বর্তমান বাসভবন ১৯৬ গুলশানেই থাকছেন দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১৭ বছর পর দেশে ফিরে নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর গতকাল শপথ নিলেন তিনি। কিন্তু প্রথা অনুযায়ী সরকারি বাসভবনে নয়, আপাতত গুলশানের ১৯ নম্বর রোডের বাসভবন থেকেই প্রধানমন্ত্রীর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছেন তিনি। লন্ডন ফেরার পর তিনি স্ত্রী ও কন্যাকে নিয়ে এ বাসভবনেই ওঠেন। দলীয় সূত্র থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা যায়, এটি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের বাসভবন ‘ফিরোজা’র একদম পাশেই অবস্থিত। তবে প্রটোকল ও নিরাপত্তার কারণে তাকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় কোনো ভবনেই স্থানান্তরিত হতে হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের জন্য স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (SSF) নিরাপত্তায় যুক্ত হয়েছে। গুলশানের এই এলাকাটি রাজধানীর অন্যতম ‘হাই-সিকিউরিটি জোন’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা যায়, সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ ভবনের উত্তর পাশে অবস্থিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন দুটিকে একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান এই সুসজ্জিত ও উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন এলাকাতে অবস্থান করবেন। এটি সংসদ ভবনের খুব কাছে হওয়ায় দাপ্তরিক কাজেও সুবিধা হবে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় সংসদ ভবনসংলগ্ন নতুন বাসভবনের সংস্কার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’য় থাকতে পারেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এখানে অবস্থান করছেন।
জিয়া ও খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে চন্দ্রিমা উদ্যানে বাবা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন। গতকাল রাতে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে তিনি শেরেবাংলা নগরে জিয়া উদ্যানে পৌঁছান। এরপর তিনি বাবা ও মায়ের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে সুরা ফাতেহা পাঠ করেন এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। মোনাজাত শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় তার সঙ্গে স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।