জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণকে কেন্দ্র করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের 'লকডাউন কর্মসূচি' ঘোষণা এবং সড়কে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ঢাকসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তা। এছাড়া দুরপাল্লা ও রাজধানীতেও গণপরিবহন চলাচল খুবই সীমিত। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তা অবরোধ, হামলা ও বাসে আগুন দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে পাওয়া খবর ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এসব তথ্য জানা গেছে।
দেখা গেছে, হাইকোর্ট মাজার–সংলগ্ন ট্রাইব্যুনালের ফটকে বিজিবি, পুলিশ, ও এপিবিএন সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। একইসঙ্গে সেখানে রয়েছে সেনাবাহিনীর টহল দল। এ ছাড়া ঢাকার বাইরেও বাড়ানো হয়েছে নিরাপত্তাব্যবস্থা। সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এর আগে গভীর রাতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে আগুন, গজারিয়ায় থেমে থাকা ট্রাকে আগুন, গোপালগঞ্জে গণপূর্ত অফিসে পেট্রলবোমা নিক্ষেপ, ধোলাইপাড়ে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সকালে ভাঙ্গায় মহাসড়ক অবরোধ করেছে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা।
ডিএমপি জানিয়েছে, রায় ও রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় প্রায় ১৭ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট।
এদিকে গাড়ি রাস্তায় নামিয়ে যদি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়, ছোট মালিকরা নিঃস্ব হয়ে যাবে। যাত্রী থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে এই আশংকায় গাড়ি নিয়ে বের হচ্ছেন না অনেক চালক।
সকাল থেকে সায়েদাবাদ টার্মিনাল থেকে সীমিত পরিসরে দূরপাল্লার বাস চলাচল করছে। আতঙ্কে সড়কে বাস নামাননি অনেক পরিবহন মালিক। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
মেট্রোরেল চলাচলও স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড ডিএমটিসিএল-এর কর্মকর্তারা।
ঢাকা রেল স্টেশনের কমান্ড্যান্ট (রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী প্রধান) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে সবগুলো আন্তনগর ও মেইল ট্রেন শিডিউল অনুযায়ী ছেড়ে গেছে। যাত্রীও ছিল অনেক। রাজধানীর রেলস্টেশনগুলোতে যাত্রী ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। প্রতিটি স্টেশনে অতিরিক্ত আরএনবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা নিয়মিত টহল ও চেকিং কার্যক্রম চালাচ্ছেন।
টঙ্গীর বাসিন্দা ইমরান শিকদার জানান, সকাল ৮টায় টঙ্গী কলেজ গেট এলাকা থেকে রওনা হয়ে তিনি ফার্মগেট এসেছেন। বাসের সংখ্যা কম। তবে রাস্তায় কোনো দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি।
সকাল ৭টায় রওনা হয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে এসেছেন গবেষক স্বাতী সাহা। তিনি বলেন, রাস্তায় বাস কম। কিন্তু সাভার এলাকায় অনেক যাত্রী। তারা ঢাকার নানা প্রান্তে আসবেন। আমি বৈশাখী পরিবহনের বাসে এসেছি। বাস কানায় কানায় ভর্তি ছিল। দাঁড়ানোরও জো ছিল না অনেক যাত্রীর।
মেহেদী/