তামাক কোম্পানিগুলো তরুণ প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে শিশুদের দৃষ্টিসীমায় আকর্ষণীয় প্রদর্শন এবং নিত্যনতুন ফ্লেভার ব্যবহার করে কৌশলী প্রলোভন তৈরি করছে। এই প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করে তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
সোমবার (১৫জুন) ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল- ‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তামাক কোম্পানিগুলো শিশুদের আকৃষ্ট করতে চকলেট, মেন্থল ও স্ট্রবেরির মতো ফ্লেভার যুক্ত করে পণ্য বাজারজাত করছে। এই ধরনের অপতৎপরতা থেকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে আমরা তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন আরও শক্তিশালী করেছি। বর্তমান সরকার নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) আইন, ২০২৬ প্রণয়ন করেছে। নতুন আইনে সব ধরনের গণমাধ্যম ও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে তামাকের বিজ্ঞাপন ও প্রচারণা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
দেশের স্বাস্থ্যখাতে এ বছর রেকর্ড ৬৯ হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘তামাক ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়া না গেলে স্বাস্থ্যখাতের এই বিপুল বাজেটের সুফল জনগণ পূর্ণাঙ্গভাবে পাবে না। তামাকজনিত রোগের চিকিৎসায় যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়, তা তামাক খাত থেকে পাওয়া রাজস্বের তুলনায় অনেক বেশি। তাই জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতি রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য।’
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি। প্রবন্ধ উপস্থাপনায় তিনি তামাকের কারণে পরিবেশ দূষণ, ‘গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস’ এবং তামাকজনিত প্লাস্টিক বর্জ্যের ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস হাসপাতালগুলোকে শতভাগ ধূমপানমুক্ত করার ঘোষণা দেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহামেদ বাংলাদেশের সংশোধিত আইনকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ বলে স্বাগত জানান।
এদিকে, মূল অনুষ্ঠানের আগে রমনা পার্ক ও মৎস্যভবন মোড়ে তামাকবিরোধী সচেতনতামূলক অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাণী দিয়েছেন। এছাড়া সারাদেশে পোস্টার বিতরণ ও লিফলেট ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থা ও তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রায় দুই শতাধিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশে হাম (মিজলস) নিয়ন্ত্রণে সরকারের নেওয়া টিকাদান কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপে উল্লেখযোগ্য সফলতা এসেছে এবং পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
জয়ন্ত সাহা/তামান্না রুপা/