দেশের গণমাধ্যম খাতে বিদ্যমান বৈষম্য ও নৈরাজ্য দূর করে সব পক্ষের অধিকার নিশ্চিত করতে একটি স্বাধীন ও শক্তিশালী ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠনের কাজ চলমান রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘এই কমিশন কার্যকর হলে সাংবাদিকদের কলম কেউ ব্ল্যাকমেইলের জন্য ব্যবহার করতে পারবে না, তেমনি সরকার ও মালিক পক্ষ গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ এবং অপব্যবহার করতে পারবে না।’
গ্রুপ বিমা চুক্তির আওতায় ডিআরইউর প্রয়াত দুই সদস্যের পরিবারকে ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসির পক্ষ থেকে মৃত্যুজনিত দাবি করা চেকের হস্তান্তর উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একসময় তথ্য মন্ত্রণালয়ের কাজ ছিল শুধুই সরকারের গুণগান গাওয়া এবং প্রোপাগান্ডা ছড়ানো। কিন্তু আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনায় প্রোপাগান্ডা নয়, বরং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাই প্রধান। অথচ দুঃখের বিষয়, পোশাক খাতের একজন কর্মীর সুরক্ষায় শ্রম আইন থাকলেও গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরির নিরাপত্তা, বেতন কাঠামো এবং পেনশনের সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর বিধিবিধান নেই।’
তিনি বলেন, “গণমাধ্যমকে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে নিয়ে আসা সরকারের মূল লক্ষ্য। যার যার জায়গায় সবাই যেমন স্বাধীনতা এবং মর্যাদা ভোগ করবেন, তেমনি প্রত্যেককেই কোনো না কোনো জবাবদিহির মধ্যে থাকতে হবে। মালিক পক্ষ যেমন সাংবাদিকদের অপব্যবহার করতে পারবে না, ঠিক তেমনি সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে অপতৎপরতা বা ব্ল্যাকমেইলও বরদাশত করা হবে না। এই জবাবদিহি ও সুরক্ষার সংস্কৃতি নিশ্চিত করতেই ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন সরকারের অগ্রাধিকার।”
গণতন্ত্রের সংজ্ঞা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গণতন্ত্র কেবল ভোটের দিনের কাজ নয়; দুই ভোটের মাঝখানের সময়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানকে বাধ্যবাধকতা ও জবাবদিহির মধ্যে রাখাই গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান কাজ।’
অনুষ্ঠানে ডিআরইউর প্রয়াত দুই সদস্য নিখিল মানখিন ও শ্যামল কান্তি নাগের পরিবারের কাছে মৃত্যুর দাবি বাবদ ৩ লাখ টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকার দুটি চেক হস্তান্তর করা হয়।
ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক এই কল্যাণমুখী উদ্যোগের প্রশংসা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্স এবং ডিআরইউ সাংবাদিকদের জীবন ও পেশাগত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে যে সৃজনশীল বিমা পলিসি চালু করেছে তা অত্যন্ত ইতিবাচক।’
ডিআরইউর সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন ও মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. কাজিম উদ্দিন। ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।