ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর মাঠ প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদলের উদ্যোগ নেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
বৈঠকে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় নির্বাচনের প্রস্তুতি, আচরণবিধি বাস্তবায়ন, নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভোটকেন্দ্র সংস্কার, পর্যবেক্ষকের আগমন, প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও তথ্যব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়।
এ ব্যাপারে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা চাই নির্বাচন যেন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক হয়। এ জন্য প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা অপরিহার্য। কমিশন এখন থেকেই সব সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামী সপ্তাহেই মাঠ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হবে। তফসিল ঘোষণার পরই প্রশাসনিক কাঠামোতে কিছু পরিবর্তন আসবে, যাতে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালিত হয়।’
ইসি সচিব বলেন, ‘নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে বদলি নিয়ে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে। তফসিল ঘোষণার পর আমরাও সেভাবে জানাব। প্রাথমিকভাবে জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্ব প্রেক্ষিতে বদলির কাজ করছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর এ বিষয়ে কমিশন থেকে আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা যাবে।’
আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মাঠ প্রশাসনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর কাঠামোগত পরিবর্তন ও সমন্বয় নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্র মেরামত ও অন্যান্য প্রস্তুতির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘সভায় নির্বাচনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ভোটকেন্দ্র মেরামত, পার্বত্য এলাকায় হেলিপ্যাড নির্মাণ, ভোটের কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সরকারি প্রচারযন্ত্রে প্রচার, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা সহজ করা, ঋণখেলাপিদের চিহ্নিতকরণ এবং বিভিন্ন বাহিনীর সাশ্রয়ী বাজেট প্রণয়ন। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের সুষ্ঠু প্যানেল গঠন করা যাবে বলেও আমরা আশা করছি। আচরণবিধি প্রতিপালনে পর্যাপ্ত নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগ, পরীক্ষার সময় যাতে নির্বাচনের প্রভাব না পড়ে, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও মেডিকেল টিম গঠন নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’
আখতার আহমেদ আরও জানান, নির্বাচনের সময় মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও তথ্য সমন্বয় নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যৌথ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
ভোটিং অ্যাপ সম্পর্কে ইসি সচিব বলেন, ‘পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য ১৬ নভেম্বর একটি অ্যাপ উদ্বোধন করা হবে। এই অ্যাপের মাধ্যমে প্রবাসী ভোটার ও সরকারি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা সহজে ডাকযোগে ভোট দিতে পারবেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তিমূলক প্রচার ঠেকাতে কমিশন বিশেষ সেল গঠন করছে। এনটিএমসি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে, পাশাপাশি এখানেও একটি সেল থাকবে, যেন ভুল তথ্য বা বিভ্রান্তি না ছড়ায়। ভুল তথ্য বা অপপ্রচারের মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করা যাবে না।’
নির্বাচন ঘিরে মাঠপর্যায়ে সিভিল প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের বদলির বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘বদলি অবশ্যই হবে। মাঠ প্রশাসনের যেসব পরিবর্তন দরকার, তা তফসিল ঘোষণার পর কমিশনের তত্ত্বাবধানে হবে। এখন জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্ব কাঠামোয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। তফসিল ঘোষণার পর আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের জানাব কোন এলাকায় কীভাবে বদলি হবে।’
গণভোট ইস্যুতে আটটি রাজনৈতিক দলের দাবির বিষয়ে আখতার আহমেদ বলেন, ‘আমরা তাদের বক্তব্য শুনেছি। তারা নভেম্বরে গণভোট চান- এটা আমরা জানি। তবে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত সরকারের বিষয়, কমিশনের নয়। এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। নির্বাচনের সঙ্গে তিনটি মূল ধারা যুক্ত- রাজনৈতিক দল, ভোটার এবং নির্বাচন কমিশন। এই তিনটি ধারা পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। এর মানে এই নয় যে, কমিশন চাপের মধ্যে রয়েছে।’