আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে দ্বিতীয় দফায় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সম্মেলন কক্ষে শুরু হওয়া এই বৈঠকে অংশ নিচ্ছে দেশের প্রায় সব নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানরা।
প্রধান নির্বাচনি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বৈঠকে উপস্থিত আছেন- আনসার-ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ, ডিজিএফআই মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম, বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান, এসবির অতিরিক্ত আইজিপি মো. গোলাম রসুল, সিআইডির অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ছিবগাত উল্ল্যাহ, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খন্দকার মো. মাহাবুবুর রহমান।
এ ছাড়া সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, এনএসআই, কোস্টগার্ড এবং এনটিএমসির প্রতিনিধিরাও বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন। নির্বাচনের নিরাপত্তা কাঠামো নির্ধারণে সব সংস্থাকে একই টেবিলে এনে ইসি এবার সমন্বিত আলোচনা করছে।
বিষয় বেড়েছে, গুরুত্বও দ্বিগুণ
এর আগে গত ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত প্রথম বৈঠকে ১৩টি ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে নতুন বাস্তবতা, নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকি দেখা দেওয়ায় এবার অতিরিক্ত ১০টি নতুন ইস্যু যুক্ত করা হয়েছে। ফলে মোট ২৩টি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চলছে।
নির্বাচন নিরাপদ রাখতে ২৩ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু
বৈঠকে আলোচনায় থাকা বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও বৈধ অস্ত্র প্রদর্শন নিষিদ্ধ করা, মনোনয়ন দাখিল থেকে প্রতীক বরাদ্দ পর্যন্ত রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সুরক্ষা, দেশব্যাপী পোস্টার, ব্যানার, তোরণ অপসারণের অগ্রগতি, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মূল্যায়ন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিতের পরিকল্পনা, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা, ভোটকেন্দ্র ও নির্বাচনি এলাকা সুরক্ষায় কর্মপরিকল্পনা, গোটা দেশে সব সংস্থার কার্যক্রমে সমন্বয়সাধন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নির্বাচনি দ্রব্যাদি পরিবহন ও সংরক্ষণে নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পার্বত্য ও দুর্গম এলাকায় হেলিকপ্টার সহায়তা, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও মনিটরিং ব্যবস্থাপনা, ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত, সাইবার ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া খবর মোকাবিলার কৌশল, পোস্টাল ভোটিং (OCV-ICPV) নিরাপত্তা ও বাজেট সংক্রান্ত বিস্তারিত পর্যালোচনা। এই ২৩টি ইস্যু মূলত পুরো নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে নিরাপদ, স্বচ্ছ এবং সমন্বিত রাখতে প্রয়োজনীয় সব দিককে অন্তর্ভুক্ত করছে।
তফসিল ঘোষণার আগে বড় সিদ্ধান্ত
কমিশন সূত্র জানায়, আলোচনার ফলাফলের ওপর নির্ভর করেই ভোটের তফসিল ও ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মাঠপর্যায়ের তথ্য, গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও লজিস্টিক প্রস্তুতি যাচাই করেই নির্বাচনের মূল সময়সূচি ঘোষণা করার পরিকল্পনা আছে ইসির।
নির্বাচনের পথে ‘গুরুত্বপূর্ণ ধাপ’
নির্বাচনী নিরাপত্তা সবসময়ই ইসির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ। এবার একাধিক দলের অংশগ্রহণ, বৃহৎ ভোটার উপস্থিতির প্রত্যাশা এবং গণভোটের সম্ভাবনা- সব মিলিয়ে নিরাপত্তা প্রশ্নটি আরও গুরুত্ব পেয়েছে। সে কারণে সবাইকে একসঙ্গে বসিয়ে ইসি সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে কোন এলাকায় কত বাহিনী থাকবে, কোথায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন প্রয়োজন, কোন কেন্দ্রগুলো অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং কীভাবে সাইবার হুমকি মোকাবিলা করা হবে।
বৈঠক শেষ হলে নির্বাচন কমিশন আজ বা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সংস্থাগুলোর মতামতের ভিত্তিতে সমন্বিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এলিস/সুমন/