রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের আনুষ্ঠানিকতায় রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম বা ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তবে আয়োজক কর্তৃপক্ষের দাবি, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবং বিদেশি কূটনীতিকসহ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে একুশের প্রথম প্রহরে প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের পর বিরোধীদলীয় নেতার শ্রদ্ধা জানানোর কথা থাকলেও এদিন প্রধানমন্ত্রীর পর পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা। পরে জিয়া পরিবারের পক্ষে ডা. জুবাইদা রহমান ও জাইমা রহমানকে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান তারেক রহমান। এরপর তিন বাহিনীপ্রধান ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তারপর পর্যায়ক্রমে কূটনীতিক, নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা জানান। এরপরই মূলত প্রটোকল নিয়ে বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
নিয়ম কী বলছে?
২০২০ সালের জুলাইয়ে সংশোধিত রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদাক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পর স্পিকার, প্রধান বিচারপতি এবং সাবেক রাষ্ট্রপতিদের অবস্থান। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রিসভার সদস্য, চিফ হুইপ, ডেপুটি স্পিকার এবং বিরোধীদলীয় নেতার অবস্থান। তিন বাহিনীর প্রধানদের অবস্থান আরও পরে (ক্রমিক ১৭)।
অভিযোগ উঠেছে, বিরোধীদলীয় নেতা ও চিফ হুইপকে অপেক্ষা করিয়ে দলীয় নেতা ও বাহিনীপ্রধানদের সুযোগ দেওয়া মূলত রাষ্ট্রীয় বিধিবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
কর্তৃপক্ষের সাফাই
এ বিষয়ে একুশে উদযাপন কমিটির সদস্যসচিব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ জানান, গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকেই এবার আগে ভিভিআইপিরা শ্রদ্ধা জানাবেন–এমন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘গত বছর প্রধান উপদেষ্টা চলে যাওয়ার পরপরই প্রচুর মানুষ ঢুকে পড়ায় বিদেশি রাষ্ট্রদূত ও তিন বাহিনীপ্রধানদের নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছিল। এবার সেই পরিস্থিতি এড়াতে তাদের আগে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের অফিশিয়াল তালিকায় বিরোধীদলীয় নেতার অবস্থান যথাস্থানেই ছিল, কিন্তু উদ্ভূত পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত।’
প্রক্টর আরও যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেহেতু একই সঙ্গে মন্ত্রিসভা, দল এবং জিয়া পরিবারের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন, তাই কোনো ‘গ্যাপ’ না রেখে তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন দ্রুত শেষ করা হয়েছে। এই পরিবর্তনের বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে কথা বলে তাকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলা হয়েছে এবং তারা তা বিবেচনায় নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।