ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মার্তিনেজকে ঘিরে নতুন শঙ্কা শাহবাগে ছাত্রশিবিরের বিরুদ্ধে ছাত্রদলের বিক্ষোভ নাটোরে ৭০ দরিদ্র রোগীর বিনামূল্যে ছানি অপারেশন চাকরি মেলায় সাড়া, রাজশাহীতে ৫০ শতাংশ প্রার্থীর তাৎক্ষণিক নিয়োগ ইনজুরিতে ছিটকে গেলেন মাইকেল অলিভার ‘ফেনীর সাংবাদিকতার ইতিহাসে উজ্জ্বল অধ্যায় ওছমান হারুন মাহমুদ দুলাল’ পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী গ্রিন ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা বিভাগে নবীনবরণ অনুষ্ঠিত মিসরকে কেন জার্সি পরিবর্তন করতে বলল ফিফা? রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস যে সম্পদ চোখের পলকে ধ্বংস হয়ে যায় রাজধানীতে প্রান্তিক গ্রামের ফুটবল উন্মাদনা, আর্জেন্টিনা–ব্রাজিল ম্যাচ একদিনে ৫ মরদেহ উদ্ধার, বরগুনায় চাঞ্চল্য ও উদ্বেগ দাউদকান্দিতে শিবির নেতার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান মুন্সীগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করায় আনন্দ মিছিল বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আগারগাঁওয়ে ‘রান ফর আর্থ’ আয়োজন সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবি ডা. শফিকুর রহমানের ভারতীয় সেনাবাহিনীর শীর্ষ পদে ধীরাজ শেঠ ‘তুই আসামি, চোখ নামিয়ে কথা বল’—ওসির বিরুদ্ধে নাঈম হাসানের অভিযোগ প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশ-বান্ধব পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ বিআইপির আলোচিত সিনেমার সিক্যুয়েল নিয়ে জয়া টেইলর সুইফটের নতুন রেকর্ড পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী
Nagad desktop

প্লট বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর সহজ করাসহ ৭ নির্দেশনা গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের

প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫, ০৯:৪৯ পিএম
প্লট বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর সহজ করাসহ ৭ নির্দেশনা গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়

আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটের ক্রয়, দান, হেবা, নামজারি, হস্তান্তর, আম-মোক্তার বা ঋণ অনুমতির ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণের প্রথা বাতিল করে ৭ দফা নির্দেশনা জারি করেছে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।

সোমবার (১০ নভেম্বর) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ড. মো. নুরুল আমিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ সব নির্দেশনা জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কর্তৃক উন্নয়নকৃত আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাট হস্তান্তর পরবর্তী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সেবা সহজ, লিজ গ্রহীতাদের দুর্ভোগ ও হয়রানি লাঘব এবং দুর্নীতি দূর করার লক্ষ্যে বিদ্যমান প্রথা ও পদ্ধতি নিম্নরূপে পরিবর্তন করা হলো।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কর্তৃক উন্নয়নকৃত ও বরাদ্দকৃত আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাট এর ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার, ক্রয়, দান বা হেবা সূত্রে নামজারি, হস্তান্তর (বিক্রয়, দান, হেবা বা বণ্টন) দলিল সম্পাদন বা বাতিল, আম-মোক্তার দলিল সম্পাদন বা বাতিল এবং ঋণ গ্রহণের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণের বিদ্যমান প্রথা বাতিল করা হলো।

এ প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ হতে উপর্যুক্ত কার্যক্রমের জন্য তফশিলে বর্ণিত আবাসিক প্লট ও ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণের প্রয়োজন হবে না। তবে লিজ দলিলের অন্যান্য শর্ত যেমন, কোনো প্লটের বিভাজন বা একাধিক প্লটের একত্রীকরণের মাধ্যমে প্লটের আয়তনের পরিবর্তন এবং প্লট বা ফ্ল্যাটের ব্যবহার শ্রেণির পরিবর্তন অর্থাৎ মাস্টার প্ল্যানের কোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি গ্রহণের বর্তমান পদ্ধতি বহাল থাকবে।

দলিল গ্রহীতাকে উন্নয়নকৃত ফ্ল্যাট বা ভবনসহ ভূমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের দুই শতাংশ হারে এবং শুধু প্লট বা ভূমি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দলিল মূল্যের তিন শতাংশ হারে অর্থ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন দলিল সম্পাদনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুকূলে জমা প্রদান করতে হবে।

এ ছাড়া, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক উন্নয়নকৃত প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে একই হারে ও পদ্ধতিতে মন্ত্রণালয়ের অনুকূলে (প্রাতিষ্ঠানিক কোড নম্বর: ১৩২০১০১১১৮৮২৭, অর্থনৈতিক কোড নম্বর: ১৪২২৩১২) নন-ট্যাক্স রেভিনিউ (এনটিআর) হিসেবে আদায় করা হবে।

লিজকৃত সম্পত্তির মালিকানা সম্পর্কিত বিরোধ পরিহার এবং মালিকানা রেকর্ড লিজদাতা প্রতিষ্ঠানে সংরক্ষণ ও হালনাগাদ রাখার লক্ষ্যে প্লট বা ফ্ল্যাট হস্তান্তরের ক্ষেত্রে দলিল সম্পাদনের পর অবিকল নকলের একটি কপি (সার্টিফাইড কপি) এবং নামজারির পর এ সম্পর্কিত রেকর্ডপত্র ক্রেতা বা ক্ষেত্রমত, দলিল গ্রহীতা কর্তৃক দলিল সম্পাদনের নব্বই দিনের মধ্যে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানে দাখিল করতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল করতে ব্যর্থ হলে দৈনিক পঞ্চাশ টাকা হারে সর্বোচ্চ দশ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আরোপ করা যাবে। হস্তান্তর দলিল বা নামজারি সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র লিজদাতা প্রতিষ্ঠানে দাখিলের ত্রিশ দিনের মধ্যে মালিকানা রেকর্ড হালনাগাদ করতে হবে।

হালনাগাদকৃত রেকর্ডপত্র রেজিস্ট্রার্ড ডাকের পাশাপাশি ই-মেইল বা ইলেক্ট্রনিক অন্য কোনো মাধ্যমে ক্রেতা বা ক্ষেত্রমত দলিল গ্রহীতাকে অবহিত ও প্রেরণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে তা পরিপালনে ব্যর্থ হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অথবা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কর্তব্য-কর্মে অবহেলার দায়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

লিজ দলিলের মেয়াদ শেষে (নিরানব্বই বছর পর) তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়নকৃত বলে গণ্য হবে এবং অনুচ্ছেদ (২) এ বর্ণিত হস্তান্তর ফি আদায়ও রহিত হয়ে যাবে। তবে লিজদাতা প্রতিষ্ঠানের পূর্বানুমতি ব্যতীত প্লটের বিভাজন বা একাধিক প্লটের একত্রীকরণ, প্লট বা ফ্ল্যাটের ব্যবহার শ্রেণির পরিবর্তনসহ মাস্টার প্ল্যানের কোনো পরিবর্তন করা যাবে না।

আবাসিক ব্যতীত অন্যান্য (প্রাতিষ্ঠানিক, বাণিজ্য ও শিল্প) প্লট, ফ্ল্যাট বা স্পেসের হস্তান্তর ও নামজারিসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে লিজদাতা কর্তৃপক্ষ হতে অনুমোদন গ্রহণের বিদ্যমান প্রথা বহাল থাকবে।

যে সব আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে এবং উক্ত বিরোধে সরকারের স্বার্থের সংশ্লেষ রয়েছে, যে সকল প্লট, ফ্ল্যাট বা বাড়ি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে পরিত্যক্ত সম্পত্তি হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে অথচ ১৯৮৮ সালের ২৮ মার্চের পরে পরিত্যক্ত সম্পত্তির তালিকা থেকে অবমুক্ত করা হয়নি এবং যে সকল আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাট ২০০৯ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ২০২৪ সালের জুলাই মেয়াদে বিশেষ বিবেচনায় বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত, সে সকল প্লট, ফ্ল্যাট বা বাড়ির ক্ষেত্রে লিজদাতা প্রতিষ্ঠান হতে অনুমোদন গ্রহণের বিদ্যমান প্রথা বহাল থাকবে।

এ অনুচ্ছেদের অধীন লিজদাতা প্রতিষ্ঠান হতে অনুমোদন পাওয়ার পর অনুচ্ছেদ (২) এ বর্ণিত পদ্ধতি ও হারে ক্রেতা বা ক্ষেত্রমত, দলিল গ্রহীতাকে প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে।

যে সব আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার, ক্রয়, দান বা হেবা সূত্রে নামজারি, হস্তান্তর (বিক্রয়, দান, হেবা বা বণ্টন) দলিল সম্পাদন বা বাতিল, আম-মোক্তার দলিল সম্পাদন বা বাতিল এবং ঋণ গ্রহণের অনুমতি প্রদানের ক্ষেত্রে লিজ দাতা প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন গ্রহণের প্রয়োজন হবে না, সে সব আবাসিক প্লট বা ফ্ল্যাটের তালিকা এ প্রজ্ঞাপনের অধীন, যথা শিগগিরই সম্ভব, তফশিল আকারে প্রকাশ করা হবে।

তবে প্রকাশিত তফশিলে পরবর্তীতে কোনো ভুল-ত্রুটি পরিলক্ষিত হলে তা সংশোধনের ক্ষমতা কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেন।

সুমন/

পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:৩০ পিএম
পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টায় পেকুয়া পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পরে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। 

ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

পরে জনতার উদ্দেশ্য তিনি বলেন,  ২৫ বছর পূর্বে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া পেকুয়া উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। আজ তারই দল বিএনপি সরকার ফের এই পৌরসভার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। এর মাধ্যমে একটি কথা বারবার প্রমাণিত হয় যে বিএনপির যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে তখন জনগণের জন্য কাজ করে দেশের কল্যাণে কাজ করে। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন,  ‘বিএনপি যখন রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকে না তখনও দেশের স্বার্থে মানুষের কল্যাণে কাজ করে। জনমানুষের কথা বলে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপির ক্ষমতায় থাকুক আর নাই থাকুক বিএনপির প্রধান বিষয় দেশ ও মানুষের স্বার্থ। আর এটিই বিএনপি একমাত্র লক্ষ্য ও প্রতিজ্ঞা।’ 

এই সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

রিফাত/

রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১০:১১ পিএম
রবিবার বিশ্ব রক্তদাতা দিবস
ছবি: এআই

নিরাপদ রক্ত নিশ্চিতকরণ, স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের উৎসাহ ও কৃতজ্ঞতা জানাতে প্রতিবছর ১৪ জুন সারা পৃথিবীতে পালিত হয় বিশ্ব রক্তদাতা দিবস। এটি আসলে স্বেচ্ছা রক্তদাতাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পাশাপাশি মানবিক সচেতনতা বৃদ্ধির এক বৈশ্বিক আন্দোলন। পৃথিবীর ছোট-বড় সব মহাদেশেই দিবসটি গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। সাধারণত থ্যালাসেমিয়া ছাড়াও রক্তস্বল্পতা, প্রসূতির রক্তক্ষরণ, অগ্নিদগ্ধ রোগী, বড় অপারেশন, দুর্ঘটনা ইত্যাদি নানা কারণে রক্তের প্রয়োজন হয়। রক্তের কোনো বিকল্প নেই। রক্তের প্রয়োজনে রক্তই দিতে হয়। দিবস উপলক্ষে নিরাপদ ও নিয়মিত রক্তদানের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন রক্তগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্বজুড়ে লাখো রোগীর মাঝে ছড়িয়ে যাক দাতার রক্তের মানবিক স্পর্শ- এমন প্রত্যাশা নিয়ে এবছর দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে- One Drop of Humanity. Give Blood. Save Lives. যার সরল বাংলা করলে দাঁড়ায়: 'প্রতি ফোঁটায় মানবতা, রক্ত দিন, জীবন বাঁচান' ।

দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছা রক্তদানের মানবিক আহ্বানকে সামনে রেখে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বিশ্বব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, হাসপাতাল, রক্তদান সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠানসমূহ রক্তদান ক্যাম্প, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে স্বেচ্ছা রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করে আসছে। বিশেষভাবে পরিচালিত হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ রক্ত সংগ্রহ কার্যক্রম, রয়েছে নতুন রক্তদাতা তৈরি এবং তরুণদের রক্তদানে সম্পৃক্তির উদ্যোগ। 

রক্তদানের জন্যে একজন দাতার ঐকান্তিক ইচ্ছাই যথেষ্ট। ধর্মীয়ভাবেও এ দান অত্যন্ত পূণ্যের কাজ। আর সামাজিক দায়িত্ব হিসেবে রক্তচাহিদা পূরণে সঙ্ঘবদ্ধ সচেতনতাকে সর্বত্র ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন। একটি জনগোষ্ঠীর অল্প কিছু অংশ সামর্থ্যবান মানুষ যদি নিয়মিত রক্তদান করেন তাহলেই রক্তের অভাবে কোনো মানুষের মৃত্যু হয় না। নিয়মিত ছোট্ট এই দান নতুন করে হাসি ফোটাতে পারে লাখো মানুষের জীবনে। আমাদের দেশে পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের উপর নির্ভরতা দিন দিন কমছে, স্বজনদের দানের পরিমাণও বেড়েছে। বাড়ছে তরুণ রক্তদাতা। 

বাংলাদেশে বছরে রক্তের চাহিদা আনুমানিক ১০ লক্ষাধিক ইউনিট। অথচ দেশের জনসংখ্যার তুলনায় রক্তের এ চাহিদা একেবারেই নগণ্য। তা হলেও এখনও আমরা স্বেচ্ছা রক্তদানে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারিনি। রক্তের প্রয়োজন মেটাতে যেহেতু কেবল রক্তই দিতে হয়; সেহেতু ব্যাপক জনসচেতনতার মাধ্যমে স্বেচ্ছা রক্তদাতা বৃদ্ধিই রক্তের এ চাহিদা মেটানো সম্ভব।

রক্তচাহিদা পূরণে আমাদের দেশে স্বেচ্ছাসেবী সঙ্ঘ কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন, সন্ধানী, বাঁধন, রেড ক্রিসেন্টসহ রয়েছে বিভিন্ন সংগঠন। এককভাবে রক্তদানের চেয়ে ব্লাড ল্যাবে গিয়ে রক্তদান করতে পারলে এক ইউনিট রক্তকে একাধিক উপাদানে ভাগ করে একাধিক রোগীকে সেবা দেয়া সম্ভব হয়। এ বিষয়ে আরো সচেতনতা বাড়াতে হবে। বিশেষ করে তরুণ রক্তদাতা তৈরি ও তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রক্তের চাহিদা পূরণের কাজটি সহজ হয়ে যাবে বলেই সংশ্লিষ্টরা আশা করেন।   

রক্তদানের উপকারিতা :
শারীরিক মানসিকভাবে আপাত সুস্থ ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী যেকোনো সক্ষম ব্যক্তি প্রতি চার মাস পরপর রক্ত দিতে পারেন। নিয়মিত রক্তদানে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোকের ঝুঁকি দ্বিগুণেরও বেশি কমে যায়। এমনকি আত্মিক-আধ্যাত্মিকভাবেও এর উপকার লাভ করেন দাতা। এছাড়া ক্ষতিকর কোলেস্টরেল কমাসহ তারুণ্য ধরে রাখে। সামাজিকভাবে পেশাদার রক্ত বিক্রেতাদের উপর নির্ভরশীলতা কমানো, রক্ত নিয়ে ব্যবসা কমানো, সমাজে ঘাতক রোগের বিস্তার কমানোসহ, সামাজিক সম্প্রীতির বন্ধন বৃদ্ধি করতেও রক্তদানের ভূমিকা রয়েছে। রক্তদানের মাধ্যমে বিনা খরচে চার মাস পরপর ৫টি স্ক্রিনিং টেস্ট করে নিজের সুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করা এবং অপার্থিব আনন্দের অনুভূতি উপভোগ করা যায়। 

ধর্মীয় দৃষ্টিভঙ্গিতে মহৎ সৎকর্ম :
সকল ধর্মেই মানব কল্যাণ একটি বড় এবাদত। রক্তদান উত্তম সৎকর্ম। স্রষ্টার সস্তুষ্টি অর্জনে এটি ভালো কাজের অন্যতম উদাহরণ। পবিত্র কোরআনের সূরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেছেন, ‘যখন কেউ নিরপরাধ ব্যক্তিকে হত্যা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করল। আর যখন কেউ কোনো মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করল।’ বাইবেলে বলা হয়েছে, সৎকাজ সম্পর্কে জানার পরও তা থেকে বিরত থাকা পাপ। (যাকোব ৪:১৭)। ঋগবেদে বলা হয়েছে, নিঃশর্ত দানের জন্যে রয়েছে চমৎকার পুরস্কার। তারা লাভ করে আশীর্বাদধন্য দীর্ঘজীবন ও অমরত্ব।

যারা রক্ত দিতে পারবেন না :
সাধারণত ৫ টিটিআই বাহক, থ্যালাসেমিয়ার রোগী, লিউকেমিয়ার রোগী, হাইপোপ্লাস্টিক এনিমিয়া, হিমোফিলিয়া, হৃদরোগ, স্নায়ুবিক রোগ, থাইরোটকসিকোসিস, এমফাইসেমা, ইনসুলিন নির্ভর (টাইপ-১) ডায়াবেটিস রোগীরা রক্তদান করতে পারবেন না। 

এক ব্যাগ রক্তে একাধিক সেবা:
রোগভেদে একেক রোগীর জন্যে রক্তের একেক উপাদান লাগে। রক্তদানের পরপরই উন্নত প্রযুক্তির মেশিনে রক্ত উপাদানগুলো যথাযথভাবে পৃথক করা গেলে এটি সম্ভব। এক্ষেত্রে রক্তদাতাকে সরাসরি ল্যাবে গিয়ে রক্তদান করতে হবে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মতো উন্নত ল্যাবে নিরাপদ ও দ্রুত সেবাদানের নিমিত্তে আধুনিক যন্ত্রপাতির সাহায্যে একব্যাগ রক্তকে ৮টি উপাদানে আলাদা করার ব্যবস্থা রয়েছে। যেমন- ১. প্লাটিলেট কনসেনট্রেট ২. ফ্রেশ প্লাজমা ৩. ফ্রেশ ফ্রোজেন প্লাজমা ৪. প্লাটিলেট রিচ প্লাজমা ৫. প্লাটিলেট পুওর প্লাজমা ৬. প্রোটিন সলিউশন ৭. রেড সেল কনসেনট্রেট এবং ৮. ক্রায়ো-প্রিসিপিটেট। তার মানে এক ব্যাগ রক্তকে উপাদানভেদে কয়েকজন রোগীকে দেয়া সম্ভব।   

রক্ত শুধু একটি জৈবিক উপাদান নয়। নিরাপদ রক্ত মানবিকতা, সমমর্মিতা ও মানুষের জীবন বাঁচানোর এক অনন্য প্রতীক। স্বেচ্ছা রক্তদানে মানবতার এই ছোঁয়া ছড়িয়ে পড়ুক বিশ্বময়। 

এসএন/

প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:০৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৯:১৮ পিএম
প্রলোভন দেখিয়ে ভোট আদায়কারীরা জনগণের বন্ধু নয়: তারেক রহমান
চকরিয়ায় জনসভায় বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান

টিকিটের প্রলোভন দেখিয়ে জনগণের ভোট নেওয়ার রাজনীতি আর সফল হবে না। যারা মানুষের কল্যাণের পরিবর্তে প্রলোভন ও বিভ্রান্তির রাজনীতি করে, তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না বলে বলছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) রাতে কক্সবাজারের চকরিয়ায় আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “তারা জনগণকে ঠকিয়ে ভোট নিতে চেয়েছিল। টিকিটের প্রলোভন দেখিয়ে তারা ভোট নিতে চেয়েছিল। তারা জনগণের বন্ধু না। দেশের মানুষ এখন অনেক সচেতন। তারা বুঝতে শিখেছে কে দেশের জন্য কাজ করে আর কে নিজেদের স্বার্থে রাজনীতি করে।”

তিনি বলেন, দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে সরকার পরিকল্পিতভাবে কাজ করছে। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যেই ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী বাজেটে ৪৫ লাখ পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হবে। এর মাধ্যমে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে সরকারি সহায়তা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

যোগাযোগ খাতের উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে পর্যটন, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে।

বাজেট নিয়ে সমালোচনাকারীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “যারা বাজেটের বিরোধিতা করছে, তারা বাংলাদেশের মানুষের বন্ধু হতে পারে না। এই বাজেট জনকল্যাণ ও উন্নয়নকে সামনে রেখে প্রণয়ন করা হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, উপজেলা পর্যায়ের ৩০ ও ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। বেকারত্ব দূরীকরণ, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্বল্পমূল্যে চিকিৎসাসেবা এবং শিল্পায়নের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।”

তারেকুর রহমান/এসএন

প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম
প্রযুক্তিদক্ষ তরুণরাই গড়বে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ: তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। ছবি: খবরের কাগজ

প্রযুক্তি খাতে দক্ষ তরুণরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার মূল কারিগর বলে মন্তব্য করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। 

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রোগ্রামিং ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই।’

শনিবার (১৩ জুন) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে ‘জাতীয় হাই স্কুল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর পুরস্কার বিতরণ ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণ প্রজন্মের প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, ‘বিশ্ব এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করেছে। এই প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আধুনিক প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী কৌশলের সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে হবে। আমাদের তরুণদের মেধা ও সৃজনশীলতা বাংলাদেশের প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।’

সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, ‘তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, কারিগরি ও ভাষাগত দক্ষতা উন্নয়ন, স্টার্টআপ সহায়তা এবং বৈশ্বিক ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মে তাদের যুক্ত করতে সরকার নিরলস কাজ করছে।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি উদ্ভাবন শুরু হয় একটি ছোট প্রশ্ন থেকে। ব্যর্থতাকে ভয় না পেয়ে নতুন কিছু করার সাহস অর্জন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা বলেন, ‘আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও বাংলাদেশের তরুণরা প্রোগ্রামিং, রোবটিক্স ও সাইবার সিকিউরিটিতে সাফল্যের স্বাক্ষর রাখছে। তাদের উদ্ভাবনী শক্তিকে বিকশিত করতে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের (বিসিসি) বাস্তবায়নে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় এ বছর কুইজ ও প্রোগ্রামিং মিলিয়ে ১৭ হাজার ৮৩৯ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। এর মধ্যে আঞ্চলিক ধাপ পেরিয়ে ৮৩২ জন জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয়। বিজয়ী প্রতিযোগীদের হাতে ল্যাপটপ, ট্যাবলেট ও স্মার্টফোনসহ বিভিন্ন পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। একই অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি অলিম্পিয়াড ২০২৬’-এর বিজয়ীদেরও পুরস্কৃত করা হয়।

বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক এ টি এম জিয়াউল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আইসিটি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আনোয়ার উদ্দিন, জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির মহাপরিচালক ড. মো. তৈয়বুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন। 

জয়ন্ত সাহা/রিফাত/

সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম
সোনারগাঁওয়ে উচ্চশিক্ষার নতুন দিগন্ত, বিশ্ববিদ্যালয় ও পলিটেকনিক হবে: শিক্ষামন্ত্রী
সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের উদ্বোধনে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: খবরের কাগজ

দেশের শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সোনারগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও শিক্ষানীতির আলোকে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত সরকার শিক্ষকদের কল্যাণ ট্রাস্ট ও উৎসব ভাতার প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশের লক্ষ্যে নবনির্মিত ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি জ্ঞানভিত্তিক ও শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। শিক্ষার্থীদের সেশনজটমুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এসএসসি পরীক্ষা এগিয়ে আনা হয়েছে। সিলেবাস শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার সঙ্গে সমন্বয় করে ১৮ বছরের মধ্যেই উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা হবে।

তিনি জানান, ২০২৭ সালে পাঠ্যপুস্তক পরিমার্জন এবং ২০২৮ সালে জাতীয় শিক্ষাক্রমে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হবে। বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আধুনিক ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হবে।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শতবর্ষী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয়করণের জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। আগামী জুলাই থেকে সারাদেশে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষা শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; শিক্ষাকে আনন্দময় ও সৃজনশীল করতে খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সোনারগাঁওয়ের শিক্ষা অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বন্দরে স্থাপনের পরিকল্পনা থাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এখন সোনারগাঁওয়ে নির্মিত হবে। এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান সোনারগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার জন্য ১০০ বিঘা জমি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। শিক্ষানীতির আলোকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, নতুন শিক্ষাবর্ষে পাঠ্যবই বিতরণে আর কোনো বিলম্ব হবে না। পরীক্ষা শেষে ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের হাতে সব বই পৌঁছে দেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষকদের পাঠদান কার্যক্রম সরাসরি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হবে।

সোনারগাঁও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এমপি, জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী এবং জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম।

এ ছাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাজী মো. মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম, যুগ্ম আহ্বায়ক কাউসার আহমেদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, ফিতা কাটা ও দোয়ার মাধ্যমে ‘বিশ্বেশ্বর পোদ্দার’ ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতিভা প্রদর্শনী উপস্থিত অতিথি ও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

মো: ইমরান হোসেন/এসএন