ঢাকা ৯ আষাঢ় ১৪৩৩, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

সর্বশেষ
মেহেরপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল ফুটবল বিশেষজ্ঞ বউ ঢাবির রোকেয়া হলে কাঁঠাল পাড়তে গিয়ে মালির মৃত্যু আক্রমণের ধারা নষ্ট করতে চান না টুখেল উখিয়ায় ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদককারবারি গ্রেপ্তার লক্ষ্মীপুরে কেক কেটে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন ‘সোমেশ্বরী’র পরিচালক নওশাবা মৌলভীবাজারে মধ্যরাতে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের উচ্ছ্বাস জামালপুরে লাগেজে মিলল যুবকের মরদেহ পাঠকের গল্প : একটি খালি বেডের গল্প ‘আওয়ামী লীগ দল হিসেবে নিষিদ্ধ হবে কি না, সিদ্ধান্ত নেবে আদালত’ মমেকে হামের উপসর্গে আরও ১ শিশুর মৃত্যু, নতুন ভর্তি ২৪ জাবিতে নীতিনির্ধারণী তিন পর্ষদে ২৮ শূন্যপদ, সংকটে স্বায়ত্তশাসন জ্বালানি তেলের ভবিষ্যৎ কি চীনের হাতে? দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরে ৪৩১ পদে বড় নিয়োগ হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন ন্যাটোর সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই আর্কটিকে রাশিয়ার পারমাণবিক বোমারু বিমানের টহল জাতীয়ভিত্তিক গ্রন্থপাঠ প্রতিযোগিতায় সেরা হলো বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার লোহাগাড়ায় দুই বাসের সংঘর্ষে কলেজছাত্রী নিহত জীব ও পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরশীলতা অধ্যায় থেকে ৩টি অনুশীলনীর প্রশ্ন ও  উত্তর, ২য় পর্ব, পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার বেনাপোলে আওয়ামী লীগের নৈরাজ্যের প্রতিবাদে শ্রমিক দলের বিক্ষোভ হ্যারি কেইনের ফর্মকে প্রশংসায় ভাসালেন ডেক্লান রাইস নিষিদ্ধ দলের তৎপরতা চোখে পড়া জাতির জন্য ব্যর্থতা: রেলপথমন্ত্রী ইবির কর্মচারীদের নিয়োগ যাচাইয়ে তদন্ত কমিটি, আতঙ্কে নিয়োগপ্রাপ্তরা বহুমাত্রিক সম্পর্কোন্নয়নে ভূমিকা রাখবে শরীয়তপুরে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগ পাঁচবিবিতে ট্রাকচাপায় যুবক নিহত ২৩ জুন: পাউন্ড ছাড়া সব মুদ্রার দাম কমেছে

রাজনীতিতে চরম অস্থিরতা উত্তাপ ছড়ালেও সতর্ক বিএনপি

প্রকাশ: ২৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১১:৫০ এএম
উত্তাপ ছড়ালেও সতর্ক বিএনপি
খবরের কাগজ ইনফোগ্রাফ

বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে কিছুটা উত্তাপ ছড়িয়েছে। এই উত্তাপকে কেন্দ্র করে আবার ছড়িয়ে পড়েছে নানা গুজবও। জনমনেও কৌতূহল বেড়েছে- কী হচ্ছে, কী হবে।

তবে এমন পরিস্থিতিতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি আর উত্তাপ না বাড়িয়ে সতর্ক অবস্থানে থাকবে, যাতে দেশে আর কোনো রাজনৈতিক সংকট তৈরি না হয়। কারণ দেশে সংকট তৈরি হলে ‘রাজনৈতিক লোকসান’ বিএনপিরই বেশি হবে বলে দলটির নীতিনির্ধারকদের পাশাপাশি সমর্থক ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরাও মনে করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ খবরের কাগজকে বলেন, পাল্টাপাল্টি বক্তব্য না হলেই ভালো হতো। এটা দুঃখজনক। পাল্টাপাল্টি বক্তব্য থেকে বড় ধরনের কিছু হবে বলেও মনে হয় না। রাজনীতিবিদরা এই ধরনের কথা বলে থাকেন। এগুলো মূলত একে অপরকে চাপে রাখার একটা কৌশল।

তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করে নিরপেক্ষ ভোটের আয়োজন করতে হবে। নির্বাচনের জন্য পুলিশ, প্রশাসন, আমলা, ভোটার তালিকাসহ নানা কিছু প্রয়োজন। ফলে এগুলো ঠিক করতে একটু সময় লাগবে। এটা সব পক্ষকেই বুঝতে হবে। আলাউদ্দিনের চেরাগ কারও কাছে নেই যে বসলেই সবকিছুর সমাধান হয়ে যাবে। একে অপরকে সন্দেহ-অবিশ্বাস করলে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষ যে আশা দেখতে পেয়েছিল তা হতাশ করা হচ্ছে। 

রাজনীতিবিদরা এগুলো না করলেই পারেন। আর যারা ক্ষমতায় আছেন তাদের বাদানুবাদে লিপ্ত না হওয়াই শ্রেয়। 

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু খবরের কাগজকে বলেন, এখন তো দেশে ফ্যাসিবাদ আওয়ামী লীগ নেই। গণতান্ত্রিক দেশে সবাই সব ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন। এটাই ডেমোক্রেসি। বিএনপি যতদ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চায়। 

তিনি বলেন, এখন তো কোনো দলই সরকারে নেই। সরকারে থেকে কেউ যদি দল করে তাহলে তো নিরপেক্ষতা হারাবে। সরকার থেকে কেউ যদি দল গঠন করে তাহলে সেটা ‘কিংস পার্টি’ হবে। তাহলে তারা সরকারে থাকতে পারবে না। রাজনৈতিক দল গঠন করলে সরকার থেকে বেরিয়ে আসা উচিত। 

বিএনপির একাধিক নীতিনির্ধারক খবরের কাগজকে জানিয়েছেন, রাজনীতিতে তারা এখন কৌশলগত দিক থেকে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। কারণ যেকোনো প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হোক না কেন, বড় দল হিসেবে বিএনপির ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা বেশি। কারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত। জাতীয় পার্টিও নানামুখী চাপের মুখে রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর নানামুখী তৎপরতা থাকলেও তাদের ভোট ৭ শতাংশের বেশি নয়। 

সর্বশেষ ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াত ৪ দশমিক ৭ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ফলে সারা দেশে ব্যাপক সাংগঠনিক কার্যক্রম চালালেও আগামী নির্বাচনে তাদের ভোট কত শতাংশ বাড়বে, সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। আর ভোট বাড়লেও বিএনপির কাছাকাছি যাবে এমন সম্ভাবনার কথা কেউ বিশ্বাসও করে না। বাকি দলগুলোর ভোট পাওয়ার শতকরা যে হার, তা ক্ষমতায় যাওয়ার মতো নয়। ক্ষমতায় যেতে হলে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট লাগবে। সুতরাং সবদিক থেকে বিএনপিই সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে বলে দেশের রাজনীতিতে আলোচনা আছে। 

বিগত চারটি নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৩০.৮১ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে। আর আওয়ামী লীগ পেয়েছিল ৩০.০৮ শতাংশ ভোট। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ৩৭.৪৪ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে। সেই নির্বাচনে বিএনপি পেয়েছিল ৩৩.৬১ শতাংশ ভোট। ২০০১ সালে বিএনপি ৪০.৮৬ শতাংশ ভোট পেয়ে সরকার গঠন করে, আর আওয়ামী লীগ ৪০.২১ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ৪৯ শতাংশ এবং বিএনপি ৩৩.২০ শতাংশ ভোট পায়। সেই হিসাবে আগামী দিনেও রাষ্ট্র ক্ষমতায় যেতে হলে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ ভোট প্রয়োজন। 

বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, জুলাই-আগস্টের বিপ্লবের সম্মুখ সারিতে ছাত্রসমাজ থাকলেও এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী বিএনপি। তাই তুচ্ছ ঘটনায় বা সংকট সৃষ্টি করে ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ হারাতে বিএনপি রাজি নয়। পাশাপাশি অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা বা অঘটন ঘটলে তার দায় বিএনপির ওপর যাতে না বর্তায়, সেই লক্ষ্যে দলটি সতর্ক থাকতে চায়। 

জানা গেছে, কৌশলগত এমন অবস্থানের কারণেই আগস্ট বিপ্লবের পর থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখন পর্যন্ত বিতর্কিত কোনো মন্তব্য করেননি। প্রথম থেকেই বক্তব্য-বিবৃতিতে সংযত থাকার পাশাপাশি রাজনৈতিক দিক থেকে ইতিবাচক অবস্থানে থাকার চেষ্টা করছেন তারেক রহমান। গত ৬ মাসে তার বক্তব্য-বিবৃতি সুধী সমাজের মধ্যেও গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে বলে ইতোমধ্যে স্পষ্ট হয়েছে।

সূত্রমতে, বিএনপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের গত দুই দিনের বক্তব্য নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-পর্যালোচনা হয়েছে। অনানুষ্ঠানিক ওই সব আলোচনায় হঠকারী কোনো কথা না বলার জন্য দলের হাইকমান্ড থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারেক রহমান বলেছেন, সবাইকে সংযত হয়ে গঠনমূলক বক্তব্য দিতে হবে, যাতে জুলাই-আগস্টের বিপ্লব তথা বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার পথ ভণ্ডুল না হয়। 

সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি নিরপেক্ষ না থাকে, তাহলে নির্বাচনের সময় একটা নিরপেক্ষ সরকার দরকার হবে। অন্তর্বর্তী সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে না পারলে নির্বাচনের আয়োজন করতে পারবে না। মির্জা ফখরুলের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বিএনপি মহাসচিবের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মূলত আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত বহন করে। এরপর থেকেই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। আরেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছেন, উপদেষ্টারা কেউ রাজনীতি করলে সরকার থেকে বের হয়ে করবেন। এসব বক্তব্য রাজনীতিতে বেশ উত্তাপ ছড়ায় এবং এরই সূত্র ধরে নানা গুজব ডালপালা মেলতে শুরু করে। এর আগেও সংস্কার, নির্বাচনের দিনক্ষণ, সংবিধান সংশোধন ও রাষ্ট্রপতির অপসারণের উদ্যোগসহ নানা ইস্যুতে বিএনপির সঙ্গে সরকার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্রনেতাদের মধ্যে বিভিন্ন সময় মতবিরোধ জনগণের কাছে স্পষ্ট হয়েছে। 

এ ছাড়া প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রদবদল নিয়ে সরকার, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রসমাজের মধ্যে সমন্বয় হচ্ছে না বলে আলোচনা আছে।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার খবরের কাগজকে বলেন, ‘আমরা সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছি। কারও সঙ্গে কোনো দূরত্ব তৈরি হয়নি। কোনো ধরনের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিচ্ছি না, আমরা আমাদের গঠনমূলক বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি।’ 

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম খবরের কাগজকে বলেন, ‘সংস্কারের জন্য নির্বাচন দরকার, আবার নির্বাচনের জন্য সংস্কার দরকার। নির্বাচন দিতে হলেও কতগুলো বিষয়ে সংস্কারে বিষয়ে সবাই একমত হবে। তবে আমরা মৌলিক সংস্কারের পক্ষে। সংস্কারের জন্য জনগণই আসল চালিকাশক্তি এবং জনগণ তার এই ক্ষমতা প্রয়োগ করে নির্বাচনের মাধ্যমে। সুতরাং জনগণের ভোটেই যেন প্রতিনিধি নির্বাচিত হন সে জন্য অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট হতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের সীমিত কিছু সংস্কার শেষ করে নির্বাচন দেওয়া প্রয়োজন। মৌলিক সংস্কারের জন্য নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।’ 

তিনি বলেন, অবৈধভাবে চাঁদাবাজি করে দল গঠন করা যাবে না। বর্তমানে রাজনৈতিক দল গঠন করার জন্য হেলিকপ্টারে করে বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করতে যান সরকারের কেউ কেউ। এই টাকাগুলো কোথা থেকে এল তার হিসাব দেওয়া জরুরি। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক প্রফেসর ড. দিলারা চৌধুরী বলেন, রাজনৈতিক অপরিপক্বতা, ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, দেশপ্রেমের অভাব ও নির্বাচনে দেরি- এগুলোই সমস্যার মূল কারণ। নির্বাচন ও সংস্কার নিয়ে দ্বন্দ্বের কি আছে? সংস্কার তো সবাই চায়। সংবিধান, প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশনসহ কয়েকটি জায়গায় মৌলিক সংস্কার করে এই বছরের নির্বাচন দিলেই সংকট কেটে যাবে। ছাত্ররা যে সংস্কার চাইছে তা এক বা দুই দিনে করা সম্ভব নয়, এটা ধারাবাহিকভাবে চলবে। অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকলে দেশের জন্য ক্ষতি। নির্বাচিত সরকার দেশ চালাবে এই কথাটা সবাইকে মাথায় নিতে হবে। বিএনপিকে মাইনাসের চিন্তা করলে ভুল করবে। 

তিনি বলেন, ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করলে তাকে স্বাগত জানাব। কিন্তু সরকারের ভেতর থেকে ‘কিংস পার্টি’ গঠন করবে, নির্বাচন অংশ নেবে তাহলে সেই নির্বাচন কীভাবে নিরপেক্ষ হবে? প্রয়োজনে ছাত্ররা পদত্যাগ করে দল গঠন করুক। তাহলে কোনো বিতর্ক থাকবে না। ছাত্ররা দল গঠন করতে এত টাকা পাচ্ছে কোথা থেকে? এই সরকার নিরপেক্ষ না থাকলে কীভাবে সংস্কার হবে? তাই উপদেষ্টাদের সব রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার করে নির্বাচন দিয়ে সরে যাওয়া উচিত।

দিলারা চৌধুরী বলেন, নিজেদের আদর্শ ত্যাগ করে ‘কিংস পার্টি’ গঠন করলে ছাত্রদের গায়ে কালিমা লাগবে। কিন্তু ভবিষ্যতে ছাত্রদের কেউ সম্মান করবে না, তাদের সবাইকে ধান্দাবাজ বলবে। ছাত্রদের ঐতিহ্য ধুলায় মিশিয়ে দেওয়া যাবে না। তাই তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা গ্রহণ করার দিকে নজর দেওয়া উচিত।

মেহেরপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০২:১১ পিএম
মেহেরপুরে জেলা বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল
ছবি: খবরের কাগজ

দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র ও দেশব্যাপী নৈরাজ্য অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে মেহেরপুর জেলা বিএনপি। 

মঙ্গলবার (২৩শে জুন) সকাল সাড়ে দশটার দিকে বিএনপি'র কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ অরুনের নেতৃত্বে ডক্টর শহীদ শামসুজ্জোহা পার্ক থেকে একটি মিছিল বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মেহেরপুর জেলা জজ কোর্টের সামনে গিয়ে শেষ হয়। 

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন মেহেরপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও পৌর বিএনপি'র সাবেক সভাপতি জাহাঙ্গীর বিশ্বাস, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রশিদ৷, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, জেলা যুবদলের সভাপতি জাহিদুল হক জাহিদ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আকিব জাভেদ সেঞ্জির সহ বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।

এর আগে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা করা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন আজকে যারা সরকারের কাজ করে  সরকারি চাকরি করে, তারা কৃষকের কাছে যায় না, তারা কোন প্রতিবেদনও পাঠায় না। মেহেরপুরে চার ফসলে জমি এখানে চারবার চাষাবাদ করা হয়। এখানে সারের প্রয়োজনীয়তা অনেক বেশি। এই বিষয়টিও তারা গুরুত্ব দিতে চায় না। আমরা শুনেছি এখানে কোটি কোটি টাকার পেঁয়াজের বীজসহ অনেক কিছু উপকরণ দেওয়া হয়। সেটা সঠিকভাবে সরকারের লোকজন বন্টন করছে না। দেশ বাঁচাতে হলে বিএনপিকে বাঁচাতে হবে। দেশ বাঁচাতে হলে সমস্ত নির্বাচনে জয়লাভ করতে হবে। তবেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।

তারেক হোসেন/অন্তরা

লক্ষ্মীপুরে কেক কেটে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:২৭ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:৫২ পিএম
লক্ষ্মীপুরে কেক কেটে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন
আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ কেক কেটে দলীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালন করেন। ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেক কেটে উদযাপন করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত ১২টার কিছুক্ষণ পর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি শামসুল হক মিজানের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও এর বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এই অনুষ্ঠানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুল হাসান, পৌর ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার ও পৌর আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক রাশেদুল হাসান রাশেদ, পৌর ৭নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর কৃষকলীগের সভাপতি সুমন হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্যসচিব শহিদ চৌকিয়া, রামগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মোরশেদ আলম বাবু, উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক মামুন ভূঁইয়া, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াছিন আরাফাত জীবন, আলিয়া মাদরাসা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সম্রাট আখন্দ এবং পৌর ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জিসান।

রফিকুল ইসলাম/থিওটোনিয়াস

দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে : রিজভী
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ছবি: সংগৃহীত

কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ নানা কায়দায় চুরি করা টাকা ও পাচার করা লাখ লাখ কোটি টাকা ব্যবহার করে সমাজ ও দেশে অস্থিতিশীলতা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ পচা পানির পানার মধ্য দিয়ে আবার উঁকি দেওয়ার চেষ্টা করছে।’

মঙ্গলবার (২৩ জুন) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে’ আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) জনগণের জীবন থেকে সূর্যের আলো কেড়ে নিয়েছিল, স্বাভাবিক জীবনযাপন কেড়ে নিয়েছিল, সুস্থ জীবনযাপন কেড়ে নিয়েছিল এবং মানুষের বাঁচার সব অধিকার কেড়ে নিয়েছিল।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘বহুদিন পর জনগণের শুভেচ্ছায় ও জনগণের ম্যান্ডেটে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। যে নির্বাচন শেখ হাসিনা কেড়ে নিয়েছিল এবং কেড়ে নিয়ে তার ভয়ংকর দুঃশাসন ও রক্তপিপাসু সরকার গঠন করেছিল। তার বিরুদ্ধে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত ম্যান্ডেটের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে তারা এখন ষড়যন্ত্রের বেড়াজাল বোনার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের যখন ১৭ বছর দমাতে পারেননি—বাড়িতে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়েছেন, র‌্যাব পাঠিয়েছেন, গোয়েন্দা পুলিশ পাঠিয়েছেন।

রিজভী বলেন, ‘আজকে তারেক রহমানের সরকার, বিএনপির সরকার, বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের আমলে কোনো গুমের ঘটনা ঘটেছে? কোনো ক্রসফায়ার হয়েছে? কোনো মিথ্যা মামলায় কেউ বন্দি হয়েছে? শুধু দুষ্কৃতকারী ও সমাজের অপরাধীরা ছাড়া কেউ বন্দি হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ দেশ যেভাবে অগ্রগতির দিকে ধাবিত হচ্ছে এই অগ্রগতি, সমৃদ্ধি, শান্তি, গণতন্ত্র, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আবার বন্ধ করার চক্রান্ত তারা করছে তাদের উত্থানের মধ্য দিয়ে। কিন্তু সেটি আর সম্ভব নয়; জনগণ ঐক্যবদ্ধ, গণতান্ত্রিক শক্তি ঐক্যবদ্ধ।’

নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রিজভী বলেন, ‘তাই শুধু আজ নয়, প্রতিদিন আমাদের সজাগ থাকতে হবে। ওরা নানা ধরনের উসকানিমূলক কাজ করবে। শুধু তারা নয়, তাদের পক্ষের অনেক মহল আজ এমন কথাবার্তা বলছে, যা দেশবিরোধী, সার্বভৌমত্ববিরোধী।’

জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং জনগণের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বপ্রিয় মানুষ—সবাইকে একত্রিত হয়ে ফ্যাসিবাদের যেকোনো ধরনের ইঙ্গিত ও অশুভ কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে হবে বলেও জানান রিজভী।

অন্তরা/

হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
হিলিতে বিএনপির মোটরসাইকেল শোডাউন
ছবি: খবরের কাগজ

আওয়ামীলীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী ঘিরে দিনাজপুরের হিলিতে মোটরসাইকেল শোডাউন করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা

রবিবার (২১ জুন) সকাল ১১টায় হাকিমপুর উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে বাংলাহিলি বাজার খাদ্য গোডাউন মোড়ে থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফেরদৌস রহমানের নেতৃত্বে একটি মোটরসাইকেল শোডাউন বের করেন, শোডানটি হিলির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় গুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- হাকিমপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন শিল্পী, পৌর বিএনপির সভাপতি মোতালেব হোসেন মিঠু, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন, পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম রাজ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেনসহ অনেকে।

গোডাউন শেষে নেতা-কর্মীরা বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কার্যকর্ম এই দেশের মাটিতে হতে দেওয়া যাবে না।

কুদ্দুস আলী/রিফাত/

সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার

প্রকাশ: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
আপডেট: ২৩ জুন ২০২৬, ১২:২৪ পিএম
সাতকানিয়ায় যুবলীগ নেতা হাসান মাহমুদ গ্রেপ্তার

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ও খাগরিয়ার ত্রাস হিসেবে পরিচিত হাসান মাহমুদকে (৪৫) গ্রেপ্তার করেছে সাতকানিয়া থানা পুলিশ। 

সোমবার (২২ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার খাগরিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গনিপাড়া থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হাসান মাহমুদ একই এলাকার শামসুল ইসলামের পুত্র। এ ছাড়াও তিনি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের ভাগিনা। তার বিরুদ্ধে সাতকানিয়া থানা এবং চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও ও কোতোয়ালী থানায় সর্বমোট ৬টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হাসান মাহমুদ গনিপাড়ায় অবস্থিত তার বাড়ির সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে সাতকানিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জহির আমিন ও রোমান হোসেনসহ পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়। মঙ্গলবার (২৩ জুন) সকালে তাকে আদালতের নিকট সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান। এ ছাড়াও এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ সবসময়ই তৎপর রয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে খাগরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আকতার হোসেন ও সাবেক চেয়ারম্যান মোটরসাইকেল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সময় আকতার হোসেনের প্রধান সহযোগী হিসেবে হাসান মাহমুদের নাম উঠে আসে।

আরিফুল ইসলাম/অন্তরা/