ঢাকা ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
সফল ব্যবসায়ী হতে চাইলে এড়িয়ে চলুন ৯টি বিষয় মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২ ভয়ই ব্রাজিলকে সতর্ক রাখবে: আনচেলত্তি বোয়ালমারীতে মাদকের বিরুদ্ধে ‘মিনি ফুটবল বিশ্বকাপ’ উদ্বোধন আসামে ভারতীয় বিমানবাহিনীর পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত শরীয়তপুরে নারীকে চুল কেটে, আলকাতরা মেখে খুঁটিতে বেঁধে রাখল প্রতিপক্ষ নগরীর কোলাহলমুক্ত সবুজ উদ্যান রমনা চুয়াডাঙ্গায় অপহরণের ৯ দিন পর যুবকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের হামলায় ১৭ কৃষক নিহত লাইনে বিড়াল ঢুকে পড়ায় সাময়িক বন্ধ ছিল মেট্রোরেল গাজীপুর পোশাক কারখানায় আগুন কসবায় হজযাত্রীর লাগেজ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০ নিখোঁজ নাটকের অবসান, ‘গুপ্ত’ ছিলেন শিবির নেতা জিসান! যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের পর ঐক্যের গান গাইলেন পচেত্তিনো মীনা বাজারে চাকরির সুযোগ, শুক্র-শনিবার ছুটি ইংল্যান্ডের ফুটবল ও বুট চুরি করল কে? গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী গোপালগঞ্জে নিখোঁজের ৩ দিন পর যুবকের মরদেহ উদ্ধার বাজেটে জনগণের স্বস্তি হলেও বিরোধী দলের অস্বস্তি: প্রধানমন্ত্রী লক্ষ্মীপুরে ইউপি কার্যালয়ে চুরি শাবিপ্রবি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ জ্বালানিপ্রতিষ্ঠানে ড. সাকিব বিশ্বকাপ উন্মাদনায় কুইজ ও রিচার্জ অফার, থাকছে জামাল ভূঁইয়ার সাথে খেলা দেখার সুযোগ গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটির অগ্রণী ভূমিকা ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে বিশেষ আয়োজন জীবের বৃদ্ধি ও বংশগতি অধ্যায় থেকে ৫টি বহুনির্বাচনি প্রশ্ন ও উত্তর, ৬ষ্ঠ পর্ব, অষ্টম শ্রেণির বিজ্ঞান গাড়ি ভেঙে ইংল্যান্ড দলের সরঞ্জাম চুরি, গ্রেপ্তার ২ কার্যকর জবাবদিহি নিশ্চিতে ব্যবস্থা নিন শুধু সংখ্যা বাড়াতে বিশ্বকাপে আসেনি হাইতি বোয়ালমারীতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা
Nagad desktop

গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ

প্রকাশ: ০২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৮ পিএম
গণভোটসহ ২০ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ
ছবি: সংগৃহীত

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই শেষে ২০টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে জাতীয় সংসদের গঠিত বিশেষ কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ষষ্ঠ দিনে সংসদে এই প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয়। এতে বলা হয়েছে, আলোচিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ৯৮টি অবিকল বহাল রাখা হয়েছে, ১৫টি সংশোধন করে আইন হিসেবে গ্রহণ এবং ২০টি বাতিল বা বিলুপ্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে রাত পৌনে ৮টার দিকে কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন প্রতিবেদনটি সংসদে উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশগুলো দ্রুত পর্যালোচনা করে আইনগত কাঠামোর মধ্যে আনতেই এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, বাতিলের তালিকায় থাকা ২০টির মধ্যে ১৬টি অধ্যাদেশ আপাতত সংসদে বিল আকারে উত্থাপন না করে ভবিষ্যতে নতুন করে আরও শক্তিশালীরূপে আনার সুপারিশ করা হয়েছে। আর বাকি চারটি অধ্যাদেশ স্থায়ীভাবে রহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনের ওপর এখন সংসদে আলোচনা শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের বড় অংশই আইন হিসেবে বহাল রাখার পথে এগোচ্ছে। কমিটি বলেছে, ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই সংসদে উত্থাপন করে পাস করা যেতে পারে।

এদিকে সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধ্যাদেশ জারির পর পরবর্তী সংসদ অধিবেশনে উত্থাপন এবং ৩০ দিনের মধ্যে পাস না হলে অধ্যাদেশগুলো বাতিল হয়ে যাওয়ার বিধান রয়েছে। সে হিসাবে এই ২০টি অধ্যাদেশ আগামী ১২ এপ্রিলের মধ্যে ল্যাপস হয়ে যাবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো অধ্যাদেশগুলোর আলোকে বিল উত্থাপন ও পাস না হলে এগুলোর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে ১২টি অধ্যাদেশে জামায়াতের তিন সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান ও গাজী নজরুল ইসলাম নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছেন। বাতিল হওয়া কিছু অধ্যাদেশ সংশোধন করে বিল আকারে সংসদে আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

১৬টি বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ
বিশেষ কমিটি ১৬টি অধ্যাদেশ এখনই বিল আকারে উত্থাপন না করে পরবর্তী সময়ে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে সংসদে উত্থাপনের সুপারিশ করেছে। সেগুলো হচ্ছে–গণভোট অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা (সংশোধন), মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন), কাস্টমস (সংশোধন), আয়কর (সংশোধন), জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (দ্বিতীয় সংশোধন), দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন), বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন), বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন), মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, মাইক্রো ফাইন্যান্স ব্যাংক এবং তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ। 

বিশেষ কমিটির মতে, এসব অধ্যাদেশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও এখনই আইন হিসেবে পাস করার মতো পর্যাপ্ত পর্যালোচনা হয়নি। তাই এগুলো আপাতত বাতিল হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো ভবিষ্যতে নতুন করে বিল আকারে সংসদে আনতে পারে।

৪ অধ্যাদেশ স্থায়ীভাবে বাতিলের প্রস্তাব
বিশেষ কমিটি চারটি অধ্যাদেশ সরাসরি রহিত করার সুপারিশ করেছে। এগুলো হলো–জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় সংশোধন অধ্যাদেশ। কমিটির মতে, এসব অধ্যাদেশ বর্তমান সাংবিধানিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং আইন হিসেবে বহাল রাখার প্রয়োজন নেই।

অন্যদিকে ১৫টি অধ্যাদেশ সংশোধনের মাধ্যমে আইন হিসেবে প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। সেগুলো হলো–নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন), ব্যাংক রেজল্যুশন, সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন), কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (দ্বিতীয় সংশোধন), জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা, বাংলাদেশ শ্রম অধ্যাদেশ (সংশোধন), মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন অধ্যাদেশ, পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ দমন অধ্যাদেশ, ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন), বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা (সংশোধন) এবং বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ।

বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’
প্রতিবেদনটি সর্বসম্মত হলেও ২০টি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির বিরোধীদলীয় সদস্যরা দ্বিমত পোষণ করেছেন এবং ‘নোট অব ডিসেন্ট’ প্রদান করেছেন। তাদের আপত্তির জায়গাগুলো হলো, অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা চারটি অধ্যাদেশ। অধ্যাদেশগুলো হলো–জেলা পরিষদ (সংশোধন), উপজেলা (সংশোধন), স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন), স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) অধ্যাদেশ। দুটি অধ্যাদেশ সংশোধনের সুপারিশ করা হয়। বাতিল করে পুনরায় বিল আকারে আনার তালিকায় থাকা ১১টি অধ্যাদেশ। স্থায়ীভাবে বাতিলের তালিকায় থাকা তিনটি অধ্যাদেশ। তাদের মতে, কিছু অধ্যাদেশ অপরিবর্তিতভাবে বহাল রাখা বা বাতিলের সিদ্ধান্ত যথাযথ নয়।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ এবং সুপ্রিম কোর্টের কুদরত-ই-ইলাহী পনির বনাম বাংলাদেশ মামলার রায়ের আলোকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহে অনির্বাচিত প্রশাসক নিয়োগ সংবিধানবিরোধী ও বেআইনি। অতএব উক্ত অধ্যাদেশসমূহ আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন ১৩ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি ধারাবাহিক তিনটি বৈঠকে অধ্যাদেশগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সংসদীয় কমিটির এই প্রতিবেদনটি এরপর সংসদে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য গৃহীত হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইনি পদক্ষেপগুলোকে স্থায়ী রূপ দিতেই এই যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সংসদে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে আবারও আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক এ বিষয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, সংসদের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো সরকারি দলের সদস্যের আনা মুলতবি প্রস্তাব আলোচনার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে। কার্যপ্রণালি বিধির ৬৫(২) অনুযায়ী প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং আগামী ৫ এপ্রিল এ বিষয়ে ২ ঘণ্টা আলোচনা হবে।

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে গণভোটের ফলাফল কার্যকর করার বিষয়টি এখনো স্পষ্ট নয়। সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশনও এখনো আহ্বান করা হয়নি। এ কারণে বিষয়টি নিয়ে সংসদে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিপুলসংখ্যক অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সংসদীয় কমিটির এই প্রতিবেদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এসব অধ্যাদেশের মধ্যেই রয়েছে নির্বাচন, প্রশাসন, মানবাধিকার, অর্থনীতি ও বিচারব্যবস্থাসংক্রান্ত বহু গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত। একদিকে সংসদীয় যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অনেক অধ্যাদেশ স্থায়ী আইন হওয়ার পথে এগোচ্ছে, অন্যদিকে বিতর্কিত বা অসম্পূর্ণ কিছু অধ্যাদেশ বাতিল বা পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে। ফলে এসব ইস্যুতে সংসদে সামনে যে আলোচনা হতে যাচ্ছে, তা কেবল আইনি কাঠামো নয়, দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক রূপান্তরের দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম
মে মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৬২২, আহত ১৬৫২
প্রতীকী ছবি

মে মাসে দেশে ৬১৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬২২ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৫২ জন আহত হয়েছেন। এ মাসে রেলপথেই ৪২টি দুর্ঘটনায় ৩৪ জন নিহত, ২৯ জন আহত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে।

শনিবার (১৩ জুন) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নৌপথে ২১টি দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ জন, আহত ১৫ জন ও ৭ জন নিখোঁজ রয়েছে।

সড়ক, রেল ও নৌপথে সর্বমোট ৬৭৬টি দুর্ঘটনায় ৬৭১ জন নিহত এবং ১ হাজার ৬৯৬ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে ২২১ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ২৩১ জন নিহত, ২১৯ জন আহত হয়েছে; যা মোট দুর্ঘটনার ৩৬.০৫ শতাংশ, নিহতের ৩৭.১৩ শতাংশ ও আহতের ১৩.২৫ শতাংশ।

এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১৮০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৫ জন নিহত ও ৫৫৮ জন আহত হয়েছে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে ২৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৮ জন নিহত ও ৬৭ জন আহত হয়েছে। 

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত হতাহতের ঘটনা আরো বেশ কয়েকগুন বাড়তে পারে। যা সংবাদপত্রে স্থান না পাওয়ায় তুলে আনা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরা হয়, সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৬ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ১৩৯ জন চালক, ১২১ জন পথচারী, ১১৩ জন পরিবহন শ্রমিক, ৯৬ জন শিক্ষার্থী, ৮ জন শিক্ষক, ৯৩ জন নারী, ৬৮ জন শিশু, ২ জন চিকিৎসক, ৩ জন সাংবাদিক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১ আইনজীবী এবং ৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে।

নিহতদের মধ্যে নিহত হয়েছে ২ জন পুলিশ সদস্য, ২ জন বিজিবি সদস্য, ১ জন চিকিৎসক, ১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ১৩৬ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ১১০ জন পথচারী, ৬৯ জন নারী, ৫৯ জন শিশু, ৭৩ জন শিক্ষার্থী, ৪৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৮ জন শিক্ষক, ১ আইনজীবী ও ৩ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এ সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৯৭৫ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৮.৬৯ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.১০ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৪.৪৫ শতাংশ বাস, ১২.৯৭ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৬.৫৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৭.৪৮ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬.৭৫ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৩২.৩০ শতাংশ গাড়ি চাপা বা ধাক্কা দেওয়ার ঘটনা, ৪২.০৮ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৮.৯২ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৫.৫৪ শতাংশ বিবিধ কারণে, ০.৩২ চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং ০.৮১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।
 
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪৪.৬৯ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩০.৬৬ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ১৮.১০ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৫.২২ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৮ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ০.৮১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

আমান/

লাইনে বিড়াল ঢুকে পড়ায় সাময়িক বন্ধ ছিল মেট্রোরেল

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৫ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৮ পিএম
লাইনে বিড়াল ঢুকে পড়ায় সাময়িক বন্ধ ছিল মেট্রোরেল
প্রতীকী ছবি

শাহবাগ স্টেশনে লাইনে একটি বিড়াল ঢুকে পড়ায় মেট্রোরেল চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে বিড়ালটি উদ্ধারের পর মেট্রো চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক করা হয়।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টা ৪০ মিনিট থেকে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত সাময়িক অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ এবং যাত্রীদের ধৈর্য ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।

তবে স্টেশনের ঠিক কোন পয়েন্টে দিয়ে বিড়ালটি ঢুকেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বর্তমানে যাত্রীসেবা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

অমিয়/

গাজীপুর পোশাক কারখানায় আগুন

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৩৪ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
গাজীপুর পোশাক কারখানায় আগুন
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ‘মেট্রিক্স স্টাইলস্ সোয়েটার’ নামের একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। 

শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে কারখানার ৬ষ্ঠ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। 
 
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুন জানান, শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার কিছু পরে গাজীপুরের মালেকের বাড়ি এলাকায় ম্যাট্রিক্স স্টাইলস্ লিমিটেড নামের কারখানার ভেতর থেকে ধোঁয়া ও আগুনের শিখা বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তেই শ্রমিক ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। 

আগুনের খবর পেয়ে ভোগড়া মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিটের প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই কারখানার ষষ্ঠ তলা থেকে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমে শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়।

পলাশ প্রধান/অন্তরা

গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৫০ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
গণমাধ্যম সংস্কারে ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ গঠনের তাগিদ
এমআরডিআই আয়োজিত দেশে একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময়। খবরের কাগজ

দেশে সাংবাদিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে একটি কার্যকর ও স্বাধীন ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’(একীভূত প্রতিষ্ঠান) গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন।

একই সঙ্গে তিনি মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের (গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন) ২০২৫ সালের প্রস্তাবনা এবং পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইজেক) ইন্টারভিউ থেকে প্রাপ্ত আইনের খসড়াটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনার আহ্বান জানান। 

শনিবার (১৩ জুন) মিডিয়া রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই) আয়োজিত দেশে একটি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল গণমাধ্যম কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সম্প্রতি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণার প্রেক্ষিতে এই আলোচনার আয়োজন করেছে সংস্থাটি।

এমআরডিআই জানায়, প্রস্তাবিত স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন প্রক্রিয়া, এর পরিধি এবং কমিশনের কাছে অংশীজনদের প্রত্যাশার ব্যাপারে সুস্পষ্ট মতামত ও পরামর্শ তুলে আনাই এই সভার মূল উদ্দেশ্য। 

আলোচনা সভায় উপস্থিত রয়েছেন খবরের কাগজের প্রকাশক ও সম্পাদক মোস্তফা কামাল।

সারা হোসেন বলেন, ‘আমাদের বর্তমান আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অত্যন্ত খণ্ডিত। প্রেস কাউন্সিল প্রায় অকার্যকর। এছাড়া বিটিআরসি, আদালত কিংবা কপিরাইট অফিস- সব আলাদা আলাদা ফোরাম কাজ করছে, যা মোটেও কার্যকর নয়। অথচ পার্শ্ববর্তী দেশ পাকিস্তান কিংবা যুক্তরাজ্যে ওভাররাইডিং রেসপন্সিবিলিটিসহ সুনির্দিষ্ট বডি রয়েছে।’

গণমাধ্যম সংস্কারে দুই খসড়ার তুলনামূলক বিশ্লেষণ ও সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরে তিনি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট উল্লেখ করেন। আইজেকের খসড়া অনুযায়ী ৯ সদস্যের একটি ‘জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের প্রস্তাব রয়েছে, যার অধিকাংশ সদস্যই আসবেন মিডিয়া সেক্টর থেকে। এই কমিশন গণমাধ্যমের স্ট্যান্ডার্ড সেট করা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে। 

তবে সারা হোসেন জোর দিয়ে বলেন, ‘‘কমিশন যেন নিজেই সব নিয়ন্ত্রণ না করে, বরং মিডিয়ার নিজস্ব স্ট্যান্ডার্ড সেটিংয়ে ‘ফ্যাসিলিটেটর’ বা সহায়ক হিসেবে ভূমিকা রাখে। এখানে সেলফ-রেগুলেশন (আত্ম-নিয়ন্ত্রণ) অত্যন্ত জরুরি।’’

সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে প্রেস কাউন্সিল বিলুপ্ত করার কথা বলা হলেও ২৬-এর আইজেক খসড়ায় প্রেস কাউন্সিলকে রেখে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। সারা হোসেন একে একটি ‘রিস্ক’ বা ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। 

তিনি বলেন, একদিকে গণমাধ্যম কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, আবার ৫০ বছরের পুরনো প্রেস কাউন্সিলকেও রাখা হচ্ছে। এতে কাজের ওভারল্যাপিং হবে। একটি ‘ইউনিফাইড ইনস্টিটিউশন’ বা একীভূত প্রতিষ্ঠান হওয়াই সবচেয়ে যৌক্তিক।

প্রস্তাবিত কমিশনের আর্থিক স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিত করতে রিফর্ম কমিশনের ১ শতাংশ কন্ট্রিবিউশন মডেলের প্রশংসা করেন তিনি, যেখানে মিডিয়া হাউসগুলোর নিজস্ব কন্ট্রিবিউশনের পাশাপাশি সরকারের গ্রান্ট ও বিদেশি অনুদান গ্রহণের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া কমিশনে দেশের বৈচিত্র্য রক্ষায় মাইনরিটি রেপ্রেজেন্টেশন (সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্ব) রাখার প্রস্তাবকে স্বাগত জানান তিনি।

আইজেক খসড়ায় সিলেকশন কমিটিতে কেবল একজন সরকারি প্রতিনিধি (ক্যাবিনেট সেক্রেটারি) রাখার ইতিবাচক দিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগের অভিজ্ঞতার আলোকে এই সিলেকশন প্রক্রিয়া যেন অত্যন্ত স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও আন্তর্জাতিক মানের হয়, তা বিধিমালায় স্পষ্ট করতে হবে। এছাড়া ফৌজদারি অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যেন দুই বছর পার হলেই নিয়োগ না পান, সেই ডিসকোয়ালিফিকেশন বা অযোগ্যতার ধারাটি কঠোর করার তাগিদ দেন তিনি।

মোবাইল জার্নালিজমের এই যুগে সাংবাদিকদের জন্য সুনির্দিষ্ট শিক্ষাগত বা প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা বাধ্যতামূলক করার বিরোধিতা করেন সারা হোসেন। তিনি বলেন, যোগ্যতা নির্ধারণ যেন কোনোভাবেই লাইসেন্সিং-এর মতো না হয়ে দাঁড়ায়। এটি বাধ্যতামূলক না করে বরং প্রশিক্ষণ, প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ও অ্যাক্রেডিটেশনের সুযোগ রাখা উচিত।

আইজেকের খসড়ায় কমিশনকে জরিমানা করার ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। দেশের অতীত প্রেক্ষাপট ও সাংবাদিকদের ওপর জুলুম-হয়রানির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে সারা হোসেন বলেন, ফাইন বা জরিমানা করাকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই, কারণ এটি অন্য কোনো বড় সাজা বা হয়রানির চেয়ে ভালো। তবে জরিমানা করার আগে নোটিশ দেওয়া, জবাব দেওয়া এবং আপিল করার একটি অত্যন্ত স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া (ডিউ প্রসেস) থাকতে হবে, যা রুলসের ওপর ছেড়ে না দিয়ে মূলেই রাখা দরকার।

এছাড়া আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ‘কনফিডেনশিয়ালিটি অব সোর্সেস’ বা সোর্সের গোপনীয়তা সুরক্ষার ওপর কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ব্যারিস্টার সারা হোসেন মনে করেন, সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনা এবং পরবর্তী খসড়া দুটি গণমাধ্যম সংস্কারের আলোচনাকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য একটি চমৎকার ভিত্তি তৈরি করেছে এবং নির্বাচিত সরকারের উচিত এই সুযোগটি কাজে লাগানো।

জয়ন্ত সাহা/অন্তরা/

মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৩ জুন ২০২৬, ১২:৪৭ পিএম
আপডেট: ১৩ জুন ২০২৬, ০১:০২ পিএম
মদে ট্যাক্স বাড়ানোই বিরোধী দলের দুঃখ: প্রধানমন্ত্রী
খাল পুনর্খনন শেষে পথসভায় বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী: খবরের কাগজ

মদ ও সিগারেটের ওপর কর বাড়ানো কারণে তা বিরোধী দলের দুঃখতে পরিণত হয়েছে, তাই তারা বাজেট নিয়ে অযথা সমালোচনা করছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (১৩ জুন) বেলা পৌনে ১২টায় কক্সবাজার সদরের পিএমখালীতে পাতলী খাল পুনঃখনন উদ্বোধনের পর আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এবারের বাজেটে ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর ভ্যাট ও ট্যাক্স কমানো হয়েছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে এমন পণ্যের দাম যাতে না বাড়ে, সে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আগে বাজেট ঘোষণার পরপরই নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যেত। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। অথচ ক্ষতিকর পণ্যের ওপর কর বাড়ানো নিয়েই বিরোধী দল অসন্তোষ প্রকাশ করছে। তাদের এমন অবস্থান থেকেই বোঝা যায়, তারা আসলে জনগণের স্বার্থ নয়, বরং বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতেই বেশি আগ্রহী।’

খাল পুনর্খনন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খননের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। পাতলী খালের মাধ্যমে এই অঞ্চলে প্রায় ১২০০ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ হবে এবং কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ সরাসরি এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করবে। কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালু করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সার, বীজ ও কীটনাশক কেনার জন্য বছরে ২৫০০ টাকা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

নারীর শিক্ষা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘গ্রামীণ নারীদের শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে আগেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এবার তা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। ডিগ্রি ও স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে এবং তাদের উপবৃত্তির আওতায় আনা হবে।’

তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণই বিএনপির মূল লক্ষ্য। ‘আমাদের রাজনীতি মানুষের জন্য। তাই ভোটের আগেই নয়, আগেই মানুষের কাজ শুরু করা হয়েছে। করবো কাজ, সবার আগে বাংলাদেশ—এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’

একসময় বক্তব্য রাখেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল প্রমুখ।

পথসভা শেষে উপস্থিত জনতার মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। স্থানীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যকে স্বাগত জানান।

তারেকুর/আমান