রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কলেজ গেট এলাকার মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ার-১-এ অবস্থিত পাঁচটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং দুটি ব্লাড ব্যাংকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পৃথক দুটি পরিদর্শন টিমের ঝটিকা অভিযানে বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা ধরা পড়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের ইনডোর, ওটি ও আইসিইউসহ যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধের এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকসহ) বরাবর দাখিল করা পরিদর্শন প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। পরিদর্শন টিমে ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (হাসপাতাল-১) ডা. সৈয়দ আবু আহাম্মদ শাফী, সহকারী পরিচালক ডা. মো. মাহমুদুর রহমান, ডা. আহসানুল হক এবং অন্য কর্মকর্তারা।
যমুনা হাসপাতাল:
প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্সের মেয়াদ গত বছরের ৩০ জুন উত্তীর্ণ হয়েছে। এই হাসপাতালে ২০ শয্যার অনুমোদন থাকলেও পরিদর্শনে সেখানে ২৯টি শয্যা পাওয়া গেছে। পরিদর্শনকালে কোনো মেডিকেল অফিসার উপস্থিত ছিলেন না। আইসিইউ ও অপারেশন থিয়েটারের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক ও অপরিচ্ছন্ন দেখা গেছে। ক্লিনিক লাইসেন্সিং বিধি অনুযায়ী চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবলের কোনো তালিকা পাওয়া যায়নি। রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সবাই বিভিন্ন অবৈধ প্রক্রিয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। অনিয়মের কারণে হাসপাতালটির আইসিইউ, এনআইসিইউ ও ইনডোরে রোগী ভর্তি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং চিকিৎসাধীন ৪ জন রোগীকে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রয়্যাল মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার:
১০ শয্যার বিপরীতে ১৯ শয্যা পরিচালনা করা এই প্রতিষ্ঠানের অপারেশন থিয়েটার ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনো পোস্ট অপারেটিভ রুম নেই এবং স্যাম্পল কালেকশন রুমও অত্যন্ত অপরিসর।
ঢাকা হেলথ কেয়ার হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার:
৫০ শয্যার এই হাসপাতালে পুরুষ ওয়ার্ডে কোনো বাথরুম পাওয়া যায়নি এবং দেয়াল ড্যাম্প ধরা অবস্থায় ছিল। আইসিইউ এবং এনআইসিইউতে কর্মরত চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। জরুরি বিভাগের ফ্লোরে ক্ষতিকর কার্পেট বিছানো থাকায় এবং অন্যান্য অসংগতির কারণে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাল্টি স্পেশালাইজড হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার:
৩ বছর আগে লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটির পরিবেশ অত্যন্ত অপরিচ্ছন্ন ও জীবাণু সংক্রমণে ঝুঁকিপূর্ণ পাওয়া গেছে। কোনো ডিউটি ডাক্তার বা নার্সের নিয়োগপত্র না থাকায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এর সব স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রাইম অর্থোপেডিক ও জেনারেল হসপিটাল:
এখানে মেডিকেল অফিসারকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে সেবা প্রদান এবং আইসিইউতে ভুল তথ্য দিয়ে রোগীদের কাছ থেকে ভুয়া বিল তৈরির প্রমাণ পেয়েছে পরিদর্শন টিম। প্রতিষ্ঠানটির আইসিইউ, এনআইসিইউ, ইনডোর এবং ওটির কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
ব্লাড ব্যাংক:
অভিযানে রেডিয়াম ব্লাড ব্যাংক অ্যান্ড টিসিতে অনলাইন ডেটাবেজে থাকা জনবলের কাউকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে প্রাইম ব্লাড ব্যাংক পরিদর্শনকালে বন্ধ পাওয়ায় লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গের দায়ে এর সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে।
তলব ও পরবর্তী ব্যবস্থা
অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মালিক, কর্তব্যরত চিকিৎসক ও নার্সদের আগামী ৫ থেকে ৮ এপ্রিলের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালকের (হাসপাতাল) সঙ্গে সাক্ষাৎ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানকে আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ এবং ৩০ কর্মদিবসের মধ্যে ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।