এবার ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় জড়িত আবেদ আলীর ছেলে সোহানুর রহমান সিয়ামকে পদ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে উত্তর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সমালোচনার ঝড় বইছে। তবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রিয়াজ। এদিকে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ বলছে- অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) বিভিন্ন চাকরির প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় চক্রের মূল হোতা পিএসসির সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী এবং তার ছেলে সৈয়দ সোহানুর রহমান সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত সিয়াম ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক ছিলেন। প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সিয়ামকে পদ থেকে বহিষ্কারও করেছে উত্তর ছাত্রলীগ।
এ ঘটনার পর থেকে উত্তর ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতরা অভিযোগ তোলেন, গ্রেপ্তার হওয়া সিয়াম আগে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন না। উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ ২০ লাখ টাকা নিয়ে সিয়ামকে ছাত্রলীগের পদে বসিয়েছেন। বহিষ্কৃত সিয়াম সভাপতি রিয়াজ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ ছিলেন। এমন সব তথ্য ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের আগে থেকেই জানা ছিল। এখন উত্তর ছাত্রলীগের পদবঞ্চিত নেতারা ২০ লাখ টাকা লেনদেনের কথা উল্লেখ করে ফেসবুকে স্ট্যাটাসও দিচ্ছেন।
দীর্ঘদিন মাঠে থাকার পরও উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজের কমিটিতে জায়গা পাননি এমন তিনজন ছাত্রনেতা খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, বহিষ্কৃত সিয়াম এর আগে মহানগর ছাত্রলীগের কোনো পদে ছিলেন না। তার পারিবারের রাজনৈতিক কোনো ব্যাকগ্রাউন্ডও নেই। রিয়াজ মাহমুদের আরও অনুসারী থাকলেও সিয়ামকে তিনি বেশি গুরুত্ব দিতেন। এ ছাড়া এমন আরও অনেক সিয়ামকে নেতা বানিয়েছেন রিয়াজ।
তারা খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের ‘উপ-ছাত্রী ও নারী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক’ হয়েছেন সুফিয়া আক্তার রুবিনা। বিবাহিত জানার পরও রুবিনাকে ছাত্রলীগের পদ দিয়েছেন সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ। ধানমন্ডির সিসা বার ও বনানী-গুলশানের একাধিক ‘মদের বারে’ রুবিনার নিয়মিত যাতায়াত রয়েছে। তাই এই নেত্রীকে উত্তর ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ‘ডিজে’ রুবিনা নামেই চেনেন। রুবিনা তার স্বামী ফারহান আজাদের সঙ্গে থাকেন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ইস্টার্ন মল্লিকার কাছে। রুবিনার সঙ্গে রিয়াজের আগে থেকে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলেও জানা গেছে। পদবঞ্চিত নেতারা ডিজে রুবিনার বেশ কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও খবরের কাগজকে দিয়েছেন।
রিয়াজ মাহমুদ সভাপতি হওয়ার আগে- আদাবর থানা ছাত্রলীগের সভাপতি ও উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির পদে ছিলেন। তখন যাতায়াত করতেন মোটরসাইকেলে। কিন্তু উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার এক মাসের মধ্যে ‘এস্কোয়্যার’ মাইক্রো গাড়ি কিনেন রিয়াজ।
বিবাহিত আরেক নেতা মোহাম্মদ ফাহিমকে উত্তর ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির পদ দিয়েছেন রিয়াজ মাহমুদ। চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বিয়ের অনুষ্ঠান আয়োজন করেন ফাহিম। সে অনুষ্ঠানে রিয়াজ মাহমুদও উপস্থিত ছিলেন। এই বিয়ের অনুষ্ঠানের বেশ কিছু ছবিও খবরের কাগজের হাতে রয়েছে। তাকে পদ দেওয়ার পেছনে টাকার লেনদেন হয়ে থাকতে পারে বলে জানান পদবঞ্চিতরা।
অর্থের বিনিময়ে পদ দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সভাপতি রিয়াজ মাহমুদ খবরের কাগজকে বলেন, ‘এসব অভিযোগ মিথ্যা এবং অবান্তর। যারা আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, তারা এসব ভুল তথ্য দিচ্ছেন। আমি এর আগে ছাত্রলীগের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছি’।
অভিযুক্ত সিয়ামের বিষয়ে সাফাই গেয়ে রিয়াজ বলেন, ‘ফেসবুকে দেখতাম তার অনেক পরিচিতি। এ ছাড়া ছেলেটা দীর্ঘদিন দলীয় প্রোগ্রাম করেছে, মিটিং-মিছিল করেছে। এলাকায় ত্রাণ দিয়েছে, সমাজে ভালো কর্মকাণ্ড করেছে। সবাই তাকে চেনে। এসব দেখে তাকে উত্তর ছাত্রলীগে পদ দেওয়া হয়ছে। তার বাবা কী করেন সেটা বের করতে গোয়েন্দা সংস্থা-সাংবাদিকদের ১৫ বছর লেগে গেছে। আমরা কীভাবে জানব?’
নিজের গাড়ির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘রাজনীতি করতে গেলে আমাদের জীবনে অনেক ঝুঁকি থাকে। তাই নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য এক ঘনিষ্ঠ বড় ভাইয়ের শো-রুম থেকে কিছু টাকা দিয়ে গাড়িটি কিনেছি। এখন অল্প অল্প করে টাকা কিস্তি শোধ করছি’
টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন খবরের কাগজকে বলেন, ‘সংগঠনে কেউ অনৈতিক কর্মকাণ্ড করলে বা জড়িত থাকলে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।’