ঢাকা ৫ আষাঢ় ১৪৩৩, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
হাইতি ম্যাচে পরিবর্তনের আভাস আনচেলত্তির বাংলাকে দ্বিখণ্ডিত করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য ফুটবল ও লাতিন আমেরিকার কথাসাহিত্য ‘আফ্রিকান ব্রাজিলিয়ান’ মরক্কো ফুটবল শেখাল আসল ব্রাজিলকে: বোমেল প্রাকৃতিক ভূগোল অধ্যায়ের ১৩টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির ভূগোল ১ম পত্র বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেন কানাডার মিডফিল্ডার ইসমায়েল কোনে সাজিনাস হাসপাতালের পরিচালকসহ ৮ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দেশে স্বর্ণের দামে বড় পতন আদালতে আত্মসমর্পণ করতে গিয়ে কারাগারে আ. লীগ নেতা সবার আগে নকআউটে মেক্সিকো চট্টগ্রামে হাসপাতালে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালাল স্বামী টিভিতে আজকের খেলা বঙ্গোপসাগরে সাবমেরিন মোতায়েন করতে চায় পাকিস্তান দেখা পেলাম দুষ্প্রাপ্য চামেলির সোনারগাঁয় ফয়জুল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সজিব গ্রেপ্তার বাংলাদেশের সিরিজ বাঁচানোর লড়াই আল্লাহর মাস মুহাররমে করণীয়-বর্জনীয় দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা পোলাওয়ের চাল ১৯০ টাকা কেজি! পদ্মা রেলসেতুর মাটি কাটায় ঝুঁকি নেই: সেতুমন্ত্রী ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ – গ্রুপ ‘এ’ থেকে যোগ্যতা অর্জনের সম্ভাব্য পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপে সেনা মোতায়েন পুনর্বিবেচনা করছে যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননে হামলা অব্যাহত ইসরায়েলের সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ ১৯ জুন: তুলা, বৃশ্চিক, ধনু, মকর, কুম্ভ ও মীনের আজকের রাশিফল ট্রাম্পের এক প্রকার আত্মসমর্পণ চুক্তির পরও অমীমাংসিত ইস্যু ১৯ জুন: মেষ, বৃষ, মিথুন, কর্কট, সিংহ ও কন্যার আজকের রাশিফল সিয়াটলে স্বাগতিকদের সামনে অস্ট্রেলিয়া চ্যালেঞ্জ ট্রাম্পের ধন্যবাদ পুতিন-শিকে

দুর্ভোগ, তবু ফিরতে হবে বাড়ি

প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৮ এএম
আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
দুর্ভোগ, তবু ফিরতে হবে বাড়ি
ছবি: খবরের কাগজ

ঈদযাত্রা মানেই যেন অবধারিতভাবে পথের ভোগান্তি। যদিও গত কয়েক দিন সব ধরনের যানবাহন মোটামুটি স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। কিন্তু গতকাল বুধবার রেলপথ ও সড়কপথে যথেষ্ট দুর্ভোগ ও ভোগান্তির শিকার হয়েছেন ঘরমুখী যাত্রীরা। তবে তাতে যেন ভ্রুক্ষেপ ছিল না কারোরই। দুর্ভোগ-ভোগান্তি যা-ই হোক, বাড়িতে তো যেতেই হবে। ঠিক সেই উদ্দীপনা আর স্বজনদের সঙ্গে ঈদ-আনন্দ ভাগাভাগি করার তীব্র আকাঙ্ক্ষায় গতকাল বিপুলসংখ্যক মানুষ ছেড়েছেন রাজধানী। 

গতকাল রাজধানী ঢাকার তিনটি বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলস্টেশন ও সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালে ছিল ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড়। তার মাঝে সন্ধ্যার পর রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে তীব্র বজ্রবৃষ্টি যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। গত কয়েক দিনের তুলনায় গতকাল সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষকে ঘরমুখী হতে দেখা যায়। এর মাঝে রাজশাহী-উত্তরাঞ্চলমুখী চন্দ্রা মোড় থেকে দীর্ঘ যানজটের খবর পাওয়া যায়। গাজীপুরের সড়কে থেমে থেমে চলছিল যানবাহন। অন্যদিকে বগুড়ার সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলার রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে কমলাপুর স্টেশনে আটকা পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। এ ছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কেও বিভিন্ন স্থানে ছিল মাঝারি থেকে তীব্র যানজট। সদরঘাটে ছিল লঞ্চযাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। সেখানে দুই যাত্রী লঞ্চে উঠতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। 

পাশাপাশি গতকালও সড়কে অতিরিক্ত ভাড়ার নৈরাজ্যের অভিযোগ পাওয়া যায়। বাস টার্মিনালগুলোতে সরকার-নির্ধারিত ভাড়ার তোয়াক্কা না করে দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ ওঠে। যদিও গতকাল সকালে রাজধানীর গাবতলী আন্তজেলা বাস টার্মিনালে গিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, কোথাও অনিয়মের প্রমাণ পেলে তিনি কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।

গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নগর পরিবহনের অধিকাংশ বাস-মিনিবাসে গাদাগাদি করে আন্তজেলা বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনালের দিকে ছুটছিলেন ঘরমুখী মানুষ। এ কারণে রাজধানীর প্রধান সড়কে বিকেল থেকে যানজটের সৃষ্টি হয়। 

গতকাল সকাল থেকেই রাজধানীর কমলাপুরে ঢাকা রেলস্টেশনে ঘরমুখী মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন ছেড়ে গেলেও অতিরিক্ত যাত্রীর চাপে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না প্ল্যাটফর্ম কিংবা বগিতে। ট্রেনের ভেতর জায়গা না পেয়ে অনেককে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে চড়তেও দেখা গেছে। অন্যদিকে ঈদযাত্রার আনন্দ ও বাড়ি ফেরার তাড়ায় স্টেশনে ছিল তপ্ত পরিবেশ। হাতে টিকিট থাকা সত্ত্বেও ভিড় ঠেলে নিজের আসনে বসতে রীতিমতো যুদ্ধ করতে হয়েছে অনেক যাত্রীকে। প্রায় প্রতিটি ট্রেন ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি যাত্রী নিয়ে গন্তব্যে রওনা হয়।

গতকাল ভোর থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোনো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। তবে দৃশ্যপট বদলে যায় দুপুর আড়াইটার দিকে। বগুড়ার সান্তাহার জংশনের কাছে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হলে ট্রেনযাত্রীদের দুর্ভোগ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।

রেলের সময়সূচি অনুযায়ী, গতকাল বিকেল ৫টায় চিলাহাটি এক্সপ্রেস, রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে দ্রুতযান এক্সপ্রেস, রাত ৯টা ৪৫ মিনিটে লালমনি এক্সপ্রেস, রাত সাড়ে ১১টায় পঞ্চগড় এক্সপ্রেস ঢাকা রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নীলসাগর এক্সপ্রেস সান্তাহারে লাইনচ্যুতির ঘটনায় এই ট্রেনগুলো আটকে পড়ে কমলাপুরে। ট্রেনের এই শিডিউল বিপর্যয়ের পর উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের কেউ কেউ বিপাকে পড়ে বিকল্প উপায়ে বাড়ি যাওয়ার চেষ্টা করেন। 

দিনাজপুরের যাত্রী মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল সন্ধ্যায় খবরের কাগজকে বলেন, ‘ট্রেন ছাড়তে দেরি হবে দেখে আমি গাবতলীর কয়েকটি বাস কাউন্টারে যোগাযোগ করেছিলাম। বাসের টিকিট পেলাম না। বউ-বাচ্চা নিয়ে বিপাকে পড়েছি। বাড়ি যেতে হবে। উপায় নেই তাই কমলাপুরে বসে আছি।’

রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও পার্বতীপুরের সঙ্গে ঢাকা, রাজশাহী এবং খুলনার ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস রানীনগর স্টেশনে আটকে পড়ে। পঞ্চগড় অভিমুখী একতা এক্সপ্রেস ও চিলাহাটি অভিমুখী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস আব্দুলপুর জংশনে আটকা পড়ে। 

চট্টগ্রাম রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদারের সঙ্গে কথা বলে আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, গতকাল বুধবার সকালে বিজয় এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম পৌঁছাতে দেরি করায় ফিরতি ট্রিপে ২ ঘণ্টা দেরি হয়। এ ছাড়া অন্য ট্রেনগুলো যথা সময়ে চট্টগ্রাম স্টেশন ছেড়ে গেছে। চাঁদপুর রুটে একজোড়া বিশেষ ট্রেন ছেড়েছে বেশ যাত্রী নিয়ে। 

রেলের পূর্বাঞ্চল অফিস জানিয়েছে, যাত্রীদের অতিরিক্ত চাপ সামাল দিতে বিভিন্ন ট্রেনে ১০৫টি বগি সংযোজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১০টি অতিরিক্ত ইঞ্জিন ব্যবহার করা হচ্ছে এবারের ঈদযাত্রায়।

বাস কাউন্টারে দীর্ঘ প্রতীক্ষা, বাড়তি ভাড়ার উত্তাপ
গতকাল ঘরমুখী মানুষের ঢল নামে রাজধানীর বাস টার্মিনালগুলোতে। তবে গতকাল মহাখালীতে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়েও টিকিট না পাওয়া, গাবতলীতে বাড়তি ভাড়া আদায় এবং সায়েদাবাদে যানজটের কারণে অনেকের ঈদযাত্রার আনন্দ ম্লান হয়েছে।

গতকাল মহাখালীতে দেখা যায়, ইউনাইটেড ট্রান্সপোর্টের কাউন্টারের সামনে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি। সামনেই বাস দাঁড়িয়ে থাকলেও টিকিট বিক্রি বন্ধ থাকার অভিযোগ করেন অপেক্ষমাণরা। তবে টিকিট-সংকটের কথা অস্বীকার করেন ইউনাইটেড কাউন্টারের মাস্টার তরিকুল ইসলাম রাজ। তার দাবি, পথে যানজটের কারণে বাস ফিরতে দেরি হওয়ায় কিছুটা সমন্বয় করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘টিকিট দেওয়া আমরা বন্ধ রাখিনি।’

অন্যদিকে গাবতলী টার্মিনালে ঘরমুখী মানুষের প্রধান অভিযোগ ছিল বাড়তি ভাড়া নিয়ে। রাজবাড়ীগামী যাত্রী মো. অন্তর অভিযোগ করেন, ‘নিয়মিত ৩৯০ টাকার ভাড়া আজ (বুধবার) ৭০০ টাকা রাখা হচ্ছে।’ একই অভিযোগ পাওয়া যায় মাগুরা ও পাংশাগামী বাসগুলোতেও।

পরিবহনসংশ্লিষ্টরা অবশ্য বাড়তি ভাড়ার অভিযোগ মানতে নারাজ। সাকুরা পরিবহনের ম্যানেজার মো. আল আমিন বলেন, ‘সারা বছর আমরা সরকারি চার্টের চেয়ে ১০০-২০০ টাকা কম রাখি। এখন নির্ধারিত ভাড়ায় টিকিট বিক্রি করায় যাত্রীদের কাছে তা বাড়তি মনে হচ্ছে।’

বিআরটিএর ভিজিল্যান্স টিমের সহকারী পরিচালক মইনুল হাসান জানান, টার্মিনালের ভেতর চার্ট অনুযায়ী ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। টার্মিনালের বাইরে অনিয়ম ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছেন।

সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় দক্ষিণবঙ্গ ও সিলেটগামী যাত্রীদের তীব্র ভিড় দেখা গেছে। নামি পরিবহনগুলোর আগাম টিকিট আগেই শেষ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েন শেষ মুহূর্তের যাত্রীরা। লোকাল বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এখানেও।

সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল শ্রমিক কমিটির সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘হাজারের বেশি গাড়ি ঢাকা ছেড়েছে। ভাড়া বেশি নিলে আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেশ কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন খবরের কাগজের সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি। তিনি নারায়ণগঞ্জের শিমরাইল মোড়ের টিকিট কাউন্টারগুলোও গতকাল ঘুরে দেখেছেন। সেখানকার চিত্র দেখে তিনি জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বিভাগের প্রতিটি জেলার যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন।

চট্টগ্রামগামী যাত্রী মো. শাহজাহান তাকে জানান, চট্টগ্রামগামী বিভিন্ন পরিবহনের টিকিটে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বাড়তি আদায় করা হয়েছে। যদিও কাঁচপুর হাইওয়ে থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) বিষ্ণুপদ শর্মা এ বিষয়ে বলেন, ‘অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ আমাদের কাছে কেউ করেননি।’

১৪৮ কোটি টাকা বাড়তি আদায়ের ‘নৈরাজ্য’: যাত্রী কল্যাণ সমিতির
সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে এবারের ঈদযাত্রায় বাস ও মিনিবাসে প্রায় ১৪৮ কোটি টাকার অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ‘নৈরাজ্য’ চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই অভিযোগ করেন। সংগঠনটির দাবি, বাড়তি ভাড়া আদায়ের এই মহোৎসব গত ২০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করতে চলেছে। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এবারের ঈদে ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আন্তজেলা ও দূরপাল্লার বাসে প্রায় ৪০ লাখ ট্রিপ এবং নগরীর সিটি সার্ভিসে আরও ৬০ লাখ ট্রিপ দেওয়া হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ বাস-মিনিবাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। 

অনিয়ম হলে কঠোর ব্যবস্থা, গাবতলীতে সড়কমন্ত্রীর হুঁশিয়ারি
গতকাল রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে যান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ঈদুল ফিতর সামনে রেখে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বা যাত্রী হয়রানি করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘সবাই নির্ধারিত ভাড়াই নিচ্ছে। বরং দু-একটি পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ২০-৩০ টাকা কম নিচ্ছে, যা যাত্রীদের জন্য স্বস্তিদায়ক। পুলিশ কন্ট্রোল রুম আমাদের জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তেমন কোনো বড় অভিযোগ পাওয়া যায়নি।’ 

রাজধানীর লোকাল বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, সুনির্দিষ্ট তথ্য পেলে তাৎক্ষণিক জরিমানা করা হচ্ছে। গতকালও নবীনগর ও বাইপাইলে বাড়তি ভাড়া নেওয়ায় ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। ঈদের পর নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়ে অবৈধ কাউন্টারগুলোর বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। মালিকদের প্রতি অনুরোধ, নির্ধারিত স্থানের বাইরে কোথাও যেন কাউন্টার না খোলা হয়।’
এ সময় ঈদযাত্রায় জ্বালানিসংকট নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৫ মার্চ রাত ১১টা থেকে গণপরিবহনে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে কোথাও কোনো ঘাটতি নেই।

সড়কপথে কোথাও কোথাও যানজট
রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে গতকাল সড়কপথে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ রওনা দেন। এ সময়ে দিনভর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও বিকেলের পর সড়কপথের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। 

এর মাঝ্যে গতকাল বিকেলে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক ও চন্দ্রা-নবীনগর সড়কে ২১ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট দেখা দিয়েছিল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজার হাজার যাত্রী। সন্ধ্যার পর থেকে এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ আরও অনেকাংশে বেড়ে যায়। 

হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল বিকেলে গাজীপুরের কয়েক শ শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। ফলে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক কারখানাকর্মী ঘরমুখী হলে যানবাহন ও সড়কে ব্যাপক চাপ পড়ে। 

তবে এবারের ঈদযাত্রায় বড় শঙ্কা থাকলেও গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে তেমন বড় ভোগান্তিতে পড়তে হয়নি যাত্রীদের। খবরের কাগজের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি গতকাল বিকেলে জানান, এবার এই মহাসড়কে কোনো যানজট নেই। স্বাভাবিকভাবেই চলছে দূরপাল্লার গাড়িগুলো। 

আশুগঞ্জ-আখাউড়া চার লেন মহাসড়ক প্রকল্পের ব্যবস্থাপক (প্যাকেজ-২) শামীম আহমেদ জানান, যানজটে পড়ে যেন ঈদের ঘরমুখী মানুষের ভোগান্তি পোহাতে না হয়, সে জন্য আগেই একটি লেন খুলে দেওয়া হয়েছে। যেসব স্থানে খানাখন্দ ছিল, সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। এ ছাড়া হাইওয়ে পুলিশের তরফ থেকেও নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে মোতায়েন করা হয়েছে পুলিশ। সরাইল-বিশ্বরোড মোড়ে বসানো হয়েছে পুলিশ বক্স।

অন্যদিকে সাসেক-২ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ড. মো. ওয়ালিউর রহমান খবরের কাগজের সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধিকে জানিয়েছেন, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে রংপুর পর্যন্ত ১৯০ কিলোমিটার দীর্ঘ চার লেন মহাসড়কের নির্মাণকাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। চার লেন চালু হওয়ায় এবারে এই স্থানগুলোতে ঈদযাত্রায় ভোগান্তি নেই। 

হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান জানান, যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় মহাসড়কে নির্মিত সব উড়াল সেতুর ও হাটিকুমরুল ইন্টারচেঞ্জের কয়েকটি সার্ভিস সড়কও চালু করা হয়েছে। তাই সেদিকেও যানজট নেই। 

এ ছাড়া মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঈদযাত্রার শুরু থেকেই পাটুরিয়ার তিনটি ঘাট দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে। নদী পারাপারের জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি ও ২২টি লঞ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যা পারাপার কার্যক্রমকে স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
দেশের ১৩ জেলায় ঝড়ের শঙ্কা, নদীবন্দরে সতর্কতা
ছবি: সংগৃহীত

দেশের ১৩টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তার। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। সতর্কবার্তাটি ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

পাশাপাশি এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

অন্তরা/

সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ এএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের টাকা জমা বেড়েছে ৪১ শতাংশ
ছবি: খবরের কাগজ

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক (এসএনবি) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে ২০২৫ সালে তাদের দেশের ব্যাংকগুলোর দায় ও সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে এসএনবি।

এসএনবির বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সাল শেষে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের নামে জমা অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮৩ কোটি ৪২ লাখ সুইস ফ্রাঁ। প্রতি সুইস ফ্রাঁ সমান ১৫৩ টাকা হিসাবে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকা। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জমার রেকর্ড। এর আগে ২০২১ সালে সর্বোচ্চ জমার পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ। আগের বছর ২০২৪ সাল শেষে এই জমার পরিমাণ ছিল ৫৮ কোটি ৯৫ লাখ সুইস ফ্রাঁ বা ৮ হাজার ৭৮৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৪১ শতাংশ বেশি।

এর আগে ২০২২ সালেও সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানত ছিল সাড়ে ৫ কোটি সুইস ফ্রাঁ। ২০২৩ সালে যার অনেকটাই সরিয়ে নেওয়া হয়। আর ২০২১ সালে সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের আমানতের পরিমাণ ছিল ৮৭ কোটি ১১ লাখ সুইস ফ্রাঁ।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে বাংলাদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ জমা হয়। সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন দেশ থেকে জমা হওয়া এসব অর্থ সে দেশের দায় হিসেবে আর্থিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশ থেকে অর্থ পাচারের পরিমাণ প্রতিবছরই বাড়ছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ সময়ে এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এসব অর্থ সরাসরি সুইস ব্যাংকে না গিয়ে বিভিন্ন আর্থিক চ্যানেল ও মধ্যবর্তী গন্তব্যের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় জমা হয়েছে, যা মূলত মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচারের বহিঃপ্রকাশ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের আমানত ২০২৫ সালে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছানো এবং এক বছরে ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি শুধু বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে দেখলে পুরো চিত্রটি বোঝা যাবে না। তার মতে, এই অর্থের একটি বড় অংশ আগের কয়েক বছরে দেশ থেকে বিভিন্ন উপায়ে বের হয়ে গেছে এবং ধাপে ধাপে বিদেশি আর্থিক ব্যবস্থায় স্থানান্তরিত হয়েছে। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পাচার কমবে বলে আশা করা হলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। বরং যাদের হাতে বড় অঙ্কের অর্থ ছিল, তারা অনিশ্চয়তার মধ্যে সম্পদ নিরাপদ রাখতে বিদেশে সরিয়ে নিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, অর্থ পাচারের সঙ্গে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। যখন দেশে বিনিয়োগ, সম্পদ সংরক্ষণ বা ব্যবসা পরিচালনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়, তখন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের মধ্যেই অর্থ বিদেশে স্থানান্তরের প্রবণতা বাড়ে। তিনি বর্তমান সরকারের উদ্দেশে বলেন, দীর্ঘ মেয়াদে মানি লন্ডারিং বা অর্থ পাচার রোধ করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথেষ্ট নয়; বরং আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একটি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতিগত পরিবেশই অর্থ পাচার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। অর্থ পাচার বিশ্বের প্রায় সব দেশেই কমবেশি ঘটে। তবে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা যত বাড়ে, পাচারের ঝুঁকিও তত বৃদ্ধি পায়।

এসএনবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইস ব্যাংকগুলোতে বাংলাদেশিদের নামে থাকা এই দায়ের মধ্যে গ্রাহকের আমানত এবং বিভিন্ন ব্যাংকের পাওনা অন্তর্ভুক্ত। তবে এর মধ্যে অধিকাংশই হলো ব্যাংকগুলোর দায়, যা মূলত বাণিজ্য-সম্পর্কিত লেনদেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলোতে জমা অর্থের একটি অংশ পাচার হওয়া সম্পদ হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। অতীতে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) পাচারকারীদের তথ্য চেয়ে সুইজারল্যান্ডের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো ব্যক্তির তথ্য পায়নি। সুইজারল্যান্ডের পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হয়েছে, অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তরের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সরবরাহ করা হলে তারা তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএফআইইউর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা খবরের কাগজকে বলেন, ‘বর্তমান সরকার দেশ থেকে যে অর্থ পাচার হয়েছে, তা ফেরত আনতে বদ্ধপরিকর। সরকারের নির্দেশে আমরা শুরু থেকে সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছি। সুইস ব্যাংকেও আমরা যোগাযোগ করব। কারণ তাদের সঙ্গে আমাদের চুক্তি আছে। সেই অনুযায়ী আমরা কাজ করব।’

বাংলাদেশ ব্যাংক-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশিদের সঞ্চিত অর্থের সবই পাচারকৃত, তা বলা যাবে না। কারণ সুইজারল্যান্ড ও ইউরোপসহ অন্যান্য দেশে বসবাসকারী বাংলাদেশিরাও বৈধভাবে দেশটিতে অর্থ জমা রাখেন। ব্যক্তির পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিকভাবেও অর্থ জমা রাখা হয় সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন ব্যাংকে। একসময়ে সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো পাচার হওয়া অর্থ জমা রাখার জন্য অন্যতম পছন্দের গন্তব্য ছিল। কারণ তখন দেশটির ব্যাংকগুলো এসব তথ্য অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আদান–প্রদান করত না। গোপনে অর্থ গচ্ছিত রাখার জন্য খ্যাত ছিল সুইজারল্যান্ড। কঠোরভাবে গ্রাহকদের নাম-পরিচয় গোপন রাখে সুইস ব্যাংকগুলো। ফলে সুইস ব্যাংকে অবৈধ আয় ও কর ফাঁকির টাকা জমা রাখা হয় বলে এক বিশ্বাস প্রচলিত আছে। এ ছাড়া অর্থ পাচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক চুক্তির আওতায় ছিল না সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকগুলো; কিন্তু গত কয়েক বছরে সেই দৃশ্যপট অনেকটাই পাল্টে গেছে। বর্তমানে অধিকাংশ দেশের সঙ্গেই সুইজারল্যান্ডের চুক্তি রয়েছে। আন্তর্জাতিক নানা চুক্তির কারণে এখন সুইজারল্যান্ড বিভিন্ন দেশের সরকারের চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করে। নির্দিষ্ট গ্রাহকের তথ্য না দিলেও এক দশক ধরে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে সুইস ন্যাশনাল ব্যাংক। এতে বিভিন্ন দেশের আমানতের পরিমাণ উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ জমার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত শীর্ষস্থানে রয়েছে। যার পরিমাণ ৩ দশমিক ২ বিলিয়ন সুইস ফ্রাঁ, যদিও তাদের জমার পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ৮ শতাংশ কমেছে। বাংলাদেশ এই অঞ্চলে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং ভারতের বিপরীত চিত্র হিসেবে এখানে ৪১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। ২০২৫ সালে ভারত, নেপাল, পাকিস্তান ও ভুটান সুইস ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিলেও বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, আফগানিস্তান এবং মালদ্বীপের জমার পরিমাণ বেড়েছে।

সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৫২ পিএম
সময় টিভির সাবেক এমডি জোবায়ের কারাগারে
ছবি: সংগৃহীত

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘সময়’-এর সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আহমেদ জোবায়েরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপর তিনজনের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদ এ আদেশ দেন।

জামিনপ্রাপ্তরা হলেন আহমেদ রাফিদ কাদের ঋভু, শেখ মাহমুদ ইয়াসিন ও সানি চৌধুরী। এর আগে আহমেদ জোবায়েরসহ চারজন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। তাদের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী ফরহাদ হোসাইন বলেন, মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং হয়রানির উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। ‘সময়’ মিডিয়া লিমিটেডের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিশোধমূলকভাবে মোবারক হোসেন বাদী হয়ে এ মামলা করেছেন। প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। মামলার তদন্তে আসামিরা সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করবেন।

আদালতের আদেশ তামিল না করায় বুধবার জোবায়ের ও তার স্ত্রী-সন্তানসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। রাজধানীর কলাবাগান থানায় বিশ্বাসভঙ্গ, প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা এ মামলায় গত ১৩ মে সমন জারি করা হয়েছিল। হাজিরার তারিখ ১৭ জুন বুধবার ধার্য করে সশরীরে অথবা আইনজীবীর মাধ্যমে আদালতে হাজির হয়ে মামলায় অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সমনের আদেশ অনুযায়ী নির্ধারিত তারিখে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।

বর্তমানে পরোয়ানার আওতায় রয়েছেন জোবায়েরের স্ত্রী শামীমা সুলতানা চৌধুরী ও তাদের কন্যা সারাফ নাওয়ার জয়ীতা।

পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৯ জুন ২০২৬, ১২:০২ এএম
পরীমনির প্রেমে জড়িয়ে চাকরি গেল সাকলায়েনের
ছবি: সংগৃহীত

অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রমাণিত হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।

 বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে ছিলেন। এর আগে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) ছিলেন।

ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমনির সঙ্গে নৈতিকতাবহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন গোলাম সাকলায়েন।

এতে আরও বলা হয়, তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক স্থাপন, তার সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন এবং সরকারি বাসভবনে স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে সময় কাটানোর ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এসব ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠিয়ে তাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ তিনি অভিযোগের জবাব দেন এবং ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন। ওই বছরের ২৮ মার্চ তার ব্যক্তিগত শুনানি হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, কারণ দর্শানোর জবাব ও অন্য বিষয় পর্যালোচনা করে অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট একজন তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে ১২ ডিসেম্বর দাখিল করা প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে মতামত দেওয়া হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি তাকে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ১০ মার্চ তিনি ওই নোটিশের জবাব দেন।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও অন্য প্রাসঙ্গিক বিষয় পর্যালোচনা করে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাধ্যতামূলক অবসর প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে পরামর্শ চেয়ে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো হলে কমিশনও তার বিরুদ্ধে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড আরোপের পক্ষে মত দেয়। এরপর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি গত ১৭ জুন এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা অনুমোদন করেন। বিধি অনুযায়ী ‘অসদাচরণের’ দায়ে মো. গোলাম সাকলায়েনকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে।

আমান/এসএন

এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশ: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
আপডেট: ১৮ জুন ২০২৬, ০৯:২৩ পিএম
এসএসসি ফল ঘোষণা ২০ জুলাই, জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল আগামী ২০ জুলাই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে সেশনজট কমাতে পাঠ্যসূচি শেষ হওয়ার পরপরই পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য দেন।
তিনি বলেন, চলতি বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশ্নফাঁস বা কোনও ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই পরীক্ষা আয়োজন সম্ভব হয়েছে, যা সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতার ফল।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সরকারের ঘোষিত ১৮০ দিনের কর্মসূচির আওতায় শিক্ষা খাতে সংস্কার, মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে কাজ করছে মন্ত্রণালয়।
তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের স্থগিত থাকা বৃত্তি পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হয়েছে। বেসরকারি ও কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর অংশগ্রহণ নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতারও সমাধান হয়েছে।

ড. এহসানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সুবিধার জন্য এক বছর আগেই এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক লাখ ২০ হাজার শিক্ষককে আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। শিক্ষা খাতকে আরও আনন্দময় ও মানবিক করতে খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান শিক্ষামন্ত্রী।

এসএন/