সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হওয়ায় এবারের ভোট গণনা ও ফল প্রকাশ প্রক্রিয়া স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আশ্বস্ত করছে, ভোটের পরদিন অর্থাৎ শুক্রবার অধিকাংশ আসনের ফলাফল জানা সম্ভব হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ১০টার মধ্যে ভোট গণনা শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এবার ভোটাররা দুটি ব্যালটে ভোট দেবেন। এর সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের গণনাও রয়েছে। এ কারণে গণনায় কিছুটা বেশি সময় লাগবে, তবে অযথা বিলম্ব হবে না।
নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ জানান, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর পরই প্রতিটি কেন্দ্রে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করে একই সময়ে গণনা শুরু হবে। দুটি ভোটের ফল একসঙ্গেই ঘোষণা করা হবে, যাতে কোনো বিভ্রান্তি বা অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়। প্রাথমিক ফলাফল প্রতিটি কেন্দ্রেই প্রকাশ করা হবে। এরপর কেন্দ্রভিত্তিক ফল একীভূত করে রিটার্নিং কর্মকর্তারা আসনভিত্তিক ফল প্রস্তুত করবেন। এই ফলাফলের ভিত্তিতেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ করা হবে।
ভোটের ফল সংগ্রহ ও প্রেরণে এবার ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএমএস) সফটওয়্যার ব্যবহার করা হবে। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা কেন্দ্র থেকে প্রাপ্ত ফল স্ক্যান ও এন্ট্রি করে সফটওয়্যারে আপলোড করবেন। রিটার্নিং কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই শেষে ক্রমসঞ্চিত ফল প্রস্তুত করবেন।
ভোট গ্রহণ চলাকালে ভোটার উপস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য চার ধাপে ভোট পড়ার হার সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। সকাল ১০টা, দুপুর ১২টা, বেলা ২টা এবং ভোট গ্রহণ শেষে প্রতিটি কেন্দ্র থেকে প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা (শতকরা হার) ডিজিটাল সিস্টেমে এন্ট্রি করা হবে। এসব তথ্য নির্বাচন কমিশন ও প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকেও পর্যবেক্ষণ করা হবে।
সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে সাধারণ কেন্দ্রের ফল ও পোস্টাল ব্যালটের ফল একত্র করে ফরম-১৮ প্রস্তুত করা হবে। একইভাবে গণভোটের ক্ষেত্রেও পৃথক ফরমে কেন্দ্রভিত্তিক ও একীভূত ফল কমিশনে পাঠানো হবে। ইসির লক্ষ্য হলো–ভোটের পরদিনের প্রথম ভাগেই অধিকাংশ ফল প্রকাশ করা। তবে পোস্টাল ব্যালট, দূরবর্তী কেন্দ্র ও সম্ভাব্য পুনর্গণনার কারণে কিছু আসনের পূর্ণাঙ্গ ফল পেতে শুক্রবার দুপুর বা বিকেল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে–এমন তথ্য জানিয়েছে ইসি।
এর আগে গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য জেসমিন টুলী বলেছিলেন, ১৯৭৭ সালে প্রথম গণভোটে ফল ঘোষণায় ৩০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। এবার সংসদ, গণভোট দুটো একসঙ্গে হচ্ছে। ভোটার বেড়ে হয়েছে ১৩ কোটি। ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হবে। ভোটের পূর্ণাঙ্গ ফল পেতে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে।
তিনি বলেন, আসলে ইলেকশন কমিশন যে ব্যাখ্যা দিয়েছে, তাতে ফল পরদিন বিকেলের দিকেই আসার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি আছে। কারণ এমনিতে নরমালি পরের দিন সকাল ১০টার দিকে অনেক আসনের সব রেজাল্ট চলে আসবে। হয়তো শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সময় লাগতে পারে ফলাফল ঘোষণা করতে।
সর্বশেষ ১৯৯১ সালে দেশে গণভোটের আয়োজন করেছিল। সে সময় মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার। দায়িত্ব পালন করেছেন বেশ কিছু সংসদ নির্বাচনেও।
তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালের তুলনায় বর্তমানে জনসংখ্যা অনেকটাই বেড়েছে। আর যেহেতু রাজনৈতিক দলগুলো এটাতে (গণভোটে) ইনভলভ, তারা কোমরে গামছা দিয়ে কাজে নেমেছে। তাই এবারে হয়তো ভোট বেশি পড়বে। এগুলো একই বাক্সে পড়লে আপনাকে আগে আলাদা করা লাগবে। আলাদা করতেও তো সময় লাগবে। প্রত্যেকটা ব্যালট খুলে দেখে আলাদা করতে হবে।’
সাধারণত সংসদ নির্বাচনের ফল গণনায় মধ্যরাত পর্যন্ত সময় লাগে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, ধরেন প্রতিটা কেন্দ্রে আপনার হয়তো ২-৩ ঘণ্টা বা ৩-৪ ঘণ্টা বেশি সময় লাগতে পারে। একেবারে সব শেষ হতে হয়তো শুক্রবার বিকেল বা দুপুর পর্যন্ত লাগতে পারে। এরপর ফল জানা যাবে।’