প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের মাধ্যমে সর্বজনীন হেলথ কভারেজের পথ প্রশস্ত করতে হবে বলে জানিয়েছেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জিত হলেও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (পিএইচসি) সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের জন্য আরও অব্যাহত অ্যাডভোকেসি এবং সংশোধন প্রয়োজন।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাজধানীর সিরডাপ অডিটোরিয়ামে “ড্রাফট প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (পিএইচসি) আইন পর্যালোচনা” শীর্ষক একটি উচ্চ-স্তরের নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
সংলাপটি যৌথভাবে আয়োজন করে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং ইউএইচসি ফোরাম।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা স্বাস্থ্য সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করেছেন। তাছাড়া, শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি, প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ এবং আসন্ন নির্বাচনি আদেশে স্বাস্থ্য সংস্কারের অগ্রাধিকারের অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা জানান, আইন এবং বিধি অপরিহার্য হলেও তাদের প্রভাব নির্ভর করবে কঠোর বাস্তবায়ন, প্রতিষ্ঠানের মালিকানা এবং স্থিতিশীল রাজনৈতিক ইচ্ছার ওপর। অর্থায়ন এবং মানবসম্পদ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল এক সঙ্গে পর্যালোচনা হওয়া উপাদান হিসেবে, একক সমস্যা হিসেবে নয়।
সংলাপে শহরে স্বাস্থ্যব্যবস্থায় বাজেট ব্যবহারে ব্যর্থতার উদ্বেগ এবং গ্রামীণ এবং শহুরে পিএইচসি পরিকল্পনার মধ্যে একটি সামগ্রিক অর্থায়ন কাঠামোর অভাব তুলে ধরা হয়, যা বাংলাদেশ রোড টু ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ (ইউএইচসি) - নতুন সংলাপ সিরিজ ২০২৬ এর অংশ।
এই নতুন সিরিজের প্রথম সংলাপে পিএইচসি সংস্কারের পক্ষে সক্রিয়তা বাড়ানোর এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক ইউএইচসি প্রতিশ্রুতির দিকে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে পরিকল্পিত।
সংলাপে সিনিয়র স্বাস্থ্য পেশাজীবী, নীতি বিশেষজ্ঞ, গবেষক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা একত্রিত হন এবং বর্তমানে বিবেচনাধীন ড্রাফট প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আইনের পর্যালোচনা করেন।
কীভাবে প্রস্তাবিত আইন প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা (পিএইচসি) প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে পারে এবং এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের প্রধান নীতি এবং ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ অর্জনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হয়।
অংশগ্রহণকারীরা স্বীকার করেন যে, ড্রাফট পিএইচসি আইন দেশের স্বাস্থ্য সংস্কারের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ভিত্তি হিসেবে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পুনঃকেন্দ্রীভূত করার ভূমিকা নিশ্চিত করে।
বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, যদিও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা যায়, তবে এটি আরও কার্যকরীভাবে বাস্তবায়নের জন্য নিয়মিত অ্যাডভোকেসি এবং সংশোধনের প্রয়োজন, যেখানে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের জন্য সংবিধানিকভাবে বাধ্যতামূলক কোনো নির্দেশনা নেই।
পিএইচসি এর জন্য শক্তিশালী আইনি এবং সংবিধানিক ভিত্তি প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে। বিশেষ করে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি এবং সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোল (এসডিজি) পূরণের জন্য বাকি সময়সীমা সামনে রেখে।
অনুষ্ঠানের মূল আলোচনা ছিল বিকেন্দ্রীকরণ এবং সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন।
অংশগ্রহণকারীরা বলেন, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হবে না, যদি না পরিষ্কারভাবে প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়, যথাযথ বিকেন্দ্রীকরণ ঘটে এবং গ্রামীণ ও শহুরে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় তৈরি করা না হয়, যা বর্তমানে আলাদা আলাদা ব্যবস্থায় চলে।
সংলাপে শাসনব্যবস্থার ফাঁক, প্রশাসনিক অবহেলা এবং বিদ্যমান স্বাস্থ্য আইন এবং সংস্কার কমিশনের সুপারিশের সাথে সঙ্গতিপূর্ণতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
সাগুফতা/অমিয়/