ঢাকা ১০ আষাঢ় ১৪৩৩, বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
৪১ বছরেও থামেননি রোনালদো, ভাঙলেন মেসির রেকর্ড পর্তুগিজ কিংবদন্তিতে ছাড়িয়ে শীর্ষে রোনালদো রোনালদোর বিশ্বরেকর্ড, প্রথমার্ধে উজবেকিস্তানের জালে ৩ গোল পর্তুগালের গোল করেই ইতিহাস গড়লেন রোনালদো ফ্রান্স ম্যাচ নিয়ে ভাবছেন না হালান্ড তৃণমূল থেকে ফিরহাদ-অরূপসহ ৮ নেতা বহিষ্কার উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সিএফমোটো বাংলাদেশের নতুন শোরুম উদ্বোধন পর্তুগালের একাদশে ২ পরিবর্তন ব্লিং লেদার প্রোডাক্টস লিমিটেড ঘুরে দেখলেন রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি বিস্ফোরক সংকটে বন্ধ মধ্যপাড়া পাথরখনির উত্তোলন কার্যক্রম জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর হরমুজ প্রণালিতে রেকর্ড তেল রপ্তানির তথ্য দিলেন ট্রাম্প কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিশু নির্যাতন ও ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধন আলোচিত কৃষক কবির হোসেন আর নেই ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব কারা পাবেন হেদায়েতের এই পরম নিয়ামত? রেকর্ড তাপপ্রবাহে ফ্রান্সে ট্র্যাজেডি, পানিতে ডুবে ৪০ জনের মৃত্যু জাইমা রহমানের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণা, রিমান্ডে আইনজীবী বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিয়ে কড়া বক্তব্য দিলেন এমপি রেহানা রানু টিআর-কাবিটা প্রকল্পে অনিয়মের তদন্ত চলছে: ত্রাণমন্ত্রী এক অর্থবছরে প্রবাসী আয় ৩০.৩২ বিলিয়ন ডলার: প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী ফ্যান্টাসী কিংডম-খবরের কাগজ প্রতিদিনের অনলাইন কুইজ বিজয়ী ডিজিটাল নকল প্রতিরোধে কঠোর নজরদারির আহ্বান শিক্ষামন্ত্রীর শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সাত দশকের অগ্রগতির দাবি প্রশ্নবিদ্ধ: সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি ও সংসদ কক্ষের শৃঙ্খলা নিয়ে উদ্বেগ বিরোধীদলীয় নেতার পোশাক ছাড়া গোসল করলে ওজু থাকবে কি? গুজব ও বিচারাধীন ইস্যুতে সংসদের সময় নষ্ট না করার আহ্বান স্পিকারের

মোবাইল নিবন্ধন বিশ্বব্যাপী একটি আদর্শ চর্চা: ফয়েজ আহমদ

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:৫২ পিএম
আপডেট: ৩১ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:০৫ পিএম
মোবাইল নিবন্ধন বিশ্বব্যাপী একটি আদর্শ চর্চা: ফয়েজ আহমদ
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

বিদেশ থেকে আনা মোবাইল নিবন্ধনে গুরুত্বারোপ করে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, এ ধরনের নিবন্ধন বিশ্বব্যাপী একটি আদর্শ চর্চা।

শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘বিদেশ থেকে আনা মোবাইল অবশ্যই নিবন্ধিত হতে হবে এবং এটি সারাবিশ্বে একটি সাধারণ নিয়ম।’

তিনি লিখেছেন, এটি বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। এর মধ্যে রয়েছে ভুল সিম নিবন্ধন, ভুল এমএফএস নিবন্ধন, সিম সম্পর্কিত অপরাধ, মোবাইল অর্থায়ন সম্পর্কিত অপরাধ, অনলাইন জুয়া এবং প্রতারণা, অবৈধ ক্লোন করা মোবাইল সম্পর্কিত অপরাধ, পেটেন্ট এবং প্রযুক্তিগত রয়্যালটি পরিশোধ না করা, ভ্যাট এবং শুল্ক ফাঁকি দেওয়া, ভারত ও চীন থেকে মোবাইল অবৈধভাবে আমদানি প্রতিরোধ, লাগেজ পার্টি এবং সীমান্ত চোরাচালান প্রতিরোধ ও স্থানীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদন শিল্পের সুরক্ষার বিষয়।

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা বিদেশ থেকে মোবাইল যথাযথ নিয়ম মেনে আনবেন এবং সেই অনুযায়ী নিবন্ধন করবেন।’

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) দেশব্যাপী মোবাইল ব্যবহারকারীদের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদের হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছে। ওইদিন থেকে সরকার সব অবৈধ এবং ক্লোন করা ডিভাইসগুলোর জাতীয় মোবাইল নেটওয়ার্কে অ্যাক্সেস নিষিদ্ধ করবে।

ফয়েজ লিখেছেন, যদি আপনার (ব্যবহারকারীর) নামে নিবন্ধিত সিমটি এমন কোনো মোবাইলে ব্যবহার করা হয় যা ক্লোন করা হয়নি, তাহলে আপনাকে কখনোই কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না। এজন্য আপনার সিমটি নিজের নামে নিবন্ধিত রাখুন।

তিনি বলেন, ‘আপনার ব্যবহৃত সিমটি যদি আপনার নিজের নামে নিবন্ধিত হয়, তাহলে (হ্যান্ডসেটের) নিবন্ধন প্রক্রিয়া খুবই সহজ।’

তৈয়্যব বলেন, ‘আমরা ক্লোন করা, অবৈধভাবে আমদানি করা এবং চোরাচালান মোবাইল বন্ধ করব।’

তিনি বলেন, ‘প্রবাসীরা নিয়ম মেনে বিদেশ থেকে এক বা দু’টি মোবাইল বিনা শুল্কে আনতে পারবেন এবং সেই অনুযায়ী নিবন্ধন করতে পারবেন। এতে কোনো জটিলতা থাকবে না। দু’টির বেশি মোবাইলের জন্য এনবিআরের অধীনে পৃথক নিয়ম রয়েছে, যার জন্য ফি প্রয়োজন, এটি বিদ্যমান নিয়ম।’

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী পরামর্শ চেয়ে বলেছেন, সাধারণ নাগরিকদের জন্য নিবন্ধন, নিবন্ধন বাতিল এবং পুনঃনিবন্ধনের প্রক্রিয়াগুলো কীভাবে সহজ করা যায় সে সম্পর্কে যৌক্তিক পরামর্শ দিন।

১৬ ডিসেম্বর থেকে এনইআইআর চালু হচ্ছে, তাই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন ব্যবহারকারীদের সুবিধার্থে অনিবন্ধিত হ্যান্ডসেট অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কিছু প্রক্রিয়া চালু করেছে।

নতুন হ্যান্ডসেট কেনার আগে যা করবেন : যেকোনো উৎস থেকে খুচরা বিক্রয় কেন্দ্র, অনলাইন বিক্রয় কেন্দ্র, অথবা ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থেকে মোবাইল হ্যান্ডসেট কেনার আগে আপনাকে নীচে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে হ্যান্ডসেটের বৈধতা যাচাই করতে হবে এবং ক্রয়ের রসিদটি নিরাপদে রাখতে হবে।

হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে, এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে এনইআইআর সিস্টেমে নিবন্ধিত হবে।

ধাপ ১ : আপনার মোবাইল মেসেজ অপশনে যান এবং KYD <space> 15-msL¨vi IMEI  নম্বর টাইপ করুন।

উদাহরণস্বরূপ : KYD 123456789012345|

ধাপ ২ : বার্তাটি ১৬০০২ নম্বরে পাঠান।

ধাপ ৩ : হ্যান্ডসেটের বৈধতা সম্পর্কে আপনাকে একটি ফিরতি বার্তা পাঠানো হবে।

বিদেশ থেকে উপহার হিসেবে কেনা বা প্রাপ্ত মোবাইল হ্যান্ডসেটের নিবন্ধন প্রক্রিয়া :

বিদেশ থেকে বৈধভাবে কেনা বা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত হ্যান্ডসেট প্রাথমিকভাবে মোবাইল নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকবে। ব্যবহারকারীকে ৩০ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে জমা দেওয়ার জন্য একটি এসএমএস নির্দেশনা দেওয়া হবে। জমা দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের পর কেবল বৈধ হ্যান্ডসেটগুলো নিবন্ধিত হবে এবং নেটওয়ার্কে সক্রিয় থাকার অনুমতি দেওয়া হবে।

বিদেশ থেকে উপহার হিসেবে কেনা বা প্রাপ্ত মোবাইল হ্যান্ডসেট নিবন্ধনের পদ্ধতি নিম্নরূপ :

ধাপ ১: neir.btrc.gov.bd  লিঙ্কটিতে প্রবেশ করুন এবং আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।

ধাপ ২: পোর্টালের ‘বিশেষ নিবন্ধন’ বিভাগে যান এবং হ্যান্ডসেটের আইএমইআই নম্বর লিখুন।

ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় নথিপত্রের স্ক্যান কপি বা ছবি আপলোড করুন (যেমন ভিসা/ইমিগ্রেশন স্ট্যাম্প, ক্রয়ের রসিদ ইত্যাদি দেখানো পাসপোর্ট পৃষ্ঠা) এবং জমা দিন বোতাম টিপুন।

ধাপ ৪: হ্যান্ডসেটটি বৈধ হলে এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে। হ্যান্ডসেটটি অবৈধ হলে গ্রাহককে এসএমএস-এর মাধ্যমে অবহিত করা হবে এবং ডিভাইসটি নেটওয়ার্ক থেকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।

ইন্টারনেট অ্যাক্সেস নেই এমন ব্যবহারকারীদের জন্য বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের গ্রাহক সেবা কেন্দ্র এবং ইউএসএসডি কোড *১৬১৬১# এর মাধ্যমে যাচাইকরণ এবং নিবন্ধন সহায়তার ব্যবস্থা করেছে।

কর্মকর্তারা জানান, ১৬ ডিসেম্বরের আগে ব্যবহৃত সব হ্যান্ডসেট স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে এবং বিদ্যমান ব্যবহারকারীদের জন্য আলাদা কোনো প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না।

দেশের জন্য আরো নিরাপদ ডিজিটাল ইকোসিস্টেম নিশ্চিত করতে, জালিয়াতি, চুরি এবং সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে সহায়তার জন্য বিটিআরসি গ্রাহকদের শুধু যাচাইকৃত আইএমইআই নম্বরসহ হ্যান্ডসেট ব্যবহার করার জন্যও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

এর আগে বুধবার বিটিআরসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব ঘোষণা করেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জাতীয় সরঞ্জাম পরিচয় নিবন্ধন (এনইআইআর) পরিষেবা চালু হতে চলেছে।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অবসরপ্রাপ্ত) বলেন, এনইআইআর সিস্টেম চালু হলে মোবাইল হ্যান্ডসেট এবং সিম-সম্পর্কিত সমস্যাগুলো সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, বিদ্যমান টেলিকম নেটওয়ার্ক নীতিমালার আলোকে নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বর্তমানে দেশের ৩৮ শতাংশ মোবাইল ব্যবহারকারী ফিচার ফোন ব্যবহার করেন উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, স্মার্টফোনের ব্যবহার বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাজারে চুরি যাওয়া এবং সংস্কার করা হ্যান্ডসেটের উপস্থিতি মোবাইলের দাম বৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এনইআইআর সিস্টেম কার্যকর হওয়ার পর দেশের ১৮টি কোম্পানি যারা স্থানীয়ভাবে মোবাইল হ্যান্ডসেট তৈরি করে, তারা আরো প্রতিযোগিতামূলক দামে তাদের পণ্য বিক্রি করতে সক্ষম হবে।

এনইআইআর সিস্টেম চালু করার উদ্যোগ নেওয়ার জন্য বিটিআরসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মোবাইল ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের (এমআইওবি) সভাপতি জাকারিয়া শহীদ বলেন, স্থানীয় মোবাইল হ্যান্ডসেট নির্মাতারা ভবিষ্যতে কেবল অভ্যন্তরীণ চাহিদাই পূরণ করবে না, বরং বিদেশেও হ্যান্ডসেট রপ্তানি শুরু করবে।

এনইআইআর বাস্তবায়নে মোবাইল অপারেটরদের দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করে অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অফ বাংলাদেশের মহাসচিব লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অবসরপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ জুলফিকার বলেন, এনইআইআর সিস্টেম সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সব স্টেকহোল্ডারদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

রিফাত/

উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম
উপদেষ্টা জাহেদের ফেরা ছিল তার নিজের সিদ্ধান্ত: জয়সওয়াল
রণধীর জয়সওয়াল। ছবি: সংগৃহীত

দিল্লির বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানকে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে অবশেষে ব্যাখ্যা দিল ভারত।

 মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াদিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, তিনি নিজেই বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের ২৮তম বৈঠকে যোগ দিতে তিনি একটি সার্ক ভিসাসহ ব্যক্তিগত পাসপোর্টে এখানে এসেছিলেন। দিল্লি বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা তাকে কিছু জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলেন। তার সফরের উদ্দেশ্য যে একটি বহুপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেওয়া–সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে তিনি নিজের ইচ্ছায় ঢাকায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। 

গত ১৪ জুন দিল্লি বিমানবন্দরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে ২ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বসিয়ে রাখার পর তার ঢাকায় ফিরে আসার ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে রণধীর জয়সওয়াল এই ব্যাখ্যা দেন।

এসএন/

জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:০২ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
জলবায়ু অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
মঙ্গলবার দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি : পিএমও

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিপন্ন লাখ লাখ মানুষের জীবন রক্ষায় বিশ্বনেতাদের জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেছেন, এখন সময় এসেছে জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতিকে কাজে এবং অঙ্গীকারকে ফলাফলে পরিণত করার, যাতে বিশ্ব আত্মবিশ্বাসের সাথে ভবিষ্যৎকে আলিঙ্গন করতে পারে। আমরা আশা করি, কপ-৩১ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করবে এবং বাংলাদেশ তার ভূমিকা পালনে প্রস্তুত।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) দালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ১৭তম ‘অ্যানুয়াল মিটিং অব দ্য নিউ চ্যাম্পিয়ন্স’-এ ‘শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপে ক্লাইমেট লিডারশিপ’ শীর্ষক এক অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, জলবায়ু কার্যক্রম কোনো ব্যয় নয়, আমরা এটিকে সমৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং একটি যৌথ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি বিনিয়োগ হিসেবে দেখি। আমরা এখানে উপস্থিত সকলে মিলে একটি সবুজ, নিরাপদ, টেকসই এবং আরও ন্যায়সঙ্গত ভবিষ্যৎ গড়তে পারি।

তিনি বলেন, কোনো দেশ একা জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তুলতে পারে না। এর জন্য প্রয়োজন অংশীদারিত্ব, প্রযুক্তি, অর্থায়ন এবং যৌথ অঙ্গীকার। কপ-৩১ এবং কপ-৩২ এর দিকে তাকিয়ে আমরা তিনটি অগ্রাধিকারের ওপর জোর দিতে চাই। প্রথমত, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য সহজলভ্য ও অনুমানযোগ্য সহায়তাসহ ক্ষয়ক্ষতি তহবিলকে প্রতিশ্রুতি থেকে বাস্তবায়নে আনতে হবে।

দ্বিতীয়ত, জলবায়ু অর্থায়নকে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর জন্য আরও সহজলভ্য, সহজসাধ্য এবং চাহিদা-সাপেক্ষ হতে হবে। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগও ত্বরান্বিত হওয়া উচিত। এ লক্ষ্যে, আমাদের ‘সবুজ জলবায়ু তহবিল’ (জিসিএফ)-এর বৃহত্তর সংহতকরণ এবং কার্যকরীকরণ প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, প্রশমনের পাশাপাশি অভিযোজনও অপরিহার্য। বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য অভিযোজন কোনো নীতিগত বিকল্প নয়, এটি একটি অপরিহার্য বিষয়। ইউএনসিটিএডি’র মতে, ৩০০ বিলিয়ন ডলারের নতুন সম্মিলিত পরিমাণগত লক্ষ্যমাত্রা (এনসিকিউজি) উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রশমন ও অভিযোজনের প্রয়োজনীয়তা পূরণে অপর্যাপ্ত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা আজ এখানে শুধু জলবায়ু সংকটে একটি সম্মুখসারির রাষ্ট্র হিসেবেই নয়, বরং বৈশ্বিক সমাধানে আগ্রহী একটি জাতি হিসেবেও সমবেত হয়েছি। 

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে যেমনটি উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকার একটি অগ্রণী জলবায়ু-সহনশীল জাতি হিসেবে গড়ে উঠতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই উন্নয়ন এবং সবুজ প্রবৃদ্ধি এখন আমাদের জাতি গঠন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এটি এমন একটি বিষয় যা নিয়ে আমি  ব্যক্তিগতভাবে গভীরভাবে ভাবি এবং যার জন্য আমি সচেষ্ট থাকি। এটি জীবন, জীবিকা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করার বিষয়।

জলবায়ু সংক্রান্ত বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পানির প্রবাহ পুনরুদ্ধার, বন্যার ঝুঁকি হ্রাস এবং জলাভূমি পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে আমরা আগামী ৫ বছরে প্রায় ২০ হাজার  কিলোমিটার নদী ও খাল খনন করার পরিকল্পনা করেছি। আমরা পানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, কৃষিকে সহায়তা করতে এবং জলবায়ুগত অভিঘাত মোকাবিলার লক্ষ্যে আমাদের প্রধান নদীর উপর পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। আমরা একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে তিস্তা ব্যারেজকেও আধুনিকীকরণ করছি।

তিনি আরও বলেন, আমরা আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানো ও রক্ষণাবেক্ষণের অঙ্গীকার করেছি। স্কুল, সম্প্রদায় এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী একটি আন্দোলনের মাধ্যমে, যেমন ‘এক শিক্ষার্থী, এক গাছ কর্মসূচি’র মাধ্যমে, আমরা বনাঞ্চল সম্প্রসারণ করব, জীববৈচিত্র্য পুনরুদ্ধার করব, সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করব এবং তাপমাত্রা হ্রাস করব।

বাংলাদেশ সরকার বন, জলাভূমি, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল এবং ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় বাস্তুতন্ত্র রক্ষা করছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা গ্রামীণ এলাকায় বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য বিনিয়োগ করছি এবং পরিবেশবান্ধব নির্মাণ মান চালু করছি। একই সাথে, আমাদের সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌর, বায়ু, বর্জ্য থেকে শক্তি এবং অন্যান্য সমাধানের মাধ্যমে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বাংলাদেশের অন্তত ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, আমরা পাটজাত পণ্য এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনসহ পরিবেশবান্ধব পরিবহনের মতো সবুজ শিল্পকেও উৎসাহিত করি।  সবুজ বিনিয়োগ এবং কার্বন-ক্রেডিটের সুযোগ উন্মোচনের জন্য একটি জাতীয় কার্বন বাজার গড়ে তোলা হবে। বাংলাদেশ সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পুনর্ব্যবহার, জৈব সার উৎপাদন এবং চক্রাকার অর্থনীতি উদ্যোগের মাধ্যমে বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরিত করার পরিকল্পনাও করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা সবুজ উৎপাদন নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। এখন আমরা গর্বের সাথে বলতে পারি যে, বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি লিড প্রত্যয়িত কারখানার মধ্যে ৬৯ টিই বাংলাদেশের।

তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে নেতৃবৃন্দকে অবশ্যই তাদের মতপার্থক্য দূরে সরিয়ে রেখে লাখ লাখ মানুষের জন্য তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে, যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কপ-৩১ এর উচিত জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত কাঠামো কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) এবং প্যারিস চুক্তির লক্ষ্য ও চেতনাকে পুনঃনিশ্চিত করা। এ প্রসঙ্গে, বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপকে উৎসাহিত করতে, ঐকমত্য গড়ে তুলতে এবং সম্মিলিত পদক্ষেপকে অনুপ্রাণিত করার জন্য একটি মূল্যবান মঞ্চ।

নাঈম/

‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৩২ পিএম
‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপন
সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

জুয়া, অনলাইন জুয়া এবং অনলাইন বেটিংসহ সংশ্লিষ্ট সব ধরনের অনৈতিক ও অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলটিতে এসব অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৩তম দিনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জয়নুল আবেদীন।

বিলটি উত্থাপনের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এটি বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সংসদের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব দেন। পরে তিনি প্রস্তাব করেন, কমিটি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিলটি যাচাই-বাছাই শেষে সংসদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করবে। এ প্রস্তাব কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয় এবং বিলটি স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
স্থায়ী কমিটিতে পরীক্ষার পর প্রস্তাবিত বিলটি সংসদে প্রতিবেদন আকারে উপস্থাপন করা হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিলটির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, আধুনিক প্রযুক্তির প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে অনলাইন ও অফলাইন উভয় মাধ্যমেই জুয়ার বিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং আর্থসামাজিক ও মানসিক ক্ষতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিদ্যমান আইন হালনাগাদ করে নতুন কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

প্রস্তাবিত এই আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, বাজি, টোটালাইজেটর, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিংসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। পাশাপাশি অপরাধের ধরন অনুযায়ী অর্থদণ্ড, কারাদণ্ড এবং উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

এলিস/এসএন

আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম
আদব মানুষকে সম্মানিত করে, আদবহীনতা মর্যাদা নষ্ট করে: ছারছীনার পীর ছাহেব
ছবি: সংগৃহীত

আমীরে হিযবুল্লাহ ছারছীনা দরবার শরীফের পীর ছাহেব আলহাজ হজরত মওলানা শাহ্ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা. জি. আ.) বলেছেন- ইসলামে আদবের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। একজন মানুষের ঈমান, আমল ও চরিত্রের সৌন্দর্য প্রকাশ পায় তার আদব-আখলাকের মাধ্যমে। মানুষকে মানুষের মাঝে সম্মানিত করে তার সম্পদ নয়, তার বংশ নয়, বরং তার আদব ও চরিত্র। আদব এমন একটি গুণ, যা একজন মানুষকে সমাজে মর্যাদাবান করে তোলে। “আদব ছাড়া ইলম হলো ফলহীন বৃক্ষের মতো”। আমাদের প্রিয় নবী মুহাম্মাদ (সা.) ছিলেন আদব ও উত্তম চরিত্রের সর্বোত্তম নমুনা। তাঁর জীবন আমাদের জন্য আদবের সর্বোত্তম শিক্ষা।

পীর ছাহেব কেবলা আরও বলেন- আদবের প্রথম ধাপ হলো আল্লাহর সাথে আদব। এরপর পিতা-মাতার সাথে আদব। আজ অনেক সন্তান পিতা-মাতার কথা শুনতে চায় না। শিক্ষকদের সাথে আদব, আলেমদের সাথে আদব, প্রতিবেশীদের সাথে আদব বর্তমান যুগে আমরা অনেকেই শিক্ষিত হচ্ছি, কিন্তু আদব শিখছি না। ফলে সমাজে অশান্তি, পারিবারিক কলহ এবং পারস্পরিক বিদ্বেষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই আমাদের উচিত কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে নিজেদের চরিত্র গঠন করা। মনে রাখতে হবে, আদব মানুষকে সম্মানিত করে পক্ষান্তরে আদবহীনতা মানুষের মর্যাদা নষ্ট করে।

সোমবার (২২ জুন) মাগরিবের পর ছারছীনা দরবার শরীফ জামে মসজিদে হজরত পীর ছাহেব কেবলা পবিত্র হজব্রত পালন শেষে দেশে এসে ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত ছাত্রদের উদ্দেশ্যে নসিহত করতে গিয়ে একথা বলেন।

এসময় অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন- ছারছীনা দারুস্সুন্নাত জামেয়ায়ে ইসলামিয়া, ছারছীনা দারুসসুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারিয়া দীনিয়া ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার আসাতিজায়ে কেরামগণ।

এসএন/

বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম
বাংলাদেশের সঙ্গে ৫৮ দেশের বাণিজ্য ঘাটতি, শীর্ষে চীন ও ভারত: বাণিজ্যমন্ত্রী
সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিশ্বের ৫৮টি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে চীন ও ভারতের সঙ্গে, যা দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ভারসাম্যহীনতার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে সংসদ সদস্য সাবিকুন নাহারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ঘাটতি মূলত কয়েকটি প্রধান বাণিজ্য অংশীদারের মধ্যেই কেন্দ্রীভূত। শিল্প খাতে কাঁচামাল, জ্বালানি পণ্য এবং মূলধনী যন্ত্রপাতির ওপর উচ্চ আমদানি নির্ভরশীলতার কারণে এই ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, এককভাবে সবচেয়ে বেশি বাণিজ্য ঘাটতি চীনের সঙ্গে, যার পরিমাণ ১৭ দশমিক ৮৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। চীন থেকে ভারী যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক্স, শিল্প কাঁচামাল ও মূলধনী পণ্যের বিপুল আমদানির বিপরীতে বাংলাদেশ ওই অর্থবছরে দেশটিতে রপ্তানি করেছে মাত্র ৬৯৪ দশমিক ৪৯ মিলিয়ন ডলার।

দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে প্রতিবেশী ভারত। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার। তুলা, রাসায়নিক, খাদ্যপণ্য ও ভোগ্যপণ্যের বড় আকারের আমদানির কারণে এই ব্যবধান তৈরি হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ ভারতে রপ্তানি করেছে মাত্র ১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও উল্লেখযোগ্য ঘাটতি রয়েছে বাংলাদেশের। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে ৩ দশমিক ৫৯ বিলিয়ন ডলার, সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ২ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার এবং মালয়েশিয়ার সঙ্গে ২ দশমিক ০১ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে। ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডের সঙ্গেও যথাক্রমে ৭৯৯ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন ও ৭২৩ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ক্ষেত্রেও একই চিত্র দেখা যায়। কাতারের সঙ্গে ২ দশমিক ১১ বিলিয়ন ডলার, সৌদি আরবের সঙ্গে ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন ডলার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ১ দশমিক ১৯ বিলিয়ন ডলার এবং ওমানের সঙ্গে ২১৯ দশমিক ৬৬ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে।
পূর্ব এশিয়ার উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে তাইওয়ানের সঙ্গে ৮০৩ দশমিক ৯৮ মিলিয়ন ডলার, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে ৭৪০ দশমিক ০২ মিলিয়ন ডলার, জাপানের সঙ্গে ৪৮৯ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার এবং হংকংয়ের সঙ্গে ১৯৯ দশমিক ৩৫ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬৮১ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার। ইউরোপ ও ইউরেশিয়ার মধ্যে রাশিয়ার সঙ্গে ১ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে ৪১৪ দশমিক ৩৯ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি হয়েছে।

দক্ষিণ আমেরিকায় ব্রাজিলের সঙ্গে ২ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলার, আর্জেন্টিনার সঙ্গে ৭৬৩ দশমিক ১৩ মিলিয়ন ডলার এবং প্যারাগুয়ের সঙ্গে ৮৩ দশমিক ৭০ মিলিয়ন ডলারের ঘাটতি রেকর্ড করা হয়েছে।

আফ্রিকা অঞ্চলেও বাণিজ্য ঘাটতির বিস্তার রয়েছে। মরক্কো, বেনিন, ক্যামেরুন, মালি, বুর্কিনা ফাসো, মোজাম্বিক ও নাইজেরিয়ার সঙ্গে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা গেছে। পাশাপাশি ওশেনিয়া অঞ্চলে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ৩২০ দশমিক ১৯ মিলিয়ন ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২৯৭ দশমিক ৯৭ মিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, শিল্পায়ন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় আমদানিনির্ভরতার কারণেই এই বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য কৌশল ও রপ্তানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে কমিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।

এলিস/এসএন