দায়িত্বজ্ঞানহীন বা পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশন অনেক সময় উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলতে পারে, যা আঞ্চলিক শান্তির জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে। অন্যদিকে, তথ্যভিত্তিক ও সংবেদনশীল সাংবাদিকতা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে পারে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক অস্থিরতা, সীমান্ত উত্তেজনা, অর্থনৈতিক বৈষম্য ও উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
ইন্টারনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেলের (আইকিউএসি) উদ্যোগে এবং সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম (এসজিএফ) ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের সহযোগিতায় আয়োজিত এই মিডিয়া কনক্লেভের প্রতিপাদ্য ছিল ‘দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি: গণমাধ্যম ও সাংবাদিকতার দর্পণে একটি পর্যবেক্ষণ’। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শ্যামলাল কলেজে অনুষ্ঠিত এই সংলাপে অংশগ্রহণ করেন এসজিএফ-এর প্রেসিডেন্ট রাজু লামা, সেক্রেটারি জেনারেল আবদুর রহমান, ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের প্রেসিডেন্ট ড. অনিরুদ্ধ শুধাংশু, বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ হাসান নবীসহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাংবাদিক নেতারা এবং দিল্লির থিংক ট্যাংকের বিশেষজ্ঞরা।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কলেজের অধ্যক্ষ ও আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. নচিকেতা সিং। আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ায় নিরাপত্তা ও উন্নয়নকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। রাজনৈতিক সংঘাত, উগ্রবাদ, জলবায়ু সংকট ও দারিদ্র্য সবকিছু একে অপরের সঙ্গে জড়িত। এই বাস্তবতাকে জনগণের সামনে উপস্থাপনের ক্ষেত্রে মিডিয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বক্তারা সতর্ক করে বলেন, ‘ফেক নিউজ, গুজব ও ডিজিটাল প্রোপাগান্ডার যুগে সাংবাদিকদের পেশাগত নৈতিকতা আরও বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে। ভুল তথ্য শুধু সামাজিক বিভ্রান্তিই নয়, অনেক ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের উচিত জাতীয় স্বার্থের পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিকে গুরুত্ব দেওয়া। সংঘাতকে উসকে দেওয়া নয়, বরং সমস্যার মূল কারণ ও সমাধানের পথ তুলে ধরা হওয়া উচিত মিডিয়ার লক্ষ্য। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর সাংবাদিকদের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ ও সহযোগিতা বাড়লে সীমান্তপারের ভুল বোঝাবুঝি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।’
আয়োজকদের মতে, এ ধরনের সংলাপ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে দক্ষিণ এশিয়ায় পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতার ভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে।
রবিউল/রিফাত/