ঢাকা ৬ আষাঢ় ১৪৩৩, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
ব্রায়ান ব্রোবির জোড়া গোলে প্রথমার্ধে এগিয়ে নেদারল্যান্ডস অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নামার আগে আর্জেন্টিনা শিবিরে দুঃসংবাদ এক দিনে দ্রুততম দুই গোল নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: পাকিস্তানকে ২৩ রানে হারাল বাংলাদেশ উল্লাসের পরদিন ৪০ টন স্মৃতি ছুটিতে গ্রামে গিয়ে ডাকাত হামলায় আহত এসিল্যান্ডসহ ৬ জন মেসির ফাউল: ফিফায় আলজেরিয়ার নালিশ ঈশ্বরগঞ্জে আ.লীগের সাবেক এমপির ফ্যাক্টরিতে লুটপাট ১১ মামলার আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা বুলবুল আটক বম সম্প্রদায়ের এক অসুস্থ নারীকে হেলিকপ্টারযোগে উদ্ধার করল সেনাবাহিনী উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে গোপনে মরিয়া ছিলেন ট্রাম্প প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অসাধারণ কৃতিত্ব: ৮ মাসে কোরআন হিফজ, সংবর্ধিত আল-আমীন ব্রাজিল ম্যাচ জেতায় মাথা ন্যাড়া করলেন আর্জেন্টিনার সমর্থক ফরিদপুরে ‘গে গ্রুপ’ ইস্যুতে ৩ জন আটক জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল ব্যস্ত জীবন, ভার্চুয়াল বিনোদন: আমরা এখন কোন পথে? লেবাননে হামলার জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধের ঘোষণা তেহরানের রাবি প্রেসক্লাবের সভাপতি ধ্রুব-সম্পাদক জিসান বরিশাল বিভাগ এসএসসি ১৯৮৬ বাংলাদেশর দিনব্যাপী নৌ-বিহার আগস্টে টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলে মাতোয়ারা ‘প্রচেষ্টা’র এক দিন জিয়াউর রহমান জনগণের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করেছিলেন: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পরও থামেনি হামলা, লেবাননে নিহত ১৬ হরিণাকুণ্ডুতে আ.লীগ–বিএনপি সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১৬ ফেরদৌস ওয়াহিদ ও সাঈদা শম্পার ‘মন বোঝে না’ চট্টগ্রামে প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান তৈরির আহ্বান ভূমি প্রতিমন্ত্রীর

তেলের দাম বৃদ্ধি, চাপ বাড়ছে জনজীবনে

প্রকাশ: ২০ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৪ এএম
তেলের দাম বৃদ্ধি, চাপ বাড়ছে জনজীবনে
ছবি: সংগৃহীত

আধুনিক অর্থনীতির অন্যতম প্রধান উপাদান হচ্ছে জ্বালানি তেল। উৎপাদন, পরিবহন, কৃষি, শিল্প–সব ক্ষেত্রে তেলের ওপর নির্ভরতা রয়েছে। ফলে তেলের দাম বাড়লে তা সরাসরি জনজীবনের প্রায় সব খাতে প্রভাব পড়বে–এটাই স্বাভাবিক। নির্বাচিত বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের দুই মাসের মাথায় দেশে জ্বালানি তেল ও এলপি গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর ফলে বাজারে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিজনিত পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, কৃষি উৎপাদন খরচ বাড়া এবং শিল্প খাতে অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যার ফলে নতুন করে চাপে পড়বেন দেশের নিম্ন ও মধ্যমআয়ের মানুষজন।

রবিবার (১৯ এপ্রিল) থেকে কার্যকর নতুন দামে ডিজেলের লিটার ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অকটেন ২০ টাকা বাড়িয়ে ১৪০ টাকা এবং পেট্রল ১৯ টাকা বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। কেরোসিনের দামও লিটারে ১৮ টাকা বাড়িয়ে ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এদিকে একই দিনে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজির দামও বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। নতুন দাম গতকাল সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, তেলের দাম বাড়ার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে পরিবহন খাতে। বাস, ট্রাক, লঞ্চসহ সব ধরনের যানবাহনের জ্বালানি খরচ বেড়ে যায়, যার ফলে ভাড়া বৃদ্ধি পায়। ইতোমধ্যে অভ্যন্তরীণ নৌপথে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত ভাড়া বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল (যাত্রী পরিবহন) সংস্থা।

এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কর্মস্থলে যাতায়াত, পণ্য পরিবহন–সব ক্ষেত্রেই খরচ বেড়ে যাচ্ছে। পরিবহন খরচ বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম আরও বাড়ছে। পণ্য উৎপাদন থেকে শুরু করে বাজারে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে পরিবহন ব্যয় জড়িত। তেলের দাম বাড়ায় এই ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে চাল, ডাল, সবজি, মাছসহ প্রায় সব পণ্যের মূল্য বেড়ে গেছে। এতে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। সেচ কাজে ব্যবহৃত ডিজেলচালিত পাম্প, ট্রাক্টরসহ অন্যান্য কৃষি যন্ত্রের খরচ বেড়ে যাবে। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। অনেক ক্ষেত্রে কৃষকরা উৎপাদন কমিয়ে দিতে বাধ্য হয়। শিল্প ও উৎপাদন খাতেও এর প্রভাব পড়ে। বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেলের ব্যবহার থাকলে বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়, যা শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। এতে পণ্যের দাম বৃদ্ধি পায় এবং বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে। সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। তেলের দাম বাড়ার ফলে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে পুরো অর্থনীতিতে। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যায় এবং সঞ্চয়ের প্রবণতা হ্রাস পায়।

এই প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে. মুজেরী খবরের কাগজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই দেশের মানুষ উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৯ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে। অর্থাৎ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেশি থাকায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণি এমনিতেই চাপে রয়েছে। এখন জ্বালানি তেল ও এলপিজির দাম বাড়ায় এই চাপ আরও বাড়বে। যদিও মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সাধারণ মানুষকে মুক্ত করা সরকারের অন্যতম নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল। সরকার চাইলেও শেষ পর্যন্ত সেটা ধরে রাখতে পারেনি। তিনি বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে যারা সরাসরি তেল কিনছেন তাদের খরচ বাড়বে এবং যেসব ক্ষেত্রে তেল ব্যবহৃত হয় সেখানেও মূল্যবৃদ্ধি ঘটবে। এর প্রভাব যাতায়াত খরচ ও যানবাহনের টিকিটের দাম, উৎপাদন খাত এবং আমদানি-রপ্তানি শিল্পের ওপর পড়বে। এর ফলে ভোক্তা এবং উৎপাদক উভয়ই বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি আরও বলেন, জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে, মূল্যস্ফীতি আরও বাড়বে এবং এর ফলে দরিদ্র মানুষের সংখ্যাও বাড়তে পারে। শুধু তাই নয়, এই পরিস্থিতির প্রভাবে শিল্প ও রপ্তানি খাতেও নেতিবাচক পড়তে পারে, বিশেষ করে জ্বালানিসংকটের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হলে রপ্তানি আয়েও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এদিকে, রবিবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্তের কোনো সম্পর্ক নেই। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি আইএমএফের চাপে নয়, বরং বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও সরকারি তহবিলের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দাম বাড়ানো হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো শর্ত নির্বাচিত সরকার মেনে নেবে না। ভবিষ্যৎ কর্মসূচির বিষয়ে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান খবরের কাগজকে বলেন, সব ধরনের তেলের দাম বাড়ানোর ক্ষেত্রে আইএমএফের ভর্তুকি কমানোর শর্তের প্রভাব থাকতে পারে। তবে এর চেয়েও বড় কারণ হলো সরকারের রাজস্ব আদায়ের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি। সরকারের পক্ষে এই বিশাল অঙ্কের ভর্তুকি আর দীর্ঘ সময় ধরে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। তবে শুধু দাম বাড়ানোই সমাধান নয়, বরং বাজার ব্যবস্থাপনা উন্নত করার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়া যেতে পারত এবং সরকারের এ বিষয়ে আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে যদি তেলের দাম কমে, তবে সরকার যেন বাজারমূল্যের সঙ্গে সমন্বয় করে দাম কমিয়ে আনে। যদিও আমাদের দেশের সংস্কৃতি হচ্ছে, একবার কোনো জিনিসের দাম বাড়লে সেটা আর কখনোই কমানো হয় না। 

এদিকে সরকার ভর্তুকি কমানোর উদ্দেশ্যে দাম বাড়িয়েছে বলে ধারণা করা হলেও, এতে সরবরাহব্যবস্থা কতটা উন্নত হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলপি গ্যাসের বাজারেও একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। নির্ধারিত দামের চেয়েও ২০০–৩০০ টাকা বেশি দামে ভোক্তাদের গ্যাস কিনতে হচ্ছে। বাজার তদারকির অভাব এবং কালোবাজারির অভিযোগও রয়েছে। যদিও সরকার কালোবাজারি দমনের কথা বলছে, তবে বাস্তবে বড় পরিসরে কার্যকর ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি ও ভোক্তা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক এ এইচ এম শফিকুজ্জামান খবরের কাগজকে বলেন, তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নতুন করে শুরু হয়নি; বরং এর প্রভাব আগেই পড়তে শুরু করেছে। তিনি বলেন, তেলের দাম বাড়ানোর আগেই পরিবহন ব্যয় বেড়ে গিয়েছিল, আর তার সঙ্গে সঙ্গে দ্রব্যমূল্যের ওপরও প্রভাব পড়ে। এখন দাম বৃদ্ধির ফলে এই চাপ আরও বেড়ে গেছে। পরিবহন খাতে এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান। জ্বালানির দাম বাড়ার ফলে বাস, ট্রাকসহ অন্যান্য যানবাহনের ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে সাধারণ যাত্রীদের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেছে এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবন আরও কষ্টকর হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। ব্যবসায়ীরা পরিবহন খরচ বৃদ্ধির অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেকেই বাধ্য হয়ে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খরচে সমঝোতা করছেন। তিনি বলেন, সরকারের পূর্বের প্রতিশ্রুতি ও বর্তমান সিদ্ধান্তের মধ্যে অসঙ্গতি থাকায় জনগণের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যদি পর্যাপ্ত তেলের মজুত থাকে, তাহলে সংকট তৈরি হলো কেন? এই ধরনের পরিস্থিতি জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়, বিশেষ করে পেট্রলপাম্পগুলোতে বিশৃঙ্খলা দেখা যাচ্ছে। আগে যেখানে কিছুটা শৃঙ্খলা ছিল, বর্তমানে সেখানে ভিড় ও চাপ বেড়ে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার কিছু পদক্ষেপ নিতে পারে। যেমন– বাজারে কার্যকর মনিটরিং এবং স্বচ্ছ নীতিনির্ধারণ, জ্বালানির বিকল্প উৎস ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া, গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষকদের জন্য ভর্তুকি এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখা। এ ছাড়া জনগণকেও সচেতনভাবে জ্বালানির ব্যবহার কমানো ও সাশ্রয়ী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হতে হবে।

 

উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
উত্তরায় ভূমি গ্যালারিতে চিত্রপ্রদর্শনী দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। ছবি: খবরের কাগজ

রাজধানীর উত্তরার সেন্টারপয়েন্টে অবস্থিত ভূমি গ্যালারিতে আয়োজিত চিত্রপ্রদর্শনী ‘পারসিসটেন্স’ পরিদর্শন করে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে শুরু হওয়া এ প্রদর্শনীতে দেশের খ্যাতিমান ১০ শিল্পীর ৬৬টি চিত্রকর্ম স্থান পেয়েছে।

প্রদর্শনী ঘুরে দেখে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, ‘সংস্কৃতিই একটি জাতির পরিচয় বহন করে। প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের সংস্কৃতির নানা রূপ ও বৈচিত্র্যের প্রকাশ ঘটেছে।’

তিনি বলেন, ‘কোনো কাজ বাস্তবধর্মী, কোনোটি ইমপ্রেশনিস্টিক, আবার কোনোটি সুরিয়ালিস্টিক হলেও প্রতিটি শিল্পকর্মই বাংলাদেশের নিজস্ব গল্প তুলে ধরছে।’

ভূমি গ্যালারির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রদর্শনীতে ক্যানভাস, মিশ্র মাধ্যম ও ওয়াটার কালারে আঁকা চিত্রকর্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। অংশগ্রহণকারী শিল্পীরা হলেন তরুণ ঘোষ, ফরিদা জামান, মোহাম্মদ ইউনুস, জামাল আহমেদ, আহমেদ সামসুদ্দোহা, রোকেয়া সুলতানা, কনকচাঁপা চাকমা, মোহাম্মদ ইকবাল, শহিদ কাজী ও আব্দুল্লাহ আল বশির।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসরুর আরেফিন, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মইনুদ্দিন হাসান রশিদ, ভূমি গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান সাইফুর রহমান লেলিন এবং বিশিষ্ট চিত্রশিল্পী মনিরুল ইসলামসহ সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত ছিলেন।

সবার জন্য উন্মুক্ত এ প্রদর্শনী আগামী ২৫ জুলাই পর্যন্ত প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।

এলিস/রিফাত/

রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
রোনালদো-মেসিদের মতো খেলো, অলিম্পিকে ভালো ফল চাই: প্রধানমন্ত্রী
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী দল, রানাস আপ দল, সেরা খেলোয়ার, সর্বোচ্চ গোলদাতাদের হাতে পুরস্কার হিসেবে নগদ অর্থ ও পদক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপ চলছে। রোনালদো ভালো খেলছে, মেসি খেলছে, এমবাপ্পে খেলছে। তোমাদের এমন ভালো খেলোয়ার হতে হবে। অলিম্পিকে যেন আমাদের রেজাল্ট ভালো হয়, এ জন্য এরই মধ্যে আমরা পরিকল্পনা করে ফেলেছি বলে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, শিশুদের জন্য খেলাধুলার ব্যবস্থা করব। শুধু ক্রিকেট নয়, ফুটবলসহ অন্যান্য খেলা দিয়েও বাংলাদেশকে সবাই চিনবে। শিশুদের মেধা বিকাশে সব ধরনের পদক্ষেপ নেবে সরকার। যে গান করতে চায়, ছবি আকতে চায় বা কোরআন তেলাওয়াত করতে চায়— সব ব্যবস্থা সরকার করবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শুধু খেলাধুলা নয় এর, পাশাপাশি সবকিছুতে পারদর্শী হতে হবে। তাহলেই কিন্তু আমরা সুন্দর ও স্ট্রং বাংলাদেশ গড়ে তুলেতে পারবো। খেলা ছাড়লে হবে না। যে যে খেলা পছন্দ করবে সে সেই খেলা করতে হবে। খেলাধুলার চর্চা ধরে রাখতে হবে। আমি শুধু বিজয়ী না এই খেলায় সহযোগিতায় যারা ছিলেন সবাইকে অভিনন্দন জানাই। বাংলাদেশকে একটা স্ট্রং বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। একটি ফেমাস বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। সবার আগে বাংলাদেশ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী বছর থেকে প্রাথমিক এবং মাধ্যমিকে ‘প্রাইম মিনিস্টার'স কাপ’ চালু হবে। অ্যাম্বাসাডর হয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শিশুদের প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

এদিন রাজশাহী বিভাগের পাবনার সাঁথিয়ার জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ময়মনসিংহের নান্দাইলের আচারগাও উত্তরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খুদে প্রমিলা ফুটবলারদের নৈপুণ্যে মেতে উঠেন সরকার প্রধানসহ মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা।

পরে চ্যাম্পিয়ন জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলোয়াড়দের হাতে ট্রফি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।

দেশব্যাপী গত ৬ এপ্রিল শুরু হওয়া এই টুর্নামেন্টে অংশ নেয় ২২ লাখ শিক্ষার্থী।

এসএন/

প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
প্রয়োজন হলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফরেও যাবেন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ছবি: সংগৃহীত

সহায়ক পরিবেশ ও প্রয়োজন অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরেও যাবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। 

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ এখন থেকে বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত নিজস্বভাবে নেবে এবং কোন দেশে কখন সফর হবে, তা সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ ও দ্বিপক্ষীয় প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করবে। 

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার এখন একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে, যেখানে বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বাস্তব প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে; কোনো বাহ্যিক চাপের কারণে নয়। আমরা কোন দেশে যাব তা নির্ধারণ করব তখনই, যখন আমরা মনে করব সংশ্লিষ্ট দেশে দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ার ভিত্তিতে আমাদের যাওয়া প্রয়োজন।’

যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো বড় দেশগুলোতে সফরের সিদ্ধান্তের প্রশ্নে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘যখন আমাদের যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হবে, তখন আমরা যাব। যখন চীন যাওয়ার দরকার হবে, আমরা সেখানে যাব। সময় ও পরিস্থিতি অনুকূল হলে এবং প্রয়োজন হলে আমরা ভারতেও যাব। মধ্যপ্রাচ্যেও সফর হবে। সবকিছুই জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন একটি স্বাধীন বৈশ্বিক খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে সফট পাওয়ার শক্তি বাড়ানোর দিকে মনোযোগ দিচ্ছে। গত কয়েক বছরে আপনারা পরাধীনতার নীতি দেখেছেন। আমরা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাধীন অবস্থান থেকে কাজ করছি।’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যকে নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় যুক্তরাজ্যকে তার নেতৃত্বের ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

শনিবার (২০ জুন) বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে মন্ত্রী এ আহ্বান জানান। পরে মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। 

বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের প্রতি যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের প্রশংসা করেন। এ সময় ব্রিটিশ হাইকমিশনার ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় ড. খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানান।

দুই পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক সম্পর্ক, দৃঢ় জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ ও প্রাণবন্ত ব্রিটিশ-বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের অবদানের বিষয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, এই প্রবাসী সম্প্রদায় দুই দেশের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে চলেছে।

বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, শিক্ষা, অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারের উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গতি নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে। একই সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারে তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

এদিকে জাতিসংঘে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দ্রুত মায়ানমারে প্রত্যাবাসনের আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশ বলেছে, বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গারা নিজ দেশে ফিরতে চায়। দীর্ঘদিন ধরে চলা এ সংকট বাংলাদেশের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি করেছে। গত শুক্রবার মায়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূতের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। শনিবার সকালে ঢাকায় পাওয়া এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সালাহউদ্দিন নোমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের উৎপত্তি মায়ানমারে। তাই এর টেকসই সমাধানও সেখানেই খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি বলেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ এক দশক ধরে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে। যদিও দীর্ঘায়িত এ সংকটের কারণে সামাজিক, অর্থনৈতিক, পরিবেশগত ও নিরাপত্তাজনিত নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও দেশের সম্পদের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করেছে। তাই সংকটের দ্রুত ও টেকসই সমাধান এখন অত্যন্ত জরুরি।

সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গারা নিজেরাও মায়ানমারে নিজেদের ঘরে ফিরতে চায়। তিনি রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ ছাড়তে বাধ্য হওয়ার জন্য দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং সংকটের মূল কারণগুলো মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও শক্তিশালী সমর্থন ও অব্যাহত মনোযোগ কামনা করেন।

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষদের দ্রুত ফেরাতে বিশ্ব ও আঞ্চলিক পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের এই দূত।

রোহিঙ্গাদের নিরাপদে ও সম্মানের সঙ্গে মায়ানমারে ফেরানোর মধ্য দিয়েই এই সংকটের টেকসই সমাধান সম্ভব বলে মনে করে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বারবার পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ।

জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল

প্রকাশ: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১১ পিএম
আপডেট: ২০ জুন ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না: মির্জা ফখরুল
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: খবরের কাগজ

জামায়াত গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘জনগণের সমর্থনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। সুতরাং বিএনপির গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমীচীন হবে না। জামায়াত একটি রেজিমেন্টেড রাজনৈতিক দল। তারা তো গণতন্ত্রেই বিশ্বাস করে না। আর বিএনপিই একমাত্র দল, যারা গত পঞ্চাশ বছর ধরে গণতন্ত্রের জন্য লড়াই-সংগ্রাম করে আসছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিদেশে নির্বাসিত অবস্থায় ছিলেন।’

শনিবার (২০ জুন) বেলা ৩টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সার্কিট হাউজে জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন সংক্রান্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরেছিলেন, সেদিনই তিনি বলেছিলেন তার একটা পরিকল্পনা আছে। তিনি জনগণের ভোটে রাষ্ট্র ক্ষমতায় এসে সেই কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন। এটা সবাই পারেন না, এটা সেই নেতারাই পারেন যারা স্বপ্ন দেখেন। তারেক রহমান সাহেব স্বপ্ন দেখেন একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ গড়তে। যেটা তার পিতা চেয়েছিলেন, যেটা তার মাও চেয়েছিলেন। আমরা যারা তার সঙ্গে কাজ করছি তাঁরা দেখছি, তিনি একজন কাজপাগল মানুষ। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তিনি দিনরাত কাজ করেন। এই মানুষটি আজকে সমগ্র দেশে প্রতিটি ক্ষেত্রে কাজ করার জন্য হাত দিয়েছেন এবং তিনি এগিয়ে যাচ্ছেন।’

বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের যাদের বিভিন্ন দায়িত্ব দিয়েছেন, আমরা কাজ করছি। কাজ করার চেষ্টা করছি। কোনো ব্যক্তির জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠীর জন্য নয়, সামগ্রিকভাবে কল্যাণের জন্য কাজ করছি। বাংলাদেশকে সত্যিকার অর্থে আমরা এমন একটি জায়গায় নিয়ে যেতে চাই, যে জায়গা থেকে বাংলাদেশকে দেখে অত্যন্ত বিশ্বের মানুষ বলবে এই দেশটা অনেক দূর এগিয়ে গেছে।’

মতবিনিময় সভায় মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন সমস্যা প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে মুন্সীগঞ্জে আমরা অনেক গুলো সমস্যা দেখেছি। আমরা চিফ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা বলেছি। আপনাদের যে অবকাঠামোগত সমস্যা রয়েছে, রাস্তা ব্রিজ-কালভার্টসহ আমরা এমন একটি প্রকল্প তৈরি করতে পারি। যার মধ্য দিয়ে আমরা মুন্সীগঞ্জের সমস্যার সমাধান করবো।’

এরআগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মুন্সীগঞ্জ পৌরসভার উত্তর ইসলামপুর এলাকার মোল্লারচর কাঠেরপুল পরিদর্শন ও পরে উত্তর ইসলামপুর কবরস্থানে চব্বিশেরর গণঅভ্যুত্থানে শহিদ রিয়াজুল ফরাজী, সজল মোল্লা ও নুর মোহাম্মদ ডিপজলের কবর জিয়ারত করেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় মোল্লারচর কাঠেরপুলের স্থানে একটি সেতু নির্মাণের আশ্বাসের পাশাপাশি এনিয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা  প্রদান করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মালয়েশিয়া সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার হবে, শক্তিশালী হবে। উভয় পক্ষের দুই দেশের মর্যাদা রক্ষা করে,স্বার্থ রক্ষা করে চুক্তি সম্পন্ন হবে। বন্ধ হয়ে যাওয়া শ্রম বাজার খুলে দেওয়ার বিষয়েও উভয় পক্ষের মধ্যে কথা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকারের মাত্র তিন মাস সময় হয়েছে। এই তিন মাস সময়ের মধ্যে বহু কাজ সরকার শুরু করেছে। আপনারা দেখেছেন ফ্যামিলি কার্ড করেছে, কৃষক কার্ড করেছে। এছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সাথে দেশব্যাপী খাল কাটা কর্মসূচি শুরু করেছে।’

তিনি স্থানীয়দের দাবীর প্রেক্ষিতে বলেন, ‘মুন্সীগঞ্জের কালীদাস নদীর উপর নির্মিত উত্তর ইসলামপুর-মোল্লারচর কাঠের পুলেরস্থলে সেতু নির্মাণ করা হবে।’

এদিকে, এরআগে এদিন সকাল ১০ টার দিকে জেলার গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর বাজারে দুইতলা বিশিষ্ট গ্রামীন বাজার ভবনের উদ্বোধন করেন বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী। পরে তিনি উপজেলার কালীগাছ তলা গ্রামের দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ব্রাক অফিস- ইমামপুর সড়কের প্রশস্তকরণ কাজের ভিত্তি প্রস্তুর স্থাপন ও উপজেলার রসুলপুর খেয়াঘাট এলাকায় ফুলদী নদীর উপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেন।

জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব ও মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মো. আব্দুল্লাহ্, সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোছা. তাহসিনা রুশদীর, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মোসাম্মৎ শাম্মী আক্তার, ফাহিমা নাসরিন, মাহমুদা হাবীবা, মমতাজ আলো ও সানজিদা ইসলাম, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, কেন্দ্রীয় বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম ইরাদত।

সুমন/রিফাত/