ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
পরকালের আয়নায় আপনার কর্মফল দেখেছেন কি? সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফনের তারিখ ঘোষণা নিজেকে সমকামী বলে কটাক্ষের জবাব দিলেন মৌনী ফ্যাশনে বিশ্বকাপ মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা: পাকিস্তান প্রধানমন্ত্রী বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরে প্রশংসিত সঞ্জয় বাংলাদেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা, ১ম পর্ব, এইচএসসির বাংলা ২য় পত্র এআই উদ্ভাবনে মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির কৃতিত্ব, ফাইনালে ‘কগনিভার্স’ ‘সবুজ সাথী’ সম্মাননায় ভূষিত সিলেট সিটি করপোরেশন ঈশ্বরগঞ্জে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ-যুবলীগের ঝটিকা মিছিল ঘরেই মিলবে কৃত্রিম দিনের আলো চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী বিদেশি ঋণনির্ভর ও লুটপাটের বাজেট জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করবে না: গোলাম পরওয়ার শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর রংপুরে অভিনব উপায়ে দল পরিবর্তন করলেন ব্রাজিল সমর্থক সহধর্মিণীকে সঙ্গে নিয়ে ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে তারেক রহমান আইভিএফে যমজ সন্তানের জন্ম, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল না বাবা-মায়ের পরিচয় ১০ জেলা হাসপাতালে আইসিইউ চালু হচ্ছে রবিবার মানুষকে রোগ সম্পর্কে সচেতন করছে তথ্যপ্রযুক্তি তারেক রহমানের ভিশন বাস্তবায়নে যুবদল অগ্রণী ভূমিকা রাখবে: মির্জা ফখরুল গ্রামীণ কাঁচা সড়ক পাকাকরণ জরুরি‎ আন্তর্জাতিক উত্তম চর্চা এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় সংস্কার কিশোরীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে রিকশাচালককে গণপিটুনি রাজবাড়ীতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল সৌদি কারাগারে মৃত্যু, ২৮ দিন পর দেশে মরদেহ ইতিহাস গড়ার পথে হন্ডুরাসের রেফারি সিরাজউদ্দৌলা নাটকের ৪টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, ৪র্থ পর্ব, এইচএসসির বাংলা ১ম পত্র
Nagad desktop

মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের পাশে থাকবে সরকার: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৭ পিএম
আপডেট: ২০ মার্চ ২০২৬, ০৯:২৯ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের পাশে থাকবে সরকার: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আমরা সব সময় প্রবাসীদের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও সব সময় তাদের পাশে থাকব বলে মন্তব্য করেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। 

শুক্রবার (২০ মার্চ) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত মোশাররফ হোসেনের মরদেহ গ্রহণ শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এ কথা বলেন।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মৃত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতাসহ সরকারিভাবে বিধি মোতাবেক যা প্রাপ্য হবে আমরা তা এ পরিবারকে প্রদান করব। সেইসঙ্গে নিহত মোশারফ হোসেনের দুই সন্তানের পড়ালেখার খরচ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় বহন করবে বলে মন্ত্রী  প্রেস ব্রিফিং এ জানান।

পরিবারটিকে আর্থিকভাবে যতটুকু সহযোগিতা করা প্রয়োজন তা সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে বলেও জানান তিনি।

আরিফুল হক চৌধুরী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সব সময় প্রবাসীদের পাশে রয়েছে এবং প্রবাসীদের পাশে থাকবে। যুদ্ধ পরিস্থিতি শেষে পুনরায় আবার যারা ফেরত যেতে চাইবে তাদেরকেও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

মন্ত্রী জানান, মরদেহ হস্তান্তরকালে মন্ত্রী নিহতের পরিবারকে দাফন কার্য সম্পন্নের জন্য পঞ্চাশ হাজার টাকার চেক প্রদান করেন। এছাড়া ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে ঈদের পর নিহতের পরিবারকে তিন লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে।

বিমানবন্দরে উপস্থিত মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে নিহতের পরিবারকে সম্ভাব্য সব রকম আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

এ ছাড়া বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ‘সব প্রবাসীর পাশে আমরা আছি, আমাদের সরকার রয়েছে। এখন বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যেসব দেশে আমাদের প্রবাসীরা রয়েছে তাদের নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচেষ্ট আছে, মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে সরকারি প্রত্যেকটি এজেন্সি সচেষ্ট আছে।’

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধাবস্থায় আমাদের প্রথম প্রায়োরিটি হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশের নাগরিকদেরকে সুরক্ষিত রাখা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। তাদের সুরক্ষিত রাখার জন্য আমাদের যা যা করণীয়  সে ব্যপারে আমাদের মিশনগুলো স্ব স্ব দেশগুলোয় সক্রিয় আছে। আমাদের নাগরিকদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ আছে।’ 

প্রবাসীরা যেন যুদ্ধ অবস্থায় নিরাপত্তার সঙ্গে ভালোভাবে থাকতে পারে মিশনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তা দেখছে বলে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা আশা করছি দ্রুতই যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটবে। বাংলাদেশ চায় যথা শিগগির যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটুক। কূটনীতি ও সংলাপের মধ্য দিয়ে এই সমস্যার সমাধান হোক।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যারা ঐসব দেশ থেকে দেশে আসতে চান তাদেরকে পরিস্থিতি অনুযায়ী নিয়ে আসার জন্য আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রস্তুত ও সচেষ্ট রয়েছে।

সৌদি আরবের আলখারাজ এলাকায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নিহত মোশাররফ হোসেনের মরদেহ আজ শুক্রবার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় রাত ২ টা ২৫ মিনিটে সৌদি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট নং ঝঠ৮০৬ যোগে রিয়াদ হতে ছেড়ে আসে ও ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থানীয় সময় সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে এসে পৌঁছে। নিহত মোশাররফ হোসেনের গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কীর্তনখোলা গ্রামে। তার বাবার নাম সূরজত আলী।

বিমানবন্দরে নিহত মোশাররফ হোসেনের মরদেহ গ্রহণকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম, ওয়েজ আর্নাস কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (কনসুলেট কল্যাণ) দেওয়ান আলী আশরাফ-সহ প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সুমন/

এমআরডিআই-এর মতবিনিময় সভা সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:৫৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
সাংবাদিকতায় দলীয় লেজুড়বৃত্তিমুক্ত পরিবেশ প্রয়োজন: মোস্তফা কামাল
‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন ‘খবরের কাগজ’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল। ছবি: খবরের কাগজ

সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতায় দলীয় প্রভাবমুক্ত, বস্তুনিষ্ঠ এবং সত্যনিষ্ঠ পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন ‘খবরের কাগজ’-এর প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

তিনি বলেন, সাংবাদিকতাকে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক মতাদর্শ বা দলের লেজুড়বৃত্তি থেকে মুক্ত হতে হবে। তবেই গণমাধ্যম প্রকৃত শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে পারবে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে রাজধানীর ফার্মগেটে ডেইলি স্টার ভবনে মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) আয়োজিত ‘গণমাধ্যম কমিশন: সরকারের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

এমআরডিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন  বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ, কমিশনের দুই সদস্য অধ্যাপক গীতি আরা নাসরীন, জিমি আমির। উপস্থিত ছিলেন অ্যাসোসিয়েশন অব টেলিভিশন ওনার্সের মহাসচিব আব্দুস সালাম, দ্য ফাইনান্সিয়্যাল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, সমকালের সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক রিয়াজ আহমেদ, আগামীর সময়ের সম্পাদক মোস্তফা মামুন, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের নির্বাহী সম্পাদক সাখাওয়াত লিটন, চ্যানেল আইয়ের নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, প্রথম আলোর উপসম্পাদক লাজ্জাত এনাব মহছি, দৈনিক সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক শাহরিয়ার করিম, যশোরের সংবাদপত্র লোকসমাজের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু, গ্রামের কাগজের সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, প্রকাশিতব্য দৈনিক ওয়াদার প্রধান সম্পাদক শফিকুল আলম। 

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।  এর পরিপ্রেক্ষিতে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন প্রক্রিয়া, এর পরিধি এবং কমিশনের কাছে অংশীজনদের প্রত্যাশার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মতামত ও পরামর্শ তুলে ধরা ছিল এমআরডিআইয়ের সভার মূল উদ্দেশ্য।

হাল আমলে ফেক নিউজ বা ভুয়া সংবাদের ছড়াছড়ি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মোস্তফা কামাল দাবি করেন, গত তিন বছরে বিভিন্ন গবেষণায় ‘খবরের কাগজ’ ফেক নিউজ মুক্ত হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এরপরও গণমাধ্যমকে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার অতিরিক্ত যাচাই-বাছাই ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘একটি পত্রিকা ডিক্লারেশন নেওয়ার পর সরকারি অনুমোদন পায়। অথচ এরপরও মিডিয়াভুক্ত হওয়ার নামে নানা হয়রানির শিকার হতে হয়। মাসে আড়াই কোটি টাকা খরচ করে একটি প্রতিষ্ঠান চালানোর পর আবার কেন বারবার যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়তে হবে?’ তিনি সরকারি সংস্থাগুলোর এই কার্যক্রমকে এক ধরনের ‘হয়রানি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সরকার গঠিত মিডিয়া কমিশন প্রসঙ্গে সম্পাদক মোস্তফা কামাল বলেন, গণমাধ্যমকে কেবল বিশেষ কোনো রাজনৈতিক লাইনের অনুসারী বা প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। অনেক সময় একই ধরণের সংবাদের জন্য নির্দিষ্ট গণমাধ্যমকে যেভাবে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়, অন্য গণমাধ্যমের ক্ষেত্রে তা করা হয় না। এই বৈষম্য দূর করার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে তিনি সাংবাদিকদের পেশাদারিত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, অতীতের মতো সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম থাকলে গণমাধ্যম অনেক বেশি শক্তিশালী থাকে। সাংবাদিকরা যদি কোনো দলের অনুসারী না হয়ে নিছক পেশাদার হিসেবে কাজ করেন, তবেই দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক সাংবাদিকতা সম্ভব হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থ বা রাজনৈতিক পরিচয় নয়, সত্য ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা করাই হোক সাংবাদিকতার মূল লক্ষ্য।

দেশে সাংবাদিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি কার্যকর ও স্বাধীন ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ (একীভূত প্রতিষ্ঠান) গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে প্রেস কাউন্সিল বিলুপ্ত করার কথা বলা হলেও ২৬-এর আইজেক খসড়ায় প্রেস কাউন্সিলকে রেখে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সারা হোসেন একে ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, ‘একদিকে গণমাধ্যম কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, আবার ৫০ বছরের পুরনো প্রেস কাউন্সিলকেও রাখা হচ্ছে। এতে কাজের ওভারল্যাপিং হবে। একটি ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ বা একীভূত প্রতিষ্ঠান হওয়াই সবচেয়ে যৌক্তিক।’

আইজেক খসড়ায় নির্বাচক কমিটিতে কেবল একজন সরকারি প্রতিনিধি (ক্যাবিনেট সেক্রেটারি) রাখার ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের অভিজ্ঞতার আলোকে এই সিলেকশন প্রক্রিয়া যেন অত্যন্ত স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক মানের হয়, তা বিধিমালায় স্পষ্ট করতে হবে।’ এছাড়া ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেন দুই বছর পার হলেই নিয়োগ না পান, সেই অযোগ্যতার ধারাটি কঠোর করার তাগিদ দেন তিনি।

মোবাইল জার্নালিজমের এই যুগে সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, ‘যোগ্যতা নির্ধারণ যেন কোনোভাবেই লাইসেন্সিং-এর মতো না হয়ে দাঁড়ায়। এটি বাধ্যতামূলক না করে বরং প্রশিক্ষণ, প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ও অ্যাক্রেডিটেশনের সুযোগ রাখা উচিত।’

আইজেকের খসড়ায় কমিশনকে জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। দেশের অতীত প্রেক্ষাপট ও সাংবাদিকদের ওপর জুলুম-হয়রানির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারা হোসেন বলেন, ‘ফাইন বা জরিমানা করাকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এটি অন্য কোনো বড় সাজা বা হয়রানির চেয়ে ভালো।’

আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘কনফিডেনশিয়ালিটি অব সোর্সেস’ বা সোর্সের গোপনীয়তা সুরক্ষার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

গণমাধ্যম খাতে যে নৈরাজ্য বিরাজ করছে, তার উল্লেখ করে কামাল আহমেদ বলেন, ‘এই নৈরাজ্যের মধ্যে কেবল একটি কমিশন কাজ করতে পারবে না। গণমাধ্যম খাতে যে সীমাহীন বিশৃঙ্খলা, আগে সেখানে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে। কোনো নীতিমালা বা স্বচ্ছতা ছাড়াই প্রতিষ্ঠান খোলার যে প্রবণতা, তা বন্ধ করতে হবে।’

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন থেকে আগেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ তুলে দেওয়া হয়েছিল বলে জানান কামাল আহমেদ। তার মতে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। 
একটি হাউসের নিয়ন্ত্রণে থাকা গণমাধ্যমের সংখ্যা সীমিত রাখা; দৈনিক পত্রিকার সার্কুলেশন এবং টেলিভিশনের টিআরপি নির্ধারণে শৃঙ্খলা ফেরাতে পরিদর্শন ব্যবস্থায় নাগরিক সমাজ ও বিজ্ঞাপনদাতাদের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা এবং পত্রিকাগুলোর টার্নওভার ট্যাক্স ও অডিট রিপোর্ট যাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সার্কুলেশন ও আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো নিয়ে আবারও তিনি গণমাধ্যমের মালিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি স্পষ্ট করেন যে, ‘কমিশনকে কেবল ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে কাজ করতে হবে এবং এর আইনি ভিত্তি এমন হতে হবে যেন সরকারের হস্তক্ষেপ ছাড়াই তারা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’

জয়ন্ত সাহা/এসএন

মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
মাদক কারবারে হাজার কোটিপতির উত্থান, দাবি ভূমিমন্ত্রীর
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলে গত ২০ বছরে মাদক ব্যবসার মাধ্যমে প্রায় এক হাজার ব্যক্তি কোটিপতি হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, এসব মাদক কারবারিকে দ্রুত চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং এ বিষয়ে পুলিশকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (১৩ জুন) সকালে নগরীর একটি হোটেলে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয় আয়োজিত ‘নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইন সুরক্ষা: চ্যালেঞ্জ ও প্রতিকার’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, এক সময় সামাজিক সম্প্রীতি, পারিবারিক বন্ধন ও নিরাপত্তার কারণে রাজশাহী বিশ্বের অন্যতম সুখী শহর হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু গত ২০ বছরে মাদক ও কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে সেই পরিবেশে পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদক ব্যবসা করে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী এবং নারী ও শিশু নির্যাতনকারীরা জাতির শত্রু। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। নিরাপদ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সাধারণ জনগণকে একযোগে কাজ করতে হবে।

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, শিশুদের সুশিক্ষিত ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব শুধু রাষ্ট্রের নয়, পরিবারেরও। পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী হলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমে আসবে এবং শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদা শারমিন নেলী এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. হারুনুর রশিদ।

রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন এবং নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. ফজলে হুদা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ, সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এ এইচ এম মাহমুদুর রহমান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শারমিন আক্তার এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।

সেমিনারে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা ও এনজিও প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। বক্তারা নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, দ্রুত বিচার এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এনায়েত করিম/এসএন

চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
চকরিয়া থেকে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির যাত্রা শুরু
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

বিএনপির নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুর ২টা ৫৫ মিনিটে কক্সবাজারের মালুমঘাট সংরক্ষিত বনাঞ্চলে নিজ হাতে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “আমাদের ইচ্ছে প্রতি বছর অন্তত পাঁচ কোটি গাছ লাগানো। আপনার সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে, আগামী প্রজন্ম যেন একটি সুন্দর পৃথিবীতে বসবাস করতে পারে, সে লক্ষ্যেই আজ থেকে সবাই যার যেখানে সম্ভব অন্তত একটি করে গাছ লাগান। আমরা যদি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে সফল করতে পারি, তাহলে আগামী প্রজন্ম দূষণমুক্ত পরিবেশ ও বিশুদ্ধ বাতাসে শ্বাস নেওয়ার সুযোগ পাবে। আমরা এমন একটি পরিবেশ উপহার দিতে চাই, যেখানে মানুষ নির্মল বাতাসে জীবনযাপন করতে পারবে।”

এর আগে প্রধানমন্ত্রী ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পার্কের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তার প্রথম কক্সবাজার সফর। শনিবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে তিনি কক্সবাজার বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিএনপির নেতারা তাকে স্বাগত জানান।

দিনব্যাপী প্রায় ১২ ঘণ্টার এ সফরে প্রধানমন্ত্রী ১১টি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। তার আগমনকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে স্থানীয় জনগণের উদ্দেশে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, “বিএনপির রাজনীতিই মানুষের জন্য। ভোটের কালি শুকানোর আগেই আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি।”

জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। তবে মদ ও সিগারেটের ওপর কর বৃদ্ধি পাওয়ায় বিরোধীদল দুঃখ প্রকাশ করছে।”

পরে তিনি পেকুয়ায় গিয়ে জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। একই সফরে পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলা প্রতিষ্ঠার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনেরও কথা রয়েছে।

বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এ জনসভাকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

জনসভা শেষে তিনি কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ সড়ক ও সমুদ্রসৈকত এলাকা পরিদর্শন করবেন। সফরের শেষ পর্যায়ে হোটেল লং বীচের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সুধী সমাবেশে অংশ নেবেন তিনি।

সব কর্মসূচি শেষে রাত প্রায় ১০টার দিকে আকাশপথে ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারজুড়ে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দীর্ঘদিন পর এমন উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় সফরে নতুন প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে উঠেছে দেশের প্রধান পর্যটন নগরী কক্সবাজার।

তারেকুর রহমান/এসএন

রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪৮ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম
রাজশাহীতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন ভূমিমন্ত্রী
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি। ছবি: খবরের কাগজ

পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের ঘোষিত পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহীতে আনুষ্ঠানিকভাবে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু এমপি।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স মাঠে নিম গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ভূমিমন্ত্রী।

এর আগে একই দিনে কক্সবাজারের ডুলাহাজারায় দেশব্যাপী এই কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে সারাদেশের মতো রাজশাহীতেও একযোগে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু হয়।

রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ কদম চারা, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন জাম চারা, রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির কাঁঠাল চারা, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম কাঠবাদাম চারা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছান আম চারা, সামাজিক বন বিভাগ বগুড়ার বন সংরক্ষক মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম জলপাই চারা এবং সামাজিক বন বিভাগ রাজশাহীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম আমলকী চারা রোপণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন এবং দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে উপস্থিত অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি জয়নাল আবেদীন শিবলী, সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল আলম মিলু, মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, মহানগর কৃষক দলের সভাপতি শরফুজ্জামান শামীম, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেক, সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান জনি, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিন, সদস্য সচিব এমদাদুল হক লিমনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।

কর্মসূচির আওতায় নিম, কদম, কাঠবাদাম, জাম, চালতা, আম, পেয়ারা, কাঁঠাল, জলপাই ও আমলকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রাজশাহীতেও পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, সড়কের পাশ এবং খাসজমিতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

রিফাত/

শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:৪৪ পিএম
শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত ও পরিবারকে সহায়তা প্রধানমন্ত্রীর
শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: খবরের কাগজ

জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের প্রথম শহিদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) দিনব্যাপী কক্সবাজার সফরের অংশ হিসেবে পেকুয়ায় গিয়ে তিনি শহিদ ওয়াসিমের কবর জিয়ারত করেন এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

কবর জিয়ারতের সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ, সংসদ সদস্য, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং শহিদ ওয়াসিম আকরামের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জিয়ারত শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শহিদ ওয়াসিম আকরামের মা জোসনা বেগমের হাতে ২০ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন। এ সময় শহিদ ওয়াসিমের বাবা শফিউল আলমসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং শহিদ ওয়াসিম আকরামের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহিদদের অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাদের ত্যাগ দেশের ইতিহাসে অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

এ সময় পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শহিদ ওয়াসিম আকরামের স্মৃতি সংরক্ষণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার দিনব্যাপী কক্সবাজার সফরে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। সফরের অংশ হিসেবে তিনি পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন, ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন, দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম পরিদর্শন এবং জনসভায় অংশগ্রহণসহ গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছেন।

তারেকুর রহমান/এসএন