ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফরিদপুরে ‘গে গ্রুপ’ ইস্যুতে ৩ জন আটক জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে? লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান বরিশাল বিভাগ এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশর দিনব্যাপী নৌ-বিহার আগস্টে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলে মাতোয়ারা ‘প্রচেষ্টা’র এক দিন জিয়াউর রহমান জনগণের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও থামেনি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬ হরিণাকুণ্ডুতে আ.লীগ–বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১৬ ফেরদৌস ওয়াহিদ ও সাঈদা শম্পার ‘মন বোঝে না’ চট্টগ্রামে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান তৈরির আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর ‘বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার’ প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলের চেয়ারম্যান মনিরুল, মহাসচিব আমান কৃষিকাজে বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ২য় পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র বরেন্দ্র সভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্য ধারণ করে শিক্ষার্থীদের সুনাগরিক হওয়ার আহ্বান ভূমিমন্ত্রীর বৃহত্তর কুষ্টিয়ার প্রথম পতাকা উত্তোলনকারী আব্দুল জলিলের স্মরণসভা ইবি ছাত্রদলে পদ পাচ্ছে ছাত্রলীগ কর্মীরা! প্রাথমিক পরীক্ষায় শিশুদের থেকে ফি আদায় প্রসঙ্গে গাজীপুরে তেল কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, নিয়ন্ত্রণে ৩ ইউনিট রাজশাহীতে অটো ভাড়া বৃদ্ধি তিস্তা ইস্যুতে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি, পরবর্তী কর্মসূচি ‘ঢাকা ঘেরাও’ নায়িকা ববির কথিত স্বামী আবুল বাশার গ্রেপ্তার সিটি কলেজ ক্যাম্পাস, ষোলশহরে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সোনারগাঁয় যুবলীগ-ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার সম্পর্কের পর বিয়ে হয়নি বলে ধর্ষণের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়, রায় কোর্টের সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৩টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৭ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র খোলা ড্রামে ভোজ্যতেল: ভোক্তার অধিকার কোথায়?

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ হস্তান্তর আজ

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৩৪ এএম
আপডেট: ২৮ অক্টোবর ২০২৫, ০৮:৩৫ এএম
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ হস্তান্তর আজ
প্রতীকী ছবি

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ আজ সরকারের কাছে হস্তান্তর করবে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

মঙ্গলবার (২৮ অক্টােবর) দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের উপস্থিতিতে কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে এই সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেওয়া হবে। 

কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে তৈরি এই সুপারিশে সনদ বাস্তবায়নের আইনি ও রাজনৈতিক কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।

গতকাল সোমবার বিকেলে যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশনের সমাপনী বৈঠকে এই সুপারিশ চূড়ান্ত হয়। ঐকমত্য কমিশন সূত্র জানিয়েছে, সব কূল রক্ষা করেই সনদ বাস্তবায়নের এই রূপরেখা তৈরি করা হয়। সনদ বাস্তবায়নের এই সুপারিশ জমা দেওয়ার মাধ্যমে আগামী ৩১ অক্টোবর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আজই জাতীয় ঐকমত্য কমিশন তার দায়িত্ব শেষ করবে। এ সময় জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের রূপরেখা চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অন্য সংস্কার কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নেও সরকারকে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান কমিশনের সদস্যরা। 

বাস্তবায়নের পথে বড় পদক্ষেপ
সরকারের কাছে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আট মাসব্যাপী ধারাবাহিক কর্মযজ্ঞ। গতকাল বিকেলে প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশনের সভাপতি অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় কমিশনের সমাপনী বৈঠক। এতে সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, বদিউল আলম মজুমদার, ড. ইফতেখারুজ্জামান, সফর রাজ হোসেন ও মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাজ বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কারের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হয়ে থাকবে। এই প্রক্রিয়ায় যেসব ডকুমেন্ট, আলোচনা ও ছবি-ভিডিও তৈরি হয়েছে, সেগুলো ইতিহাসের সম্পদ। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এগুলো সংরক্ষণ করতে হবে। আমরা কীভাবে ঐকমত্যে পৌঁছেছি, তা জানানোই হবে গণতান্ত্রিক বিকাশের শিক্ষণীয় অধ্যায়।’

কী থাকছে সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশে?
ঐকমত্য কমিশনের সূত্র জানিয়েছে, সুপারিশে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রধান কাঠামোকে পাঁচটি ধাপে নির্ধারণ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- 
১. প্রথমে ‘জুলাই সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নামে একটি বিশেষ আদেশ জারি করা হবে, যা গণ-অভ্যুত্থানকে ভিত্তি হিসেবে নেবে।
২. সেই আদেশের অধীনে গণভোটসংক্রান্ত একটি অধ্যাদেশ জারি হবে; এর মাধ্যমে জনগণের সম্মতি নেওয়া হবে।
৩. গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়ী হলে ঐকমত্য কমিশনের প্রণীত সংস্কার প্রস্তাবই সরাসরি বাস্তবায়ন হবে।
৪. আগামী জাতীয় সংসদ ২৭০ দিনের জন্য ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ হিসেবে কাজ করবে এবং এই সময়ের মধ্যেই সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবগুলো পাস করতে হবে।
৫. গণভোটে পাস হলে সংসদে দ্বিকক্ষ ব্যবস্থা প্রবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে- সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বভিত্তিক উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবও এতে আছে।

এ ছাড়া কমিশনের খসড়ায় বিকল্প একটি পথও রাখা হয়েছে- সংস্কার প্রস্তাবগুলো বিল আকারে সংসদে পেশ করে তার ভিত্তিতেই গণভোট আয়োজন করা। তবে উভয় পথেই মূল লক্ষ্য একই- আইনি বৈধতা ও গণসমর্থনের ভিত্তিতে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন।
 
সুপারিশ প্রস্তুতে দফায় দফায় বৈঠক
কমিশনের একাধিক সূত্র জানায়, রবিবার বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের কমিশন বৈঠকে সুপারিশের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়। এরপর গতকাল সকাল ১০টায় কমিশন পুনরায় বসে শেষ মুহূর্তের সংযোজন-বিয়োজনে। এরপর বিকেলে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সামনে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় সংক্রান্ত চূড়ান্ত সুপারিশপত্র’ উপস্থাপন করে কমিশন। আগামী ৩১ অক্টোবর কমিশনের মেয়াদ শেষ হলেও প্রয়োজনে সদস্যরা পরামর্শমূলকভাবে সরকারের পাশে থাকবেন বলে জানিয়েছেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।

গণ-অভ্যুত্থানের পর জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু হয় গত আগস্টে। রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, আইনবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বিচার বিভাগের প্রতিনিধিদের মতামতের ভিত্তিতে কমিশন টানা তিন মাসে ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত করে- এর মধ্যে ৪৭টি সরাসরি সংবিধানসংক্রান্ত।

অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে শুরু হয় বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরির কাজ। গণভোটের আইনি ভিত্তি, সংসদের ভূমিকা, বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা- সব দিক নিয়েই দফায় দফায় বৈঠক করেছে কমিশন। একপর্যায়ে সংবিধান বিশেষজ্ঞ, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ও আইনজীবীদের নিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়।

শেষ মুহূর্তের সংযোজন-বিয়োজন
কমিশন সূত্র জানায়, গতকাল বিকেলে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর খসড়ায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন যুক্ত করা হয়- গণভোটের সময় নির্ধারণ এবং আদেশ কে জারি করবে এই দুটি বিষয়ের সিদ্ধান্ত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে (২৭০ দিন) সংস্কার বাস্তবায়ন না হলে সংসদ বিলুপ্ত হবে না; বরং একটি ‘ইতিবাচক বিকল্প প্রণোদনা ব্যবস্থা’ থাকবে, যাতে সংসদ দ্রুত সংস্কার শেষ করে।

বাস্তবায়নের সুপারিশে সব কূল রক্ষার চেষ্টা
ঐকমত্য কমিশনের সমাপনী বৈঠকে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি এমন একটি বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করতে, যাতে রাজনৈতিক ঐক্য অক্ষুণ্ণ থাকে, আবার আইনি বৈধতাও নিশ্চিত হয়। সব কূল রক্ষা করে এই সুপারিশ তৈরি করা হয়েছে। চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান আমাদের যে ঐক্যের ভিত্তি দিয়েছে, সেটাকে সংরক্ষণ করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য। সংস্কারের প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ ছিল অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও ইতিবাচক।’

অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, আজ সরকারের হাতে সুপারিশ হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে ঐকমত্য কমিশনের কার্যক্রম কার্যত শেষ হবে। তবে কমিশন সদস্যদের আশা- এই প্রক্রিয়া শুধু সরকারের কাজকে নয়, জনগণের প্রত্যাশাকেও প্রতিফলিত করবে। তিনি আরও বলেন, ‘কমিশনের কাজ শেষ, কিন্তু সংস্কারযাত্রা শুরু হচ্ছে এখন। আমরা চাই, সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো সেই পথেই এগিয়ে যাক, যে পথে জনগণ একবার হেঁটে দেখেছে স্বাধীনতার নতুন অর্থ।’

কমিশনের শেষ বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এই কমিশনের কাজ শুধু আজকের নয়, আগামী প্রজন্মের জন্য একটি মানদণ্ড তৈরি করেছে। আলোচনা, মতভেদ, সমঝোতা- সবকিছুই নথিবদ্ধ করা হোক। কারণ এই নথিগুলো হবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক পুনর্গঠনের ইতিহাস। 
কমিশনের সদস্য বিচারপতি এমদাদুল হক বলেন, ‘কমিশনের বৈঠকগুলোতে যেমন সৌহার্দ্য ছিল, গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও তেমন ঐক্য ছিল। এটাই আশার জায়গা।’ সফর রাজ হোসেন (পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রধান) বলেন, ‘প্রথমবারের মতো রাজনৈতিক দলগুলো দীর্ঘ আলোচনায় অংশ নিয়েছে। এই সংস্কৃতি টিকে থাকুক।’ ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জুলাই সনদের পাশাপাশি দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কারও জরুরি। সরকার যেন এ সুযোগ কাজে লাগায়।’ প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘শহিদ পরিবারের প্রত্যাশা একটাই- সংস্কার বাস্তবায়ন। সেটাই হবে জুলাই আন্দোলনের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।’

জুলাই সনদ তৈরির ইতিহাস
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, যার নেতৃত্বে ছিলেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এই কমিশনের দায়িত্ব ছিল একটি সর্বজনগ্রহণযোগ্য জাতীয় সনদ তৈরি করা; যা ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন, বিচার ও নাগরিক অধিকারের দিকনির্দেশনা দেবে। 

এরপর ধারাবাহিক সংলাপ ও কর্মশালার মধ্য দিয়ে কমিশন দেশের ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোটের মতামত সংগ্রহ করে। এই প্রক্রিয়ায় মোট ৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাব চূড়ান্ত হয়, যার মধ্যে ৪৭টি সরাসরি সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাকিগুলো প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সংস্কারবিষয়ক। রাজনৈতিক দলগুলো প্রস্তাব দেয় সংসদীয় ব্যবস্থার জবাবদিহি বাড়ানো, দুর্নীতি দমন কমিশনের স্বাধীনতা, পুলিশের জবাবদিহিমূলক পুনর্গঠন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকারের নিশ্চয়তার বিষয়ে।

গত ১৭ অক্টোবর ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেন বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ ২৪টি রাজনৈতিক দলের নেতারা। এক দিন পর ১৯ অক্টোবর জুলাই সনদে সই করে গণফোরাম। কিন্তু জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ (এনসিপি) সিপিবির নেতৃত্বাধীন ছয়টি বাম দল এখনো সনদে সই করেনি। তাদের মধ্যে এনসিপি এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছে, সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা ছাড়া তারা স্বাক্ষর করবে না। 

সনদ স্বাক্ষরের পর কমিশন মনোযোগ দেয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নির্ধারণে, যেখানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা। কমিশন প্রথমে বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা নিয়ে বিভাজিত ছিল- ২৭০ দিনের মধ্যে সংসদ সংস্কার শেষ না করলে কী হবে, তা নিয়ে ছিল মতপার্থক্য। তবে শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করে ‘ইতিবাচক প্রণোদনাভিত্তিক’ বাস্তবায়ন মডেলই বেছে নেয় কমিশন। এরপর বহু পর্যালোচনা শেষে ঐকমত্য কমিশনের তৈরি করা সমন্বিত প্রস্তাবে আইন, রাজনীতি ও বাস্তবতার মধ্যে ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: খবরের কাগজ

জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘জনগণের সমর্থনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। সুতরাং বিএনপির গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমীচীন হবে না। জামায়াত একটি রেজিমেন্টেড রাজনৈতিক দল। তারা তো গণতন্ত্রেই বিশ্বাস করে না। আর বিএনপিই একমাত্র দল, যারা গত পঞ্চাশ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে আসছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিদেশে নির্বাসিত অবস্থায় ছিলেন।’

শনিবার (২০ জুন) বেলা ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরেছিলেন, সেদিনই তিনি বলেছিলেন তার একটা পরিকল্পনা আছে। তিনি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে সেই কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। এটা সবাই পারেন না, এটা সেই নেতারাই পারেন যারা স্বপ্ন দেখেন। তারেক রহমান সাহেব স্বপ্ন দেখেন একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে। যেটা তার পিতা চেয়েছিলেন, যেটা তার মাও চেয়েছিলেন। আমরা যারা তার সঙ্গে কাজ করছি তাঁরা দেখছি, তিনি একজন কাজপাগল মানুষ। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তিনি দিনরাত কাজ করেন। এই মানুষটি আজকে সমগ্র দেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য হাত দিয়েছেন এবং তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।’

বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের যাদের বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা কাজ করছি। কাজ করার চেষ্টা করছি। কোনো ব্যক্তির জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠীর জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে কল্যাণের জন্য কাজ করছি। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে আমরা এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যে জায়গা থেকে বাংলাদেশকে দেখে অত্যন্ত বিশ্বের মানুষ বলবে এই দেশটা অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’

মতবিনিময় সভায় মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে মুন্সীগঞ্জে আমরা অনেক গুলো সমস্যা দেখেছি। আমরা চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছি। আপনাদের যে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, রাস্তা ব্রিজ-কালভার্টসহ আমরা এমন একটি প্রকল্প তৈরি করতে পারি। যার মধ্য দিয়ে আমরা মুন্সীগঞ্জের সমস্যার সমাধান করবো।’

এরআগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ইসলামপুর এলাকার মোল্লারচর কাঠেরপুল পরিদর্শন ও পরে উত্তর ইসলামপুর কবরস্থানে চব্বিশেরর গণঅভ্যুত্থানে শহিদ রিয়াজুল ফরাজী, সজল মোল্লা ও নুর মোহাম্মদ ডিপজলের কবর জিয়ারত করেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় মোল্লারচর কাঠেরপুলের স্থানে একটি সেতু নির্মাণের আশ্বাসের পাশাপাশি এনিয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা  প্রদান করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে, শক্তিশালী হবে। উভয় পক্ষের দুই দেশের মর্যাদা রক্ষা করে,স্বার্থ রক্ষা করে চুক্তি সম্পন্ন হবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রম বাজার খুলে দেওয়ার বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে কথা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারের মাত্র তিন মাস সময় হয়েছে। এই তিন মাস সময়ের মধ্যে বহু কাজ সরকার শুরু করেছে। আপনারা দেখেছেন ফ্যামিলি কার্ড করেছে, কৃষক কার্ড করেছে। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সাথে দেশব্যাপী খাল কাটা কর্মসূচি শুরু করেছে।’

তিনি স্থানীয়দের দাবীর প্রেক্ষিতে বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জের কালীদাস নদীর উপর নির্মিত উত্তর ইসলামপুর-মোল্লারচর কাঠের পুলেরস্থলে সেতু নির্মাণ করা হবে।’

এদিকে, এরআগে এদিন সকাল ১০ টার দিকে জেলার গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাজারে দুইতলা বিশিষ্ট গ্রামীন বাজার ভবনের উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী। পরে তিনি উপজেলার কালীগাছ তলা গ্রামের দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রাক অফিস- ইমামপুর সড়কের প্রশস্তকরণ কাজের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন ও উপজেলার রসুলপুর খেয়াঘাট এলাকায় ফুলদী নদীর উপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ্, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফাহিমা নাসরিন, মাহমুদা হাবীবা, মমতাজ আলো ও সানজিদা ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম ইরাদত।

সুমন/রিফাত/

আগস্টে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
আগস্টে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আগামী আগস্ট মাসে টানা চার দিনের ছুটি ভোগের এক অনন্য সুযোগ তৈরি হতে যাচ্ছে। পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ঘোষিত সাধারণ ছুটির সঙ্গে বুদ্ধি খাটিয়ে মাত্র এক দিনের ঐচ্ছিক ছুটি সমন্বয় করতে পারলেই মিলবে টানা চার দিনের এই লম্বা ছুটি।  

সরকারি ছুটির ক্যালেন্ডার অনুযায়ী, চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ আগস্ট বুধবার এই উৎসবের সাধারণ ছুটি নির্ধারিত রয়েছে। এর সঙ্গে সপ্তাহান্তের দুই দিনের ছুটি মিলিয়ে মাঝখানের একদিনের ব্যবধানে এই দীর্ঘ অবকাশের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ২৬ আগস্ট বুধবার ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)-এর নির্ধারিত ছুটি। এরপর ২৮ আগস্ট শুক্রবার ও ২৯ আগস্ট শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে মাঝখানের ২৭ আগস্ট বৃহস্পতিবার কোনোভাবে ছুটি বা বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারলে টানা চার দিন কর্মস্থল থেকে দূরে থাকার সুযোগ পাবেন চাকরিজীবীরা।

সাধারণত ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ থাকে। তবে জনস্বার্থে জরুরি সেবার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।

রিফাত/

জিয়াউর রহমান জনগণের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৭:৪৬ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৮:১০ পিএম
জিয়াউর রহমান জনগণের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: খবরের কাগজ

শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাজনীতিতে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের বাক স্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

তিনি বলেন, ‘তার নেতৃত্বে দেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরে আসে এবং জনগণের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়।’
 
শনিবার (২০ জুন) দুপুরে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি) পরিবার আয়োজিত শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে তার জীবন, কর্ম ও আদর্শ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘রাজনৈতিক সংকটের সময় জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনি দেশ পুনর্গঠন, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেন।’
 
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল চেতনা ছিল গণতন্ত্র এবং সেই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে জিয়াউর রহমান বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন। মানুষের মত প্রকাশের অধিকার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করাই ছিল তার রাজনৈতিক দর্শনের অন্যতম ভিত্তি।’
 
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছে এবং জনগণই ভবিষ্যতে সরকারের কার্যক্রমের মূল্যায়ন করবে। তিনি রাজনৈতিক বিভাজন ও অনৈক্যের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান।’
 
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের চেতনাকে ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে দেশে আর কোনো ধরনের স্বৈরাচারী বা দমনমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’
 
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান। বিশেষ আলোচক ছিলেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম শহিদুল ইসলাম।
 
সভায় সভাপতিত্ব করেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল নাসির। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু। এ সময় টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আজগর আলীসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের বিভিন্ন নেতা-কর্মীরা বক্তব্য রাখেন।

জুয়েল রানা/রিফাত/

চট্টগ্রামে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান তৈরির আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:৪৩ পিএম
চট্টগ্রামে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান তৈরির আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।

তিনি বলেন, ‘দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীই সবচেয়ে বড় শক্তি এবং দক্ষতা ও সুযোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।’

শনিবার (২০ জুন) সকালে চট্টগ্রাম নগরের খুলশী কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ (চট্টগ্রাম)’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 

এ সময় তিনি চট্টগ্রাম অঞ্চলের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

‘মেধা ও বৈশ্বিক সুযোগের মিলনস্থল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত সামিটটির আয়োজন করে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অফ কন্ট্যাক্ট সেন্টার এন্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো), বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল (বিপিসি) এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তর। দিনব্যাপী এ আয়োজনের মধ্যে ছিল ক্যারিয়ার এক্সপো, সেমিনার, তথ্যপ্রযুক্তি অলিম্পিয়াড, নেটওয়ার্কিং কার্যক্রম এবং তরুণদের জন্য বিভিন্ন জ্ঞানভিত্তিক ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবদুল্লাহ আল মামুন, বাক্কো কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম এবং সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম। বক্তারা দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বক্তব্যে তানভীর ইব্রাহীম জানান, দেশের বিপিও ও আইটিইএস খাত বর্তমানে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে এবং এক লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাত থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার আয় এবং তিন লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে বাক্কো।

অন্যদিকে ফয়সল আলিম বলেন, ‘দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নই বিপিও ও আইটিইএস শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির মূল ভিত্তি। তিনি তরুণদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ সক্ষমতা এবং পেশাগত প্রস্তুতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।’

সামিটের বিভিন্ন সেমিনারে বক্তারা তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ফ্রিল্যান্সিং এবং বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীরা শিল্পখাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কাছ থেকে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা পাওয়ার সুযোগ পান।

রিফাত/

‘বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার’

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম
‘বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে গুরুত্ব দিয়েছে সরকার’
ছবি: খবরের কাগজ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার মোগড়া উচ্চবিদ্যালয়ে একটি আধুনিক বিজ্ঞানাগার (সায়েন্স ল্যাব) উদ্বোধন করা হয়েছে। রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে স্থাপিত এ বিজ্ঞানাগার শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ও ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

শনিবার (২০ জুন) দুপুরে  বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজ্ঞানাগারটির উদ্বোধন করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য এবং অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুশফিকুর রহমান বলেন, “এবারের বাজেটে সরকার শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষায় দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। এ জন্য সবাইকে আধুনিক জ্ঞান অর্জনে মনোযোগী হতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আধুনিক বিজ্ঞানাগার প্রতিষ্ঠার ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে। পাশাপাশি তারা প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও গবেষণামূলক কার্যক্রমের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. নিহার উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন রহমান ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন ও সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের বড় মেয়ে মেহভীন রহমান।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আশফাক জামিল রহমান তাপস ও তারিক জামিল রহমান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ, আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম, বিএনপি নেতা আবুল মুনসুর মিশন, নাছির উদ্দিন হাজারী, মো. বিল্লাল খন্দকারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

জুটন বনিক/এসএন