ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’ জ্বালানি তেলের ভবিষ্যত কি চীনের হাতে? দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ৪৩১ পদে বড় নিয়োগ হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ হ্যারি কেইনের ফর্মকে প্রশংসায় ভাসালেন ডেক্লান রাইস নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলপথমন্ত্রী ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে শরীয়তপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত ২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে ইউসিটিসিতে ৭ম সিন্ডিকেট মিটিং অনুষ্ঠিত উখিয়ায় বিজিবির অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১ ভারতের লখনউয়ে অগ্নিকাণ্ডে ১৫ শিক্ষার্থীর মৃত্যু বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা ২-১ গোলে জর্ডানকে হারিয়ে নকআউটের আশা জিইয়ে রাখলো আলজেরিয়া কাতারে কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণ: নিহত ১৩, আহত ৬৬ ইরানের তেল নিষেধাজ্ঞা আংশিক তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র শিরোপার স্বপ্নে ভাসছেন না হালান্ড আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা তৃণমূলের শীর্ষ পদ থেকে মমতাকে বাদ ১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা পর্তুগাল এখন যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ: রবার্তো মার্তিনেস

হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, শঙ্কার বার্তা দিল ডব্লিউএইচও

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০২ পিএম
হামের উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ, শঙ্কার বার্তা দিল ডব্লিউএইচও
ছবি: খবরের কাগজ

দেশের স্বাস্থ্য খাতে এক উদ্বেগজনক অধ্যায় তৈরি করেছে হাম। গত ২৪ ঘণ্টায় (শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) এই রোগে এবং এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে হামে ৩ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪০ জনে, যার মধ্যে ৪২ শিশুর মৃত্যু হামে এবং ১৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিকে জাতীয়ভাবে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

নতুন করে আক্রান্ত ১ হাজার ২১৫ জন
গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ এপ্রিল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ২১৫ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম রোগীর সংখ্যা ১৭২ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। তাদের মধ্যে ৩ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। তারা সবাই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত সামগ্রিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ পর্যন্ত দেশে মোট ২৯ হাজার ৫৪৯ জন সন্দেহজনক হাম রোগী পাওয়া গেছে, যার মধ্যে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ২৩১ জন। এই সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক রোগী হিসেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৯ হাজার ৭০৫ জন এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৬ হাজার ৫২৭ জন।

সংক্রমণের বিস্তার ও ভৌগোলিক চিত্র
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হালনাগাদ তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। অর্থাৎ দেশের ৯১ শতাংশ জেলাই এখন হামের ঝুঁকিতে। সবচেয়ে নাজুক অবস্থা ঢাকা বিভাগে, যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত ঢাকা বিভাগে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ৮ হাজার ২৬৩ জন, যা দেশের মোট সংক্রমণের একটি বড় অংশ। বিশেষ করে রাজধানীর ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকা–ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, মিরপুর এবং তেজগাঁও এখন সংক্রমণের হটস্পটে পরিণত হয়েছে। ঢাকার বাইরে রাজশাহী, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগেও রোগীর চাপ বাড়ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মোট ১৯৮ জন এবং ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিভাগভিত্তিক হিসেবে ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। এখানে এ পর্যন্ত ১৩ হাজার ১২৩ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছে। সন্দেহজনক ও নিশ্চিত মিলিয়ে মোট ১২১ জন রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। অন্য বিভাগের মধ্যে রাজশাহীতে ৫ হাজার ৬৩৭ জন এবং চট্টগ্রামে ৩ হাজার ৯৩২ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন। 

আক্রান্তের ধরনে আশঙ্কাজনক তথ্য
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী আক্রান্তদের মধ্যে ৯১ শতাংশই ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশু। তবে হাসপাতালের তথ্যে দেখা যায়, চিকিৎসাধীনদের ৭৯ শতাংশই ৫ বছরের কম বয়সী। এর মধ্যে একটি বড় অংশ (৩৩ শতাংশ) এমন শিশু যাদের বয়স ৯ মাসও হয়নি, অর্থাৎ যারা এখনো নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আসার বয়সই অর্জন করেনি।

জনস্বাস্থ্যবিদদের মতে, যারা মারা যাচ্ছে তারা প্রধানত টিকা না পাওয়া দুই বছরের কম বয়সী শিশু। এটি প্রমাণ করে যে, শিশুদের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার একটি বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

কেন এই আকস্মিক প্রাদুর্ভাব?
বাংলাদেশ একসময় হাম নির্মূলের পথে অনেকটা এগিয়ে গেলেও ২০২৪-২৫ সালে এমআর (হাম-রুবেলা) টিকার জাতীয় পর্যায়ের ঘাটতি সেই অগ্রযাত্রাকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালের পর দেশব্যাপী বড় কোনো সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি না থাকা এবং নিয়মিত টিকাদানে শৈথিল্যের কারণে বিপুলসংখ্যক শিশু সুরক্ষাহীন রয়ে গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাবেক পরামর্শক ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, সংক্রমণ যে হারে বাড়ছে তাতে সরকারের উচিত দ্রুত ‘জরুরি স্বাস্থ্য পরিস্থিতি’ ঘোষণা করা এবং টিকাদান কার্যক্রমকে আরও বেগবান করা।

রোগতত্ত্ব ও ঝুঁকি: যা জানা জরুরি
হাম কেবল সাধারণ সর্দি-জ্বর নয়, বরং বাতাসের মাধ্যমে দ্রুত ছড়ানো ঘাতক ব্যাধি। সংক্রমণের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে উচ্চমাত্রার জ্বর, কাশি ও সর্দি দেখা দেয়। শরীরে বিশেষ ধরনের ফুসকুড়ি ওঠে। এই রোগ নিউমোনিয়া, এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ) বা অন্ধত্বের মতো স্থায়ী জটিলতা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা বা ভিটামিনের ঘাটতি থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি অনেক বেশি।

সীমান্ত ঝুঁকি ও আন্তর্জাতিক উদ্বেগ
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত ও মায়ানমারের দীর্ঘ স্থলসীমান্ত থাকায় এর প্রাদুর্ভাব শুধু দেশের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নয়, বাইরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। মায়ানমারে চলমান সংঘাত ও টিকাদানের অভাব এবং ভারতের সীমান্তবর্তী ব্যস্ত বন্দরগুলোর মাধ্যমে এই ভাইরাস সহজেই আন্তর্জাতিক সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে ডব্লিউএইচও। এ কারণে বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সরকারি তৎপরতা ও সুপারিশ
পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ৩০ মার্চ থেকে জরুরি টিকাদান কর্মসূচি অনুমোদন করেছে জাতীয় টিকাদান কারিগরি কমিটি (এনআইটিএজি)। ৫ এপ্রিল থেকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় এবং ২০ এপ্রিল থেকে দেশব্যাপী টিকা প্রদান শুরু হয়েছে। এ ছাড়া আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা কমাতে ভিটামিন এ ক্যাপসুল প্রদান করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাবি করেছে, গত ৫ থেকে ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত মোট লক্ষ্যমাত্রার ৯৮ শতাংশ অর্থাৎ ৬২,৬৮,৪২৮ জনকে এই টিকা দেওয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১০ লাখ ৫৫ হাজার ২৫৫ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা ওই দিনের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ৯৭ শতাংশ। বিভাগীয় পর্যায়ে রাজশাহীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি (১০৩ শতাংশ) সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সিটি করপোরেশনগুলোর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৬ গুণ বেশি (৫৯৮ শতাংশ) টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে, যদিও সামগ্রিক পরিসরের দিক থেকে কুমিল্লা (১৪০ শতাংশ), গাজীপুর (১২৬ শতাংশ) ও রংপুরে এগিয়ে রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সিলেট সিটি করপোরেশনে টিকাদানের হার তুলনামূলক কম (৮১ শতাংশ) লক্ষ করা গেছে। 

ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, ‘কেবল কর্মসূচি চালু করাই যথেষ্ট নয়; বরং প্রতিটি পৌর এলাকায় টিকার কভারেজ অন্তত ৯৫ শতাংশ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের স্ক্রিনিং এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত শনাক্তকরণ প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া এখন সময়ের দাবি।’

‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:১০ পিএম
‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কিনা সেটি আদালতে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে মাঠে রাজনৈতিকদলগুলোর অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তারা সিম্বোলিক কারণে আছেন। আওয়ামী লীগ একটা নিষিদ্ধ ঘোষিত দল। নিষিদ্ধ ঘোষিত কথাটা আসলে ঠিক না। আমরা যদি টেকনিক্যালি বলি আওয়ামী লীগ দলটা নিষিদ্ধ হবে কি হবে না- এটা পরিষ্কার করা দরকার যে, সেটা নির্ধারিত হবে আদালতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। তারা মানবতাবিরোধী অপরাধে যুক্ত ছিল কি ছিল না, সেটা বিচারের পর নির্ধারিত হবে।’ 

যেটা হয়েছে, ওই পর্যন্ত তারা বিচারাধীন থাকবে, তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে। এই দল যদি মাঠে কোনও কর্মসূচি নিয়ে নামতে চায়, সেটা আইন ভঙ্গকারী কার্যক্রম হবে। সরকার সেটার ব্যবস্থা নেবে। রাজনৈতিক দলগুলোর আসলে ওখানে করার কিছু নেই। তারা প্রতীকী কারণে হয়তো মাঠে আছেন, বলছেন অনেক কিছু করে ফেলবেন।

ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমি মনে করি না আওয়ামী লীগের কিছু করার নৈতিক সাহস আছে। একটা কিছু করতে গেলে নৈতিক সাহস লাগে। আমরা বলি না ‘চোরের মায়ের বড় গলা’, সবার ডিমেনশিয়া হবে, মানে সবাই সবকিছু ভুলে যাবে আর কি! তারপর আওয়ামী লীগ বড় গলায় কথা বলতে পারবে, এর আগে আমার মনে হয় না। তাদের সেই নৈতিক সাহস নেই। নৈতিক সাহস যদি না থাকে কিছু লুটপাটকারী, মাফিয়া, চোর বাটপারের আসলে খুব বেশি নৈতিক সাহস থাকে না।’

রিফাত/

বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:২৯ এএম
বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা পেল ৬ জেলার সেনা কর্মকর্তারা
ছবি: সংগৃহীত

ছয় জেলায় সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন ও তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কমিশনড কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা দিয়েছে সরকার।

সোমবার (২২ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। 

এতে বলা হয়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ছয় জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা, গোপালগঞ্জ জেলা এবং ফরিদপুর জেলায় ২২ জুন থেকে ৩০ জুন তারিখ পর্যন্ত এই আদেশ কার্যকর থাকবে।

মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১২(১) ও ১৭ ধারা অনুযায়ী এসব এলাকা ও এ সময়ের জন্য এই কর্মকর্তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হলো। কোস্টগার্ড ও বিজিবিতে প্রেষণে নিয়োজিত সমপদমর্যাদার কর্মকর্তারাও এই ক্ষমতার আওতাভুক্ত হবেন।

ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ধারা ৬৪, ৬৫, ৮৩, ৮৪, ৮৬, ৯৫(২), ১০০, ১০৫, ১০৭, ১০৯, ১১০, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৩০, ১৩৩ এবং ১৪২ অনুযায়ী অপরাধগুলোর ক্ষেত্রে তারা এই ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন।

অন্তরা/

আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:০৯ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৩ এএম
আশুরা উপলক্ষে ডিএমপির নির্দেশনা
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আগামী শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল বের হবে। এ মিছিলে নিরাপত্তা নিশ্চিত ও চলাচল নির্বিঘ্ন করতে কিছু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ১০ মহররম ১৪৪৮ হিজরী (২৬ জুন ২০২৬ খ্রি.) পবিত্র আশুরা উদ্যাপন উপলক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার বিভিন্ন স্থানে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত তাজিয়া মিছিলে কিছু ব্যক্তিবর্গ দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি নিয়ে অংশগ্রহণ করে ক্ষেত্রবিশেষে অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যা ধর্মপ্রাণ ও সম্মানিত নগরবাসীর মনে আতংক ও ভীতিসৃষ্টিসহ জননিরাপত্তার প্রতি হুমকি স্বরূপ।

আরও বলা হয়, তাছাড়া মহররম মাসে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে আতশবাজি ও পটকা ফোটানো হয়, যা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, সেহেতু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে তাজিয়া মিছিলে দা, ছোরা, কাঁচি, বর্শা, বল্লম, তরবারি, লাঠি ইত্যাদি বহন এবং আতশবাজি ও পটকা ফোটানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।

আরও উল্লেখ করা হয়, এই আদেশ তাজিয়া মিছিল শুরু হতে শেষ সময় পর্যন্ত বহাল থাকবে।

অন্তরা/

১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১১:১৮ এএম
১১৫ দিন পর হরমুজ অতিক্রম করল বাংলার জয়যাত্রা
‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজ, পারস্য উপসাগরে আটকে থাকার সময়ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দীর্ঘ ১১৫ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালী সফলভাবে অতিক্রম করেছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কার্গো জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’।

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমডোর মাহমুদুল মালেক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আটকে থাকা জয়যাত্রা জাহাজটি হরমুজ প্রণালী পার হয়েছে। সেটি এখন দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পথে রয়েছে। দীর্ঘদিন হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল করতে না পারা বিশ্ব মেরিটাইম ইতিহাসে এটিকে একটি অনন্য ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।’

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে নির্মিত ও ৩৮ হাজার ৮৯৪ টন ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এই বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক ও ক্রু রয়েছেন, যারা বর্তমানে নিরাপদ ও সুস্থ আছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দরের জলসীমায় জাহাজটি বাঙ্কারিং ও প্রয়োজনীয় ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করেছে।

গত ২৬ জানুয়ারি একটি সিঙ্গাপুরভিত্তিক চার্টারের অধীনে জাহাজটি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় প্রবেশ করে কাতার থেকে ৩৯ হাজার টন স্টিল কয়েল নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে আসে। কিন্তু জাহাজটি বন্দরে অবস্থানকালেই ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই অঞ্চলে তীব্র সামরিক সংঘাত ও যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। চরম ঝুঁকির মধ্যেই ১১ মার্চ সাহসিকতার সঙ্গে কার্গো খালাস সম্পন্ন করা হলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালী পার হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ক্ষতি এড়াতে অলস বসিয়ে না রেখে বিএসসি ম্যানেজমেন্ট দ্রুত একটি বিকল্প বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নেয়।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী জাহাজটিকে সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দরে পাঠিয়ে সেখান থেকে প্রায় ৩৭ হাজার মেট্রিক টন সার বোঝাই করা হয়, যা দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন ও ডারবান বন্দরে যাওয়ার কথা। এই দক্ষ ব্যবস্থাপনার ফলে জাহাজটি এক দিনের জন্যও ‘অফ-হায়ার’ বা ভাড়া ছাড়া থাকেনি। 

সার বোঝাই করার পর হরমুজ প্রণালীর যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটির অবরুদ্ধ অবস্থা আরও দীর্ঘ হয় পড়ে থাকতে হয়। গত ১৮ এপ্রিল ইরান নৌবাহিনী নিরাপত্তা ও কৌশলগত কারণ দেখিয়ে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজটির যাতায়াতের অনুমতি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করে। ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের এই স্পর্শকাতর যুদ্ধক্ষেত্রে দীর্ঘ দিন অবরুদ্ধ অবস্থায় আটকা পড়ে থাকে জাহাজটি।

​দীর্ঘ অবরুদ্ধ সময়ে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিকের মনোবল চাঙ্গা রাখতে বিএসসি জাহাজে সুপেয় পানি, খাবার, রসদ ও জ্বালানি তেলের মতো প্রয়োজনীয় লজিস্টিকস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখে। পাশাপাশি স্বাভাবিক সুবিধার অতিরিক্ত হিসেবে দৈনিক ৫ মার্কিন ডলার বিশেষ মিল অ্যালাউন্স, ঈদে বিশেষ প্রণোদনা এবং ‘ওয়ার ওয়েজ’ দেওয়া হয়।

এমভি বাংলার জয়যাত্রার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম খবরের কাগজকে বলেন, ১১৫ দিন পর অবশেষে আমরা মুক্ত হয়েছি। এ দীর্ঘ সময় যুদ্ধাবস্থার মধ্যে বড় আতঙ্কে ছিলাম।  আমাদের মাথার ওপর দিয়ে ড্রোন ও মিসাইল গেছে। মনে হয়েছিল মুহুর্তে শেষ হয়ে যাব। আল্লাহ উপর ভরসা করে প্রতিটি রাত কাটিয়েছি। ঘুমানোর সময় মনে হতো আজই বুঝি জীবনেন শেষ রাত। 

আবদুস সাত্তার/আজহার/

বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০৯:৫৬ এএম
বায়ুদূষণের শীর্ষে দিল্লি, ঢাকার বায়ুরমান ‘অস্বাস্থ্যকর’
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের কারণে দিন দিন বাড়ছে বায়ুদূষণ। সেই দূষণের কবলে পড়েছে মেগাসিটি ঢাকাও।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে আইকিউএয়ারের সবশেষ সূচকে দেখা যায়, ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ১২৩। যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে বিশ্বের দূষিত শহরগুলোর তালিকায় ঢাকার অবস্থান নবম।

তালিকায় ১৭৮ স্কোর নিয়ে দূষণের শীর্ষে অবস্থান করছে ভারতের দিল্লি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ভারতের কলকাতা শহরে বায়ুমান সূচক রেকর্ড করা হয়েছে ১৬৩। তৃতীয় অবস্থোনে ১৬০ স্কোর নিয়ে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর। ১৫৩ স্কোর নিয়ে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা। এবং পঞ্চম অবস্থানে থাকা উগান্ডার রাজধানী কাম্পালার স্কোর ১৩৭।

আইকিউএয়ারের স্কোর শূন্য থেকে ৫০ ভালো হিসেবে বিবেচিত। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি হিসেবে গণ্য করা হয়, আর সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয় ১০১ থেকে ১৫০ স্কোর। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে তাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা হয়।
 
এ ছাড়া, ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকা স্কোরকে ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ বলা হয়। এ অবস্থায় শিশু, প্রবীণ এবং অসুস্থ রোগীদের বাড়ির ভেতরে এবং অন্যদের বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেয়া হয়ে থাকে। ৩০১ থেকে ৪০০-এর মধ্যে থাকা স্কোর ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচিত, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

অন্তরা/