১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক সংঘটিত নৃশংসতাকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদে একটি দ্বিপাক্ষিক প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে। ‘এইচ. রেজ. ১১৩০’ (H. RES. 1130) শীর্ষক এই প্রস্তাবটি গত ২০ মার্চ রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষের সমর্থনে উত্থাপন করেন কংগ্রেসম্যান গ্রেগ ল্যান্ডসম্যান।
প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনার জন্য হাউস কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্সে পাঠানো হয়েছে।
উত্থাপিত রেজোলিউশনে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে শুরু হওয়া ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছে।
এতে উল্লেখ করা হয়, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত উগ্রপন্থি গোষ্ঠীগুলো সাধারণ নাগরিকদের ওপর পদ্ধতিগতভাবে গণহত্যা চালায়। তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের কনসাল জেনারেল আর্চার ব্লাড ঢাকা থেকে পাঠানো তার টেলিগ্রামে এই ঘটনাকে ‘সুনির্দিষ্ট গণহত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।
২০২৬ সালের এই প্রস্তাবে প্রায় ২ লাখ নারীর ওপর যৌন নির্যাতন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্য করে চালানো বিশেষ দমন-পীড়নের তথ্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন ১৯৭১ সালে জাতিগত বাঙালি এবং বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর চালানো এসব নৃশংসতাকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’, ‘যুদ্ধাপরাধ’ এবং ‘গণহত্যা’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
দলিলে আরও বলা হয়, ইতিহাসের এই কালো অধ্যায়টি নথিবদ্ধ করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অপরিহার্য, যাতে এই ধরনের নৃশংসতার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হয়।
জয়ন্ত সাহা/অমিয়/