অন্তরা/

১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা
‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজ, পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার সময়ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ ১১৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালী সফলভাবে অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আটকে থাকা জয়যাত্রা জাহাজটি হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। সেটি এখন দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে রয়েছে। দীর্ঘদিন হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে না পারা বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসে এটিকে একটি অনন্য ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে নির্মিত ও ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু রয়েছেন, যারা বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের জলসীমায় জাহাজটি বাঙ্কারিং ও প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করেছে।

গত ২৬ জানুয়ারি একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক চার্টারের অধীনে জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে কাতার থেকে ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে আসে। কিন্তু জাহাজটি বন্দরে অবস্থানকালেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই অঞ্চলে তীব্র সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। চরম ঝুঁকির মধ্যেই ১১ মার্চ সাহসিকতার সঙ্গে কার্গো খালাস সম্পন্ন করা হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী পার হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ক্ষতি এড়াতে অলস বসিয়ে না রেখে বিএসসি ম্যানেজমেন্ট দ্রুত একটি বিকল্প বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নেয়।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী জাহাজটিকে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে পাঠিয়ে সেখান থেকে প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার বোঝাই করা হয়, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান বন্দরে যাওয়ার কথা। এই দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে জাহাজটি এক দিনের জন্যও ‘অফ-হায়ার’ বা ভাড়া ছাড়া থাকেনি। 

সার বোঝাই করার পর হরমুজ প্রণালীর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটির অবরুদ্ধ অবস্থা আরও দীর্ঘ হয় পড়ে থাকতে হয়। গত ১৮ এপ্রিল ইরান নৌবাহিনী নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণ দেখিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজটির যাতায়াতের অনুমতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ দিন অবরুদ্ধ অবস্থায় আটকা পড়ে থাকে জাহাজটি।

​দীর্ঘ অবরুদ্ধ সময়ে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের মনোবল চাঙ্গা রাখতে বিএসসি জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখে। পাশাপাশি স্বাভাবিক সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদে বিশেষ প্রণোদনা এবং ‘ওয়ার ওয়েজ’ দেওয়া হয়।

এমভি বাংলার জয়যাত্রার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ১১৫ দিন পর অবশেষে আমরা মুক্ত হয়েছি। এ দীর্ঘ সময় যুদ্ধাবস্থার মধ্যে বড় আতঙ্কে ছিলাম।  আমাদের মাথার ওপর দিয়ে ড্রোন ও মিসাইল গেছে। মনে হয়েছিল মুহুর্তে শেষ হয়ে যাব। আল্লাহ উপর ভরসা করে প্রতিটি রাত কাটিয়েছি। ঘুমানোর সময় মনে হতো আজই বুঝি জীবনেন শেষ রাত। 

আবদুস সাত্তার/আজহার/

বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কারণে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। সেই দূষণের কবলে পড়েছে মেগাসিটি ঢাকাও।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আইকিউএয়ারের সবশেষ সূচকে দেখা যায়, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ১২৩। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান নবম।

তালিকায় ১৭৮ স্কোর নিয়ে দূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের দিল্লি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের কলকাতা শহরে বায়ুমান সূচক রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৩। তৃতীয় অবস্থোনে ১৬০ স্কোর নিয়ে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ১৫৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার স্কোর ১৩৭।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
 
এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

অন্তরা/