টেকসই কৃষি উন্নয়ন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্বন ট্রেডিং কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেই সম্ভাবনা খুঁজছে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার-এসএসি।
সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের (এসএসি) আয়োজনে তিন দিনব্যাপী একটি আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে আজ সোমবার। ভার্চুয়াল মাধ্যমে আয়োজিত এই কর্মসূচির প্রথম দিনে দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে কার্বন ট্রেডিংয়ের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে চলছে আলোচনা।
‘দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি খাতে কার্বন ট্রেডিংয়ের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য দেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।
প্রশিক্ষণের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ভারতের ভারাহা প্রতিষ্ঠানের লিড পার্টনারশিপ অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অ্যালায়েন্স কৌশল বিস্ত। দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি খাতে কার্বন ট্রেডিংয়ের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে তার উপস্থাপনায় তিনি স্বেচ্ছাসেবী ও বাধ্যতামূলক বৈশ্বিক কার্বন বাজারের প্রবণতা এবং ক্ষুদ্র কৃষিভিত্তিক ব্যবস্থার সঙ্গে এর প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘উন্নত মাটি ব্যবস্থাপনা, কৃষি-বনায়ন (অ্যাগ্রোফরেস্ট্রি) এবং কৃষিখাতে মিথেন নিঃসরণ হ্রাসের মতো উদ্যোগ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কার্বন ক্রেডিট অর্জনের সম্ভাবনা রয়েছে।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বার্ক) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. আব্দুস সালাম। তিনি কৃষি খাতে কার্বন হিসাব নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য তৈরিতে শক্তিশালী গবেষণা সহায়তার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন।
একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কার্বন ট্রেডিং যেন খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়ে কৃষকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করে—এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।’
বাস্তবসম্মত ও ন্যায্য উদ্যোগ গ্রহণে প্রমাণভিত্তিক নীতি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অধিবেশনে স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মো. হারুনুর রশিদ। তিনি দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি খাত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্রমেই বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ছে উল্লেখ করে কৃষকদের সহায়তায় উদ্ভাবনী আর্থিক ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
তিনি বলেন, ‘সঠিকভাবে পরিকল্পিত হলে কার্বন ট্রেডিং জলবায়ু-স্মার্ট কৃষি কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে পারে এবং একই সঙ্গে গ্রামীণ জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।’ এক্ষেত্রে ন্যায্য প্রবেশাধিকার ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য সার্ক কাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্বও তুলে ধরেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমাদ তরফদার আঞ্চলিক পর্যায়ে নীতিগত সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সরকার ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সংলাপ সহজতর করতে সার্কের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য ও সামগ্রিক কাঠামো তুলে ধরেন সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (এনআরএম) ও প্রশিক্ষণ সমন্বয়ক ড. রাজা উল্লাহ খান। তিনি বলেন, সঠিকভাবে পরিচালিত হলে কৃষি খাত দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। কৃষি শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী নয়, বরং কার্বন শোষণ ও নিঃসরণ হ্রাসের মাধ্যমে সমাধানের অংশ হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারে।
জয়ন্ত/মাহফুজ