রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা হাসপাতাল, এমনকি উপজেলা পর্যায়েও ধাপে ধাপে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে, যাতে দরিদ্র রোগীরা স্বল্প খরচে নিজ এলাকার কাছেই ডায়ালাইসিস সেবা নিতে পারেন।
তিনি বলেন, “আমরা চাই না চিকিৎসার অভাবে কোনো মানুষ মারা যাক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছি। সেই লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করা হচ্ছে।”
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, হাসপাতালের জন্য একটি সমন্বিত ট্রিটমেন্ট প্ল্যান তৈরি করতে হবে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে হবে এবং হাসপাতালের মর্গে ফ্রিজার সংযোজন করা হবে। পাশাপাশি হাসপাতালের সেবার মান, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের উপস্থিতি এবং দায়িত্ব পালনের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
চিকিৎসক সংকট নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “গত ১৭ বছরে স্বাস্থ্য খাতে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা করা হয়নি। আমরা এখন একটি কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছি। বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হবে এবং প্রশিক্ষণের সুযোগও বাড়ানো হবে।”
মন্ত্রী জানান, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে সম্প্রতি ১৪ জন চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে ৬ জন এখনো যোগদান করেননি। এছাড়া একজন নারী চিকিৎসক দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে অন্যত্র প্র্যাকটিস করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাকে সাত দিনের মধ্যে কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের বাইরে প্রদর্শিত ১০ শয্যার আইসিইউ ইউনিট বাস্তবে চালু না থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা শুধু আইসিইউ নয়, ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিটও স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। এ বিষয়ে সভা ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের কাজ চলছে।”
তিনি আরও বলেন, “এবারের বাজেটে ডায়ালাইসিস সেবার খরচ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হচ্ছে, যাতে মানুষ নিজ এলাকার কাছেই স্বল্প খরচে চিকিৎসা নিতে পারে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), ভেন্টিলেটর, হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা, সি-প্যাপ ও অক্সিজেন কনসেনট্রেটর সরবরাহ করা হয়েছে।”
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ এবং রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান উপস্থিত ছিলেন।
সুমন বিশ্বাস/এসএন