ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে নিয়োগ পাওয়া প্রকৌশলী ফারুক আহমেদের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করেছে সরকার।
সোমবার (২ মার্চ) সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন সহকারী সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব ফারুক আহমেদ এর নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করা হল।’’
জনস্বার্থে জারি করা ই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগ বাতিল করা হলো, সে বিষয়ে প্রজ্ঞাপনে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ফারুক আহমেদকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ডিএমটিসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ডিএমটিসিএলের এমডি হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন ফারুক আহমেদ। তাকে তিন বছর মেয়াদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তখন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ বলেছিল, মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি এই প্রতিষ্ঠানে প্রথমবার কোনো পেশাদার প্রকৌশলী ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিকে এমডি হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
এর আগে এই পদে সাধারণত প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হতো।
ফারুক আহমেদ চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) থেকে স্নাতক এবং অস্ট্রেলিয়ার নিউ সাউথ ওয়েলস ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রিধারী। দীর্ঘ ৩৭ বছরের কর্মজীবনে তিনি অস্ট্রেলিয়া, ভারত, সৌদি আরব ও হংকংসহ বিভিন্ন দেশে মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
একটি প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৭৬ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে তাকে এই পদের জন্য চূড়ান্তভাবে বাছাই করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত মিরপুর-১০ ও কাজীপাড়া স্টেশন পুনরায় চালু করার কারিগরি প্রক্রিয়ায়ও তার ভূমিকা ছিল।
ফারুক আহমেদের সম্পর্কে সবচেয়ে বড় অভিযোগ, তিনি অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের নাগরিকত্ব নিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে আসীন হয়েছেন, যা সরকারি চাকরিবিধির লঙ্ঘন। এছাড়াও মেট্রোরেল কর্মীদের স্থায়ী চাকরিবিধি প্রণয়ণ না করা, মেট্রোরেলের পরামর্শক প্রতিষ্ঠান জাইকার সঙ্গে সম্পর্কের অবনমন নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
মেট্রোরেলের এমআরটি-ওয়ান প্রকল্প (বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত পাতাল পথে সংযোগ) বাস্তবায়নে ২০২৫ সালে কিছুটা অগ্রগতি হলেও তার হস্তক্ষেপে তা থমকে যায়। বিভিন্ন পর্যায়ে এই প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগে প্রকল্প কর্মকর্তারা এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ফারুক আহমেদ বাধা দেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে দর কষাকষিতে কোনো সুরাহা করতে পারেননি তিনি। নির্মাণ কাজ থমকে থাকায় রাজধানীর প্রগতি সরণির ট্রাফিক ডাইভারশন নিয়েও হিমশিম খায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক, বিশ্ব ব্যাংকের নতুন অর্থায়ন আনার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী ছিলেন। মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি-৬ লাইন বর্ধিত করার ক্ষেত্রেও কোনো অগ্রগতি তার সময়ে হয়নি।
জয়ন্ত/মাহফুজ