পাকিস্তান ও বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর প্রধানগণ জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সম্ভাব্যভাবে ক্রয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন বলে মঙ্গলবার জানিয়েছে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ দপ্তর (আইএসপিআর)।
চীন ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত বহুমুখী যুদ্ধবিমান জেএফ-১৭ থান্ডার ২০১৯ ও ২০২৫ সালে ভারতের সঙ্গে দুটি সামরিক সংঘাতে নিজেদের যুদ্ধক্ষমতা প্রমাণ করেছে।
পাকিস্তানের আইএসপিআরের জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান ইসলামাবাদে পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল জহির আহমেদ বাবর সিধুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, সফরকালে বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিরক্ষা প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন।
আইএসপিআর জানায়, “বৈঠকে অপারেশনাল সহযোগিতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশ ও বিমান প্রযুক্তিতে সহযোগিতার বিষয়টি আলোচনায় আসে।”
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সফররত বিমানবাহিনী প্রধানকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
পাকিস্তানের এয়ার চিফ মার্শাল সিধু তার বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর সাম্প্রতিক অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করেন এবং মৌলিক থেকে শুরু করে উন্নত উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ ও বিভিন্ন বিশেষায়িত কোর্সসহ পাকিস্তান বিমান বাহিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ কাঠামোর আওতায় সহায়তার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
তিনি পাকিস্তানের নিজস্ব সুপার মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমানও বাংলাদেশকে দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস দেন এবং এর পাশাপাশি একটি পূর্ণাঙ্গ প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা কাঠামো নিশ্চিত করার কথাও বলেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বাংলাদেশের বিমানবাহিনী প্রধান পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর যুদ্ধ-রেকর্ডের প্রশংসা করেন এবং তাদের অপারেশনাল অভিজ্ঞতা থেকে উপকৃত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর পুরোনো বিমান বহরের রক্ষণাবেক্ষণে সহায়তা এবং আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার ব্যবস্থার সংযুক্তির মাধ্যমে আকাশ নজরদারি সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও সহায়তা কামনা করেন।”
আইএসপিআর জানায়, “জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান সম্ভাব্যভাবে ক্রয়ের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।” সফরকালে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল পিএএফের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থাপনাও পরিদর্শন করে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, “এই সফর পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিকভাবে দৃঢ় সম্পর্কের প্রতিফলন এবং প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও গভীর করা ও দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব গড়ে তোলার যৌথ অঙ্গীকারকে তুলে ধরে।” সূত্র: ডন
মাহফুজ/