ঢাকা ৮ আষাঢ় ১৪৩৩, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পেনাল্টি মিস করলেন মেসি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন জার্মান ডিফেন্ডার পরবর্তী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সেনা মোতায়েন সাঁথিয়ায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত গ্রেপ্তার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার একাদশে পরিবর্তন মানিকগঞ্জে মারিয়া হত্যা মামলায় প্রধান শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৮ গাজীপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ.লীগের ৩৪ নেতাকর্মী আটক সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে আসল র‍্যাবের হাতে নকল র‍্যাব সদস্য গ্রেপ্তার সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত সুরে সুরে শেষ হলো বিশ্ব সংগীত দিবসের বর্ণিল আয়োজন টাইব্রেকারে জামালপুরকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন মাগুরা প্রকৃত মুমিন নিজেকে কীভাবে সামলে নেয়? সহিংসতা এড়াতে গোপালগঞ্জেও পৌঁছেছে সেনাবাহিনী ‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’ রাম মূর্তি নির্মাণ ও হিন্দুত্ববাদী তৎপরতার প্রতিবাদে ইসলামপুরে বিক্ষোভ মিছিল নাশকতা ঠেকাতে গাজীপুরেও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ চবি ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন ফরিদপুরে আ. লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে সেনাবাহিনী মোতায়েন শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে মাত্র ৫ দিনে মিলল প্রায় ১৮ লাখ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার ঈশ্বরদীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা আলিয়ার শুটিংয়ে একজনের মৃত্যু ফুলবাড়ীতে বাংলা মদের কারখানায় পুলিশের অভিযান সমুদ্রে জ্বালানিসম্পদ নিশ্চিত, উত্তোলনে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: নৌপরিবহনমন্ত্রী আরমান-মুক্তির মনোনয়নপত্র জমা দিলেন বাপ্পারাজ ডিভোর্স হতে পারে স্বামী-স্ত্রীর, প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে নয়: এমপি সিরাজ

আচরণবিধি লঙ্ঘন চলছেই, বিধিভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সীমিত

প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০০ এএম
আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৪৪ এএম
আচরণবিধি লঙ্ঘন চলছেই, বিধিভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা সীমিত
ছবি: খবরের কাগজ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রার্থীদের নির্বাচনি প্রচারের উত্তাপ। একই সঙ্গে বাড়ছে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা। আবার থেমে নেই নির্বাচন বিধিভঙ্গের কারণে কমিশনের শোকজ-জরিমানা। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীদের সশরীরে এসে শুনানিতে জবাবাদিহি করতে হচ্ছে। তবে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘যখন যে প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাচ্ছি, সঙ্গে সঙ্গে তাকে জবাবদিহির মধ্যে আনা হচ্ছে। 

নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের সব ধরনের প্রচারপত্র সাদা-কালো করার কথা থাকলেও আইন উপেক্ষা করে রঙিন ব্যানার, পোস্টার ও লিফলেটে ছেয়ে যাচ্ছে শহর থেকে গ্রাম। সরকারি স্থাপনা, বিদ্যুতের খুঁটি, এমনকি ধর্মীয় উপাসনালয়ও বাদ পড়ছে না। আইন ভাঙার এই প্রকাশ্য প্রতিযোগিতার মাঝেই প্রশ্ন উঠছে–নির্বাচন কমিশন (ইসি) কী আদৌ আচরণবিধি কার্যকরে কঠোর ভূমিকা রাখতে পারছে? নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী পোস্টার ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং ব্যানার-ফেস্টুনে শুধু সাদা-কালো রং ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। 

ব্যুরো, নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর–

চট্টগ্রাম
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সরেজমিন দেখা যায়, চট্টগ্রাম টেক্সটাইল এলাকায় বায়েজিদ সড়কের পাশে ঝুলছে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের রঙিন ব্যানার। এ ব্যানারে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার কথা বলা আছে। একই এলাকায় বিপরীত পাশে রয়েছে চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনের বিএনপি প্রার্থী মীর হেলালের বিশাল ব্যানার। সেখানেও ধানের শীষে ভোট চাওয়া হয়েছে। বায়েজিদ এলাকায় দেখা যায়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসনের প্রার্থী মাওলানা মতিউল্লা নূরীর ব্যানার। সেখানে তার ছবি ও হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়ার কথা লেখা রয়েছে। 

এর এক কিলোমিটার দক্ষিণে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল মোড়। সেখানে চট্টগ্রাম-১০ ডবলমুরিং-হালিশহর আসনের বিএনপি প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের বিশাল ব্যানার দেখা গেল। এতে ধানের শীষে ভোট চাওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম-১০ আসনের জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালীর হালিশহরের বি-ব্লক পানির টাংকির পাশে একটি নির্বাচনি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রার্থীর ছবি ও দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট চাওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম-৯ কোতোয়ালি আসনের বিএনপি প্রার্থী আবু সুফিয়ানের রঙিন ব্যানার লাগানো হয়েছে কাজীর দেউড়ি মোড়ে। সেখানে দলীয় প্রতীকে ভোট চাওয়া হয়েছে। 

এভাবে বন্দরনগরী চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় ৮, ৯, ১০, ১১ আসনসহ ১৬টি আসনের প্রার্থীদের রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুন ঝুলছে বিদ্যুতের খুঁটি, দেয়াল, পিলার ও সরকারি ভবনের গেটে। কোথাও কোথাও রাস্তার ওপর বাঁশের তোরণ তৈরি করে দলীয় প্রতীক ও প্রার্থীর ছবি টাঙানো হয়েছে। প্রার্থীদের বলছেন, পোস্টার ছাড়া নির্বাচনি প্রচার চালানো কঠিন। আবার অনেকেই দায় চাপাচ্ছেন প্রতিপক্ষের ওপর। এক পক্ষ লাগালে অন্য পক্ষও বাধ্য হয়ে নামছে এই পথে।

নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গের বিষয়ে চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মো জিয়াউদ্দীন খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা যখনই খবর পাচ্ছি, তখনই ব্যবস্থা নিচ্ছি। অনেক প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে, জরিমানা করা হয়েছে, সতর্ক করা হয়েছে।’ 

আর আগে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলাউদ্দীন শিকদারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে ইলেকটোরাল এনকোয়ারি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটি। তাকে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে চট্টগ্রাম-৭ রাঙ্গুনিয়া আসনের বিএনপির প্রার্থী হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে। তাকেও জরিমানা করা হয়। 

এদিকে গতকাল চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ আসনের এলডিপি প্রার্থী ওমর ফারুকের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিএনপি প্রার্থী জসীম উদ্দীন আহমেদ। অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এলডিপি প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকেও সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ দিয়েছে ইলেকটোরাল এনকোয়ারি ও অ্যাডজুডিকেশন কমিটি। 

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে গত ১৪ জানুয়ারি চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। একই দিন চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ১৩ জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম-১৩ আনোয়ারা-কর্ণফুলী আসনের বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজামকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। 

বরিশাল
সরেজমিন বরিশালে দেখা গেছে, মহানগর ও উপজেলার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে ‘উঠান বৈঠক’ নামে জনসভা করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও প্রধান সড়ক আটকে মিছিল ও পথসভার আয়োজন করা হচ্ছে। বড় আকারের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। অতি উচ্চশব্দে মাইকিং, মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা এবং অনুমতি ছাড়া পথসভাও চলছে নিয়ম ভেঙে। নির্বাচনি আচরণবিধি ভেঙে পোস্টার, মাইকিং, সরকারি স্থাপনা ব্যবহার এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ১০০ গজের মধ্যে প্রচার চালাচ্ছেন অনেক প্রার্থী ও তাদের সমর্থকরা। 

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে মহানগর বিএনপির আহ্বায়কের নেতৃত্বে নগরীর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রধান সড়ক আটকে মিছিল বের হয়। এ সময় ব্যস্ত সড়কটিতে সৃষ্টি হয় যানজট। একই দিন সন্ধ্যায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী নগরীর কালিজিরা বাজার এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় কয়েক শ নেতা-কর্মী বরিশাল-ঝালকাঠি আঞ্চলিক সড়কের ওপর অবস্থান নেওয়ায় প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে গৌরনদী উপজেলার শরিকল ইউনিয়নের সাকোকাঠি এলাকার প্রধান সড়কের মাঝখানে গাড়ি থামিয়ে পথসভা করেন বিএনপির প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন। এতে ওই সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তিনি চরসিকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, মিয়ারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠ, সোহনাবাদ একে বিদ্যালয় মাঠ এবং সোহনাবাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে পৃথক জনসভা করে।

নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বরিশাল-৪ আসনের বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীরা নিয়মিত স্পিডবোট ব্যবহার করে প্রচার চালাচ্ছেন। একই চিত্র দেখা গেছে বরিশাল-২, বরিশাল-৩ ও বরিশাল-৫ আসনেও।

এ বিষয়ে বরিশালের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘নির্বাচনি আচরণবিধি মানাতে মাঠে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা কাজ করছেন। আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ আসছে, সেগুলো জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টিমের কাছে পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ১০টি অভিযোগ পেয়েছি, সেগুলোর বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। মাঠপর্যায়ে যেসব তাৎক্ষণিক অনিয়ম চোখে পড়ছে, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা সেগুলো দেখছেন। আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি।’ 

রাজশাহী
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজশাহীতে একের পর এক নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেই চলেছে। গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে ফেস্টুন সাঁটানো, অনুমোদনহীন তোরণ নির্মাণ, ভোটের আগাম প্রচার ও বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি। একই সঙ্গে একাধিক প্রার্থীকে আদালতে সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে তলব করা হলেও এসব অনিয়ম থামছে না। গতকাল শনিবারও এক প্রার্থীকে শোকজ করা হয়েছে। 

জানা যায়, রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বিএনপি প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডি এম জিয়াউর রহমানকে শোকজ করা হয়েছে। রাজশাহীর সিভিল জজ এবং নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান নওশীন মাহবুব শনিবার (গতকাল) এ নোটিশ জারি করেন। নোটিশে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বেলা আড়াইটায় আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, বাগমারার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার গোডাউন মোড় এলাকায় রাস্তার ওপর তোরণ নির্মাণ করে ধানের শীষের ব্যানার ঝুলিয়ে প্রচার চালানো হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, উত্তর একডালা, দ্বীপপুর, চকেরমোড়, সোনাডাঙ্গাসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছ ও বিদ্যুতের খুঁটিতে ফেস্টুন ঝোলানো হয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভবনে ব্যানার টাঙানো দেখা গেছে। এ বিষয়ে বিএনপির প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনি এজেন্ট শামসুজ্জোহা সরকার বলেন, গোডাউন মোড়ে আগে থেকেই একটি পুরোনো তোরণ ছিল, ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দের আগেই ভোটের আগাম প্রচারের অভিযোগে রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১৮ জানুয়ারি শোকজ করা হয়। অভিযোগ ও ভিডিও ফুটেজে তার উপস্থিতিতে এক উঠান বৈঠকে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য ও প্রকাশ্যে দলীয় প্রতীকে ভোট চাওয়ার দৃশ্য দেখা যায়। এ ঘটনায় তাকে আদালতে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হলে তিনি ব্যাখ্যা দেন। 

একই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দীনকে গত ১২ জানুয়ারি শোকজ করা হয়। তার বিরুদ্ধে অভিযোগে বলা হয়, তিনি তানোরে অটোরিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের মধ্যে চাদর, মাফলার ও ধানের শীষের পতাকা বিতরণ করেন, যা আচরণবিধির লঙ্ঘন।

অন্যদিকে রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছে ফেস্টুন সাঁটানোর অভিযোগে গত ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি তিন প্রার্থী–ইসফা খায়রুল হক শিমুল (স্বতন্ত্র), ব্যারিস্টার রেজাউল করিম (স্বতন্ত্র) ও জামায়াতের মনজুর রহমানকে আদালতে তলব করা হয়।
এ ছাড়া রাজশাহী-২ (সদর) আসনে প্রতীক বরাদ্দের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার চালানোর অভিযোগে গত ১৪ জানুয়ারি এবি পার্টির প্রার্থী মু. সাঈদ নোমানকেও শোকজ করা হয়েছিল। পরে তিনি সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দেন। 

খুলনা
তফশিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মাইক, সিটি করপোরেশনের বিলবোর্ড, ব্যানারে কালার পিভিসি এবং নির্ধারিত মাপের অতিরিক্ত ফেস্টুন ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ইতোমধ্যে খুলনা জেলার ছয়টি আসনের দুজন প্রার্থী, চারজন শিক্ষকসহ আটজনের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাও (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে প্রার্থীসহ আরও কয়েকজনকে সতর্ক করা হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মনিটরিং না থাকায় এর বাইরেও অনেক ঘটনা আছে, সেসব নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল হয়নি।

জানা যায়, খুলনার কয়রা উপজেলায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ৩০ ডিসেম্বর কয়রা কপোতাক্ষ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ওলিউল্লাহ, ঘুগরাকাটি ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার ইংরেজি প্রভাষক মো. শরিফুল ইসলাম, একই মাদ্রাসার সহকারী মৌলবি মাওলানা রফিকুল ইসলাম এবং বেজপাড়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক নজরুল ইসলামকে শোকজ করা হয়েছে। খুলনা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আবুল কালাম আজাদের পক্ষে নির্বাচনি জনসভার আয়োজন এবং তাতে অংশগ্রহণের অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির সদস্য ইয়াসমিন নাহার স্বাক্ষরিত শোকজ নোটিশে বলা হয়, নির্বাচনকালীন আচরণবিধি অনুযায়ী এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে সভা-সমাবেশ বা প্রচারে অংশ নিতে পারেন না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

একইভাবে ২৭ জানুয়ারি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে খুলনা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।

নোটিশে রকিবুল ইসলাম বকুলকে ১ ফেব্রুয়ারি খুলনা যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-৩-এর কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

নোটিশে উল্লেখ করা হয়, দৌলতপুর ও খালিশপুরে প্রচারের সময় প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের পক্ষে তিনটির অধিক মাইক ব্যবহার, সিটি করপোরেশনের বিলবোর্ড ব্যবহার করা হচ্ছে এবং কালার পিভিসি ব্যবহার করা হচ্ছে। 

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামশেদ খোন্দকার বলেন, সব দলের প্রার্থীদের নির্বাচনি আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সিলেট
সিলেট- ১ আসনে নগরজুড়ে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ছড়াছড়ি চলছে। তবে নগরজুড়ে আচরণবিধি লঙ্ঘনের এসব চিত্র নজরে আসছে না নির্বাচন কমিশন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনের। আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে কোনো প্রার্থীকে দণ্ড দেওয়া তো দূরের কথা, কাউকে কারণ দর্শানো নোটিশ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তাই প্রার্থীদের বিধি লঙ্ঘনে প্রশাসনের নীরব ভূমিকায় সাধারণ ভোটারদের মনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। 
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিলেট নগরীতে সবচেয়ে বেশি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন সুমন। তিনি সিলেট নগরীর রিকাবীবাজার, বন্দরবাজার, চৌহাট্টা, শাহি ঈদগাহ, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সব গুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, ফুটওভার ব্রিজের ওপর রঙিন পিভিসির বড় বড় বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন।

বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির নগরীর প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পিভিসি ব্যানার ও বিলবোর্ড সাঁটিয়েছেন। পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় রঙিন পোস্টার সাঁটিয়েছেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমান নগরীজুড়ে থাকা বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটি, সড়ক বিভাজকের বেড়া, গাছের মধ্যে ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাহমুদুল হাসান নগরীর বিভিন্ন এলাকার সড়ক বিভাজকের বেড়ায় পিভিসি ব্যানার ফেস্টুন সাঁটিয়েছেন। এ ছাড়া সিলেট-১ আসনের প্রায় সব প্রার্থীই ব্যানার, ফেস্টুন, বিলবোর্ড সাঁটিয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।

আচরণবিধির লঙ্ঘন গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য হলেও সিলেটের স্থানীয় মাঠ প্রশাসন প্রার্থীদের এসব আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনাকে আমলে নিচ্ছে না।

এ ব্যাপারে আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস, সিলেটের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, ‘আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি আমরা দেখছি না, সেটি রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) দেখছেন।
এ ব্যাপারে সিলেট-১ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাঈদা পারভীন খবরের কাগজকে বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারটা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট দেখেন। তিনি এ বিষয়ে বলতে পারবেন।

এ বিষয়ে কথা বলতে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহার মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নোয়াখালী
নোয়াখালী-১ আসনে ঘরে ঘরে ধানের শীষের রঙিন লিফলেট বিতরণ করছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও তার সমর্থকরা। এতে দলীয়প্রধান ছাড়াও প্রতিষ্ঠাতাসহ একাধিক ছবি ব্যবহার করা হলেও প্রশাসনের নীরব থাকার অভিযোগ উঠেছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) এই আসনের চাটখিল ও সোনাইমুড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় চার রঙের ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ এবং রঙিন স্টিকার দেয়ালে সাঁটাতে দেখা গেছে।

লিফলেট ও স্টিকারে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং ধানের শীষের প্রার্থী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ছাড়াও জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।

এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের আচরণবিধিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও লিফলেট ও স্টিকারে মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, ঠিকানা, সংখ্যা ও তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। গত ৯ দিনে এসব লিফলেট ও স্টিকার চাটখিল ও সোনাইমুড়ী এলাকার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে নোয়াখালী-১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনকে ফোন করলেও তিনি রিসিভ করেননি। মোবাইলে খুদেবার্তা পাঠিয়েও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

তবে তার ব্যক্তিগত সহকারী মো. ইকবাল হোসাইন রুবেল খবরের কাগজকে বলেন, ধানের শীষের রঙিন লিফলেট বিতরণের অভিযোগ সত্য নয়। আগের ছাপানো কোনো রঙিন লিফলেট কেউ হয়তো বিতরণ করতে পারে।

ছবিতে বিএনপি প্রার্থীর হাতেও এমন লিফলেট দেখা গেছে বলার পর তিনি বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই।’
সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবু তালেব বলেন, ‘রঙিন লিফলেট ও গেট নির্মাণের কথা আমিও শুনেছি। কিন্তু নির্বাচনি আচরণবিধির বিষয়টি দেখছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা।’

জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ‘নির্বাচনে কী করা যাবে, কী করা যাবে না–স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। সেটি যদি কেউ না মানেন, সংশ্লিষ্ট প্রার্থী বা তার এজেন্ট যারা আছেন, আমরা তাদের নজরে আনব এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে এরফান আলী নামে এক সরকারি কর্মচারীকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ভোলাহাট উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শামীম হোসেনের নেতৃত্বে উপজেলার বীরেশ্বরপুর গ্রামে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। দণ্ডিত ব্যক্তি ওই গ্রামের মৃত ইলিয়াস আলীর ছেলে।
মোবাইল কোর্টের বিচারক মো. শামীম হোসেন বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী এরফান আলী বীরেশ্বরপুর গ্রামে নিজ বাসভবনে খাবারের আয়োজন করেন এবং নির্বাচনি প্রচার চালাচ্ছিলেন। এমন সংবাদ পেয়ে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ২১(খ) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে এরফান আলীকে ২৭(ক) ধারায় ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। 

দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৫২ পিএম
দশমিকের হিসাবে আটকে আছে তামাক কর, রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
ছবি: সংগৃহীত

কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন নীতির প্রভাব সীমিত থাকে এবং মূল্যবান রাজস্ব সুযোগ হাতছাড়া হয়। বর্তমানে চার স্তরবিশিষ্ট জটিল কর কাঠামোর কারণে তামাক পণ্য এখনো সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই আছে। ফলে ধূমপায়ীরা ধূমপান ছাড়ার পরিবর্তে সস্তা ব্র্যান্ডের সিগারেটে চলে যাচ্ছেন, যা কর বৃদ্ধির মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করছে।

সোমবার (২২জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭: তামাক কর ও নীতি সংস্কারের শেষ সুযোগ’ শীর্ষক পোস্ট-বাজেট সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে ধরেন পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন নীতির প্রভাব সীমিত থাকে এবং মূল্যবান রাজস্ব সুযোগ হাতছাড়া হয়। ‘শুধু দাম বেড়েছে কি না, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং এই বৃদ্ধি তামাকের ব্যবহার কমাতে এবং সরকারি রাজস্ব সর্বোচ্চ করতে যথেষ্ট কি না, সেটিই মূল প্রশ্ন।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, কর সিদ্ধান্ত যখন প্রকৃত বাজার পরিস্থিতি প্রতিফলিত না করে দশমিকের হিসাবে আটকে যায়, তখন রাজস্বের বড় সুযোগ নষ্ট হয়। একই সঙ্গে ই-সিগারেটের নিয়ন্ত্রণমূলক সংজ্ঞা দুর্বল করে এগুলোকে কার্যত সরকারি স্বীকৃতি দেওয়া আগামী দিনগুলোতে তরুণদের জন্য একটি মারাত্মক জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বিষয়ে উপস্থাপনা পেশ করেন পিপিআরসির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট মুহম্মদ ইহতিসাম হাসান। তিনি দেখান, ২০২৪ সাল থেকে বাজারে সামগ্রিক সিগারেট সরবরাহ কমতে শুরু করলেও বারবার কর ও মূল্য সমন্বয়ের পরও তামাক পণ্য এখনো সাশ্রয়ী রয়ে গেছে। তামাক সেবন হ্রাস এবং যুবসমাজকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করতে সিগারেটের নিম্ন ও মধ্যম স্তর একীভূত করার প্রস্তাব দেন তিনি। এ ছাড়া প্রতি ১০ স্টিকের প্যাকেটের ন্যূনতম মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ এবং ৪ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের দাবি জানানো হয়, যাতে মূল্যবৃদ্ধির টাকা সরাসরি সরকারের রাজস্বে জমা হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশ যদি চিকিৎসানির্ভর স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় রূপান্তরিত হতে চায়, তবে তামাক করকে প্রধান হাতিয়ার করতে হবে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক ড. শাফিউন নাহীন শিমুল তরুণদের মধ্যে ই-সিগারেট ও নিকোটিন পাউচের মতো নতুন পণ্যের দ্রুত বিস্তার নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
দক্ষিণ এশীয় শিশু সুরক্ষা সম্মেলনে যোগ দিতে কলম্বো পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। ছবি: সংগৃহীত

শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও জোরদার এবং দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষিণ এশীয় মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দিতে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোতে পৌঁছেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৩ ও ২৪ জুন অনুষ্ঠিত ‘দক্ষিণ এশিয়ায় শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে কর্মসূচিকে আরও এগিয়ে নেওয়া’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের এ সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।

কলম্বোর বান্দারানায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিমন্ত্রীকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ দূতাবাসের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত সামার্পণ বড়ুয়া।

সম্মেলনে শিশু অধিকার সুরক্ষা, শিশু কল্যাণে টেকসই নীতিমালা প্রণয়ন, আঞ্চলিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।

এ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের শিশু সুরক্ষা খাতে সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ, অর্জন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরবেন।

নাঈম/

চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
চীনে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় দুই দিনের সরকারি সফর শেষে সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টার দিকে চীনের দালিয়ানে পৌঁছেছেন। 

এর আগে মালয়েশিয়ার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটে দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, দালিয়ানে তিনি দুই দিন কর্মব্যস্ত সময় কাটাবেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফরের মূল কর্মসূচি শুরু হবে আজ মঙ্গলবার। দালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দেবেন তিনি। 

এরপর প্রধানমন্ত্রী চীনের রাজধানী বেইজিং যাবেন। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বুঙ্গা রায় কমপ্লেক্সের এক্সক্লুসিভ ভিআইপি টার্মিনালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান মালয়েশিয়ার ধর্মমন্ত্রী জুলফিকলি হাসান ও তার সহধর্মিণী। এ সময় মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম ও ডেপুটি হাইকমিশনার শাহানারা মনিকা উপস্থিত ছিলেন।

রিফাত/

সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত
ছবি: প্রতীকী

ঢাকাসহ সারাদেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে দেশের কোথাও কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

সোমবার (২২ জুন) রাত ৯টা ২৮ মিনিট ৫৪ সেকেন্ডে এ ভূমিকম্প হয়। 

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ ইউএসজিএস ভূমিকম্পের তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৪.৪।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল, নরসিংদী থেকে ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং ভূ-পৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে।

এদিকে, রাজধানীতে ঝাঁকুনি অনুভূত হলে বহুতল ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে আতঙ্কে বাসা থেকে বের হয়ে যান।

নাঈম/

‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৫৮ পিএম
আপডেট: ২২ জুন ২০২৬, ১০:২১ পিএম
‘মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা ও জামায়াত রাজনীতি নিষিদ্ধে সংসদে আইন পাসের দাবি’
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং মসজিদ-মাদরাসায় রাজনৈতিক সভা বন্ধে আইন প্রণয়নে জাতীয় সংসদে দাবি জানিয়েছেন কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ। 

সোমবার (২২ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১২তম দিনে এসব দাবি উত্থাপিত হয়। 

এদিন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি, জ্বালানিখাত, গ্যাস সংকট এবং জিআই পণ্য নিয়েও সংসদে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়।

এর আগে বেলা ৩টায় স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হয়। এ দিন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন সংসদ সদস্য বিভিন্ন ইস্যুতে বক্তব্য দেন।
অধিবেশনের আলোচনায় অংশ নিয়ে ঝালকাঠি-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘যে দল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে, তারা এ দেশে রাজনীতি করতে পারে না। ফ্যাসিস্টদের মতো স্বাধীনতাবিরোধীদের রাজনীতিও নিষিদ্ধ করা উচিত।’ 

তিনি বলেন, ‘অতীতে ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে এবং শাপলা চত্বরে মাদরাসা শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও দেশবাসী দেখেছে। একই সঙ্গে তিনি কওমি মাদরাসার জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দের দাবি জানান।’

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে রফিকুল ইসলাম জামাল বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপণ্যের ওপর সম্পূরক শুল্ক কমানো হয়েছে, হৃদরোগের রিং এবং চোখের লেন্সের শুল্ক কমানো হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

অন্যদিকে কুষ্টিয়া-১ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদ মসজিদ ও মাদরাসায় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করতে আইন প্রণয়নের দাবি জানান। 

তিনি বলেন, ‘মসজিদ আল্লাহর ঘর। সেখানে মানুষ নামাজ পড়বে, কোরআন শরীফ পড়বে। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দল মসজিদকে রাজনৈতিক সভার জায়গা বানিয়েছে।’ 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদ ও মাদরাসায় যেন কোনো রাজনৈতিক দল সভা-সমাবেশ করতে না পারে, সে জন্য আইন করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যেমন মাঠে, স্কুলে বা হলরুমে রাজনৈতিক সভা করি, তাদেরও সেই ব্যবস্থা করতে হবে। আল্লাহর ঘরকে রাজনৈতিক মঞ্চ বানানো উচিত নয়।’

এদিকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) সিরাজ। 

তিনি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর ডিভোর্স হতে পারে, কিন্তু প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ডিভোর্স হতে পারে না।’

তিনি বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক বন্ধুত্বপূর্ণ ও সম্মানজনক হওয়া প্রয়োজন। ভারতের নতুন হাইকমিশনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়, তার কারণও খুঁজে বের করতে হবে।’

সীমান্তে ‘পুশইন’ বা অনুপ্রবেশ এবং মাদক চোরাচালান বন্ধে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জিএম সিরাজ বলেন, ‘মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে। ভারতবিরোধিতা কিংবা বাংলাদেশবিরোধিতা কোনো পক্ষের জন্যই ভালো নয়।’

এদিকে সংসদ কক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম খান মিলন। পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, ’স্বাস্থ্যমন্ত্রী নেই, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নেই, অনেক মন্ত্রীর চেয়ার খালি পড়ে আছে। আমরা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করতে এসে মন্ত্রীদের উপস্থিতি পাচ্ছি না।’

এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘বাজেট অধিবেশনে মন্ত্রীদের আরও উপস্থিতি কাম্য। 

তিনি বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন। মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকলে সংসদ আরও কার্যকর হয়।’ 

তবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি মন্ত্রীদের পক্ষে সাফাই গেয়ে বলেন, ‘অনেক মন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যস্ত থাকেন। তবে অর্থমন্ত্রী সবসময় উপস্থিত আছেন এবং বাজেট-সংক্রান্ত সব প্রশ্নের উত্তর তিনিই দেবেন।’

অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তর পর্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ জানান, দেশে বর্তমানে পাঁচটি কয়লাক্ষেত্র আবিষ্কৃত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে বাণিজ্যিকভাবে কয়লা উত্তোলন হচ্ছে। তিনি আরও জানান, দেশে বর্তমানে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুত রয়েছে ৭ দশমিক ৬৩ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ)। তবে দৈনিক গ্যাসের চাহিদার তুলনায় প্রায় ১ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি রয়েছে।

অন্যদিকে শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদকে জানান, বর্তমানে দেশে ৬৪টি পণ্য ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত রয়েছে। এর মধ্যে জামদানি শাড়ি, ইলিশ, রাজশাহী সিল্ক, ঢাকাই মসলিন, বগুড়ার দই, টাঙ্গাইল শাড়ি ও কুমিল্লার রসমালাই উল্লেখযোগ্য।
 
এলিস/রিফাত/